সর্বশেষ

Thursday, February 26, 2026

সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শত শত অভিযোগ

সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শত শত অভিযোগ

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ে। দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এসব লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যে হারে অভিযোগ আসছে তাতে মনে হচ্ছে, অভিযোগের রেকর্ড হবে। অধিকাংশ অভিযোগে অভিযোগকারী নাম প্রকাশ করেননি, তবে কয়েকটি অভিযোগে অভিযোগকারী নাম-পরিচয় উল্লেখ করেই লিখিত চিঠি দিয়েছেন দুদকে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদক অন্য সব অভিযোগ যেভাবে যাচাই করে, এসব অভিযোগও একইভাবে যাচাই করা হবে। এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সূত্র জানিয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের। গ্রামীণ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ড. ইউনূস কীভাবে নিজের নামে একটি ট্রাস্ট করে গ্রামীণ কল্যাণ এবং গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাৎ করছেন, তার বিবরণ তুলে ধরেছেন। এই অভিযোগে বলা হয়েছে, আয়কর ফাঁকি এবং অর্থ আত্মসাতের জন্য ড. ইউনূস তাঁর নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন।

এই ট্রাস্টের একমাত্র কাজ হলো, ড. ইউনূসের পরিবারের দেখাশোনা করা। এভাবে ড. ইউনূস বিপুল পরিমাণ আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে ড. ইউনূস বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলেও একাধিক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের এক ডজনের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, বিচারক পদায়ন এবং অন্যান্য দুর্নীতি।

একটি অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, আসিফ নজরুল জামিন বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অভিযোগে একটি শিল্প গ্রুপের সিইও, জালিয়াতির মাধ্যমে ভাই এবং বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। ছোট বোন তার বিরুদ্ধে মামলা করে, পিবিআই মামলা তদন্ত করে জালিয়াতির প্রমাণ পায়। আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু আসিফ নজরুল ২০ কোটি টাকা নিয়ে ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন। গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিন আসিফ নজরুল বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত তথ্যও অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এভাবে আসিফ নজরুল ১৮ মাসে টাকার বিনিময়ে বহু জামিন করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


এ ছাড়াও আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে আসিফ নজরুল ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নিতেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। সাব রেজিস্ট্রার পদায়নে তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আসিফ নজরুল উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, সাভারের মতো লাভজনক এলাকার সাব রেজিস্ট্রার বদলি করেন। এসব বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে অন্তত আটটি অভিযোগ এখন পর্যন্ত জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ অন্যতম। এ ছাড়াও রিজওয়ানার বিরুদ্ধে অন্যের সম্পত্তি জোর করে দখল করার অভিযোগও করা হয়েছে। একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। রিজওয়ানার স্বামী আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন কি না তা তদন্ত করার জন্য দুদককে অনুরোধ জানিয়েছেন একজন।

সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে সামিট গ্রুপের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, হাসপাতালের কেনাকাটায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।


তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ অভিযোগই ভুক্তভোগীরা নাম-ঠিকানাসহ করেছেন। ঘুষ নিয়ে কাজ না দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণও দেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।


সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন একজন। এভাবে প্রায় সব উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকের সূত্রগুলো বলেছে, এসব অভিযোগ তারা যাচাইবাছাই করছে। যেসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাবে সেগুলো অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।


জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায় এবং সেগুলো আমলযোগ্য হলে তা তদন্ত করা উচিত। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা পেলে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। আগেও কোনো কোনো উপদেষ্টার দপ্তরের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় কিন্তু দুদকের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এখন যেহেতু তারা সরকারে নেই তাহলে দুদক তদন্ত করে দেখতে পারে। আগেও আমরা দেখেছি যারা সরকারে থাকে তাদের বিরুদ্ধে দুদক কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এখনো তেমন ধারাবাহিকতা রয়েছে। তবে যদি কারও অভিযোগ আমলযোগ্য হয় সেটারও যুক্তি দুদকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে এবং আমলযোগ্য না হওয়ারও যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে কেউ যেন কারও দ্বারা হয়রানির শিকার না হন সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। 


সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Wednesday, February 25, 2026

আইনজীবী সমিতির সভাপতি গ্রেফতার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা

আইনজীবী সমিতির সভাপতি গ্রেফতার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বরিশালে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করছে যৌথবাহিনী। বুধবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থাকা তার কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভসহ প্রতিবাদ করেছেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। পরে বিচারকের এজলাসে হট্টগোল ও চেয়ার টেবিল ওলট-পালট করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে জেলে পাঠানো হয়।

ওই মামলায় বরিশালের দুই পিপি, ৩ এপিপিসহ বিএনপির ১২ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর নাম উল্লেখ করে মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে এজলাসে হট্টগোলের ওই ঘটনা ঘটে। জামিন অযোগ্য ধারা থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে এজলাসে ঢুকে ওই হট্টগোল করে তারা।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির কামরুল ইসলাম বলেন, বিচার কাজে বাধা, এজলাসে ঢুকে হট্টগোল এবং হুমকি দেওয়ার ঘটনায় মামলাটি দায়ের হয়েছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন ইসলাম বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বরিশালের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহম্মেদ বাবলু বলেন, গ্রেফতার ও মামলার প্রতিবাদে বরিশালে অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবে না আইনজীবীরা।

চলতি বছরের ফিতরা নির্ধারণ

চলতি বছরের ফিতরা নির্ধারণ


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ১৪৪৭ হিজরি সনের সাদাকাতুল ফিতর-এর হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 


সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। 

এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান।


উল্লেখ্য, গত বছরও (১৪৪৬ হিজরি/২০২৫) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগ ৬, বিএনপি ৫ ও জামায়াত ২ পদে জয়ী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগ ৬, বিএনপি ৫ ও জামায়াত ২ পদে জয়ী


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ৬ পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ৫ পদে ও জামায়াতে ইসলামী ২ পদে বিজয়ী হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আইনজীবী সমিতি ভবনে সরাসরি ব্যালটে বিরতিহীন ভোটগ্রহণ চলে। পরে গণনার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মোহা. শামসুদ্দীন প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করেন। 

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমমনা সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (নজরুল-হাসিব পরিষদ) প্রার্থীরা সাধারণ সম্পাদকসহ ৬ পদে, বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (ওদুদ-কনক পরিষদ) প্রার্থীরা সভাপতিসহ ৫ পদে এবং জামায়াত সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (মতিউর-তসিবুর পরিষদ) প্রার্থীরা ২ পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

জানা যায়, ৮২ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্যানেলের প্রার্থী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আব্দুল ওদুদ। ৭৯ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী প্যানেলের আলহাজ নজরুল ইসলাম (২)। অপরদিকে ৯৫ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী প্যানেলের মোহা. আবু হাসিব। ৭৯ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির মোহা. মাহমুদুল ইসলাম (কনক)।


নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২২৭ জন। যার মধ্যে ২০৯ জন ভোট প্রদান করেন। কার্যনির্বাহী কমিটির ১৩ পদের জন্য তিনটি প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৩৬ জন প্রার্থী। এর মধ্যে শুধু বিএনপি সমর্থিতরা ১৩ প্রার্থীর পূর্ণ প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


আওয়ামী সমর্থিতরা ১২ এবং জামায়াত সমর্থিতরা ১১ প্রার্থীর প্যানেল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী প্যানেলের প্রার্থীরা সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ- সাধারণ সম্পাদক (দ্বিতীয়), অর্থ সম্পাদক এবং কার্যনির্বাহী সদস্যের দুটি পদে বিজয়ী ( প্রথম ও তৃতীয়) হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি প্যানেলের প্রার্থীরা সভাপতি ছাড়াও সহসভাপতি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং কার্যনির্বাহী সদস্যের দুটি পদে বিজয়ী (দ্বিতীয় ও চতুর্থ) হয়েছেন। এ ছাড়া জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন সহ-সাধারণ সম্পাদক (প্রথম) এবং গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে।

লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি ৬, আ.লীগ ৮, জামায়াত ০

লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি ৬, আ.লীগ ৮, জামায়াত ০


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৬টি পদে বিএনপি জয়ী হয়েছে। আর এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ৮ টি পদে বিজয়ী হয়েছে। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তাদের কোন প্রার্থী ছিল না। নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত একজনও বিজয়ী হতে পারেনি। এনিয়ে টানা দ্বিতীয়বার তাদের কেউই নির্বাচিত হননি।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট একেএম হুমায়ুন কবির ফলাফল ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো ২৩২ ভোট পেয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মনিরুল ইসলাম হাওলাদার সভাপতি ও ২১৬ ভোট পেয়ে রফিক উল্যাহ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মনিরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির নজির আহমেদ ১৩৪ ভোট ও রফিকের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্যানেলের নুর উদ্দিন বাবুল ১৪৬ ভোট পেয়েছেন।

