সর্বশেষ

Sunday, February 1, 2026

৮টি আসনের ব্যালটে থাকছে না ধানের শীষ প্রতীক

৮টি আসনের ব্যালটে থাকছে না ধানের শীষ প্রতীক


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনের ব্যালটে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ থাকছে না। জোটের শরীকদের জন্য ১১টি আসন ছাড়লেও ৭টিতে ধানের শীষ প্রতীকে নয়, দলীয় প্রতীকে লড়ছেন জোটের শরিকরা এবং বাকী ৪টি আসনে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন প্রার্থীরা।

এদিকে রোববার ঋণখেলাপির দায়ে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন পত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে আদালত। ফলে এ আসনেও বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় ধানের শীষ প্রতীক থাকছে না।

চট্টগ্রাম-২ আসনে (ফটিকছড়ি) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ফেরতের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আজ। তার প্রার্থিতা বাতিল হলে ৯টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করে ৪টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। আসনগুলোতে লড়ছেন—সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১ আসনে দলটির মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।

এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর লড়ছেন। এসব আসনে জোটের শরীক প্রার্থীরা নিজ দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করছেন।

এদিকে ধানের শীষ প্রতীক পেতে নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ। তিনি কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।

এ ছাড়া নিজ দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ ও ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন মুহাম্মদ রাশেদ খান। পরে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন রাশেদ খান।

হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী মঞ্জুরুল নির্বাচন করতে পারবেন না

হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী মঞ্জুরুল নির্বাচন করতে পারবেন না


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন।


ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসিতে আবেদন করেন ওই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।


গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন।

কমলো জ্বালানি তেলের দাম

কমলো জ্বালানি তেলের দাম


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৮ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বার্তায় বলা হয়, প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে সংশোধিত প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত ভোক্তাপর্যায়ে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১০০ টাকা, অকটেন ১২২ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১২০ টাকা, পেট্রোলের মূল্য ১১৮ টাকা হতে ২ টাকা কমিয়ে ১১৬ টাকা এবং কেরোসিনের মূল্য ১১৪ থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১১২ টাকায় পুনর্নির্ধারণ/সমন্বয় করা হয়েছে, যা কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে।

জলঢাকায় বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির উত্তেজনা

জলঢাকায় বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির উত্তেজনা

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীর জলঢাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে  জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে জলঢাকা পৌর শহরের আবু সাঈদ চত্বরে (ট্রাফিক মোড়) বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।  

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, শহরের আবু সাঈদ চত্বরে  জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতিকের কয়েকটি বিলবোর্ড আগে থেকেই লাগানো ছিল। আজ রাতে বিএনপি প্রার্থীর কয়েকটি বিলবোর্ড নিয়ে এসে সেখানে লাগানোর চেষ্টা করেন। এ সময় জামায়াতের কর্মীরা সেখানে বিলবোর্ড লাগাতে বাধা দেয়। পরে দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় শহরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আলীর নির্বাচন সমন্বয়কারী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট বলেন, আজ আমাদের একজন কর্মী বিলবোর্ড লাগাতে গিয়েছিল, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর লোকজন বাধা দিয়েছে। আমরা কখনো বিশৃঙ্খলা চাই না, প্রশাসনের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আজ আমাদের নেতাকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। তবে আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি।


বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী ওয়াবদুল্লাহ সালাফির নির্বাচন সমন্বয়কারী উপজেলা জামায়াতে ভারপ্রাপ্ত আমীর কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের ওখানে বিলবোর্ড লাগানো ছিল, বিএনপির লোকজন এসে আমাদের বিলবোর্ডের ওপর বিলবোর্ড লাগাচ্ছিলেন। এ সময়ে আমাদের কর্মীরা বাধা দিলে তারা আমাদের কর্মীদের মারধর করেন। এ ঘটনায় আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। 

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নামজুল আলম বলেন, বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা আছে।




Saturday, January 31, 2026

‘আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্য হবেন’

‘আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্য হবেন’


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আপনারা যদি আমাদের ভোট দেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন। এই প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি। এই সুযোগ চৌদ্দগ্রামবাসী কাজে লাগাবেন কি না, সেটা চিন্তা করবেন।”

শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভা তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমার আধিপত্যবাদ মানব না, ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এই বাংলাদেশটা যুব সমাজের হাতে তুলে দিতে চাই। এর প্রমাণ হচ্ছে যুবকদের সংগঠন আমাদের সাথে। এর আরো প্রমাণ হচ্ছে আমরা যে নমিনেশন দিয়েছি তার ৬২ শতাংশই যুবক।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সবকার গঠন করে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবো। যারা এদেশে বসবাস করে, এদেশের নাগরিক না, তাদেরও ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। সেই ন্যায় বিচার আমরা নিশ্চিত করবো। কোন দল বিচারে হস্তপেক্ষ করতে পারবেন না।

গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ  আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংস্কারের পক্ষে গণভোটে হ্যাঁ-তে রায় দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনা বড় কাজ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধরে রাখতে হলে নিয়মতান্ত্রিক ধারায় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে। 

জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো আমি ডামির নির্বাচন করতে দেবে না দেশের জনগণ। সময় এসেছে জনগণকে তার নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার।

