সর্বশেষ

Wednesday, March 26, 2025

চার দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা

চার দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা



 তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ চার দিনের সফরে বুধবার (২৬ মার্চ) চীনে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এদিন বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি দেশটির হাইয়ান বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম ও দেশটির হাইয়ান প্রদেশের ভাইস গভর্ণর কিওনগাই বো প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান।

প্রধান উপদেষ্টার সফরের বিষয়ে জানা গেছে, ২৭ মার্চ দেশটির হাইনান প্রদেশে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেবেন ড. ইউনূস। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেবেন তিনি। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার দিং ঝুঝিয়াংয়ের বৈঠক হতে পারে।

২৮ মার্চ বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ড. ইউনূস। একই দিনে হুয়াওয়ে কোম্পানির উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন এন্টারপ্রাইজ পরিদর্শন করবেন তিনি। ২৯ মার্চ চীনের বিখ্যাত পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে এবং সেখানে তিনি বক্তব্য রাখবেন। পরে বেইজিং থেকে চীনের একটি বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।

প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফরে ছয় থেকে আটটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি এ সফরে চারটি ঘোষণা আসতে পারে। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশকে এক থেকে দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার ঘোষণা দেবে চীন। এছাড়া মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে অর্থায়নের বিষয়টিও যুক্ত থাকবে।

Tuesday, March 25, 2025

দিল্লিতে নেই হাসিনা, অবশেষে জানা গেলো তার বর্তমান অবস্থান!

দিল্লিতে নেই হাসিনা, অবশেষে জানা গেলো তার বর্তমান অবস্থান!



তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ পালাইছেরে পালাইছে হাসিনা পালাইছে, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালানোর পর ঠিক এভাবেই স্লোগান দিয়েছিলো ছাত্র-জনতা। গণহত্যা চালিয়ে দেশ ছেড়ে পালানো পতিত স্বৈরাচারের ঠিকানা হয়েছিলো দিল্লি। মোদি সরকার তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেই রেখেছিলো। দিল্লির একটি জাতীয় দৈনিকের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ইস্যুতে হাসিনাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে রাখা হয় স্ট্যান্ড কমান্ডের একটি নিরাপদ জোনে। তবে ভারতের ঠিক কোন এলাকায় রাখা হয়েছে হাসিনাকে এটি বলা হয়নি সেই প্রতিবেদনে। এবার অবশেষে জানা গেলো হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে।

পতিত স্বৈরাচার ভারতের দালাল হাসিনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কলকাতায়। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এমনটিই বলছে। এর মাঝে সম্প্রতি অনলাইন এক্টিভিষ্ট ও লেখক পিনাকী ভট্রাচার্য তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেওয়া পোষ্টে নিশ্চিত করেছেন হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে। তার দাবি বর্তমানে দিল্লি থেকে হাসিনা এসেছেন কলাকাতায়। শুধু এতটুকুই নয় এই পোষ্টে হাসিনাকে নিয়ে রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন তিনি।

হাসিনা কলকাতায় এসে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়মিত দেখা করছেন বলেও পিনাকী ভট্রাচার্য তার পোষ্টে জানান। এছাড়াও তিনি তার পোষ্টে উল্লেখ করেন, হাসিনাকে কলকাতার সল্ট লেক ও নিউটাউন এলাকায় দেখা গেছে, তবে কলকাতা হাসিনার স্থায়ী আবাসস্থল নয় বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে কলকাতার নিউটাউন এলাকায় ফ্যাসিস্ট হাসিনার আবাসস্থল এমনটিই জানা যাচ্ছে পিনাকী ভট্রাচার্যসহ একাধিক সূত্রে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিস্কার করে কিছু জানানো হয়নি হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে। বাংলাদেশ হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল করলেও পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তার্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভারতের মোদি সরকার গণহত্যকারী পতিত স্বৈরাচারকে ঠিকই তাদের দেশেই রেখে দিয়েছে। ওরা যেনো বোঝাতে চাইছে বাংলাদেশ আর দেশের জনগণের সাথে সম্পর্ক যত খারাপই হোক না কেন ওদের লাগবেই লাগবে হাসিনাকে। এ যেনো ছোট্ট বাচ্চার মামা বাড়ির আবদার।


সূত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব।



Monday, March 24, 2025

জলঢাকায় এনসিপি'র যুগ্ম মূখ্য সংগঠক লিওন'কে গন- সংবর্ধনা

জলঢাকায় এনসিপি'র যুগ্ম মূখ্য সংগঠক লিওন'কে গন- সংবর্ধনা



বদিউজ্জামান জলঢাকা(নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও নব গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিওন কে নীলফামারীর জলঢাকাবাসীর পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ মার্চ) বিকালে জলঢাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রেজাউল করিম রাজুর সভাপতিত্বে ও আহসান হাবিব রক্সির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নেতা মামুনুর রশীদ বকুল,মোহায়াইমেনুর রহমান সানা, শরীফুজ্জামান, আব্দুল হাকিম সাবু ও বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ। 

