সর্বশেষ

Wednesday, February 4, 2026

সন্ধ্যায় নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত

সন্ধ্যায় নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ ইশতেহার ঘোষণা করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আমন্ত্রণপত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জাতির ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্র, সুশাসন ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর দৃষ্টিভঙ্গি ও অঙ্গীকার জাতির সামনে উপস্থাপন করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

আজ তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় আসছেন জামায়াত আমীর

আজ তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় আসছেন জামায়াত আমীর

ডাঃ শফিকুর রহমান 

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় আজ  লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ এলাকার হেলিপ্যাড মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের সব বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের হেলিপ্যাড মাঠে দুপুর ১টার দিকে ১১ দলীয় জোটের জনসভায় বক্তব্য রাখবেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জেলা জামায়াতের আমির ও লালমনিরহাট -৩ আসনের দাড়িপাল্লার প্রার্থী এ্যাডভোকেট মো. আবু তাহের।

লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রাথী এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে দুই জেলার নীলফামারী ১, ২, ৩, ৪ এবং লালমনিরহাট ১, ২ ও ৩ আসনের ৭ জন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে তিস্তা নদীর পাড়ে জনসভায় যোগ দিতে তিস্তা ব্যারাজের হেলিপ্যাড মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

নুরুজ্জামান বাদল 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক: শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা যাওয়া ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ইসি।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারায় বলা হয়েছে, যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোট গ্রহণের আগে কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হবে।


আইন অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। প্রার্থীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম বাতিলের ঘোষণা দেবেন এবং পরবর্তী সময়ে কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করবে।

তবে আইনে কিছু বিশেষ ব্যতিক্রমও রয়েছে। যদি মৃত ব্যক্তি বৈধ প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হওয়ার আগেই মারা যান অথবা ওই আসনে একই দলের বিকল্প কোনো বৈধ প্রার্থী বিদ্যমান থাকে, তবে নির্বাচন স্থগিত করার প্রয়োজন পড়ে না।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারিও ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী বাদল মারা গেছেন

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী বাদল মারা গেছেন

নুরুজ্জামান বাদল

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) কিডনিজনিত রোগে মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

এদিকে উনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

Tuesday, February 3, 2026

জমে উঠেছে জলঢাকার টি-স্টল গুলোতে ভোটের রাজনীতি

জমে উঠেছে জলঢাকার টি-স্টল গুলোতে ভোটের রাজনীতি


মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজ : নীলফামারী- ৩ (জলঢাকা) আসনের চায়ের দোকান গুলোতে জমে উঠেছে নির্বাচন কেন্দ্রীক রাজনীতি। প্রতিটি টি-স্টলে এখন আলোচনার প্রধান বিষয় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী সহ তাঁর সংগঠন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠ দখলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে লড়ছেন আলহাজ্ব সৈয়দ আলী ও তার সংগঠন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী বৃন্দ। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে রোহান চৌধুরীও তার অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আমজাদ হোসেন সরকারেরও দেখা মিলছে মাঝে মাঝে পথে ঘাটে। 

এই আসনের চায়ের দোকানগুলো এখন প্রায় সবসময় ভোটের আলোচনায় সরগরম হয়ে থাকছে। বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিচিত জনের সাথে চা আড্ডায় অবধারিতভাবে উঠে আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের 'ভোট' ও ভোটের পরিস্থিতি। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ইন্টারনেট বিস্তৃত হওয়ায় সাধারন মানুষও রাজনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বেশ সচেতন হয়ে উঠছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক শ্রেনীর গুরুত্বপুর্ণ পর্যবেক্ষন ও মতামত। দারিদ্র পীড়িত এই এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বগুড়া সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে যায়। তারা ফিরে এসে সেই এলাকার ভোটের পরিস্থিতি জানান দেয়, এর ফলে জনমতও প্রভাবিত হচ্ছে বিপুলভাবে। কেউ বলছে - সব জায়গায় দাঁড়িপাল্লার যে জোয়ার উঠেছে, এবার জামায়তই ক্ষমতায় যাচ্ছে। তাদের মতে বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেনী ও সাধারন মানুষ চাচ্ছে যে সবাইকেই তো দেখা হয়ে গেলো, এবার জামায়তকে দেখতে চাই, দেখি ওরা কি করে। কেউ বলছে- বিএনপিই ক্ষমতায় যাবে। সারাদেশে তাদের বিপুল জনসমর্থন আছে এবং তারেক রহমান যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই ব্যাপক জনসমাগম হচ্ছে। এতে বুঝা যায় যে বিএনপিই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। 

চায়ের কাপে বিএনপি জামায়াত সহ নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক আচার আচরন ও কর্মকান্ড নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষন হচ্ছে। কোনো দলের সামান্যতম অসংলগ্ন আচরন, অন্যায় কিংবা জুলুম জনগনের দৃষ্টি এড়াচ্ছে না। তারা সবকিছুর প্রতিই তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বলেই মনে হচ্ছে এবং জনমতকে প্রভাবিত করছে।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের দিয়াবাড়ী বাজার, ধর্মপাল ইউনিয়নের খেরকাটি বাজার, গোলনা ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজার, বালাগ্রাম ইউনিয়নের সাইডনালা বাজার, খুটামারা ইউনিয়নের টেঙ্গনমারী বাজার, কৈমারী বাজার, শৌলমারী ইউনিয়নের আনছারহাট, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের নেকবক্ত বাজার, গোলমুন্ডা ইউনিয়নের চৌপথী বাজার ঘুরে চায়ের দোকানগুলোতে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।

জলঢাকায় বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান

জলঢাকায় বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান


মাহমুদ আল হাছান ঃ নীলফামারীর জলঢাকার ধর্মপালন ইউনিয়নের দক্ষিণ পাইটকা পাড়াগ্রামের জামায়াতের নির্বাচনি গন সংযোগে ইউনিয়ন ওলামা দলের সভাপতি মহুবর সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান,৯ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সেক্রেটারি আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি'র অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।

৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দুপুরে এ যোগদান অনুষ্ঠানে নীলফামারী -৩(জলঢাকা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিএনপি থেকে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করেন।

এ সময় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি আলমগীর হোসেন জামায়াতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক দেশ পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমি ও আমার কর্মী এবং অনুসারীরা এ সংগঠনে যোগদান করছি। একই সঙ্গে জামায়াতের নীলফামারী -৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

যোগদান অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন-এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ লিওন,জামায়াত নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফয়সাল মুরাদ, ইউনিয়ন আমীর  মাওলানা রাশেদুজ্জামান, জেলা শিবিরের সভাপতি তাজামুল হাসানসহ  ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।এ ব্যাপারে নীলফামারী -৩ (জলঢাকা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী  মাওলানা সালাফীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের তার দলে স্বাগত জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সবাইকে নিয়ে তিনি এখন মাঠে কাজ করছেন। তিনি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

Monday, February 2, 2026

শবেবরাত: রহমত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির রাত

শবেবরাত: রহমত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির রাত


মাওঃ রুহুল আমিন ঃ ইসলামের বারো মাসের ধারায় শা‘বান হচ্ছে রমজান প্রস্তুতির মাস। এই মাসের মধ্যভাগে যে রাতটি মুসলিম সমাজে বিশেষভাবে আলোচিত, তা হলো শবেবরাত। এ রাতকে ঘিরে আবেগ, ইবাদত, ভুল ধারণা; সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি বহুস্তরপূর্ণ। কোরআন-হাদিসের আলোকে শবেবরাতকে বুঝতে হলে প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, যাতে ফজিলতের স্বীকৃতির পাশাপাশি বিদআত ও কুসংস্কার থেকেও বাঁচা যায়।

শবেবরাত : নাম ও অর্থের পটভূমি


‘শবেবরাত’ শব্দবন্ধটি গঠিত হয়েছে দুটি ভিন্ন ভাষার শব্দ দিয়ে। ‘শব’ ফার্সি শব্দ, যার অর্থ রাত। আর ‘বরাআত’ আরবি শব্দ, যার অর্থ মুক্তি বা দায়মুক্তি। এ দুটি মিলিয়ে অর্থ দাঁড়ায় মুক্তির রাত।


যদিও হাদিসে এই নামটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়নি, তবে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা‘বান’— অর্থাৎ শা‘বান মাসের মধ্যরাত— হিসেবে এ রাতের উল্লেখ পাওয়া যায়। মুসলিম মনীষীদের একটি বড় অংশ এই নামকরণকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছেন, কারণ এ রাতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষমা ও অনুগ্রহের ঘোষণা রয়েছে।

শবেবরাতের ফজিলত : হাদিসের আলোকে


বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য একাধিক হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শাবান মাসের মধ্যরাত আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। মুআয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।


(সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস: ১৩৯০)

আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসেও দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) এ রাতে দীর্ঘ সিজদায় মশগুল ছিলেন এবং তিনি স্পষ্ট করে বলেন—এ রাতে আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন, দয়া প্রার্থীদের প্রতি দয়া করেন, তবে বিদ্বেষীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২-৩৮৩)।

এ রাতের মূল শিক্ষা


শবেবরাতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি। এটি কোনো উৎসবের রাত নয়, বরং আত্মসমালোচনা, তাওবা ও আল্লাহমুখী হওয়ার রাত। এখানে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজ বা নির্ধারিত রাক‘আতের বিধান নেই। বরং যে আমল মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়—সেগুলিই এ রাতে বেশি গুরুত্ব পায়।

শবেবরাতে করণীয় নেক আমল

এই রাতে করণীয় আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে—


ফরজ নামাজসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা, বিশেষত মাগরিব, এশা ও ফজর জামাআতের সঙ্গে আদায় করা।

নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দরুদ পাঠ।

আন্তরিক তাওবা ও ইস্তিগফার—যার মধ্যে পাপের অনুশোচনা, পাপ ত্যাগ, ভবিষ্যতে না করার দৃঢ়সংকল্প এবং বান্দার হক আদায়ের চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত।

গুরুত্বের সঙ্গে দু‘আ করা, কেননা হাদিসে এ রাতে দোয়া কবুলের কথা বিশেষভাবে এসেছে।

সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করা এবং নফল ইবাদতের সাওয়াব মৃত মুসলিমদের জন্য পাঠানো।

শাবান মাসের ১৫ তারিখে নফল রোযা রাখা।

নফল ইবাদত : একাকী হওয়াই উত্তম

ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী নফল ইবাদত গোপনে ও একাকী করাই উত্তম। ফরজ নামাজ অবশ্যই জামাআতের সঙ্গে আদায়যোগ্য, কিন্তু নফল আমলের ক্ষেত্রে সমবেত আয়োজন, উচ্চৈঃস্বরে জিকির বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির কোনো প্রমাণ নেই। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনের যুগেও এ ধরনের সমষ্টিগত নফল আমলের প্রচলন ছিল না। তবে অলসতার আশঙ্কায় কেউ মসজিদে এসে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করলে তাতে দোষ নেই।

যারা এ রাতেও ক্ষমা থেকে বঞ্চিত

হাদিসের আলোকে জানা যায় যে কিছু মানুষ এই ব্যাপক ক্ষমার রাতেও বঞ্চিত থাকে, যতক্ষণ না তারা তাওবা করে ফিরে আসে। এর মধ্যে রয়েছে— মুশরিক, হিংসুক, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য, মদ্যপায়ী এবং অন্যায় হত্যায় লিপ্ত ব্যক্তি। এটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা—ইবাদতের পাশাপাশি চরিত্র ও সামাজিক সম্পর্ক সংশোধনও অপরিহার্য।

শবেবরাতে বর্জনীয় বিষয়

শবেবরাতকে কেন্দ্র করে কিছু কুসংস্কার ও অনৈসলামিক চর্চা সমাজে প্রচলিত হয়েছে। যেমন— আতশবাজি ফোটানো, আলোকসজ্জা, বিশেষ খাবার রান্নাকে ইবাদতের অংশ মনে করা ইত্যাদি। এগুলোর কোনোটি হাদিস বা সালাফে সালেহীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং এগুলো অপচয়, অনুকরণ ও ইবাদতের পরিবেশ বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শবেবরাত আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ— নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এবং বিদ্বেষ ও গুনাহের বোঝা নামিয়ে রাখার। এই রাতের মর্যাদা রক্ষা মানে—অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করে আন্তরিক ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে এ বরকতপূর্ণ রাতের যথাযথ মূল্যায়ন করার এবং তাঁর ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করেন। আমীন।