সর্বশেষ

Thursday, January 29, 2026

নারীরা কখনো জামায়াতের প্রধান হতে পারবে না

নারীরা কখনো জামায়াতের প্রধান হতে পারবে না

ডাঃ শফিকুর রহমান 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ কোনো নারী জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। শরিয়া আইন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনি বেশ জটিল একটি প্রশ্ন করেছেন। আমরা দেশের সাংবিধানিক আইন মেনেই আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমরা জনগণের চাওয়া বুঝার চেষ্টা করছি। আমরা মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই করবো না।   

শ্রীনিবাসন বলেন, আপনি জনগণের ইচ্ছার কথা বললেন। তবে গত বছরের জুলাই মাসে আপনার দলের নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান এক জনসমাবেশে বলেছেন, আগামী সংসদ কেবলমাত্র ইসলামী আইনের ভিত্তিতেই চলবে। এখানে মানবরচিত কোনো মতবাদের স্থান নেই। জবাবে জামায়েতের আমীর বলেন, আপনার অবশ্যই দলের প্রধানের বক্তব্য অনুসরণ করা উচিত। আমরা ইসলামের বিষয়গুলোই তুলে ধরছি। যেমন- দুর্নীতি দমন, সকল স্থানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জনগণের গণতান্ত্রিক মানবাধিকার। যদি এই আইন দেশের জন্য ভালো হয় তাহলে সেটা সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে। 
নারীর কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একজন সন্তান লালন পালন করেন, একইসঙ্গে তিনি তার কর্মসংস্থানে একজন পুরুষের মতো একই সময় কাজ করেন। আমি মনে করি এটা ন্যায়বিচার নয়। এই সময়টাতে একজন নারীকে সম্মান দেখানো উচিত। এক্ষেত্রে নারীদের এই সুযোগের অভাবে কাজ ছেড়ে দিতে হয়। এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা বলেছি, যদি কেউ মনে করে তাহলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। তবে কোনো নারী যদি পুরো আট ঘণ্টাই কাজ করতে চায় তাহলে সে করতে পারবে।

Wednesday, January 28, 2026

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি নিহত

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি নিহত


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় তিনি মারা যান।

জানা যায়, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ সহিংসতায় অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকেরা আগে থেকেই মঞ্চের সামনে আসন গ্রহণ করেন। পরে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সমর্থকেরা মাঠে পৌঁছালে বসাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সন্ধ্যার দিকে জামায়াত প্রার্থী তার সমর্থকদের নিয়ে স্টেডিয়াম এলাকা থেকে বাজারের দিকে যেতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দেয়। বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে দ্বিতীয় দফায় আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঘটনার পর রাতে জেলা জামায়াতে ইসলামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। পরে মাইসাহেবা মসজিদ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে সংগঠনটি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল বলেন, চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এখনও কোনও পক্ষ মামলা করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

জলঢাকায় সড়কের পাশ থেকে কাটা পা উদ্ধার

জলঢাকায় সড়কের পাশ থেকে কাটা পা উদ্ধার


হাকিম বদিউজ্জামান জলঢাকা ঃ নীলফামারীর জলঢাকায় হাঁটুর নিচ থেকে কাটা একটি পা পড়েছিল সড়কের পাশে। পুলিশ আজ বুধবার সকালে এই পা উদ্ধার করে। জলঢাকা পৌরসভার দুন্দিবাড়ি এলাকার চৌকিদারের মোড় এলাকায় কাটা এই পা পাওয়া যায়। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, কীভাবে একটি পা এখানে এল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, দুন্দিবাড়ি এলাকায় সড়কের পাশের একটি নিচু স্থানে একটি কাটা বাম পা পড়ে ছিল। আজ সকাল ১০টার দিকে পথচারীরা প্রথমে সেটি দেখতে পান। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পা উদ্ধার করে নিয়ে যায়। জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, জলঢাকা পৌরসভাস্থ দুন্ডিবাড়ি চৌকিদার মোড় নামক স্থানের জলঢাকা হতে ডোমার/ ডিমলাগামী সড়কের পাকা রাস্তা সংলগ্ন পশ্চিম পার্শে একটি কার্টুনে সাদা গজ দ্বারা পেচানো অবস্থায় একজন বয়স্ক মানুষের বাম পা বৃদ্ধাঙ্গুলে ঘা/পচা যুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় উক্ত পা টি চিকিৎসারত অবস্থায় অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ওষুধের প্যাকেট গজ ব্যান্ডেজ ও অন্যান্য মেডিকেল সামগ্রী পড়ে আছে। কেউ কাটা পা এনে এখানে ফেলে গিয়েছিল। তিনি বলেন , প্রাথমিকভাবে পুলিশ মন করছে, হাসপাতাল বা ক্লিনিকের কোথাও পা কাটা হয়েছে। তারপর এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে। আশেপাশের থানা গুলোতে ম্যাসেজ দেয়া হয়েছে বলেও এটি কার পা, কারা এটি ফেলে গেছে; সে ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে।