সভায় কেন্দ্রীয় যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিওন বলেন, আওয়ামী লীগসহ তাদের দোসর কোনো দলই বিচারের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারবে না।’

 আওয়ামীলীগ ও ফ্যাসিবাদের দোসররা গণহত্যা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধের দায় তারা এড়াতে পারে না মন্তব্য করেন তিনি। লিওন বলেন, ‘এক ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করে আরেক ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে ছাত্র নাগরিক জীবন দেয়নি।’ এসময় তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়া ও তার পরিবারের উপর নিপীড়ন এর কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার উত্তরাঞ্চলের কোন উন্নয়ন করেনি। বর্তমান সরকার তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিয়েছে। এছাড়াও তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলায় উন্নয়নের কথাও বলেন।

সংবর্ধনা শেষে আগতদের নিয়ে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন তিনি।


মাঠে অসুস্থ তামিম, নেয়া হয়েছে হাসপাতালে

মাঠে অসুস্থ তামিম, নেয়া হয়েছে হাসপাতালে



তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বিকেএসপিতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলতে নেমে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সবচেয়ে সফল ওপেনার ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

বুকে ব্যথা অনুভব করায় তাকে সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেএসপির পাশে ফজিলাতুন্নেছা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবির মেডিকেল বিভাগের একটি সূত্র। আরেকটি সূত্র জানায়, তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক করেছেন তিনি। হেলিকপ্টারে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনার চেষ্টা করেও পারা যায়নি। ফলে দ্রুত স্থানীয় কেপিজে হাসপাতালে নেয়া হয় তামিমকে।


ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আজ মাঠে গড়ানোর কথা অষ্টম রাউন্ডের খেলা। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে মুখোমুখি মোহামডোন ও শাইনপুকুর। টস করতে নামলেন মোহামেডান অধিনায়ক তামিম ইকবাল। টস করে ড্রেসিং রুমে ফিরেই বললেন, আমার অস্বস্তি লাগছে। এরপরই মুহূর্তের মধ্যেই অবস্থা খারাপ হতে থাকে।


তামিমের অবস্থা দেখে সবাই ধরে নিয়েছে, হয়তো হার্ট অ্যাটাক করেছেন তিনি। দ্রুত হেলিকপ্টার আনা হয় এভারকেয়ার হসপিটালে আনার লক্ষ্যে। সব ঠিকঠাক করে হেলিকপ্টারে ওঠার আগ মুহূর্তে আবারও লুটিয়ে পড়েন তিনি।

অবস্থা যা, তাতে তাকে ওই মুহূর্তে হেলিকপ্টারে তোলা নিরাপদ ছিল না দেখে দ্রুত সাভারের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। তামিমের সঙ্গে থাকা মোহামেডান কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘তামিমের অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। সম্ভবত হার্ট অ্যাটাক করেছে। স্থানীয় কেপিজে হাসপাতালে আনা হয়েছে। সবার দোয়া চাই।’

মোহামেডান এবং বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তা মাহবুব আনাম জানান, ‘তামিমের অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। তার বুকে ব্যথা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হেলিকপ্টার আনা হয় এবং তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। হেলিকপ্টারে তোলার আগ মুহূর্তে আবারও কলাপ্স করে। এ কারণে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়।’

Sunday, March 23, 2025

হত‍্যা, দূর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ   আরটিভির সিইওর বিরুদ্ধে

হত‍্যা, দূর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আরটিভির সিইওর বিরুদ্ধে



তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃজুলাই আন্দোলনে হত‍্যা, দূরর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমানের বিরুদ্ধে। ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত‍্যার ঘটনায় পল্টন থানার একটি মামলায় (মামলা নং-২৬ (০৩) ২৫) আসামি করা হয়েছে আশিক রহমানকে। মামলার প্রথম আসামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দূরর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে আরটিভির সিইওর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ জানিয়েছেন একজন আইনজীবী। 


জানা যায়, ছাত্র-জনতা আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই পল্টনে সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবক হত‍্যার ঘটনায় মামলা করেন তার চাচাতো ভাই। সেই মামলায় ১৩১ নম্বর আসামি করা হয় সৈয়দ আশিক রহমানকে। মামলার অন‍্য আসামীরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। পরামর্শদাতা, উস্কানিদাতা ও গণহত্যার পক্ষের সাফাইকারী হিসেবে আশিক রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়। 


