মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন ২০২৬) বিকেলে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামানের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, নুজহাত তাসনীম আওন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক আহমেদ, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুত্রে জানা যায় জলঢাকা উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি নাজমুল আলম অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, চুরি-ডাকাতি দমন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জনগণের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও মসজিদভিত্তিক সচেতনতা মূলক সভা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে তার উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, বিভিন্ন মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেফতার, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে জলঢাকা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ প্রশাসন উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছে। সম্মাননা গ্রহণ শেষে ওসি নাজমুল আলম দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়, জলঢাকা থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। যে কোনো পুরস্কার দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা আরও বাড়িয়ে দেয়। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জলঢাকা গড়ে তুলতে আমরা আগামীতেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষ নেতৃত্ব, জনবান্ধব পুলিশিং এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকার জন্য ওসি নাজমুল আলমের এ সম্মাননা প্রাপ্তিকে জেলার প্রশাসনিক ও সামাজিক মহল ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও কর্মোদ্যমী হয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।
সর্বশেষ
Sunday, June 21, 2026
গাইবান্ধায় শিবির নেতাকে গলা কেটে হত্যা
![]() |
| নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী |
তাজুল ইসলাম মিলন (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নামে এক ছাত্রশিবির নেতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)। রোববার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়ার চার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।
বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসা তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।
অপর দিকে অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা একই ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি। তবে বর্তমানে বহিষ্কৃত বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের (উপজেলা চত্বরে) চারমাথা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। পরে মুকুলের ছোট ভাই পলাশ সাইফুল্লাহ বারীর গলায় লোহার শাবল দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এ সময় সাইফুল্লাহ বারীর সাথে থাকা তার বন্ধু সালাউদ্দিনকেও (৩০) ছুরিকাঘাত করেন তারা। পরে স্বজনরা প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হওয়া সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা নিহত শিবির সভাপতির বন্ধু মোবাশ্বের বলেন, কচুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমার চাচা হাবিবুল্লাহ। দীর্ঘদিন থেকে ওই স্কুলে কমিটি নেই। সম্প্রতি স্কুলে কমিটি গঠনের কথা চলছিলো। আজ বিকেলে আমার চাচা (প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ) বোনারপাড়া বাজারে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় মুকুল-পলাশসহ বেশ কয়েকজন এসে কমিটির বিষয় নিয়ে চাচার সাথে খারাপ ব্যবহারসহ গালিগালাজ করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা কয়েকজন বাজারে আসি। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হলে স্থানীয়রা দুই দলকেই সরিয়ে দেন। কিন্তু চলে যাওয়ার সময় তারা ধাওয়া দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে এসে মুকুল ও তার ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। শাবলের আঘাতে সাইফুল্লাহ বারীর গলা এফোর-ওফোর করে দেয়।
Thursday, June 18, 2026
জলঢাকায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন
মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজ : নীলফামারীর জলঢাকা পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দিন-রাত মিলে সর্বসাকুল্যে ৬ ঘন্টাও বিদ্যুত সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। সর্ব্বোচ্চ ১ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ করলে পরবর্তী দুই ঘন্টা বিদ্যুতবীহিন থাকতে হচ্ছে। এর ফলে ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়া সহ ব্যাবসা বানিজ্যে অপূরনীয় ক্ষতি হচ্ছে ব্যাবসায়ীদের। বিদ্যুত নির্ভর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ভয়াবহ লোকসানের মুখে পড়েছে। প্রচন্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা শেচনীয়।
বালাগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব বলেন, বিদ্যুতের যন্ত্রনা সহ্যের সকল সীমা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে বিদ্যুত চলে গেলে আর আসার নাম থাকে না। এ সময় ছেটো শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এত রাতে কেনো লোডশেডিং হবে? এ সময় তো অফিস আদালত হাট বাজার সবকিছুই বন্ধ থাকে, এ সময় কিসের লোডশেডিং?
গোলমুন্ডা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা তোজাম্মেল হোসাইন এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন- বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে মাদরাসার দুইটি হ্যালোজিন লাইট ও পানির মর্টার নষ্ট হয়ে গেছে, যার মুল্য ৪০,০০০/ টাকা। অসহনীয় গরম ও বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিংয়ের ফলে মাদরাসায় ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিও কমে গেছে।
খুটামারা ইউনিয়নের পুর্ব খুটামারা গ্রামের বাসিন্দা অমল রায়ের স্ত্রী সুমী রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- পল্লী বিদ্যুতের কারনে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। আমরা জীবনে মনে হয় আর উঠে দাঁড়াতে পারবো না। আমাদের মুরগীর খামারে তোলা এক হাজার ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা ঠিকমতো বুডিং করতে না পেরে মারা গেছে। এ ক্ষতি আমরা কিভাবে কাটিয়ে উঠবো!
