সর্বশেষ

Wednesday, June 10, 2026

জলঢাকায় আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল যুবকের

জলঢাকায় আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল যুবকের

হাকিম বদিউজ্জামান জলঢাকা : পারিবারিক চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে  নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলবাড়িতে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল কিবরিয়া ইসলাম পিয়েল (২৪) নামে এক যুবকের। রক্তে ভেসে গেল পারিবারিক আঙিনা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথা ফেটে মুহূর্তেই নিথর হয়ে পড়লো যুবক পিয়েল।

নিহত কিবরিয়া ইসলাম পিয়েল ওই এলাকার কফদ্দি মামুদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আজ বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৬ টায় চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার এক পর্যায়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কিবরিয়া ইসলাম পিয়েলের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে জলঢাকা থানা পুলিশ ও মীরগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— মোঃ মাজেদুল ইসলাম (২০), পিতা- তফর উদ্দিন; মোছাঃ মীম আক্তার (১৮), স্বামী- মোঃ মাজেদুল ইসলাম; এবং মোছাঃ তইবোন নেছা (৫০), স্বামী- তফর উদ্দিন। তাদের সকলের বাড়ি পূর্ব শিমুলবাড়ী এলাকায়। তারা সবাই সম্পর্কে নিহত পিয়েল এর চাচাতো ভাই ও ভাবী।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম জানান, “পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আটক ব্যক্তিরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নিহতের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।”

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে

নীলফামারীতে সেচ পাম্প বসাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২, আহত ১

নীলফামারীতে সেচ পাম্প বসাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২, আহত ১

 মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ 

নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটায় মাছ ধরার জন্য পুকুরে সেচ পাম্প (মোটর) বসাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (১০ জুন) সকালের দিকে কচুকাটা ইউনিয়নের বাবুর বাজার নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—কচুকাটা ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন (৪৫) এবং পার্শ্ববর্তী কুটিপাড়া নদীরপাড় গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে মুজিবুর রহমান (৫০)। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মিঠু ইসলাম (৩০) নামের অপর এক যুবক আহত হন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও ইউপি সূত্রে জানা যায়, সকালে বাবুপাড়া গ্রামের একটি পুকুরের পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এ লক্ষ্যে পুকুরে একটি সেচ পাম্প বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে অসাবধানতাবশত জালাল, মুজিবুর ও মিঠু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই জালাল ও মুজিবুরের মৃত্যু হয়।

কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই সাথে দুইজনের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পল্টনের মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি

পল্টনের মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি

ডাঃ দীপু মনি 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলায় নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসান–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে দীপু মনির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. রমজান আলী শিকদার। তিনি আদালতকে জানান, হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ–সংক্রান্ত অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনায় দীপু মনির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ বিচারাধীন।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মামলার কয়েকটিতে ইতোমধ্যে হাইকোর্ট থেকে জামিনসংক্রান্ত রুল জারি হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী জামিনও মঞ্জুর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টানা তিন মেয়াদে দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বাংলাদেশে সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ ভারতীয় নাগরিক, চাকরী করছেন বিভিন্ন সেক্টরে

বাংলাদেশে সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ ভারতীয় নাগরিক, চাকরী করছেন বিভিন্ন সেক্টরে

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ 

সরকারি হিসাবে এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সবচেয়ে বেশি। তাদের সংখ্যা সাড়ে ৮ হাজার। তারা অবৈধভাবে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা গেছে। এদিকেবাংলাদেশি উল্লেখ করে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালালেও সেই পথে হাঁটছে না ঢাকা। বাংলাদেশ চায়নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অবৈধ ভারতীয়দের সেই দেশে হস্তান্তর করতে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ইতোমধ্যে ভারতকে বেশ কয়েকটি চিঠি দিয়েছে সরকার। কিন্তু এসব চিঠিকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না ভারত। উলটো তারা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। অথচ বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতের অবৈধ নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে থেকে যাওয়া এবং অবৈধভাবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখন দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসায় এসে আর ফিরে না গিয়ে এখানেই থেকে যাওয়ার প্রবণতা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ভারতীয় নাগরিকরা মূলত দুটি উপায়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। প্রথমতঅধিকাংশ ভারতীয় নাগরিক বৈধ ট্যুরিস্টবিজনেস বা অনঅ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা দেশে ফিরে যান না। দ্বিতীয়ততৈরি পোশাক খাতটেক্সটাইলবায়িং হাউজকরপোরেট প্রতিষ্ঠানতথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বিভিন্ন এনজিওতে মধ্যম থেকে উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় বহু ভারতীয় কাজ করছেন। এদের অনেকেরই বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা আয়কর নথি নেই।