এদিকে দূরর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে আরটিভির সিইওর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ জানিয়েছেন একজন আইনজীবী। অভিযোগ অনুযায়ী, সৈয়দ আশিক রহমানের নামে  ২০২৫ সালের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত, আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পাশিপাশি, সাংবাদিক না হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছিলেন বার্তা বিভাগের প্রধান। এই পদ ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকা দুর্নীতি ও অর্থপাচার করেছেন। এমনকি বিগত আওয়াম লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে গেছেন। আর বিভিন্ন সময়ে তাদের ব্যবহার করে, আরটিভির সিইও হয়েও সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। 

সৈয়দ আশিক রহমানের স্ত্রী তানজিনা শারমিন ছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন(এটুআই)প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা। সম্পদের পাহাড় গড়তে স্ত্রীর এই পদকেও ব্যবহার করতেন আশিক রহমান। 

দুর্নীতির টাকা দিয়ে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, ফ্লাট, গাড়ি এবং অর্থ পাচার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি, তেলের পাম্প গড়ে তুলেছেন। এছাড়া অভিযোগ আছে তিনি মালয়েশিয়াসহ মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

গত কয়েক বছরে দুর্নীতির টাকা দিয়ে তিনি, উত্তরায় (বাড়ি: ১৫, রোড: ১৩, সেক্টর ৬, ফ্লাট: এ-৪, বি-৪) প্রায় চার কোটি টাকা দিয়ে দুটি ফ্লাট কিনেছেন। যার একটিতে নিজে এবং অন্যটিতে তার বোন বসবাস করেন। ইস্কাটনে (১৩১ ইস্কাটন প্লাজা, নিউ ইস্কাটন রোড: ১৩-এ) প্রায় ৩ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট, বলানীতে (বাড়িঃ ৮৯, র‍্যাঙ্গস সিম্ফোনী, ব্লকঃ এ, রোডঃ ২৫/এ, বনানী) প্রায় পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। এছাড়া, পূর্বাচলে (শামসুন নাহার রহমান ভিলা, প্লটঃ ২১, সেক্টরঃ ৮, রোডঃ ৩০৪, পূর্বাচল নতুন শহর) মা শামসুন নাহারের নামে পাঁচ কাঠার প্লটে গড়েছেন বাংলো বাড়ি। যার দাম ১০ কোটি টাকার বেশি। ২০২৩ সালে বাবা সৈয়দ মতিউর রহমানের মৃত্যুর পর দাফন করেছেন বনানী কবরস্থানে। আর সেই কবরটি ২ কোটি টাকায় কিনেও নিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত ১টি গাড়ি থাকা সত্ত্বেও আরটিভির ৫ টি গাড়ি তার জন্য বড়াদ্দ নিয়েছেন। এছাড়া রাজধানীতে তিনি প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ও বিনিয়োগ করেছেন। 

বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে তার এবং স্ত্রী-সন্তানদের নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থ পাচার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া শহরে তিনটি বাড়ি ও তেলের পাম্প গড়ে তুলেছেন সৈয়দ আশিক রহমান। তিনি বেশিরভাগ সময়ে বাংলাদেশে বসবাস করলেও তার পরিবার (স্ত্রী ও দুই সন্তান) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া শহরে রাজকীয়ভাবে বসবাস করেন। সেখানে পুরো পরিবারের নাগরিকত্ব নেয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

আমেরিকায় গানের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে কয়েক’শ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এছাড়া মালয়েশিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশে অর্থ পাচার করে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার পাসপোর্ট (BW0851110) তদন্ত করলেই দেখা যাবে তিনি গত ৭-৮ বছরে আরটিভির অনুষ্ঠানের নামে এবং ব্যক্তিগত সফরে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে কতবার গিয়েছেন। প্রতি বছর ১২-১৫ বার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করতেন সাংবাদিক নামধারী এই কর্মকর্তা। ২০২৪ সালের পাঁচ আগস্টের পর ছয় মাসে ৭-৮ বার যাতায়াত করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। যাতায়াতের সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। আর এসব ভ্র্রমন করেছেনে এয়ারলাইন্স এর সবচেয়ে দামি, বিজনেস ক্লাসে। অভিযোগ আছে, বিএনপির নেতাদের সাথে আতাত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গিয়েছেন লন্ডনেও। সেই প্রমানও পাওয়া গেছে। ফিরে এসে হয়েছেন আবার ক্ষমতাবান। যার কারণে এতো অপরাধ করেও এখনো তিনি ধরাছোয়ার বাইরে।