সংস্কার নিয়ে বিএনপি কোনো লুকোচুরির আশ্রয় নেয়নি জানিয়ে তিনি জুলাই সনদকে সম্মান জানিয়ে, হ্যাঁ ভোট দেয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে। লুটপাটের অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত এনে জনগণের কাজে ব্যয় করতে হবে।

রংপুরের জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, উত্তরের জনপদের মানুষকে আরো ভালো রাখতে চাই। আবু সাঈদসহ শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে দেয়া যাবে না। উত্তরের জনপদকে ঢেলে সাজাতে হবে। কৃষিপণ্য নিয়ে যারা ব্যবসা করে তাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে, যাতে করে উত্তরবঙ্গের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়।

দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন ধরে একটি দল বিএনপি নিয়ে মিথ্যাচার করছে। খালেদা জিয়ার সরকার ভালো ছিল বলেই বিএনপির সরকারে একটি দলের দুজন মন্ত্রী ছিলেন। একটি দলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে বলে আবোল তাবোল কথা বলছে।

Friday, January 30, 2026

শেষ সময়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ সরানোর সুযোগ নেই

শেষ সময়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ সরানোর সুযোগ নেই

প্রতিকি দাড়িপাল্লা

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ  প্রতীক বরাদ্দের তিন দিন পর সাতটি আসনের ব্যালট পেপারে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীক না রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে চিঠি দিয়েছে দলটি। এসব আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার প্রার্থী আছেন।

তবে জামায়াতের এই আবেদনগুলো নাকচ করে ইসি বলেছে, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রতীক প্রত্যাহারের আর সুযোগ নেই। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এর মানে ওই সাতটি আসনের ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক থাকবে এবং জামায়াতের প্রার্থীরা বৈধ হিসেবে গণ্য হবেন। 

তারা আরও বলেন, ওই সাত আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার প্রার্থীদের স্ব স্ব প্রতীকেই নির্বাচন করতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল গত ২০ জানুয়ারি। এর পরদিন গত ২১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য প্রতীক বরাদ্দ করে।

পরে গত ২৩ জানুয়ারি—জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে দেওয়া এক চিঠিতে লেখেন, নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮—আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আমজাদ হোসাইন এবং মো. আবু নাসের—যথাসময়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি।

চিঠিতে পরওয়ার আরও লেখেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী-২ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী গোলাম সরোয়ারকে ও চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে জামায়াত ইসলামী ছেড়ে দিয়েছে।

এই কারণে ওই দুটি আসনের ব্যালট পেপারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার জন্য জামায়াতের এই সিনিয়র নেতা ইসিকে অনুরোধ জানান।

একদিন পর গত ২৪ জানুয়ারি জামায়াতের এই নেতা আরেক চিঠিতে আরও পাঁচটি সংসদীয় আসনের ব্যালটে তাদের দলের মনোনীত প্রার্থীদের জন্য 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীক না রাখার জন্য আবার সিইসিকে অনুরোধ জানান।

পরওয়ার তার দ্বিতীয় চিঠিতে উল্লেখ করেন, দলটির পক্ষ থেকে ভোলা-২ আসনে মোহাম্মদ ফজলুল করিম, নরসিংদী-৩ আসনে মো.মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ-১ আসনে তোফায়েল আহমেদ এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোহাম্মদ ফরিদুল আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

এই পাঁচ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা যথাসময়ে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি-এমনটা উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার এসব আসনের ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার জন্য সিইসিকে অনুরোধ জানান।


দ্বিতীয় চিঠিতে বলা হয়, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে ভোলা-২ আসনটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মনোনীত প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরীকে, নরসিংদী-৩ আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. শাহজাহানকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মোজাম্মেল হক তালুকদারকে এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনটি এলডিপির প্রার্থী এম ইয়াকুব আলীকে ছেড়ে দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন গতকাল বৃহস্পতিবার জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ারের কাছে এক চিঠি দিয়ে এই সাত আসনের ব্যালট পেপারে জামায়াতের প্রার্থীর জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে।

ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতীক প্রত্যাহারের সুযোগ আর নেই।

প্রতীক বরাদ্দ চূড়ান্ত হওয়ার পর কোনো রাজনৈতিক দল কী পুনরায় প্রতীক প্রত্যাহারের অনুরোধ করতে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'না। কোনো সুযোগ নেই। আমরা এটা আগে বলেছি। প্রতীক বরাদ্দের নির্ধারিত তারিখের পরে নতুন করে প্রতীক প্রত্যাহারও করা যাবে না, বরাদ্দও করা যাবে না।'

জামায়াতের সাত প্রার্থীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ব্যালট পেপারে না রাখার আবেদনের বিষয়ে ইসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সেগুলো আইনসিদ্ধ নয় এবং আইনগতভাবে আমরা দেব না, তা জানিয়েছি। তারা (জামায়াত) এসেছিলেন। আমরা বলেছি, প্রতীক বরাদ্দের শেষ তারিখের পর নির্বাচন কমিশনের প্রতীক প্রত্যাহারের আর এখতিয়ার নেই। আদালত থেকে যদি আদেশ আসে, সেটা ভিন্ন বিষয়।'


সূত্রঃ দৈনিক ডেইলি স্টার