Tuesday, January 27, 2026

জলঢাকায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান

জলঢাকায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান


মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীর জলঢাকায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার ( ২৭ জানুয়ারি) বিকালে জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মন্ডপপাড়ায়  জামায়াত আয়োজিত সনাতনী ভাইদের সমাবেশে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সোবহান চিনু ও জাতীয় পার্টির হাড়োয়া শিমুলবাড়ি শাখার সভাপতি শুকুর আলীসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জামায়াত প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ সালাফিকে দাড়িপাল্লা মার্কার একটা চাদর উপহার দিয়ে,জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। সমাবেশে জামায়াত নেতারা ফুল দিয়ে তাঁদেরকে বরণ করে নেন।

যোগদান উপলক্ষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আব্দুস সোবহান চিনু বলেন, 'দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তবে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ, চিন্তাধারা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আমার কাছে খুবই গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। তাই আজ আমিসহ কয়েকজন জামায়াতে যোগদান করেছি। যতদিন বেঁচে থাকব, জামায়াতের সঙ্গে থেকেই ইসলামের খেদমতে কাজ করে যাব।'

জাতীয় পার্টির নেতা শুকুর আলী বলেন, আমি এই ওয়ার্ডের জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলাম বিশ বছর, বর্তমানে জামায়াতের কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ হয়ে যোগদান করলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ সালাফি, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির কামারুজ্জামান, জামায়াত নেতা ফয়সাল মুরাদ,শহিদুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন ও অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


জলঢাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেফতার ১

জলঢাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেফতার ১


হাকিম বদিউজ্জামান জলঢাকা ঃ  নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে যৌথ বাহিনীর একটি চৌকস দল ইয়াবা ও হেরোইনসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১টা ০০ মিনিটে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর মাহমুদ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা জলঢাকা উপজেলার ৮ নম্বর খুটামারা ইউনিয়নের কিসামত বটতলা-কুটিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ওই এলাকার বাসিন্দা মোঃ ফিরোজুল নামের এক ব্যক্তিকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
আটকের পর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ঘটনাস্থলেই জব্দ করা হয়।
যৌথ বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আটক মোঃ ফিরোজুল দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর

বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ এবার ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জুয়েল তালুকদার নামে একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কাঁঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরাপুর ইউনিয়নের বানাই বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানাই বাজারের একটি দোকানে বিএনপির এক নেতার বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রূপ নেয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপি কার্যালয়ের আসবাবপত্র লন্ডভন্ড অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এছাড়া দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তারা তদন্ত করে দেখছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। বানাই বাজারের এক ইলেকট্রনিক্স দোকানদার দাবি করেন, ভাণ্ডারিয়া থেকে বহিরাগত লোক এনে একটি ‘আওয়ামী চক্র’ পরিকল্পিতভাবে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে হামলায় আহত জুয়েল তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘ফয়সাল তালুকদার এই হামলার পেছনে ইন্ধন দিয়েছেন।’ তবে অভিযুক্ত ফয়সাল তালুকদারের বাবা ফারুক তালুকদার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘জুয়েল তালুকদার আগে আওয়ামী লীগ করতো। এখন বিএনপি সেজে মূল ধারার বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে। আমার ভাই বাদশা তালুকদার আজীবন বিএনপি করে আসছে। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’

এ বিষয়ে বাদশা তালুকদার মুঠোফোনে জানান, ঘটনার দিন তিনি রংপুরে ছিলেন এবং বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বের করলে আমার জন্যই ভালো হবে।’

এদিকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম মীরবহার বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দলীয় কার্যালয় ও চেয়ারম্যানের ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ কাঁঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Monday, January 26, 2026

ডাকসু থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত সর্বমিত্র চাকমার

ডাকসু থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত সর্বমিত্র চাকমার

সর্বমিত্র চাকমা 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সর্বমিত্র চাকমা। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।