সর্বশেষ

Sunday, March 8, 2026

মির্জা আব্বাসের মানহানির অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা

মির্জা আব্বাসের মানহানির অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে মানহানির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। 

রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) মামলার আবেদনটি করেন রমনা থানা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম।

এ সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা মামলাটির আবেদন জমা দিয়েছি। সকাল ১১টার দিকে মামলার আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিপুল ভোটে হেরে যায়। নির্বাচনের সময় তিনি বিভন্ন সময়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এসব বক্তব্য ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল করে দিয়ে মির্জা আব্বাসের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভোটের মাঠে কথার যুদ্ধে একপাক্ষিকভাবে বেশ আটঘাট বেঁধেই নামতে দেখা গিয়েছিল এনসিপির এ নেতাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে নিয়ে  তার করা বেশকিছু মন্তব্য ভাইরালও হয়। অবশ্য ভোটে জয়লাভ করতে পারেননি তিনি। এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।

তিন দেশে ইরানের পাল্টা হামলা, ২২০ মার্কিন সেনা হতাহত

তিন দেশে ইরানের পাল্টা হামলা, ২২০ মার্কিন সেনা হতাহত



তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তিন দেশে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় মোট ২২০ জন মার্কিন সৈন্য ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। খবর প্রেস টিভির।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি শনিবার জানান, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটে চালানো ইরানি হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হামলার সময় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন। এছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালায়। ইরানের দাবি, এর প্রায় আট মাস আগে তারা উসকানিমূলক হামলা চালিয়ে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানে।

ইরানের দাবি, ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, শত শত বেসামরিক নাগরিক এবং বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডার নিহত হন।

এর জবাবে ইরান দ্রুত পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলাগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা ও স্বার্থকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, যেসব দেশের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলোর প্রতি ইরানের কোনো শত্রুতা নেই এবং তাদের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হচ্ছে।

আজ থেকে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি, কোন গাড়িতে মিলছে কত লিটার?

আজ থেকে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি, কোন গাড়িতে মিলছে কত লিটার?


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ দীর্ঘমেয়াদে যাতে দেশে জ্বালানির সংকট না হয়, সেজন্য রোববার (৮ মার্চ) থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (৬ মার্চ) পরীবাগের পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পেট্রোল পাম্পগুলোকে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 
তবে এরইমধ্যে পাম্পগুলো নিজেদের মতো করে রেশনিং করে তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাম্পগুলোর সামনে দেখা গেছে গাড়ির দীর্ঘ সারি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শনিবার (৭ মার্চ) বলেন, রোববার থেকে আমরা মোবাইল কোর্ট নামিয়ে দেব। সংকটের কোনো সুযোগ নেই। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। সেহেতু রেশনিং করা হবে। তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এবং আগামী ৯ তারিখে আরও দুটি ভেসেল আসছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাম্প ম্যানেজমেন্ট আছে, আমরা নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দিচ্ছি। এখন কোনও পাম্প যদি জলদি বিক্রি করে ফেলে তারপরে তো আর ওই দিন তেল পাবে না। তার পরদিন পর্যন্ত ওয়েট করতে হবে। সেটার জন্য আমরা মনিটর করছি। আমরা দেখব যাতে এ রকম কম হয়, সে বিষয়টা দেখব। আমরা কালকে থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত নামানো হবে। সব রকমের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেয়া যাবে ১০ লিটার তেল।

 

এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার পেট্রল বা অকটেন। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।

Saturday, March 7, 2026

আমিরকে চিঠি দিয়ে হঠাৎ জামায়াত নেতার দলত্যাগ

আমিরকে চিঠি দিয়ে হঠাৎ জামায়াত নেতার দলত্যাগ


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সিলেটের জামায়াত নেতা সালাহ উদ্দিন মিরাজ দলের রুকনিয়াতসহ সব ধরনের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলামের কাছে অব্যাহতিপত্র পাঠানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আমিরের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বহুবিধ অসুবিধার কারণে তার ওপর অর্পিত সব ধরনের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে ইচ্ছুক। এরপর শুক্রবার (৬ মার্চ) ফেসবুকে দেয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি রাজনীতি ও দলত্যাগের নানা কারণ তুলে ধরেন।

ফেসবুকে সালাহ উদ্দিন মিরাজ লেখেন, ‘জীবনের সূচনালগ্ন থেকে সংগঠন আমার আত্মার আত্মীয়। ২০০৫ সালে সাথী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাই।’ এ সময় তিনি তাকে পরম স্নেহে গড়ে তোলা কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করেন। দীর্ঘ পথপরিক্রমা শেষে ২০১৩ সালে তিনি রোকন হিসেবে শপথ নেন। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ২৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি, ২০১৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ২৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি এবং ২০২৩ সালে একই ওয়ার্ডের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমা থানা জামায়াতের নির্বাচিত শুরা সদস্য ও ২০২১ সাল থেকে থানা যুব বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এই পথচলায় আমি নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সাংগঠনিক কোনো আমানতের খেয়ানত করিনি কিংবা সংগঠনকে নিজ স্বার্থে কোথাও ব্যবহার করিনি।’

সাংগঠনিক স্বার্থ রক্ষায় অনেক বিষয়ে দৃঢ় প্রতিবাদ করেছেন জানিয়ে সালাহ উদ্দিন মিরাজ লেখেন, ‘আমার অতীত সাংগঠনিক তৎপরতার উসিলায় আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। কোনো অবদানের স্বীকৃতি নয়, আপনাদের ভাই হিসেবে অনুরোধ আগামীতে পথচলায় আমি যাতে দ্বীনের জন্য ভালো কিছু করতে পারি, সেই দোয়া রাখবেন। আমি আমার জীবনের এই সময়দানটুকুকে আল্লাহর কাছে নাজাতের উসিলা হিসেবে কবুল করার দোয়া করি।’

পদত্যাগের পেছনের ক্ষোভের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লেখেন, ‘চেষ্টা করেছি ২৫ নম্বর ওয়ার্ডকে নিজের যোগ্যতার আলোকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু কিছু অযাচিত সিদ্ধান্ত বারবার আমার যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমি সামনে এই ছাদের নিচে নিজেকে কেবলই অপরাধী হিসেবে দেখতে পাচ্ছি। আমার ক্ষুদ্র রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলে, আমার কারণে বিশৃঙ্খল হওয়া থেকে আমি এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে যাওয়া উত্তম। সবার কাছে দোয়া প্রত্যাশী।’


সূত্রঃ বার্তা বাজার 

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ, ইসলামের প্রথম বিজয়


নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ইতিহাস কেবল অতীতের গল্প নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার আয়না। সে আয়নায় ধুলা জমলে জাতি নিজের পরিচয়ও হারিয়ে ফেলে। মুসলিম উম্মাহর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় হলো গাজওয়ায়ে বদর। এ যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না; বরং এটি ছিল ঈমান, নেতৃত্ব ও তাওয়াক্কুলের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা।

প্রেক্ষাপট : মক্কা থেকে মদিনা ঃ

নবুয়তের সূচনালগ্নে মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর দাওয়াত মক্কার কুরাইশ নেতারা সহজভাবে গ্রহণ করেনি। যিনি এক সময় ‘আল-আমিন’ নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি ইসলাম প্রচারের কারণে দ্রুত বিরোধিতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। মক্কায় ১৩ বছরের দাওয়াতি জীবনে মুসলমানদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র নেমে আসে। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে আল্লাহর নির্দেশে মহানবী (সা.) ইয়াসরিবে (বর্তমান মদিনা) হিজরত করেন।


সেখানে তিনি একটি সুসংগঠিত সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন। মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইবাদত, শিক্ষা ও প্রশাসনের কেন্দ্র গড়ে তোলেন। প্রণয়ন করেন ‘মদিনা সনদ’, যাকে ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে অভিহিত করা হয়। মুহাজির ও আনসারদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনের মাধ্যমে সামাজিক সংহতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।


অন্যদিকে কুরাইশরা হিজরতের পরও তাদের শত্রুতা অব্যাহত রাখে। তারা বিপুল পুঁজি বিনিয়োগ করে বাণিজ্য কাফেলা পাঠাতে থাকে এবং সে অর্থের জোরে মদিনা আক্রমণের পরিকল্পনা করতে থাকে, যেন মুহম্মদ (সা.) ও তাঁর সঙ্গীদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়।

বদর যুদ্ধের সূচনা


হিজরি দ্বিতীয় সনের রজব মাসে ‘নাখলা’ অঞ্চলে একটি খণ্ডযুদ্ধের ঘটনা ঘটে, যা কুরাইশদের প্রতিশোধস্পৃহা আরো উসকে দেয়। পরবর্তীতে সিরিয়া থেকে ফেরত আসা একটি বাণিজ্য কাফেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। মক্কার মুশরিকরা গুজব ছড়িয়ে দেয়—মুসলিমরা ওই কাফেলায় হামলা করেছে।


এ প্রেক্ষাপটে মক্কার কুরাইশরা প্রায় এক হাজার সৈন্য নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। অন্যদিকে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। তাদের ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া ও ৭০টি উট। বিপরীতে কুরাইশদের ছিল প্রায় ১০০ ঘোড়া, ৬০০ লৌহবর্ম এবং বিপুল সামরিক সরঞ্জাম। যুদ্ধ মুসলমানদের কাম্য ছিল না; কিন্তু পরিস্থিতি একে অনিবার্য করে তোলে।


হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান, মদিনা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দূরে বদর উপত্যকায় ইসলামের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ইতিহাসে Battle of Badr নামে পরিচিত।


যুদ্ধের প্রাক্কালে রাসুলুল্লাহ (সা.) আন্তরিকভাবে দোয়া করেন)‘হে আল্লাহ! যদি এই দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে আপনার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না।’ (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)


বেজে ওঠে যুদ্ধের দামামা। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রার্থনা ও মুসলিম বাহিনীর সাহায্যের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহতায়ালা প্রেরণ করেন এক হাজার ফেরেশতা। আবু জাহেল, ওতবা, শাইবার মতো কুরাইশদের প্রভাবশালী নেতারা যখন একের পর এক নিহত হতে লাগল, তখন পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে কুরাইশরা ময়দান থেকে পলায়ন করল। মুসলিমদের ১৪ জন শাহাদতবরণ করেন। অপরদিকে কুরাইশদের ৭০ জন নিহত ও ৭০ জন বন্দি হয়।

ইফতারে খাবার স্যালাইন ভেবে কীটনাশক পান, একই পরিবারের আহত ৪

ইফতারে খাবার স্যালাইন ভেবে কীটনাশক পান, একই পরিবারের আহত ৪


মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীর ডোমারে ইফতারের সময়ে খাবার স্যালাইন ভেবে কৃষি জমিতে দেওয়া কীটনাশক পান করে একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার চিলাহাটির চৌকিদার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

আহতরা হলেন- চিলাহাটি চৌকিদার মোড় এলাকার বাসিন্দা আলম মিয়া (৪২) তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩৫) এবং তাদের সন্তান ফাহিম ইসলাম (৭) ও স্বাধীন মিয়া (১৭)।    

স্থানীয় ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, তারা ইফতারের সময়ে কৃষি জমিতে দেওয়া কীটনাশক খাবার স্যালাইন ভেবে পানিতে গুলিয়ে পান করেন। কিছুক্ষণ পরে তাদের শরীরে বিষক্রিয়া শুরু হলে ছটফট করতে থাকেন। এসময়ে তাদের আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তা দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। 

স্থানীয় বাসিন্দা সিফাতুর রহমান বলেন, ইফতারের সময়ে তাদের বাড়ি থেকে শব্দ শুনতে পাই। পরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি তারা মাটিতে গড়াগড়ি করছেন। পাশে দেখি কৃষি জমিতে দেওয়া কীটনাশকের প্যাকেট পড়ে আছে। পরে তারা বলে স্যালাইন ভেবে সেটি পানিতে গুলিতে খেয়েছে। তখন ফায়ার সার্ভিসকে কল করি তারা এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।  

এবিষয়ে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা মো আইনুল হক বলেন, খাবার স্যালাইন ভেবে একই পরিবারের চারজন কীটনাশক পানিতে গুলিয়ে পান করেন৷ তাদের আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে চিকিৎসা চলছে।

Friday, March 6, 2026

ইরানকে গণতান্ত্রিক হতে হবে না, নেতৃত্বে ধর্মীয় নেতা এলেও আপত্তি নেই ট্রাম্পের

ইরানকে গণতান্ত্রিক হতে হবে না, নেতৃত্বে ধর্মীয় নেতা এলেও আপত্তি নেই ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ইরান ইস্যুতে সুর কিছুটা নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান যুদ্ধ শেষের পর দেশটির নেতৃত্বে কোনও ধর্মীয় নেতা থাকলে আপত্তি করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, (ধর্মীয় নেতাও ইরানের নেতা) হতে পারে। আসলে বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তি কে তার ওপর। ধর্মীয় নেতা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি অনেক ধর্মীয় নেতার সঙ্গে কাজ করি, তারা অসাধারণ।’

তিনি বলেন, ইরান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে কি না—এ নিয়ে তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন নন। তার মতে, দেশটির নেতা এমন হওয়া উচিত যিনি ‘ন্যায়সঙ্গত ও ন্যায়পরায়ণ হবেন, ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভালো আচরণ করবেন’।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্বকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা সবাই আমাদের অংশীদার।’

ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক যুদ্ধে ফেঁসে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর চাপ এবং ইউরোপীয়দের যুদ্ধে অনীহার কারণে ট্রাম্প কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেছেন। এ ছাড়া ইরানের প্রতিরোধের মুখে বিশ্ব এখন জ্বালানি সংকটের দ্বারপ্রান্তে। এসব চাপের মুখেই ট্রাম্প অবশেষে কিছুটা সুর নরম করেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তার প্রশাসনেরও সম্পৃক্ত থাকা উচিত।

এদিকে শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।’