সর্বশেষ

Wednesday, April 15, 2026

অকটেন-পেট্রোলের মজুত যথেষ্ট, দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না

অকটেন-পেট্রোলের মজুত যথেষ্ট, দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে অকটেন এবং পেট্রোলের যে মজুত আছে তাতে আগামী দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, সারা দেশে গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৯১৬টি অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ডিজেল উদ্ধারের পরিমাণ হচ্ছে ৩ লাখ ৬ হাজার লিটার, অকটেন উদ্ধার হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার, পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার। গত পরশুদিন চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস ওয়েল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সারাদেশে সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৬ লিটার অবৈধ মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মনির চৌধুরী বলেন, আজকের দিনের মজুত পরিস্থিতি-টোটাল ডিজেলের আছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন আছে ৩১ হাজার ৮২১ টন। পেট্রোল রয়েছে ১৮ হাজার ২১ টন। ফারনেস অয়েল রয়েছে ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন।

যুগ্ম সচিব বলেন, চট্টগ্রামে অবস্থিত একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি আমাদের একমাত্র পরিশোধনাগার। সেখানে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টনের মতো ক্রুড অয়েল এনে ওখানে পরিশোধন করা হয়। এ রিফাইনারি থেকে সারা বছরে বাংলাদেশের যে তেল দরকার তার মাত্র ২০ শতাংশ সরবরাহ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এটা বন্ধ হয়ে গেলেও সরকারের কাছে আরও জ্বালানি তেলের বিকল্প আছে। কারণ সরকার সব সময় বিদেশ থেকে রিফাইন তেল আমদানি করে থাকে। তবে ইস্টার্ন রিফাইনারি এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি। রিফাইনারির দুটি ইউনিট এখনো চালু আছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণদমে কাজ শুরু করতে পারবে।

মনির চৌধুরী বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ক্রুড অয়েলের একমাত্র সোর্স যেটা হরমুজ দিয়ে আসে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত থেকে। সৌদির আরামকো এবং আরব আমিরাত থেকে এআলফ এরাবিয়ান বাইট ক্রুড যেটা সেটা আমরা আনি। এনে আমাদের রিফাইনারিতে আমরা সেটা পরিশোধন করি। কিন্তু যুদ্ধ ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পরে মার্চ মাসে আমাদের যে সিডিউল ছিল সেটা আমরা আনতে পারিনি। আর এপ্রিল মাসেও একই অবস্থা চলছে। কিন্তু ফরচুনেটলি আমাদের মোটামুটি আগের যে মজুত ছিল সেটা দিয়ে আমরা কন্টিনিউ করে যাচ্ছিলাম। 

তিনি বলেন, আমাদের ক্রুড অয়েলের একটা জাহাজ সৌদি আরবের ইয়াম্বু বন্দর থেকে স্টার্ট করে লোহিত সাগর হয়ে ভিন্ন চ্যানেলে চলতি এপ্রিলের লাস্ট উইকে কিংবা মে মাসের এক দুই তারিখের মধ্যে এসে পৌঁছাবে। সে পর্যন্ত আমরা সীমিত পরিসরে আমাদের ইআরএলটাকে চালু রাখব।


অবৈধভাবে মজুদ করা সাড়ে ৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

অবৈধভাবে মজুদ করা সাড়ে ৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সারা দেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত উদ্ধার করা জ্বালানি তেলের পরিমাণ ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৩৬ লিটার।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জ্বালানি বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১ লিটার, অকটেন ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার এবং পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল উদ্ধার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট ৯ হাজার ১১৬টি অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

পাশাপাশি ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


Tuesday, April 14, 2026

এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ, এক যুবককে বিক্রি

এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ, এক যুবককে বিক্রি


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বিদেশে কম্পিউটার অপারেটর পদে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনে দিনাজপুরের এক যুবককে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কাছে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় তাকে। এরপর তাকে নেওয়া হয় ‘ডেথ ক্যাম্পে’, যেখানে মুক্তিপণ আদায়ে তিন মাস অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