পল্লী বিদ্যুত জলঢাকা শাখার ডিজিএম জনাব মেহেদী হাসানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্যে বেশ কয়েকবার তার মুঠোফোনে কল করার পরে তিনি ফোন রিসিভ করেন। জলঢাকা পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমরা যেটুকু বিদ্যুত পাই সেটুকুই সরবরাহ করছি, এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। পিডিবিতে সঙ্কট নেই কিন্ত আপনাদের এত সঙ্কট কেনো- প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা সরকার বলতে পারবে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে সেটিও তিনি জানেন না বলে জানান।
Wednesday, June 17, 2026
জলঢাকা এলএসডি গোডাউনে ছেঁড়া-ফাটা বস্তায় বোরো ধান সংরক্ষণের অভিযোগ।
জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর জলঢাকা এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) গোডাউনে ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমের ধান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ছেঁড়া-ফাটা বস্তা তালি দিয়ে ধান সংরক্ষণ এবং নিম্নমানের ধান গ্রহণের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোডাউনে সংরক্ষিত ধানের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও ছেঁড়া বস্তায় রাখা হয়েছে। অনেক বস্তা তালি দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি মানদণ্ডের বাইরে নিম্নমানের ধান গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে জলঢাকা এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, "আপনারা কি আমার চেয়ারটাকে নড়ানোর জন্য এখানে আসছেন?" পরে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, "বস্তার সংকট থাকায় ছেঁড়া-ফাটা বস্তা মেরামত করে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতি রয়েছে।" তিনি আরও জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুসারেই ধান সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তবে নিম্নমানের ধান গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ধানের মান যাচাই করেই গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মানসম্মত বস্তা ব্যবহার এবং ধানের গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্যশস্যের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Tuesday, June 16, 2026
কলকাতায় মোশাররফ করিম দম্পতির ওপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হামলা
![]() |
| অভিনেতা মোশাররফ করিম ও তার স্ত্রী |
তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ কলকাতায় দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের ওপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজন চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুঁইও ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।Sunday, June 14, 2026
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল
তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ক্ষমতাবলে রোববার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ।
১২ বছরের সোহাগী দিনে পানি পান করে ৪০ লিটার!
এই বয়সে তার ওজন ছাড়িয়েছে ৮০ কেজি। প্রতিদিন সে পানি পান করছে ৩৫ থেকে ৪০ লিটার।
অতিরিক্ত ওজন আর অস্বাভাবিক তৃষ্ণা যেন ধীরে ধীরে আটকে দিচ্ছে তার শৈশবের দরজা।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের তাতারপুর গ্রামের ভ্যানচালক হাফিজুল ইসলামের ছোট মেয়ে সোহাগী।
চার ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট সে।
সোহাগীর মা হাসিনা বেগম জানান, জন্মের পর সবকিছু স্বাভাবিক ছিল।
কিন্তু ৮ মাস বয়সের পর থেকেই শুরু হয় অদ্ভুত পরিবর্তন। বুকের দুধ ছাড়ার পর থেকেই পানির প্রতি তৈরি হয় তার অস্বাভাবিক আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার তৃষ্ণা যেন বাড়তেই থাকে। এখন দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার পানি পান করে সোহাগী।
অতিরিক্ত পানি আর ওজনের চাপে ফুলে উঠেছে শরীর। বেঁকে গেছে দুই পা। কিছুদূর হাঁটলেই হাঁপিয়ে ওঠে। গরমে কষ্ট বাড়ে আরও। বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলে যাওয়া। সমবয়সীদের সঙ্গে খেলায়ও জায়গা হয় না তার।
সোহাগীর বাবা হাফিজুল ইসলাম বলেন, মেয়েকে সুস্থ করতে চেষ্টা করেছি অনেক। কিন্তু তাতে লাভ হচ্ছে না। স্থানীয় চিকিৎসক, হাতুড়ে ডাক্তার যার কাছে সম্ভব হয়েছে সোহাগীর চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু সমাধান মেলেনি কোথাও। চিকিৎসকেরা বড় হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু টাকার জন্য এখনো সেটা সম্ভব হয়নি।
সোহাগীর দাদি হামিদা বলেন, স্বাভাবিক খাবার খেলেও অস্বাভাবিক পরিমাণ পানি পান করে সোহাগী। সামান্য হাঁটলেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে শরীর আরও ভারী হয়ে উঠছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ৪ থেকে ৫ মগ পানি লাগে সোহাগীর। এমন অবস্থায় চিকিৎসার জন্য সরকারি সহযোগিতা ছাড়া তার চিকিৎসা সম্ভব নয় আমাদের পক্ষে।
সোহাগীর বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এটি গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যা কিংবা মস্তিষ্কের কোনো জটিলতার কারণে হতে পারে। এরই মধ্যে তার কিছু পরীক্ষা নওগাঁ সদর হাসপাতালে করানো হয়েছে। এবং আরও কিছু পরীক্ষার জন্য রাজশাহীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪।


