সর্বশেষ

Friday, September 4, 2026

জলঢাকায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

জলঢাকায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

 


হাকিম বদিউজ্জামান জলঢাকা (নীলফামারী) : নীলফামারীর জলঢাকায় পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী মহোৎসব ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জলঢাকা কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। বিভিন্ন সনাতনী ধর্মাবলম্বী ভক্তদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, জলঢাকা সনাতনী সংঘ ও ভক্ত মিশন।

অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বিভূতি ভূষণ রায়। সদস্য সচিব প্রদীপ কুমার রায়সহ কমল কান্তি রায়, সদস্য সচিব বৈষম্যবিরোধী নাগরিক ঐক্য, উপস্থিত ছিলেন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জলঢাকা উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্য সচিব শাহিনুর হক বাবু।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এ মঙ্গল শোভাযাত্রায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভক্তরা অংশ নেন।

Tuesday, September 1, 2026

জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক বিচারপতি ও সেনা কর্মকর্তাসহ ৬৫০ জন

জামায়াতে যোগ দিলেন বিএনপি নেতা, সাবেক বিচারপতি ও সেনা কর্মকর্তাসহ ৬৫০ জন

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সাবেক বিচারপতি, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সেনা কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন ৬৫০ জন। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মাসব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে দাওয়াতি সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে যোগদানকারীদের বরণ করে নেন।

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাসব্যাপী গণসংযোগ উপলক্ষে মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দাওয়াতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী ৬৫০ জনকে ফুল ও ইসলামিক বই উপহার দিয়ে বরণ করে নেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দাওয়াতি সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. এএসএম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ।

আরও রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, মো. ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজী শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ, ডা. হুমায়ন কবির, বংশাল থানার বিএনপির ২নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, ২নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান বাবু, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজী আলতাব হোসেন, ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদ, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্ববায়ক মো. জাবেদ ওমর, গেন্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহ কোল্লল, বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, কওমি আলেম যথাক্রমে মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা মো. জসিম উদ্দিন (রসুলপুরী), মাওলানা হাসান জামিল প্রমুখ।



বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত দাওয়াতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট ড. এ এস এম খালেকুজ্জামান, সাবেক বিচারপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান, মুফতি আবুল কালাম আজাদ মাদানী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, বংশাল থানা বিএনপির ২নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর যথাক্রমে আব্দুস সবুর ফকির এবং অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনসহ আরও অনেকে।

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জলঢাকায় বিএনপির বর্ণাঢ্য আয়োজন

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জলঢাকায় বিএনপির বর্ণাঢ্য আয়োজন

মাহমুদ আল-হাছান,  তিস্তা নিউজ :  আজ ০১ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের আজকের দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দলটি এখন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির উপরে দেশের ৫১% ভোটার তাদের আস্থা জ্ঞাপন করেছিলো।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি দেশব্যাপী ৫ দিন ব্যাপী কর্মসূচী ঘোষনা করেছে। কর্মসূচী অনুযায়ী জলঢাকা উপজেলা বিএনপি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনাসভার আয়েজন করে। জলঢাকা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জনাব ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরীর সভাপতিত্বে জলঢাকা জিরোপয়েন্ট মোড়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নীলফামারী জেলা আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য জনাব রশিদুল ইসলাম বাঙালী, স্বেচ্ছাসেবক দলের জলঢাকা উপজেলা সভাপতি ও জলঢাকা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি জনাব শাজাহান কবির লেলিন,  জলঢাকা উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহিনুর রহমান বাবু সহ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 

এর আগে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। শোভাযাত্রায় বিএনপির নারী কর্মীদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয় নির্বাচনে জোটে নয়, আলাদা প্রার্থী দেবে দলগুলো: গোলাম পরওয়ার

স্থানীয় নির্বাচনে জোটে নয়, আলাদা প্রার্থী দেবে দলগুলো: গোলাম পরওয়ার

 


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ স্থানীয় নির্বাচনে জোটে নয়, আলাদা প্রার্থী দেবে দলগুলো বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।


জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অতিরিক্ত সচিবকে না সরালে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। ইসির প্রতি জামায়াত এখনও আস্থাশীল। নির্বাচন বর্জনের সময় এখনও আসেনি। স্থানীয় শাখাগুলোকে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছি।


স্থানীয় নির্বাচনে জোটের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য জাতীয় নির্বাচনে ছিল। স্থানীয় নির্বাচনে এই ঐক্য নয়, দলগুলো আলাদা করে প্রার্থী দেবে।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা জানতে পেরেছি এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এটি সংবিধানবিরোধী। ইসি নিজেরাই এই সুপারিশ করেছে। এটি বাতিলের আবারও দাবি জানিয়েছি।


তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো নেতা যাতে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সেই সুপারিশ করেছি। ইসির অতিরিক্ত সচিবকে সরানোর দাবি জানিয়েছি, কারণ তিনি বিএনপিতে পদধারী। ইসি বলেছে, সরকার তাকে নিয়োগ দিয়েছে।

Monday, August 31, 2026

যেকোনো সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল: ইসি সচিব

যেকোনো সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল: ইসি সচিব

ফাইল ছবি 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসি প্রস্তুত। যে কোনো সময় তপশিল ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, ভোটের তারিখ হওয়া মাত্রই সেটা জানিয়ে দেওয়া। নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে  পুরুষ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, সবশেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকা থেকে থেকে এ পর্যন্ত ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৩ জন বেড়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ভোটাররা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

ইসি সচিব বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে আইন সংশোধনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পর আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হবে।


স্থানীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হবে বলে প্রত্যাশা ইউএনডিপির।

এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নির্বাচন ভবনে আসেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেস। এ সময় সিইসিসহ কমিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।


পরে স্টিফেন রড্রিগেস সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মত স্থানীয় নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।


সিইসির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতেই বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং সফল একটি নির্বাচন আয়োজন করার জন্য কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশে গত যে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ভবিষ্যতের পথ তৈরি করেছে।


ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং এই নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছি। এসব ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আর কীভাবে সহায়তা করতে পারে, তা নিয়েও কথা হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় নতুন পে-স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন, এল যে সিদ্ধান্ত

মন্ত্রিসভায় নতুন পে-স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন, এল যে সিদ্ধান্ত

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হবে। নতুন পে-স্কেলে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী, গ্রেড-১-এর মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

এবারের পে-স্কেলে নতুন করে প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আওতায় যোগ্য সরকারি চাকরিজীবীরা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে।

এ ছাড়া গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। কাজ শেষ হওয়ার পর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

Sunday, August 30, 2026

সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করলো জামায়াত, জানা গেল কারণ

সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করলো জামায়াত, জানা গেল কারণ

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিলের বিরোধিতা করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রবিবার (৩০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে জামায়াতের দুই সদস্য ড. মো. নাজিবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আল ফারুক আবদুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন। তবে বিলটি পর্যালোচনার জন্য উত্থাপনের পর তারা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।

বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে জামায়াতের সংসদীয় দলের মুখপাত্র ড. মো. মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনভেনশন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অংশীজন ও সুধী সমাজও উদ্বেগ জানিয়েছে।

তার অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট অংশীজন, মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকছে না।

নাজিবুর রহমান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আগের অধ্যাদেশ বাতিলের সময় সরকার আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নতুন যে বিল আনা হয়েছে, তা আগের তুলনায় আরও দুর্বল ও সীমিত পরিসরের। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে কমিশনের স্বাধীনভাবে তদন্ত করার ক্ষমতাও সীমিত করা হয়েছে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, আইন মন্ত্রণালয় বিলটি নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মতামত নিয়েছে। কারা কী মতামত দিয়েছেন এবং সেগুলোর কতটুকু প্রস্তাবিত আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তা জানার অধিকার সংসদীয় কমিটির সদস্যদের রয়েছে। কিন্তু দুই দিনের সময়সীমার কারণে এসব বিষয় যথাযথভাবে পর্যালোচনার সুযোগ নেই।


তিনি অভিযোগ করেন, তড়িঘড়ি করে বিলটি পাসের উদ্যোগ নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে কার্যত ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এমন প্রক্রিয়ার অংশ হতে জামায়াতের সংসদীয় দলের সদস্যরা চান না।


নাজিবুর রহমান আরও বলেন, ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন করার সময়ও প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছিল। গত ১৭ বছরে গুমসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ওপর নিপীড়ন চালালে কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখতে না পারে, প্রস্তাবিত আইনে সেই আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


বৈঠকের আগে সংসদে বিলটি নিয়ে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে অধ্যাদেশের সময়ও তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন। তবে তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।


জামায়াতের এ নেতা বলেন, সরকার কার সঙ্গে পরামর্শ করেছে এবং কী মতামত পেয়েছে, সেই তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। কমিটির সদস্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার অধিকার থাকলেও সে সুযোগ তাদের দেওয়া হচ্ছে না।


এ অবস্থায় প্রস্তাবিত বিলের আলোচনা, পর্যালোচনা ও পাসের প্রক্রিয়ায় আর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। নাজিবুর রহমান বলেন, বৈঠক বর্জনের সময় তারা স্পষ্টভাবে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে এ বিলের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও চাপ তৈরির পরিবেশ রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সংসদ সদস্যদের কথা বলার অধিকার ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিলটি জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক জোট (GANHRI), প্যারিস নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব কারণে বিলটির পর্যালোচনা ও পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা।