তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ৮০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণে বিপাকে পড়েছে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন সহ সমমনা ১১ দলীয় জোট। বিলম্বিত হচ্ছে এই জোটের আসন সমঝোতা। আছে নানা গুঞ্জনও। তবে জোট নেতারা জানিয়েছেন, টানাপড়েন থাকলেও আসন সমঝোতা ঠিকমতো এগোচ্ছে। দুই/একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। গতরাতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে আসন চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
নেতারা দাবি করেছেন, জোটে কোনো সমস্যা নেই। জটিলতা আছে এটা কাটানোর চেষ্টা হচ্ছে। এই জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ সকল গুঞ্জন ও অনিশ্চয়তাকে নাকচ করে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় কিছু সমস্যা ছিল। এখন সকল অনিশ্চয়তা ও টানাপড়েন কেটে গেছে। ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের ব্যাপারে সবাই একমত। নির্বাচনের এই আগ মুহূর্তে ঐক্যের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই কারও।
রাজি হয় মওলানা মামুনুল হকের দল। জামায়াত দলটিকে ১৩টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। নতুন আলোচনায় দলটি বলছে, ছেড়ে দেয়া আসনের কোনোটিতে যদি আপিলে দলীয় প্রার্থিতার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়, তাহলে অন্য আসন দিতে হবে। দলটি এমন আসন চাচ্ছে, যা আগের আলোচনায় জামায়াতের ভাগে পড়েছিল বলে জানা যায়।
এদিকে আপিলে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ না হলে জামায়াত নিজের ভাগের ঢাকা-২ আসন ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়তে চায়। এর বিনিময়ে ইসলামী আন্দোলনকে আগে ছেড়ে দেয়া আসন থেকে একটি কমাতে চায়। এতে রাজি নয় চরমোনাই পীরের দল।
মনোনয়নপত্র বাতিলে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে স্বীকার করে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমেদ বলেন, দলীয় প্রার্থীদের কোথায় কার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তা দেখতে হচ্ছে। এ কারণে আসন সমঝোতায় বিলম্ব হচ্ছে। যদিও আপিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, কিন্তু প্রার্থীরা মাঠে আছেন। তাই সমঝোতায় বিলম্ব হলেও নির্বাচনে অসুবিধা হবে না।
প্রশাসনের ভেতরে এখনো ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসররা সক্রিয়, এমনকি তাদের প্রভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
কক্সবাজার-২ আসনে (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া) জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।
তিনি আইনি ব্যাখ্যায় বলেন, যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা আদালত অবমাননার মামলা, যা কোনো ক্রিমিনাল কেসের সংজ্ঞায় পড়ে না।
দলীয় প্রার্থীদের মনোয়নপত্র বাতিলের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ। সোমবার দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি। প্রশাসনের মধ্যে কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ আসছে। অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের তরফেও।
সূত্রঃ দৈনিক মানবজমিন।