সর্বশেষ

Saturday, February 7, 2026

জলঢাকায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সহ বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের জামায়াতে যোগদান

জলঢাকায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সহ বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের জামায়াতে যোগদান


মাহমুদ আল-হাছান,  তিস্তা নিউজঃ নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সহ ইউনিয়ন বিএনপি'র ৫ জন নেতা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে  জামায়াতে যোগদান করেছে। আজ ০৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সন্ধ্যায় গোলমুন্ডায় হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত দাঁড়িপাল্লা মার্কার জনসভায় বিএনপি'র এই ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফীর হাতে ফুল দিয়ে জামায়াতে যোগদান করেন। 

 উপজেলা যুবদলের সদস্য ও  ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল বারী, গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি মো. তহিদুর রহমান মিন্টু, ০৯ নং ওয়ার্ড জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি মনিরুজ্জামান দুখু , মুক্তিযোদ্ধা সন্তান জুয়েল রানা স্বস্ফুর্তভাবে জামায়াতে যোগদান করেছেন। এর আগে জলঢাকা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও গোলমুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপি'র সহ সভাপতি জনাব আফতাব হোসেন জামায়াতে যোগদান করেন। মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী যোগদান কারী নেতৃবৃন্দকে জামায়াতে গ্রহন করে তাদের জন্যে দোয়া করেন ও নেতৃবৃন্দকে কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

কৃষক ভালো থাকলে, দেশ ভালো থাকবে : তারেক রহমান

কৃষক ভালো থাকলে, দেশ ভালো থাকবে : তারেক রহমান


মাহমুদ আল হাছান ঃ উত্তরাঞ্চলকে একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক অঞ্চলে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। ধানের শীষের সরকার গঠন হলে নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা হবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী জেলা বিএনপির উদ্যোগে পৌর মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তারেক রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে নীলফামারী জেলাকে একটি আধুনিক জেলায় রূপান্তর করা হবে। বিশেষ করে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হবে।


সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, পরিবারের মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এছাড়া মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নসহ রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।


রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, যারা দীর্ঘ সময় মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু তাদেরই শরীক দলগুলো এখনো দেশ নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও তালবাহানা শুরু করেছে। এই সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে পাশে থাকার অনুরোধ করেন।


জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেলের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক ও

কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং নীলফামারী-১ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি।

অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের নুর

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকার পরিষদের নুর


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর মধ্যে আকস্মিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আব্দুন নুর। তিনি ট্রাক প্রতীক নিয়ে বড়লেখা ও জুড়ী আসনে লড়ছিলেন।


শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপির প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদকে সমর্থন জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন।


সংবাদ সম্মেলনে আব্দুন নুর জানান, দলীয় প্রধান নুরুল হক নুরের নেওয়া সমঝোতার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠুসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত আব্দুন নুর তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানুষ পরিবর্তনের যে ডাক দিয়েছে, সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।


তবে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পেছনে জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছেন আব্দুন নুর। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় কেন্দ্র দখলকারী এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি তাঁর বসতবাড়ির কেন্দ্র ছিনিয়ে নেওয়ার প্রকাশ্য হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।


আব্দুন নুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তিনি লক্ষ্যভেদী হত্যাকাণ্ড বা টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হতে পারেন। তবে জীবনের পরোয়া না করে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রাজপথে আজীবন থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ নেতা।

আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য: জামায়াত আমির

আমিও এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য: জামায়াত আমির

ডাঃ শফিকুর রহমান 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তার ভাই মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন, তবে বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র দেখলে তিনি (ভাই) হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জে নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখনো মায়েরা ঘরের মধ্যে নিরাপদ নন, ঘর থেকে বের হলে চলাচলে নিরাপদ নন, কর্মস্থলে নিরাপদ নন। এখনো দেশে চাঁদাবাজদের ভয়ে মানুষ অস্থির। মামলাবাজদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অস্থির। দুর্নীতি আমাদের সমাজকে আগাগোড়া একেবারে ছেয়ে ফেলেছে। এই বাংলাদেশ কি সবাই চেয়েছে? তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এখানে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাও আছেন। অথবা তাদের সন্তানরা আছেন। আমিও এক শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। আমার যে ভাই জীবন দিয়েছেন, আমি বিশ্বাস করি এমন বাংলাদেশের চিত্র দেখলে তিনি হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না।


জামায়াত আমির বলেন, এ দেশের মানুষের কপাল বদলায় না কেন? না বদলানোর মূল কারণ হলে অসৎ নেতৃত্ব। এরা যখন জনগণের কাছে ভোটের জন্য আসে, তখন একেকজন পীর, দরবেশ, আউলিয়া হিসেবে আসে। তারা আসে বসন্তের কোকিল হয়ে, বসন্তের সুবাতাস উপভোগ করার জন্য। নির্বাচনের সময় এসে উন্নয়নের একদম গঙ্গা, পদ্মা, সুরমা, কুশিয়ারা বয়ে দেয়। কিন্তু যখন নির্বাচন চলে যায়, তখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।


ক্ষমতায় আসলে জামায়াত নিরাপদে সব ধর্মের উৎসব পালন করার বিষয় নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার ইসলাম সমর্থন করে না। তাই ৫ আগস্টের পর ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আমরা আর কাউকে বঞ্চিত হতে দেব না। সব ধর্ম নিরাপদে তাদের উৎসব পালন করার বিষয়ে নিশ্চিত করবো।

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যে সরকার গঠন করবে না বিএনপি

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যে সরকার গঠন করবে না বিএনপি

তারেক রহমান 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলে বলেছেন, বিএনপির এককভাবেই সরকার গঠনের সক্ষমতা রয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) নিজের দলীয় কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির এ অবস্থানের কথা জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি কথা বলেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো, জেনজিদের ভোট ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে।

আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে। দলটি আগে নিষিদ্ধ থাকলেও এখন আবার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল। জামায়াত জানিয়েছে, তারা দেশকে স্থিতিশীল করতে একটি ঐক্য সরকার গঠনের মাধ্যমে আবারও অংশীদারিত্বে আগ্রহী।

রয়টার্সকে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন তারেক রহমান, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধীদলই বা কে হবে?’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধীদলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধীদল হবে।’

বিএনপি সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভে আত্মবিশ্বাসী। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, আর বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্ররা প্রার্থী দিয়েছে।

নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ ভারতের দিক থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবে কি না—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদার প্রয়োজন বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, আমরা যদি সরকারে আসি, আমাদের তরুণদের জন্য চাকরি দিতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়। সুতরাং বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ বা পক্ষ আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে। তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।

শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হন, যদি মানুষ তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।

Friday, February 6, 2026

জলঢাকায় অর্ধশতাধিক যুবকের জামায়াতে যোগদান

জলঢাকায় অর্ধশতাধিক যুবকের জামায়াতে যোগদান


মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীর জলঢাকায় সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফয়সাল মুরাদের হাত ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন অর্ধশতাধিক যুবক।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি )রাত ৮ টায় জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের  ৮ নং ওয়ার্ডের উঠান বৈঠকে হাজীপাড়া গ্রামের যুবকরা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এসময় জামায়াত নেতৃবৃন্দ তাদের স্বাগত জানিয়ে ফুল  দিয়ে বরণ করে নেন।

এ সময় ফয়সাল মুরাদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীতে যারা আজকে যোগ দিয়েছেন তারা আগামী দিনের সম্পদ। তারাই ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এবং ইসলামী আদর্শ ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।

যোগদানকারী যুবকরা জানিয়েছেন, ইসলামী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ও দেশের চলমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও ভবিষ্যতে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ ও দাড়িপাল্লা প্রতিকের হয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন আমীর মাওলানা রাশেদুজ্জামান, শহিদুর রহমান, মাসুম মাওলা,মাওঃ রবিউল ইসলাম, ইমরান আলী,লিটনসহ নেতাকর্মী সমর্থক ও স্থানীয় এলাকাবাসী এবং গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ৯ প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি, কী আছে এতে?

বিএনপির ৯ প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি, কী আছে এতে?

তারেক রহমান 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহারে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ' প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বিএনপি। এই ইশতেহারের স্লোগান হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ'। আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে ইশতেহারে ৯টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। ইশতেহারকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন নির্বাচনে তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এটিই তার প্রথম ইশতেহার।

নির্বাচনি ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতি


১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।


২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে 'কৃষক কার্ড'-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।


৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।


৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং 'মিড-ডে মিল' চালু করা হবে।


৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।


৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।


৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।


৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।


৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং 'মেড ইন বাংলাদেশ' পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা-এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে-সবার আগে বাংলাদেশ।


ইশতেহার ৩ মৌলিক ভিত্তিশহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং চেয়ারম্যান তারেক এনপি'র রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা – এই ধারাবাহিকতাই বিএনপির রাজনীতির মৌলিক ভিত্তি।


বিএনপি'র রাজনীতি স্লোগান নির্ভর নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভিত্তিক। 'সবার আগে বাংলাদেশ' দর্শনের ভিত্তিতে এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যাপক সামাজিক পরিকল্পনা মানুষের কর্মসংস্থান, সুশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, সুষম উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, আইনের শাসন এবং সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশকে বাস্তব উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। এই প্রেক্ষাপটে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত "We have a plan" এর আলোকে বিএনপি একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা হবে।


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনা আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়াম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুম্মন, শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

উল্লেখ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া। আর ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।