সর্বশেষ

Tuesday, June 23, 2026

জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

 

মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজ :  নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় রাস্তায় লাগানো সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়ম বহির্ভূতভাবে কর্তন ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রদীপ কুমার রায়কে ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে পরস্পর যোগসাজসে তারা আত্মসাত করে আসছেন।

জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার কৈমারী-দোলাপাড়া এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে এলজিইডির মাধ্যমে ২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১২ মে ২০২৬। তবে সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা বেশ কয়েকটি বৃহদাকৃতির ইউক্যালিপটাস গাছ থাকায় সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছগুলো নিলাম ও টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের কথা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বন বিভাগ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রদীপ কুমার রায়ের মাধ্যমে  গাছগুলো কেটে ফেলে এবং পরে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করেন বলে অভিযোগ করেছেন সামাজীক বনায়নের সদস্যবৃন্দ। 

সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সদস্য ধীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, “আমরা এই বাগানের সদস্য। কিন্তু গাছ নিলাম বা কর্তনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রদীপ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে সেভাবেই গাছ কর্তন হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে ভয়ভীতি ও মারধরের আশঙ্কা থাকে। তাই কেউ মুখ খুলতে চায় না।”

এদিকে গাছ অপসারণে ব্যবহৃত স্কাভেটর মেশিনের পরিচালক জানান, প্রদীপ কুমার রায়ের নির্দেশেই তারা গাছগুলো কেটেছেন।


অভিযোগের বিষয়ে প্রদীপ কুমার রায়ের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, “আমার কোনো দোষ নেই।  জলঢাকা বন বিভাগ কর্মকর্তা  আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি।”

উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক আগেই বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন ও বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Sunday, June 21, 2026

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন ওসি জলঢাকা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন ওসি জলঢাকা


মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ  নীলফামারী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন ২০২৬) বিকেলে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের এক অনুষ্ঠানে  জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামানের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, নুজহাত তাসনীম আওন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক আহমেদ, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুত্রে জানা যায় জলঢাকা উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি নাজমুল আলম অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, চুরি-ডাকাতি দমন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জনগণের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও মসজিদভিত্তিক সচেতনতা মূলক সভা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে তার উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, বিভিন্ন মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেফতার, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে জলঢাকা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ প্রশাসন উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছে। সম্মাননা গ্রহণ শেষে ওসি নাজমুল আলম দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়, জলঢাকা থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। যে কোনো পুরস্কার দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা আরও বাড়িয়ে দেয়। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জলঢাকা গড়ে তুলতে আমরা আগামীতেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষ নেতৃত্ব, জনবান্ধব পুলিশিং এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকার জন্য ওসি নাজমুল আলমের এ সম্মাননা প্রাপ্তিকে জেলার প্রশাসনিক ও সামাজিক মহল ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও কর্মোদ্যমী হয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।

গাইবান্ধায় শিবির নেতাকে গলা কেটে হত্যা

গাইবান্ধায় শিবির নেতাকে গলা কেটে হত্যা

নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী

তাজুল ইসলাম মিলন (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার সাঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নামে এক ছাত্রশিবির নেতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)। রোববার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়ার চার মাথায় এ  ঘটনা ঘটে।

বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসা তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।


অপর দিকে অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা একই ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি। তবে বর্তমানে বহিষ্কৃত বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের (উপজেলা চত্বরে) চারমাথা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বিষয় নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। পরে মুকুলের ছোট ভাই পলাশ সাইফুল্লাহ বারীর গলায় লোহার শাবল দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এ সময় সাইফুল্লাহ বারীর সাথে থাকা তার বন্ধু সালাউদ্দিনকেও (৩০) ছুরিকাঘাত করেন তারা। পরে স্বজনরা প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হওয়া সাইফুল্লাহ বারীকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।


অন্যদিকে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


ঘটনাস্থলে থাকা নিহত শিবির সভাপতির বন্ধু মোবাশ্বের বলেন, কচুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমার চাচা হাবিবুল্লাহ। দীর্ঘদিন থেকে ওই স্কুলে কমিটি নেই। সম্প্রতি স্কুলে কমিটি গঠনের কথা চলছিলো। আজ বিকেলে আমার চাচা (প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ) বোনারপাড়া বাজারে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় মুকুল-পলাশসহ বেশ কয়েকজন এসে কমিটির বিষয় নিয়ে চাচার সাথে খারাপ ব্যবহারসহ গালিগালাজ করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা কয়েকজন বাজারে আসি। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হলে স্থানীয়রা দুই দলকেই সরিয়ে দেন। কিন্তু চলে যাওয়ার সময় তারা ধাওয়া দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে এসে মুকুল ও তার ভাই পলাশ শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করে। শাবলের আঘাতে সাইফুল্লাহ বারীর গলা এফোর-ওফোর করে দেয়।


Thursday, June 18, 2026

জলঢাকায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন

জলঢাকায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন

 


মাহমুদ আল-হাছান,  তিস্তা নিউজ : নীলফামারীর জলঢাকা পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দিন-রাত মিলে সর্বসাকুল্যে ৬ ঘন্টাও বিদ্যুত সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। সর্ব্বোচ্চ ১ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ করলে পরবর্তী দুই ঘন্টা বিদ্যুতবীহিন থাকতে হচ্ছে। এর ফলে ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়া সহ ব্যাবসা বানিজ্যে অপূরনীয় ক্ষতি হচ্ছে ব্যাবসায়ীদের। বিদ্যুত নির্ভর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ভয়াবহ লোকসানের মুখে পড়েছে। প্রচন্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা শেচনীয়। 


বালাগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব বলেন, বিদ্যুতের যন্ত্রনা সহ্যের সকল সীমা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে বিদ্যুত চলে গেলে আর আসার নাম থাকে না। এ সময় ছেটো শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এত রাতে কেনো লোডশেডিং হবে? এ সময় তো অফিস আদালত হাট বাজার সবকিছুই বন্ধ থাকে, এ সময় কিসের লোডশেডিং?


গোলমুন্ডা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা তোজাম্মেল হোসাইন এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন- বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে মাদরাসার দুইটি হ্যালোজিন লাইট ও পানির মর্টার নষ্ট হয়ে গেছে, যার মুল্য ৪০,০০০/ টাকা। অসহনীয় গরম ও বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিংয়ের ফলে মাদরাসায় ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিও কমে গেছে।


খুটামারা ইউনিয়নের পুর্ব খুটামারা গ্রামের বাসিন্দা অমল রায়ের স্ত্রী সুমী রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- পল্লী বিদ্যুতের কারনে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। আমরা জীবনে মনে হয় আর উঠে দাঁড়াতে পারবো না। আমাদের মুরগীর খামারে তোলা এক হাজার ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা ঠিকমতো বুডিং করতে না পেরে মারা গেছে। এ ক্ষতি আমরা কিভাবে কাটিয়ে উঠবো!


পল্লী বিদ্যুত জলঢাকা শাখার ডিজিএম জনাব মেহেদী হাসানের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্যে বেশ কয়েকবার তার মুঠোফোনে কল করার পরে তিনি ফোন রিসিভ করেন। জলঢাকা পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমরা যেটুকু বিদ্যুত পাই সেটুকুই সরবরাহ করছি, এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। পিডিবিতে সঙ্কট নেই কিন্ত আপনাদের এত সঙ্কট কেনো- প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা সরকার বলতে পারবে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে সেটিও তিনি জানেন না বলে জানান।

Wednesday, June 17, 2026

জলঢাকা এলএসডি গোডাউনে ছেঁড়া-ফাটা বস্তায় বোরো ধান সংরক্ষণের অভিযোগ।

জলঢাকা এলএসডি গোডাউনে ছেঁড়া-ফাটা বস্তায় বোরো ধান সংরক্ষণের অভিযোগ।

 


জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :  নীলফামারীর জলঢাকা এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) গোডাউনে ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমের ধান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ছেঁড়া-ফাটা বস্তা তালি দিয়ে ধান সংরক্ষণ এবং নিম্নমানের ধান গ্রহণের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গোডাউনে সংরক্ষিত ধানের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও ছেঁড়া বস্তায় রাখা হয়েছে। অনেক বস্তা তালি দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি মানদণ্ডের বাইরে নিম্নমানের ধান গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে জলঢাকা এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, "আপনারা কি আমার চেয়ারটাকে নড়ানোর জন্য এখানে আসছেন?" পরে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, "বস্তার সংকট থাকায় ছেঁড়া-ফাটা বস্তা মেরামত করে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতি রয়েছে।" তিনি আরও জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুসারেই ধান সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তবে নিম্নমানের ধান গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ধানের মান যাচাই করেই গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মানসম্মত বস্তা ব্যবহার এবং ধানের গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্যশস্যের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tuesday, June 16, 2026

কলকাতায় মোশাররফ করিম দম্পতির ওপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হামলা

কলকাতায় মোশাররফ করিম দম্পতির ওপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হামলা

অভিনেতা মোশাররফ করিম ও তার স্ত্রী 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ কলকাতায় দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের ওপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজন চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী অভিনেত্রী রোবেনা রেজা জুঁইও ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।
পোস্টে তিনি লিখেন, রাত দশটার দিকে কলকাতা নিউ মার্কেটের কস্তুরি হোটেলের সামনে স্ত্রীসহ যাচ্ছিলেন মোশাররফ করিম। এসময় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু লোক মোশররাফ করিমকে 'লাল বদর' বলে গালাগালি করতে থাকে, তার দিকে তেড়ে যায়। এসময় মোশাররফ করিমের সাথে হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা আরো কয়েকজন এসে মোশাররফ করিমকে নিরাপদে সরিয়ে দেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোশাররফ করিম বা তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এনসিপির প্রভাবশালী নেতা রিফাত রশিদ। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, কলকাতায় আমাদের জুলাইয়ের সহযোদ্ধা ও বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা মোশাররফ করিমের উপর কলকাতায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামিলীগ এর ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, ভারত সরকারকে স্পষ্ট বলতে চাই, আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ নাট্যব্যক্তিত্ব আপনার টেরিটরিতে সস্ত্রীক হামলার শিকার হয়েছে, যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় এইটা দুই দেশের কালচারাল অঙ্গনে ভয়ংকর প্রবলেম ক্রিয়েট করবে। এইটা সামাল দিতে পারবেন না আপনারা। কলকাতার সাথে নাটক, সিনেমা ওয়েব সিরিজের যৌথ প্রজেক্ট বয়কটের ডাক দেয়ার আগে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন।

Sunday, June 14, 2026

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ক্ষমতাবলে রোববার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ।