সর্বশেষ

Wednesday, May 20, 2026

মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে, ঠাঁই পেতে পারেন শরিকরা

মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে, ঠাঁই পেতে পারেন শরিকরা

 তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ এবং বড় ধরনের রদবদলের জোর আলোচনা চলছে সরকারের ভেতরে। বর্তমান ৫০ সদস্যের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরো সাত-আটজন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। তবে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার আকার ৬০ জনের বেশি হবে।

সূত্র জানায়, কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাজে দুর্বলতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এসেছে। এজন্য প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভার আকার বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনা চলছে। এ ধাপের রদবদলে মন্ত্রীর পাশাপাশি উপমন্ত্রীও থাকতে পারেন। এদের মধ্যে দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য, দুয়েকজন নারী সংসদ সদস্য এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের দুয়েকজন থাকতে পারেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় একজনকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া দুজন নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে সমন্বয় আনতে খুব শিগগির মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে কবে নাগাদ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হবে, তার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ কেউ বলতে পারছেন না। জনগণের সেবার মান বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষাও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অন্যতম কারণ।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষপর্যায়ের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার আকার বড় হতে পারে। দপ্তরও রদবদল হতে পারে। খুব শিগগির এ ঘোষণা আসতে পারে।


এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘মন্ত্রিসভার সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেনÑএটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।’


নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজনের ফাইল প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। তিনি জানান, মন্ত্রিসভার কয়েকজনের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। সে কারণেই নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা যুক্ত করে সরকারের কার্যক্রম আরো গতিশীল ও কার্যকর করার চিন্তা করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রীও করা হতে পারে।


মন্ত্রিসভায় ইতোমধ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দুজন উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আট প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলোকে মন্ত্রিসভার বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীন একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরো গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এ ঘোষণা আসতে পারে, যা সরকারের আগামী দিনের পথচলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী বাদে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। ৪৯ সদস্যর এ মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী নেই। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় প্রথম দফায় খালেদা জিয়া ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। পরে প্রয়োজন অনুসারে ওই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে।


মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত বা রদবদল হওয়া বিচিত্র ব্যাপার নয়, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু তার মানে এটা এখন হবে বা তখন হবে, এমন নয়। এটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী জানেন। প্রধানমন্ত্রী যখন মনে করবেন কাউকে দায়িত্ব দেবেন আবার কাউকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেবেন, এটা তার এখতিয়ার।


আলোচনায় যেসব মন্ত্রণালয়


একাধিক মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চায় স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি সেক্টরে আরো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য এ সম্প্রসারণ সে লক্ষ্যপূরণের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।


সরকার ও বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, ২০০১ সালের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যার সমান হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভা। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ে এখনো কোনো মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। যদিও সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত এমন সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় বেছে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিভাগ ও জেলাভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আলোচনায় এগিয়ে যারা


বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বেগম সেলিমা রহমান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় চারজনই ছিলেন। এবার তাদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। তবে সংসদ উপনেতা পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এগিয়ে আছেন।


অনেকের মতে, সবার কাছে দলের প্রবীণ নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাদের মন্ত্রিসভায় নিলে আগের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা ভালো করবেন। তরুণ-প্রবীণের সংমিশ্রণে সরকারের কাজে গতি বাড়বে।


সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আলোচনায় আছেনÑনোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।


মূল্যায়ন করা হতে পারে শরিকদেরও


যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সে সময় শরিকদের বলা হয়েছিল, নির্বাচনে জয়লাভ করে আসতে পারলে বা পরাজিত হলেও সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ ও গণতন্ত্র মঞ্চের জোনায়েদ সাকিকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। কিন্তু ১২ দলীয় জোটের লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম ও বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ রাজপথে সক্রিয় থাকলেও তাদের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। এমনকি নির্বাচনে পরাজিত হলেও কাউকে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিবেচনা করা হয়নি। নির্বাচনে পরাজিতদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদের নাম আলোচনায় আছে।


এদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিমের নামে ২০১৪ সালে মৎস্য ভবনের সামনে পুলিশ হত্যার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন সাবেক ছাত্রদল নেতা সেলিম। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামেও বিএনপির পরীক্ষিত মিত্র তিনি। বিএনপির হাইকমান্ডের সুনজরে আছেন। অপরদিকে, আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম শুরু থেকে আলোচনায় থাকলেও পরে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি। তবে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে অন্যদের তুলনায় সংসদে বেশ সক্রিয়।


টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী


দুয়েকজনকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনায় সবার চেয়ে এগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি মন্ত্রিসভায় গেলে তার জায়গায় অন্য কাউকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। কারণ, বিগত ১১ বছর ধরে তিনিই দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। খালেদা জিয়া মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত একটানা দুই বছর তিন মাস তিনি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন। এছাড়া আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ আহমেদ পাভেল।


সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ।

Tuesday, May 19, 2026

জলঢাকায় তিন দিনের ভূমিসেবা মেলা শুরু

জলঢাকায় তিন দিনের ভূমিসেবা মেলা শুরু

 

হাকিম বদিউজ্জামান জলঢাকা প্রতিনিধি : নীলফামারীর জলঢাকায় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে)“জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা ভূমি অফিসে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী এমপি নীলফামারী-৩।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নাজমুল আলম জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ, কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার, উপজেলা জামায়াতের আমীর মোখলেছুর রহমান মাস্টার, প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, ভূমিসেবা এখন ডিজিটাল ও জনবান্ধব হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। তারা ভূমি সংক্রান্ত সেবায় হয়রানি এড়াতে সরকারি নিয়ম মেনে আবেদন ও অনলাইন সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

মেলায় নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ানসহ বিভিন্ন ভূমি সেবা বিষয়ে জনগণকে তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।

নীলফামারীতে তিনদিনের ভূমি সেবা মেলা শুরু

নীলফামারীতে তিনদিনের ভূমি সেবা মেলা শুরু



মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীতে তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা প্রধান হক বাচ্চুসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতারা।

এ মেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত স্টলে ভূমি সংক্রান্ত নানা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।


Monday, May 18, 2026

জলঢাকায় এক রাতেই কৃষকের ৮টি গরু চুরি

জলঢাকায় এক রাতেই কৃষকের ৮টি গরু চুরি

মাহমুদ আলহাছান, তিস্তা নিউজ :  নীলফামারীর জলঢাকার গোলমুন্ডায় গরুচোরের তৎপরতা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১৫টি গরু চুরি হয়ে গেছে এই এলাকা থেকে। এর মধ্যে দুইজন কৃষকের গরুই ১২টি। 

গতকাল ১৭ মে (রবিবার) পশ্চিম গোলমুন্ডা সরকার পাড়ার পল্লী প্রাণী চিকিৎসক মো. আনারুল ইসলাম ও তার ভাইয়ের মোট ০৮টি গরু চুরি হয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে চারটি গাভী। বর্তমান বাজার মুল্য অনুযায়ী গরুগুলোর দাম প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বলে জানান আনারুল ইসলাম। তিনি বলেন, গতরাতে দমকা ঝড়ো হাওয়া ছিলো এবং থেমে থেমে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিলো। শেষরাতের দিকে আমরা ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় আমাদের গোয়াল ঘরে থাকা ০৮ টি গরুই চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। বানিজ্যিক ভিত্তিতে প্রতিপালন করা এতগুলো গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় তারা একদম নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।

চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ওয়ার্ডের বনগ্রামের মাওলানা আইনুল হকেরও ০৪টি গরু চুরি হয়ে যায় যার কোনো হদিস পাওয়া যায় নাই। এত ঘনঘন দুর্ধর্ষ গরু চুরির ঘটনায় এলাকার গরু চাষীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে এই তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এব্যাপারে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম বলেন,  আমরা গরুর মালিককে ডেকে এনে একটা অভিযোগ নিয়েছি। সংঘবদ্ধ গরুচোর চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং চোরদের মুল হোতাসহ পুরো চক্রকে অচিরে পাকড়াও করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

Sunday, May 17, 2026

আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৭ মে) সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল।

মামলার তথ্যে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে মন্তব্য করার অভিযোগে ২ এপ্রিল অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল মুফতি আমির হামজারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। একই দিন আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরবর্তীতে রোববার আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও সেদিনও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর কর্নেল জানান, রোববার আমির হামজার আদালতে হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। এর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। সর্বশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন।

সূত্রঃ বিডি 24 লাইভ।

জলঢাকায় ৩২ টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার

জলঢাকায় ৩২ টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার


মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীর জলঢাকা  থানা পুলিশের অভিযানে প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূল হোতা শাহীন মিয়াকে গতকাল শনিবার (১৬ মে) গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (১৭ মে) আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ হেফাজতে থাকা কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার দেয়া তথ্য ও সনাক্ত মতে আজ বেলা ৩.০০ ঘটিকায় জলঢাকার টেংগনমারী বাজার এলাকার মোঃ আব্বাস আলী( ৫০) পিতা-মৃত মতিয়ার রহমান সাং-পশ্চিম খুটামারা মমিনটলি থানা জলঢাকা এর মোটরসাইকেলের গ্যারেজের পেছনের গোডাউন থেকে ৩২ টি মোটরসাইকেল চোরাই সন্দেহে উদ্ধার করা হয়েছে।  


 জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম এ তথ্য জানান।

 উক্ত গ্যারেজ ও গোডাউনের মালিক ধৃত আব্বাস আলী কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় প্রখ্যাত শাহীন ও ফরিদুল চোরসহ বেশ কিছু চোরের কাছ থেকে এ সমস্ত মটরসাইকেল ক্রয় করেছেন । এছাড়াও তার পুরাতন মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসা আছে। তবে সে বেশিরভাগ মোটরসাইকেলে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার দোকান থেকে মালিকানা সংক্রান্তের কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

ওসি নাজমুল আলম জানান,উদ্ধারকৃত মটর সাইকেল গুলো  আদালতে প্রতিবেদন আকারে তোলা হবে,যে সমস্ত মটর সাইকেলের সঠিক কাগজ পত্র আছে সেগুলো আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Saturday, May 16, 2026

পাটগ্রাম সীমান্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি আটক, ৭ পাসপোর্ট উদ্ধার

পাটগ্রাম সীমান্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি আটক, ৭ পাসপোর্ট উদ্ধার

 পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি : 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) সাব্বির বিন শামসকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী দহগ্রাম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি কূটনৈতিকসহ মোট সাতটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাটের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি ও লন্ডন হাইকমিশনে মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা রয়েছে। তিনি ভারত থেকে অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন।

পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের পর তার চলাফেরায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে দহগ্রাম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

আটক সাবেক এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।