বিগত সরকারের তোষামদি করে গেছেন বছরের পর বছর। বাংলাদেশ এবং আমেরিকাতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনুষ্ঠান করে সরকারের আস্থা অর্জন করে নানা সুবিধা নিতেন। সব অনুষ্ঠানই থাকতো আওয়ামী লীগের কোন মন্ত্রী বা সিনিয়র নেতাকে ঘিরে। শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে নিজ উদ্যোগে হাতিরঝিলে অনুষ্ঠান করেছেন। যেখানে বিগত সরকারের মন্ত্রী, মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। গণভবন ও পিএম কার্যালয়ের সকল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতেন। শেখ হাসিনার সুনজরে আসার জন্য তেলবাজি করে প্রশ্নও করতেন মাঝেমধ্যে। 

বঙ্গবন্ধুর নামে ডকুমেন্টারি বানিয়ে পেয়েছেন ন‍্যাশনাল এওয়ার্ড। শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়’শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রের জন্য ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২০’ জিতে নেন সৈয়দ আশিক রহমান। ২০২২ সালের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনার পক্ষে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সৈয়দ আশিক রহমানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড নির্মিত সৈয়দ আশিক রহমান প্রযোজিত প্রামাণ্যচিত্রটি গবেষণা, চিত্রনাট্য, আবহসংগীত ও পরিচালনা করেছেন সৈয়দ সাবাব আলী আরজু।

এসবেই ক্ষ‍্যান্ত হননি, নিজ উদ‍্যোগে বানিয়েছেন ইনডেমনিটি নাটক। যেখানে জিয়াউর রহমানকে বানিয়েছিলেন খলনায়ক। এসব করে ধরাছোয়ার বাইরে থাকার জন্যই সাংবাদিক না হয়েও ছিলেন বার্তা বিভাগের প্রধান। সম্প্রতি চাপে পরে ছাড়তে হয়েছে সেই পদটি। কিন্তু ততদিনে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। তবে এখনো থেমে নেই তার দুর্নিতী। দেশে থাকা অর্থ পাচার করতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত বারিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া পাঁচ আগস্টের পরদিনই ভোল পাল্টে ফেলেছেন। সেজেছেন আওয়ামী বিরোধী। 

এর আগে ২০২৩ সালেও সৈয়দ আশিক রহমানের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ জমা পরেছিলো দুদকে। কিন্তু ততকালীন একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে সেই অভিযোগ গায়েব করান এই সাংবাদিক নামধারী সৈয়দ আশিক রহমান।

জলঢাকায় শিক্ষকদের পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন

জলঢাকায় শিক্ষকদের পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন



 জলঢাকা(নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ পাঁচ দফা দাবীতে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ জলঢাকা শাখার আয়োজনে আজ রবিবার (২৩ মার্চ) সকালে শহরের জিরোপয়েন্ট মোড়ে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি, ঈদুল ফিতরের পূর্বে বকেয়া বেতন পরিশোধ, প্রকল্প স্থায়ীকরণ, অসুস্থ বা অবসর গ্রহণ করলে এককালীন অর্থ প্রদান সহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। 

ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার হেফাজুল ইসলাম, মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার আব্দুল আজিজ, জেলা মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, উপজেলা মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

জলঢাকা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জানান, সারাদেশে ৭৩ হাজার ৭৬৮টি মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েরা ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করছে। কিন্তু ২০২৫ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না করায় কেন্দ্রগুলো বন্ধের উপক্রম হয়েছে। সেইসঙ্গে তিন মাস ধরে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রয়েছে। মানববন্ধনে শিক্ষকরা তাদের দাবী মেনে নেওয়ার আহবান জানান।

Saturday, March 22, 2025

রক্তের শপথ, আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না’

রক্তের শপথ, আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না’



তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ‘যে ভাইয়েরা রাজপথে জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের শপথ আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’ ঢাকা মহানগর এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। 

গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার, নিবন্ধন বাতিল, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে শনিবার (২২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘কোনো শান্তিপূর্ণ ঘটনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের বিদায় হয়নি। হাজারো মানুষের রাজপথ ভেজানো রক্তের মধ্য দিয়ে এই খুনি-ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিদায় হয়েছে। আমাদের পুনর্জন্ম হতে পারে, কিন্তু আওয়ামী লীগকে আমরা পুনর্বাসিত হতে দেব না। বাংলাদেশে যতবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে, ততবার সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে।’

দেশের মানুষ জীবন দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, আওয়ামী লীগ এ দেশে আর রাজনীতি করতে পারবে না উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘যে ভাইয়েরা রাজপথে জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের শপথ আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’

দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো সাত মাস পেরিয়ে গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ব্যাপারে কোনো বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলব, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আওয়ামী লীগের নামে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো যাবে না। অল্প সময়ের মধ্যে নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।’

বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা মহানগর শাখার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নিয়েছেন। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত গিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।