সূত্র জানায়অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকরা হুন্ডি বা বিভিন্ন অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ভারতে পাঠাচ্ছেন। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করছে। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় তারা সরকারকে কোনো আয়কর বা ট্যাক্স দেন না। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। শুধু তাই নয়বাংলাদেশের শিক্ষিত ও দক্ষ যুবসমাজ যখন উচ্চপদস্থ চাকরির জন্য লড়াই করছেতখন টেক্সটাইল ও করপোরেট খাতের অনেক শীর্ষ পদ বিদেশিবিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের দখলে চলে যাচ্ছে। এছাড়া লিগ্যাল ডকুমেন্ট ছাড়া বসবাসকারী এসবের কিছু নাগরিক বিভিন্ন সময় জালিয়াতি এবং আর্থিক প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ছেন। যথাযথ ট্র্যাকিং সিস্টেম না থাকায় অপরাধ করার পর এদের চিহ্নিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

সূত্রমতেবাংলাদেশে অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয়দের ৫০ ভাগের বেশি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল সেক্টরে নিয়োজিত। তারা ঢাকার সাভারআশুলিয়াগাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ডাইংওভেন এবং নিটওয়্যার ফ্যাক্টরিতে কাজ করছেন। তাদের বেশির ভাগের পদবি মার্চেন্ডাইজারটেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারওয়াশিং ও ডাইং এক্সপার্ট এবং ফ্লোর ম্যানেজার। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছোটবড় বায়িং হাউজে বিদেশি বায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোলের জন্য অনেক ভারতীয় নাগরিক কাজ করছেন। এ সেক্টরে তাদের হার ১৫ থেকে ২০ ভাগ। বিভিন্ন বেসরকারি বড় গ্রুপ অব কোম্পানিজ এবং কিছু ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় ভারতীয়রা কাজ করছেন। এদের হার ১০ থেকে ১২ ভাগ। বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল আইটি সেক্টরে ৫ থেকে ৮ ভাগ ভারতীয় টেকনিশিয়ান কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরামর্শক বা কনসালট্যান্ট হিসাবে ৩ থেকে ৫ ভাগ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে কাজ করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছেইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবিসমন্বয়ে গঠিত টিম বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়সহ ও অন্যসব বিদেশি নাগরিকের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি যেসব পোশাক কারখানাবায়িং হাউজ বা করপোরেট প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। এছাড়া তিন মাস বা স্বল্পমেয়াদি ভিসায় এসে যেন কেউ কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে না পারেসেজন্য কঠোর ভিসা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। অন্যদিকে পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আইনি ফ্রেমওয়ার্ক কঠোরভাবে বজায় রাখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বলেনপাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবিসমন্বয়ে গঠিত টিম অবৈধ বিদেশিদের সংখ্যা আমাদের দিয়েছে। তাদের সবার নামপরিচয় আমরা চেয়েছি। নামপরিচয় পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

Tuesday, June 9, 2026

জলঢাকায় নদীতে ভয়ঙ্কর "আইপিএস প্রযুক্তির" ব্যাবহার, বিলুপ্তির পথে দেশী মাছের সকল প্রজাতি

জলঢাকায় নদীতে ভয়ঙ্কর "আইপিএস প্রযুক্তির" ব্যাবহার, বিলুপ্তির পথে দেশী মাছের সকল প্রজাতি

মাহমুূদ আল-হাছান,  তিস্তা নিউজ : উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ছোট-বড় নদীতে অসাধু জেলেরা 'ইলেক্ট্রোফিশিং' বা ভয়ঙ্কর আইপিএস প্রযুক্তি ব্যাবহার করে অবাধে দেশিয় মাছের বংশ ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নীলফামারী জেলার জলঢাকা ও ডিমলা উপজেলার তিস্তা , বুড়ি তিস্তা ও চাড়ালকাটা নদীতে অসাধু চক্র এই প্রক্রিয়ায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ নির্বংশ করার কাজে লিপ্ত আছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, গভীর রাতে ছোটো ছোটো নৌকায় আইপিএস বেঁধে নদীর পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এই বিদ্যুতে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিটার এলাকার পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এর ফলে ওই এলাকায় থাকা ছোটো বড় সব রকমের মাছ এমনকি অন্যান্য পোকামাকড় থাকলেও সেগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হার্ট আ্যাটাক করে এবং মারা যায়। সাধারনতঃ এলাকার লোকজন ঘুমিয়ে পড়ার পরে এই নৌকাগুলো নদীতে নামানো হয় এবং সারারাত মাছ ধরে ভোর রাতে তারা ফিরে যায়। 


এভাবে দেশিয় প্রজাতীর মাছ পোনা সহ মেরে ফেলা হচ্ছে এবং এজন্যে দেশের বাজারগুলোতে দেশী মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নদীতে আর তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনিতেই নাব্যতা সঙ্কটে ভুগছে দেশের অধিকাংশ নদনদী। পানির অভাবে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তার উপর যেটুকু মাছ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলোও বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, পোনা অবস্থাতেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের সাধারন দরীদ্র শ্রেনীর মানুষ এবং নদী তীরবর্তী লোকজনের পুষ্টি চাহিদা পুরনের আর কোনো উপায় থাকছে না।


ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের সাত কাপাটি এলাকার বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি একটু বৃদ্ধি পেলেই এই চক্রটি তৎপর হয়ে ওঠে। প্রায় প্রতি রাতেই তারা তিস্তা এবং বুড়ি তিস্তা নদীতে আইপিএস দিয়ে মাছ ধরে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দু/এক বছরের মধ্যে নদীতে আর কোনো দেশী মাছ খুঁজে পাওয়া যাবে না। মা এবং পোনা মাছ সহ সবজাতীয় মাছ যেভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক।


গোলমুন্ডা ইউনিয়নের বুড়ি তিস্তা নদী চরের বাসিন্দা মন্টু মিয়া বলেন, ২/১ দিন পরপর আইপিএস দিয়ে মাছ ধরার লোকজন আমার বাড়ীর পাশ দিয়ে যাতায়াত করে এবং আইপিএস দিয়ে নদীতে মাছ ধরে। তারা খুবই ধূর্ত এবং সংঘবদ্ধ। দুই চারজন মিলে তাদের প্রতিহত করা সম্ভব নয়। তাছাড়া কয়টা দলকে প্রতিহত করবেন! নিত্য নতুন দল এই অবৈধ কাজে জড়িত আছে। শুধু তিস্তা কিংবা বুড়ি তিস্তা নদীতেই নয়, ধুম নদির ছোটো নদিতেও এভাবে মাছ মেরে ফেলা হচ্ছে। 

সাধারন মানুষের দাবি, নৌ-পুলিশ এবং সাধারন পুলিশ সহ জনগনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে এই ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া বন্ধ করা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত। নাহলে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ভয়াবহ সঙ্কটে পড়বে এবং জীব বৈচিত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি এবং এ বিষয়ে জন সচেতনতা সৃষ্টি ও আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

Monday, June 8, 2026

জলঢাকায় ‘ক্লিন ও গ্রিন বাংলাদেশ’ গড়তে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

জলঢাকায় ‘ক্লিন ও গ্রিন বাংলাদেশ’ গড়তে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ "ক্লিন ও গ্রিন বাংলাদেশ" বিনির্মাণের লক্ষ্যে নীলফামারীর জলঢাকায় পরিস্কার -পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।আজ সোমবার (৮ জুন) উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য  এবং স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।


প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি। এ সময় তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। পরিবেশ রক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি স্বাস্থ্যকর সমাজ গঠনে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

অভিযান চলাকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা আগাছা, ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি জনসাধারণকে পরিবেশবান্ধব আচরণ এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি জামায়াত নেতার

ইসলামী ব্যাংক দখল নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি জামায়াত নেতার

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা করা হলে দখলদারদের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বলেন, জামায়াতের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু জামায়াতের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।

সোমবার সকালে রাজধানীর উত্তরার ফায়দাবাদ এলাকায় তৃতীয় ধাপে আরও একটি ‘প্রাক হেলথ কেয়ার সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকারের উচিত ছিল ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অনুসরণ করে সংকটে থাকা ও দেউলিয়া হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোকে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া। ইসলামী ব্যাংককে দেশের সেরা ব্যাংক আখ্যায়িত করে তিনি দাবি করেন, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে আসে। ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম সফল ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।


সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, দেশকে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে হবে। কোনো ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।


রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলটি যেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে পরিচালিত হয়।

এ সময় ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান সম্পর্কে সমালোচনামূলক মন্তব্যও করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটের অন্তত ৮ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের অর্থ লুটপাট ও দুর্নীতি করলে অতীতের মতো জনগণই তার প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, সামাজিক ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য জামাল উদ্দিন, ইসরাফিল হোসেনসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।