নির্বাচিত অন্যরা হলেন সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ (বিএনপি), আবুল খায়ের ভূঁইয়া (আওয়ামী লীগ), সহ-সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম জুয়েল (বিএনপি), চাঁদ মনি মোহন (আওয়ামী লীগ), পাঠাগার সম্পাদক মুহাম্মদ মোশারফ হোসাইন (বিএনপি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ), অডিটর রাকিবুল হাসান অপু (আওয়ামী লীগ), সদস্য আজহার উদ্দিন রকি (আওয়ামী লীগ), নুরুল হুদা মুরাদ (স্বতন্ত্র), ইউসুফ মানিক (আওয়ামী লীগ), আবদুল্লাহ আল নোমান (আওয়ামী লীগ), আবদুর রহিম মানিক (আওয়ামী লীগ) ও জাফর আহমদ (বিএনপি)।

এদিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব নুরুল হুদা পাটওয়ারী গত ২৬ জানুয়ারি একটি নোটিশে জানিয়েছেন, তাদের আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২৬-২৭ সালের লক্ষ্মীপুর আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে কোন পদে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত হয়। যদিও এরপরেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বিভিন্ন পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করেন।

এ বিষয়ে নুরুল হুদা পাটওয়ারীর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ সমর্থিত লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক এক সভাপতি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মূলত তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বদ্বিতা করেননি। নির্বাচন না করার জন্য বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সিদ্ধান্ত ছিল। তারপরও অন্যপদগুলো নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের আটজন নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, ভোট গণনা শেষে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। তারাবির নামাজের বিরতির কারণে ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে ২০২৬-২০২৭ শেসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৮২জন ভোটারের মধ্যে ৩৭০জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

Tuesday, February 24, 2026

হঠাৎ অসুস্থ জামায়াতের আমির - ডাঃ শফিকুর রহমান

হঠাৎ অসুস্থ জামায়াতের আমির - ডাঃ শফিকুর রহমান

ডাঃ শফিকুর রহমান 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাজধানী শেওড়াপাড়া এলাকায় কাফরুল পশ্চিম থানার উদ্যোগে আলোচনাসভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বলেন, আজকের ইফতার মাহফিলে জামায়াত আমিরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি যাত্রাও করেছিলেন।

হঠাৎ যাত্রাপথে তিনি বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যান। যার কারণে তিনি প্রোগ্রামস্থলে আসতে পারেননি। সবাই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।


ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা জামায়াত আমিরের জন্য দোয়া করি—আল্লাহ যেন ওনাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  এমপি ওবায়দুল্লাহ সালাফি-কে সংবর্ধনা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমপি ওবায়দুল্লাহ সালাফি-কে সংবর্ধনা


মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ  নীলফামারীর জলঢাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে নীলফামারী-৩ আসনের নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি-কে সংবর্ধনা প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


​মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।


​সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামাতের প্রসাদ সম্পাদক ​প্রভাষক ছাদের হোসেন, উপজেলা জামায়াতে আমির মোখলেছুর রহমান মাস্টার, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও প্রেসক্লাব সভাপতি ​আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ​মোয়াম্মার আল-হাসান, সহ সেক্রেটার প্রভাষক এ.এ.এম. মুজাহিদ মাসুম, 


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চন্দ্রাসন গুপ্ত, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ​ডা. মেসবাউর রহমান প্রধান (মেজবা)। এছাড়াও হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল হচ্ছে অসুস্থ মানুষের শেষ ভরসাস্থল। এখানে আগত রোগীরা যেন মানবিক আচরণ, উন্নত চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পায়, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। রোগীদের জন্য সরকারি ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। চিকিৎসকদের নিয়মিত ও সঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। জরুরি বিভাগে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা প্রদান। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং সেবার মানসিকতা ও রোগীদের সাথে সদাচরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা। তিনি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দেন।