সর্বশেষ

Sunday, February 22, 2026

সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে বড় রদবদল

সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে বড় রদবদল

সংগৃহীত ছবি 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে বড় রদবদল হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে সেনাসদর থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান। এর আগে তিনি আর্টডকের জিওসি ছিলেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, এর আগে তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন।

এ ছাড়া মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন থেকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। আবার ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসানকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেলে পদোন্নতি দিয়ে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে।


সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ।

তিস্তা প্রকল্পের জন্য প্রস্তুত চীন, সরকার চাইলেই কাজ শুরু: চীনা রাষ্ট্রদূত

তিস্তা প্রকল্পের জন্য প্রস্তুত চীন, সরকার চাইলেই কাজ শুরু: চীনা রাষ্ট্রদূত


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ তিস্তা প্রকল্পে কাজ করতে চীন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, সরকার চাইলেই চীন কাজ শুরু করতে পারে।

আজ রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন কথা বলেন তিনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কে তৃতীয় কোনো দেশ বা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ চীন চায় না। যে কোনো দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক তৃতীয় কোনো পক্ষের টার্গেট হলে ব্যর্থ হবে।’

এ সময় চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নীলফামারীতে ক্যাবের আয়োজনে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

নীলফামারীতে ক্যাবের আয়োজনে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান



মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার তদারকি কার্যক্রমে বাধা প্রদান এবং বাজার বন্ধের হুমকির প্রতিবাদে নীলফামারীতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের চৌরঙ্গীমোড়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এবং বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে।

বক্তারা আরও বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে নিত্যপণ্যের মূল্য অযৌক্তিকভাবে বাড়ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

ক্যাব নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সৈয়দপুর উপজেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম, জলঢাকা উপজেলা ক্যাবের সভাপতি এমদাদুল হক, ডিমলা উপজেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক কে এম ফারুক হোসেন এবং জেলা ক্যাবের সদস্য আজহারুল ইসলাম রাজাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন থেকে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— বাজার তদারকিমূলক অভিযানে প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া; নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার করা; ব্যবসায়ীদের আইন মানতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ এবং ঢাকায় সৃষ্ট অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

বক্তারা বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে যারা বাধা দিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে আমগাছ, বসন্তের আমেজে মৌ মৌ চারপাশ

মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে আমগাছ, বসন্তের আমেজে মৌ মৌ চারপাশ



মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজ ঃ  ঋতুরাজ বসন্ত চলছে। প্রকৃতিতে বসন্তের দাপুটে অবস্থান স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। গাছে গাছে নতুন পাতার সমাহার। সবুজে ছেয়ে যাচ্ছে শীতে মরে যাওয়া গাছগুলোর ডালপালা। শীতের আমেজ কমে এসেছে উত্তরেও। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হচ্ছে ধীরে ধীরে। সামনে মধুমাসের হাতছানি। 
এবারে আমের ব্যাপক ফলন হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আমগাছগুলো মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে ইতিমধ্যে। আমের মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যাস্ত মৌমাছির অবাধ গুঞ্জরণ শোনা যাচ্ছে দিনরাত। আমগাছের নীচে দিয়ে হেঁটে গেলেই মধুমক্ষিকা দের এই গুঞ্জন কানে পড়বেই। বাংলাদেশের রাজশাহী, চাঁপাই, নাটোর অঞ্চল আমের জন্যে বিখ্যাত হলেও রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলেও আমের পর্যাপ্ত ফলন আছে। রংপুরের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা জেলাগুলোতে যে আম উৎপন্ন হয় তা স্থানীয় চাহিদা পুরনে ব্যাপক ভুমিকা রাখে। এবারে আমের মুকুল দেখে মনে হচ্ছে এবারের উৎপাদিত আম স্থানীয় চাহিদা পুরন করে বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। 
যদিও গ্রামে কথা চালু আছে যে, আমের ফলন বেশী হলে বন্যার আশঙ্কা বেশী থাকে। গ্রামের মুরুব্বীরা মনে করেন, যে বছর আমের মুকুল বেশী হয়, সে বছর বন্যা, ঝড়, ঝঞ্ঝা বেশী হয়ে থাকে। যদিও এসব কথার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি আছে বলে শোনা যায় নাই।


২ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হতে পারে আজ

২ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হতে পারে আজ


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছু গ্রাহকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিরেজিস্ট্রেশন ব্যতীত সিম ব্যবহার করলে কিছু গ্রাহকের মোবাইল সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। 

পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই এই সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের এনইআইআর পদ্ধতির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

যেসব গ্রাহক নিবন্ধনবিহীন হ্যান্ডসেটে সিম ব্যবহার করছেন, তাদের সংযোগ সাময়িকভাবে হ্যান্ডসেট থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

তবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় চালু হয়ে যাবে বলেও জানানো হয়েছে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নামছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নতুন মিশন নিয়ে মাঠে নামছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দেশের দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস। প্রায় ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন নির্বাচিত সরকারের কাছে। নির্বাচনে বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকারের নেতৃত্বে আসেন তারেক রহমান।

ক্ষমতা ছাড়ার পর ড. ইউনুসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি অবসর নেবেন, নাকি নতুন কোনো উদ্যোগে যুক্ত হবেন?

ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, বর্তমানে তিনি রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী আরও তিন মাস সেখানে থাকার সুযোগ থাকলেও, তিনি আগেভাগেই সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ঈদের পর গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যেতে পারেন বলেও জানা গেছে।

যমুনায় আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও তিনি প্রতিদিন সকালে হাঁটাহাঁটি করেন এবং দেখা করতে আগ্রহীদের জন্য সময় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের “থ্রি জিরো ভিশন”—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—নিয়ে নতুন কোনো বৈশ্বিক বা দেশীয় উদ্যোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

ড. ইউনুস বরাবরই বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সমালোচক। সামাজিক ব্যবসার ধারণা সামনে এনে তিনি মুনাফার চেয়ে সামাজিক সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই দর্শনকে ঘিরেই তিনি নতুন কর্মপরিকল্পনা সাজাতে পারেন।

তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক দায়িত্ব শেষে তিনি আপাতত বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন—কিন্তু জনজীবনে তার প্রভাব এখানেই শেষ হচ্ছে না।

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের প্রথম অধিবেশন

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের প্রথম অধিবেশন


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এক্ষেত্রে আগামী ১২ মার্চ বা তার দুয়েকদিন আগে অধিবেশন শুরু হতে পারে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বিধিবিধান ও রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের সভাপতি নির্ধারণ করা হবে।

বঙ্গভবন, সংসদ সচিবালয় এবং সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করে সংসদের অধিবেশন আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়। আজকালের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি অধিবেশন ডাকতে পারেন বলে জানা গেছে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন ডাকেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ হিসাবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যেই সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে হবে।


সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ও বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ হিসাবে আসন্ন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।


অধিবেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ফলাফলের ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা আশা করছি মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে অধিবেশন হবে। এটি ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে হতে পারে। সংসদের অধিবেশন রাষ্ট্রপতি আহ্বান করেন। এ হিসাবে তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।


সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন আর ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হয়ে এখন জেলে রয়েছেন। ফলে আগামী অধিবেশনে নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন, সেটিও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র কোনো সংসদ সদস্য বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতিত্ব করতে পারেন। উল্লেখ্য, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংবিধানের বিধান অনুসরণ করে এবার সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা এখনো বলতে পারছি না স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত। তবে তারা অনুপস্থিত থাকলে সেক্ষেত্রে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি, সংবিধান ও রেওয়াজ অনুসরণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


অধিবেশনের প্রথম দিনে সভাপতিত্ব করার বিষয় নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আমার দেশকে বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রথম দিনে সিনিয়র কোনো সদস্যের সভাপতিত্ব করার নজির রয়েছে। এবারের অধিবেশনেও এমনটিই হবে। তবে, এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে সরকারি দল। সরকারি দল উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে তারা পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করবে।


সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন হবে, এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা জাতীয় সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে জনগণের সঙ্গেই থাকব ইনশাআল্লাহ। জনগণ ও দেশের স্বার্থ সংরক্ষণই হবে আমাদের মূল দায়িত্ব। এদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখেই জাতির পাশে থেকে আমরা দায়িত্ব পালন করব।


তিনি গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। শপথ অনুষ্ঠানের আগে সংসদে ভূমিকা পালনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নিতেই এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।


জামায়াত আমির বলেন, একটি কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দুনিয়ার সভ্য দেশগুলো যেভাবে দায়িত্ব পালন করে, আমরা সেই সংস্কৃতিটা সংসদে দেখতে চাই। সংসদের দুটি অঙ্গ—একটি সরকারি দল ও আরেকটি বিরোধী দল থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বিরোধীদল যেন তার ন্যায্য কথা বলার অধিকার পায়, সেটা আমরা আশা করব।


সংসদকে প্রাণবন্ত করতে বিরোধী দলের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করে পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে সব ইস্যুতে বিরোধিতা না করে দেশ গড়ার স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে স্পিকারের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হতে পারেন। অবশ্য সংসদ চাইলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে হতে পারে। জুলাই সনদ অনুযায়ী এবার ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এটি হবে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়। স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি দিয়ে নতুন স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি বৈঠক বসবে।

নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শোকপ্রস্তাব পাঠসহ সংসদের বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এছাড়া এদিনের বৈঠকে বিগত সংসদের পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো অধ্যাদেশ জারি হয়েছে তার সবগুলো উপস্থাপন করা হবে। আইনমন্ত্রী অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করবেন। প্রথম বৈঠকের পর দ্বিতীয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব তোলা হবে। ওই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেবেন।

সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ।