সর্বশেষ

Monday, February 2, 2026

শবেবরাত: রহমত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির রাত

শবেবরাত: রহমত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির রাত


মাওঃ রুহুল আমিন ঃ ইসলামের বারো মাসের ধারায় শা‘বান হচ্ছে রমজান প্রস্তুতির মাস। এই মাসের মধ্যভাগে যে রাতটি মুসলিম সমাজে বিশেষভাবে আলোচিত, তা হলো শবেবরাত। এ রাতকে ঘিরে আবেগ, ইবাদত, ভুল ধারণা; সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি বহুস্তরপূর্ণ। কোরআন-হাদিসের আলোকে শবেবরাতকে বুঝতে হলে প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, যাতে ফজিলতের স্বীকৃতির পাশাপাশি বিদআত ও কুসংস্কার থেকেও বাঁচা যায়।

শবেবরাত : নাম ও অর্থের পটভূমি


‘শবেবরাত’ শব্দবন্ধটি গঠিত হয়েছে দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দ দিয়ে। ‘শব’ ফার্সি শব্দ, যার অর্থ রাত। আর ‘বরাআত’ আরবি শব্দ, যার অর্থ মুক্তি বা দায়মুক্তি। এ দুটি মিলিয়ে অর্থ দাঁড়ায় মুক্তির রাত।


যদিও হাদিসে এই নামটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়নি, তবে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান’— অর্থাৎ শা‘বান মাসের মধ্যরাত— হিসেবে এ রাতের উল্লেখ পাওয়া যায়। মুসলিম মনীষীদের একটি বড় অংশ এই নামকরণকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছেন, কারণ এ রাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষমা ও অনুগ্রহের ঘোষণা রয়েছে।

শবেবরাতের ফজিলত : হাদিসের আলোকে


বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য একাধিক হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শাবান মাসের মধ্যরাত আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। মুআয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।


(সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস: ১৩৯০)

আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসেও দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) এ রাতে দীর্ঘ সিজদায় মশগুল ছিলেন এবং তিনি স্পষ্ট করে বলেন—এ রাতে আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন, দয়া প্রার্থীদের প্রতি দয়া করেন, তবে বিদ্বেষীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২-৩৮৩)।

এ রাতের মূল শিক্ষা


শবেবরাতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি। এটি কোনো উৎসবের রাত নয়, বরং আত্মসমালোচনা, তাওবা ও আল্লাহমুখী হওয়ার রাত। এখানে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজ বা নির্ধারিত রাক‘আতের বিধান নেই। বরং যে আমল মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়—সেগুলিই এ রাতে বেশি গুরুত্ব পায়।

শবেবরাতে করণীয় নেক আমল

এই রাতে করণীয় আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে—


ফরজ নামাজসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা, বিশেষত মাগরিব, এশা ও ফজর জামাআতের সঙ্গে আদায় করা।

নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দরুদ পাঠ।

আন্তরিক তাওবা ও ইস্তিগফার—যার মধ্যে পাপের অনুশোচনা, পাপ ত্যাগ, ভবিষ্যতে না করার দৃঢ়সংকল্প এবং বান্দার হক আদায়ের চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত।

গুরুত্বের সঙ্গে দু‘আ করা, কেননা হাদিসে এ রাতে দোয়া কবুলের কথা বিশেষভাবে এসেছে।

সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা এবং নফল ইবাদতের সাওয়াব মৃত মুসলিমদের জন্য পাঠানো।

শাবান মাসের ১৫ তারিখে নফল রোযা রাখা।

নফল ইবাদত : একাকী হওয়াই উত্তম

ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী নফল ইবাদত গোপনে ও একাকী করাই উত্তম। ফরজ নামাজ অবশ্যই জামাআতের সঙ্গে আদায়যোগ্য, কিন্তু নফল আমলের ক্ষেত্রে সমবেত আয়োজন, উচ্চৈঃস্বরে জিকির বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির কোনো প্রমাণ নেই। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনের যুগেও এ ধরনের সমষ্টিগত নফল আমলের প্রচলন ছিল না। তবে অলসতার আশঙ্কায় কেউ মসজিদে এসে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করলে তাতে দোষ নেই।

যারা এ রাতেও ক্ষমা থেকে বঞ্চিত

হাদিসের আলোকে জানা যায় যে কিছু মানুষ এই ব্যাপক ক্ষমার রাতেও বঞ্চিত থাকে, যতক্ষণ না তারা তাওবা করে ফিরে আসে। এর মধ্যে রয়েছে— মুশরিক, হিংসুক, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য, মদ্যপায়ী এবং অন্যায় হত্যায় লিপ্ত ব্যক্তি। এটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা—ইবাদতের পাশাপাশি চরিত্র ও সামাজিক সম্পর্ক সংশোধনও অপরিহার্য।

শবেবরাতে বর্জনীয় বিষয়

শবেবরাতকে কেন্দ্র করে কিছু কুসংস্কার ও অনৈসলামিক চর্চা সমাজে প্রচলিত হয়েছে। যেমন— আতশবাজি ফোটানো, আলোকসজ্জা, বিশেষ খাবার রান্নাকে ইবাদতের অংশ মনে করা ইত্যাদি। এগুলোর কোনোটি হাদিস বা সালাফে সালেহীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং এগুলো অপচয়, অনুকরণ ও ইবাদতের পরিবেশ বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শবেবরাত আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ— নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এবং বিদ্বেষ ও গুনাহের বোঝা নামিয়ে রাখার। এই রাতের মর্যাদা রক্ষা মানে—অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করে আন্তরিক ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে এ বরকতপূর্ণ রাতের যথাযথ মূল্যায়ন করার এবং তাঁর ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করেন। আমীন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের দল : এটিএম আজহার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের দল : এটিএম আজহার

এটিএম আজহারুল ইসলাম 

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা  নিউজ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের দল এবং যেকোনো সংকটে এই দলই সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করি না। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মিথ্যা বলছে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের অবস্থা কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নীলফামারী শহর জামায়াতের আমির ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অতীতে জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা, জেল-জুলুম ও অন্যায় অত্যাচারের মাধ্যমে এই দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে সেই অত্যাচারীরাই আজ দেশছাড়া। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “যারা গত দেড় দশকে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করেছে, তাদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে হবে।”

তিনি জামায়াত আমিরের ঘোষণা উদ্ধৃত করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে অবহেলিত উত্তরাঞ্চলকে দেশের ‘কৃষি রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আধুনিক শিক্ষা, মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহ বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

নীলফামারী-২ (সদর) আসনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে নীলফামারীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়নসহ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তারসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জনসভাটিকে কেন্দ্র করে নীলফামারী সদর ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে শহীদ মিনার চত্বর এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এলপিজির দাম আরও বাড়ল

এলপিজির দাম আরও বাড়ল


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ চলতি ফেব্রুয়ারিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ল। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১২ কেজি এলপিজির দাম ৫০ টাকা বাড়ায় সংস্থাটি। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে অটো গ্যাসের দামও।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ জানুয়ারি এলপি গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

একইসঙ্গে সোমবার অটোগ্যাসের দামও বাড়িয়েছে বিইআরসি। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা।

Sunday, February 1, 2026

৮টি আসনের ব্যালটে থাকছে না ধানের শীষ প্রতীক

৮টি আসনের ব্যালটে থাকছে না ধানের শীষ প্রতীক


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ৮টি আসনের ব্যালটে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ থাকছে না। জোটের শরীকদের জন্য ১১টি আসন ছাড়লেও ৭টিতে ধানের শীষ প্রতীকে নয়, দলীয় প্রতীকে লড়ছেন জোটের শরিকরা এবং বাকী ৪টি আসনে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন প্রার্থীরা।

এদিকে রোববার ঋণখেলাপির দায়ে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন পত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে আদালত। ফলে এ আসনেও বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় ধানের শীষ প্রতীক থাকছে না।

চট্টগ্রাম-২ আসনে (ফটিকছড়ি) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ফেরতের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আজ। তার প্রার্থিতা বাতিল হলে ৯টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা করে ৪টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। আসনগুলোতে লড়ছেন—সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১ আসনে দলটির মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।

এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর লড়ছেন। এসব আসনে জোটের শরীক প্রার্থীরা নিজ দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করছেন।

এদিকে ধানের শীষ প্রতীক পেতে নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ। তিনি কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।

এ ছাড়া নিজ দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ ও ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন মুহাম্মদ রাশেদ খান। পরে ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন রাশেদ খান।

হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী মঞ্জুরুল নির্বাচন করতে পারবেন না

হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী মঞ্জুরুল নির্বাচন করতে পারবেন না


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন।


ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসিতে আবেদন করেন ওই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।


গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন।

কমলো জ্বালানি তেলের দাম

কমলো জ্বালানি তেলের দাম


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৮ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বার্তায় বলা হয়, প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে সংশোধিত প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত ভোক্তাপর্যায়ে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১০০ টাকা, অকটেন ১২২ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১২০ টাকা, পেট্রোলের মূল্য ১১৮ টাকা হতে ২ টাকা কমিয়ে ১১৬ টাকা এবং কেরোসিনের মূল্য ১১৪ থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১১২ টাকায় পুনর্নির্ধারণ/সমন্বয় করা হয়েছে, যা কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে।

জলঢাকায় বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির উত্তেজনা

জলঢাকায় বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির উত্তেজনা

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীর জলঢাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে  জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে জলঢাকা পৌর শহরের আবু সাঈদ চত্বরে (ট্রাফিক মোড়) বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।  

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, শহরের আবু সাঈদ চত্বরে  জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতিকের কয়েকটি বিলবোর্ড আগে থেকেই লাগানো ছিল। আজ রাতে বিএনপি প্রার্থীর কয়েকটি বিলবোর্ড নিয়ে এসে সেখানে লাগানোর চেষ্টা করেন। এ সময় জামায়াতের কর্মীরা সেখানে বিলবোর্ড লাগাতে বাধা দেয়। পরে দুপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় শহরজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আলীর নির্বাচন সমন্বয়কারী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট বলেন, আজ আমাদের একজন কর্মী বিলবোর্ড লাগাতে গিয়েছিল, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর লোকজন বাধা দিয়েছে। আমরা কখনো বিশৃঙ্খলা চাই না, প্রশাসনের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আজ আমাদের নেতাকর্মীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। তবে আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি।


বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী ওয়াবদুল্লাহ সালাফির নির্বাচন সমন্বয়কারী উপজেলা জামায়াতে ভারপ্রাপ্ত আমীর কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের ওখানে বিলবোর্ড লাগানো ছিল, বিএনপির লোকজন এসে আমাদের বিলবোর্ডের ওপর বিলবোর্ড লাগাচ্ছিলেন। এ সময়ে আমাদের কর্মীরা বাধা দিলে তারা আমাদের কর্মীদের মারধর করেন। এ ঘটনায় আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। 

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নামজুল আলম বলেন, বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা আছে।