অবশেষে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে এসে পরিবার ও দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফিরতে সক্ষম হন তিনি। বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে মানব পাচারের এমন ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব রাহাদ ইবনে শহিদ ও তার বাবা মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম মো. শাফিন মন্ডল। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া বাজার এলাকায়।

এ ঘটনায় শাফিনের বাবা নূর ইসলাম বাদী হয়ে দিনাজপুর আদালতে মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গাইবান্ধা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব রাহাদ ইবনে শহিদ ও তার পিতা মো. শহিদুল ইসলামসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শাফিনের বাবা নূর ইসলাম গাইবান্ধায় চাকরির সূত্রে স্থানীয় বাসিন্দা আ. লতিফ সরকারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে আ. লতিফ সরকার তাদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শাফিনকে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব দেন এবং বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে সহায়তার জন্য রাহাদ ইবনে শহিদ ও তার বাবা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

এরপর রাহাদ ইবনে শহিদ এবং তার বাবা মো. শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে শাফিনের কম্বোডিয়ায় যাওয়ার চুক্তি হয়। সেখানে কম্পিউটার অপারেটর পদে দুই বছরের চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়। এ জন্য যাওয়ার আগে তিনি কয়েক দফায় মোট ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। গত বছরের ৩১ অক্টোবর তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। তবে দুই বছরের ভিসার প্রতিশ্রুতি থাকলেও কৌশলে মাত্র তিন মাসের ভিসা দেওয়া হয়, যার মেয়াদ ছিল ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।

২০২৫ সালের ২ নভেম্বর কম্বোডিয়ার সিয়েম রিয়েপ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্য হুসেইন কবির তাকে রাজধানী নমপেনের একটি হোটেলে নিয়ে আটকে রাখে এবং সেখানেই তার ওপর নির্যাতন শুরু করে। পরে রাহাদ ও শহিদুলের সম্মতিতে তাকে নমপেন থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরের পোইপেট শহরে একটি অপরাধী চক্রের কাছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

এরপর তাকে পোইপেটের নিকটবর্তী গভীর জঙ্গলের একটি ভবনে বন্দি করে রাখা হয়, যা ‘ডেথ ক্যাম্প’ হিসেবে পরিচিত। সেখানে আরও অনেক বন্দির সঙ্গে তাকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সেখানে খাবার না দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং বিদ্যুৎ শক দেওয়া হতো। একই সঙ্গে তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বড় অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়।

দীর্ঘ তিন মাস নির্যাতনের পর চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি এবং আরও ২০-২২ জন বন্দি কৌশলে সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হন। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দূতাবাসের সহায়তায় তিনি দেশে ফিরে আসেন।

ভুক্তভোগী শাফিন মণ্ডলের সঙ্গে কথা হলে সেই ঘটনার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে নমপেনে নিয়ে গিয়ে তার পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি হোটেলে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করেন হুসেইন কবির। পরে চাইনিজ একটি অপরাধী চক্রের কাছে তাকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি করে দেয়। তারা তাকে সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে পোইপেইট শহরের কাছে একটি জঙ্গলের ভিতরে একটি ভবনে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।


তিনি আরও বলেন, তিন মাস নির্যাতনের পর আমি ঠিক করলাম, হয় মরব না হয় বাঁচব, কিন্তু এখানে থাকব না। পরে পাসপোর্ট ও ফোন নিয়ে সেখান থেকে বন্দি আরও ২২ জন পালিয়ে আসি। ওরা আমার জীবন শেষ করে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।


শাফিনের ভাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান জানান, ‘ডেথ ক্যাম্প’ থেকে পালানোর পর সেদিন সন্ধ্যায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শাফিন। কিন্তু কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পরামর্শ নেন তারা।


পরবর্তীতে কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশনে ওভারস্টে হওয়ায় প্রতিদিন ১০ ডলার হিসেবে মোট ৭৯০ ডলার এবং এক্সিট পারমিশনের জন্য ৩০ ডলারসহ সব মিলিয়ে ৮২০ ডলার জরিমানা পরিশোধ করতে হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। এ পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি।


তার অভিযোগ, এই ভয়ংকর মানবপাচার চক্রের সঙ্গে গাইবান্ধার ধানঘড়ার বাসিন্দা আরমান সরকার এবং কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সদস্য হুসেইন কবিরের ভাই হুমায়ুন কবির জড়িত।


তিনি আরও জানান, শাফিনকে কম্বোডিয়ায় পাঠানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েটিং রুমে গিয়ে আরমান সরকার তাদের হাতে পাসপোর্ট ও ভিসা তুলে দেন। আর হুমায়ুন কবির একটি ভিসা কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মানবপাচারের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত করেন।

এদিকে অভিযুক্ত রাহাত ইবনে শহীদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। তার সঙ্গে আমার চালের ব্যবসা নিয়ে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। উনি আমার কাছে অনেক টাকা বাকি রেখেছে। আমার বাবা এবং আরও কয়েকজনের নামে মানবপাচারের মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি ২০২১ সাল থেকে বাবার ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছি। মানবপাচারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।


তবে ভুক্তভোগীর বাবা ও মামলার বাদী নূর আলম বলেন, তিনি ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। বর্তমানে তিনি ফিড কোম্পানির দিনাজপুর এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত এবং স্থানীয় বাজারে ইলেকট্রনিক সামগ্রীর ব্যবসা করছেন।


তিনি দাবি করেন, তিনি বা তার পরিবারের কেউই চালের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অভিযোগ থেকে বাঁচতেই অভিযুক্তরা এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি তুলে যাচ্ছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, আমরা এ বিষয়ে জানি না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল রয়েছে কিনা, সেটিও যাচাই করা হবে।


পিবিআইয়ের দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক) মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, মানব পাচারের মতো ভয়ংকর এ ঘটনার তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ শোনা হয়েছে। তিনি তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।


তিনি আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে- তারা প্রতারক। অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ করা জরুরি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পিবিআই।

সূত্রঃ বার্তা বাজার।

"কিশোরকন্ঠ মেধাবৃত্তি", নীলফামারী জেলায় জলঢাকার বাজিমাত

"কিশোরকন্ঠ মেধাবৃত্তি", নীলফামারী জেলায় জলঢাকার বাজিমাত


মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজ : কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশন নীলফামারী জেলার মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো জলঢাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। নীলফামারী জেলার জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বৃত্তিপ্রাপ্ত ২২৬ জন ছাত্র ছাত্রীর মাঝে আজ  ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পুরস্কার বিতরন করা হয়। নীলফামারী জেলা কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মু. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী ছিলেন কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সম্পাদক মু. সাইদুল ইসলাম। প্রধান আলোচক হিসাবে গুরুত্বপুর্ন বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. খায়রুল আনাম। মাননীয় সংসদ সদস্য ১৪, নীলফামারী-৩ মহোদয় সম্মানিত অতিথী হিসাবে বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক জনাব মোখলেছুর রহমান মাস্টার, উপদেষ্টা জনাব মোয়াম্মার আলহাছান, কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম রঞ্জু, ডিমলা রানী বৃন্দারানী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব নুরে আলম, জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব নাজমুল আলম, কিশোরগঞ্জ উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব ফিরোজুল আলম প্রমুখ। 


উল্লেখ্য যে, গতবছর অক্টোবর/২৫ মাসে কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হয় এবং জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহনকারী ২২৬ জন শিক্ষার্থী চুড়ান্তভাবে বৃত্তির জন্যে মনোনিত হয়। তিনটি পর্যায়ে এই পুরস্কার প্রদান করা হলো। জেলায় ৪ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে, ৬০ জন বিশেষ ও ১৬২ জন শিক্ষার্থী সাধারন বৃত্তি লাভ করে।

 চিলাহাটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থী রিফা তামান্না, মীরগঞ্জ প্রতিশ্রতি এডুকেয়ার হোমের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস খান, জলঢাকা পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিস সানজিদা ইসলাম সানিয়া, জলঢাকা বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের শিক্ষার্থী হসলিমাতুস সাদিয়া কিশেরকন্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেছে। কিশোরকন্ঠ মেধাবৃত্তি পেয়ে শিক্ষার্থীদের বেশ উজ্জীবিত দেখা গেছে।

জলঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

জলঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন


হাকিম বদিউজ্জামান জলঢাকা নীলফামারী : “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর জলঢাকায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) (পহেলা বৈশাখ) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন, জলঢাকার আয়োজনে শোভাযাত্রাটি জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন, জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম এবং  জলঢাকা প্রেসক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামান।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। ছেলেরা লুঙ্গি-পাঞ্জাবি ও মাথায় গামছা এবং মেয়েরা পহেলা বৈশাখের রঙিন শাড়ি পরে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পালকি ও ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়, যা উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তোলে।

উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা জলঢাকাবাসীর মধ্যে নববর্ষের আনন্দ ও বাঙালির ঐতিহ্যকে নতুন করে জাগ্রত করেছে।

জলঢাকায় গলা কাটা লাশ উদ্ধার

জলঢাকায় গলা কাটা লাশ উদ্ধার

নিহত প্রভাত চন্দ্র 

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় এক ব্যক্তির গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নে ৭ নং ওয়ার্ডের দোলা পাড়া সিংগিমারী শশ্মানের উঠান  থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জলঢাকা থানার ওসি নাজমুল আলম এ তথ্য জানান।

মৃত প্রভাত চন্দ্র রায় (৫৫) উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের দোলা পাড়া গ্রামের নীলকন্ঠ রায় ওরফে পাশকাটার ছেলে। তার ২ স্ত্রী ও ৪ সন্তান রয়েছে ।তিনি কৃষি কাজ করতেন।

নিহতের বড় ছেলে পতিরাম বলেন, মঙ্গলবার ভোর ৫ টায়  বাড়ি থেকে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হাসুয়া নিয়ে কলা পাতা কাঁটার জন্য বের হন। দীর্ঘক্ষণ ধরে তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ির আশেপাশে খোঁজ খবর করেন। কিন্তু তার কোন সন্ধান পাননি। 

 সকাল ১০ টার দিকে স্থানীয়রা তাকে মন্দিরের সামনে রক্তাক্ত গলাকাটা অবস্থায়  উপুড় হয়ে পড়ে থাকা দেখতে পায়।  খবর পেয়ে তারা গিয়ে সনাক্ত করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পতিরাম বলেন, “প্রভাত চন্দ্র সহজ-সরল এবং সামান্য মানসিক সমস্যাগ্রস্ত মানুষ ছিলেন। তার সাথে কারও কোন শত্রুতা ছিল না।”

জলঢাকা থানার ওসি নাজমুল আলম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক সুরত হালে নিহতের গলায় বামদিকে কাঁটা চিহৃ দেখা যায়। তিনি আরো বলেন,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হবে।

এ ঘটনায় প্রভাত চন্দ্রের ছেলে থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়েরের করেছে যার নাম্বার ২২/২৬ বলে জানান তিনি।

রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর বৈশাখী শোভাযাত্রা

রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর বৈশাখী শোভাযাত্রা

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই আয়োজন প্রেসক্লাবের সামনে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে নারী, শিশুসহ নানান বয়সের শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মাছ ধরার পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল, কুলাসহ নানা দেশীয় সংস্কৃতির উপাদান নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন রাজধানীবাসী। বাঙালিয়ানার সাজ-পোশাকে শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শোভাযাত্রায় দেশাত্মবোধক, জারি, সারি, ভাটিয়ালি গান গেয়ে হৈ-হুল্লোড় করে উৎসবে মাতে রাজধানীবাসী।

শোভাযাত্রা-পূর্ব সমাবেশে বক্তারা জানান, দেশীয় সংস্কৃতি এগিয়ে নিতে হবে। পশ্চিমা ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। হারানো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা। বাঙালির প্রকৃত চেতনা জাগরণের সূচনা করতে হবে।

তবে ইমান-আকিদা লুণ্ঠিত হয়, ইসলামী শরিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়—এমন সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।