সর্বশেষ

Thursday, March 12, 2026

লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা!

লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা!

মোঃ আলমগীর হোসেন 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ নীলফামারী সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে আলমগীর হোসেন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।


অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের টিআর, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পের রাস্তা-ঘাট সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ইউপি সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রকল্প থেকে লাখে ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন তিনি। এ ছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪০০টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ইউপি সদস্যরা।

ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমাকে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। কাজটি শেষ করেছি, কিন্তু এখনো বিল পাইনি। কাজ দেওয়ার সময় প্রশাসক অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন।’

আরেক সংরক্ষিত নারী সদস্য চম্পা রানী বলেন, ‘প্রশাসক যে সদস্যকে প্রকল্প দিয়েছেন, তার কাছ থেকেই টাকা নিয়েছেন।

আমাকেও ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দিয়েছেন। এজন্য আমার কাছ থেকেও ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এটা নাকি তার প্রাপ্য।’
ইউপি সদস্য মশিউর রহমান বলেন,‘টি আর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।

আমি তাকে টাকাও দিয়েছি। এ ছাড়া ভিজিএফ চালের ৪০০টি কার্ড তিনি নিজের কাছে রেখেছেন। সেগুলো কি করবেন আমাদের কিছুই বলেনি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন বলেন,‘মেম্বারদের সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। কেউ বলতে পারবে না আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। আজ আমাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি, সবাই মিলে কিছু কথা হয়েছে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন,‘অভিযোগগুলোর বিষয়ে আগে জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংসদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা

সংসদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা

তিস্তা নিউজ ডেস্ক :  চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী দিনটি ছিল নজিরবিহীন উত্তাপ, প্রতিবাদ আর বিরোধী দলের ওয়াকআউটে ঠাসা।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সংসদ অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

এর আগে অধিবেশনের বিধি অনুযায়ী স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানান, তখনই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানালেও বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি এবং মিত্রদের অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরও শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সরকারি বেঞ্চের সদস্যদের বিপুল উৎসাহে টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়।

সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি কড়া ভাষায় রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় অভিভাবক হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন কোনো কার্যকর ভূমিকা নেননি। তিনি ফ্যাসিবাদী খুনি সরকারের সহযোগী ছিলেন। এই পবিত্র সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার তার নেই।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।

সংসদ অধিবেশনে ড. ইউনূস–জাইমাসহ উপস্থিত ছিলেন যারা

সংসদ অধিবেশনে ড. ইউনূস–জাইমাসহ উপস্থিত ছিলেন যারা

 তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের দর্শক সারিতে সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান ওয়াকার–উজ–জামান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবায়দা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান প্রমুখ উপস্থিত আছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই অধিবেশনে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে স্পিকার মেজর হাফিজ (অব.) বীর বিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হয়েছেন।


অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। এতে সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। সকালে থেকে সংসদ ভবনে ঢুকতে দেখা যায় তাদের।


প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত রয়েছেন।


জাতীয় সংসদ অধিবেশনের দর্শক সারিতে সদ্য সাবেক অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান ওয়াকার–উজ–জামান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবায়দা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান প্রমুখ উপস্থিত আছেন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। এর দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন নতুন সংসদ সদস্যরা।

সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে হয়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক মাসের মাথায় আজ বসল প্রথম অধিবেশন।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ (১২ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আজ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।

এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালি নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও অ্যাজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।

প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যে সব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।

Wednesday, March 11, 2026

বিরোধীদলীয় নেতার সেই চিঠি প্রকাশ করতে চায় সরকার

বিরোধীদলীয় নেতার সেই চিঠি প্রকাশ করতে চায় সরকার


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান চাইলে তার আলোচিত চিঠিটি প্রকাশ করতে চায় সরকার।

ওই চিঠি নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন দেখার পর কিছু বিষয় স্পষ্ট করতে আজ (১১ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রেরণ করেন। তিনি একই চিঠি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করেন।

চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল। চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে- ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে ‘বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ ও সুপারিশ।

বিরোধীদলীয় নেতা তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাকে উল্লিখিত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট সুপারিশ করেন। তিনি বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। চিঠির নিচে শুধুমাত্র বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠিটির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে একটি পত্রিকার প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে-‘জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে উক্ত চিঠির বিষয়ে আমিরে জামায়াত অবগত ছিলেন না’। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে হয়নি।


সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত

 

মোজতবা খামেনি

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। চলমান যুদ্ধের মধ্যে তিনি আহত হন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও মোজতবা খামেনির আহত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আহত হলেও মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের সময় আহত হলেও বর্তমানে তিনি নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় লিখেছেন, তিনি মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার খবর শুনেছেন এবং এ বিষয়ে খোঁজ নিতে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা তাকে জানিয়েছেন— ‘আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন’।

এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালে মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে তার আঘাতের ধরন বা অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।



এর আগে প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতবা হোসেইনি খামেনিকে গত রোববার ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়। দেশটির ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নিয়ে গঠিত অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে। সর্বশেষ ভোটাভুটিতে তারা মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেন। তিনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় সন্তান।

মোজতবা কখনোই কোনও সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি এবং কোনও নির্বাচনেও অংশ নেননি। কিন্তু তার বাবা সুপ্রিম লিডার থাকার সময় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার বেশ প্রভাব ছিল। তিনি ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তার বাবা বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা নিজে অবশ্য কখনও এ নিয়ে আলোচনা করেননি।



গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তেহরানে নিজের বাসভবনে এই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি ও জামাইসহ আরও উচ্চপদস্থ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারাও প্রাণ হারান। এরপর থেকেই মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ভাবা হচ্ছিল।


Tuesday, March 10, 2026

জলঢাকায় জামায়াতের দুইদিন ব্যাপী কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত

জলঢাকায় জামায়াতের দুইদিন ব্যাপী কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত


মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারী জলঢাকায় উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে দুইদিন ব্যাপী কর্মী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা শিবিরের সমাপনী দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীতি নৈতিকতা ও আদর্শিক নীতি নিয়ে বিস্তর আলোকপাত করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ১৪-নীলফামারী-০৩ সংসদীয় আসন জলঢাকার মাননীয় সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ্ সালাফি এমপি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা শাখার আয়োজনে গত ৮ ও ৯ই মার্চ রাজনৈতিক কার্যালয় আল ফালাহ’য় দুইদিন ব্যাপী এ শিক্ষা কর্মী শিবির প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী দিনে সোমবার এ উপলক্ষে আল ফালাহ্ সমজিদ প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আমীর আলহাজ্ব কামারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ্ সালাফি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য প্রভাষক সাদের হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলাম, জলঢাকা উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা অপিয়ার রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোয়াম্মার আল হাসান, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি প্রভাষক মনিরুজ্জামান জুয়েল ও জামায়াত নেতা উমর ফারুক প্রমুখ। দুইদিন ব্যাপী কর্মী শিক্ষা শিবির প্রশিক্ষণে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিপুল সংখ্যক জামায়াতের কর্মীরা  অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ্ সালাফি এমপি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দ্যেশে বলেন, ছাত্রশিবির কর্মীদের আদর্শিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ শিক্ষা শিবিরে সংগঠনের নীতি, আদর্শ, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। একটি আদর্শভিত্তিক সমাজ গঠনে সচেতন ও প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনের আদর্শকে ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুল লক্ষ ও উদ্দ্যেশ্য। সেই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতীর কল্যানে তথা এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে হবে।

আশা রাখি আপনারা দুইদিন ব্যাপী এ কর্মী শিক্ষা শিবিরের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গঠনের নিমিত্তে সে শিক্ষা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে শিক্ষা শিবিরের প্রশিক্ষণ সমাপনীর অনুষ্ঠানে বক্তারা কর্মীদের ইসলামী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।