সর্বশেষ

Monday, January 5, 2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের নতুন কমিটি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের নতুন কমিটি


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ২০২৬ সেশনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচন এবং সেক্রেটারি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনয়ন সম্পন্ন হয়েছে। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে মুহা. মহিউদ্দিন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া সেক্রেটারি হিসেবে আশিকুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন মনোনীত হয়েছেন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যদের নিয়ে শহীদ মাহবুবুর রহমান অডিটোরিয়ামে সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।কেন্দ্রীয় এইচআরএম সম্পাদক সাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

২০২৬ সেশনের জন্য শাখা সভাপতি নির্বাচন উপলক্ষ্যে সদস্য সমাবেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত মুহা. মহিউদ্দিনকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে নবনির্বাচিত সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে শাখা সেক্রেটারি হিসেবে আশিকুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনকে মনোনীত করেন নবনির্বাচিত সভাপতি মহিউদ্দিন।
নিখোঁজদের ৬৮ শতাংশ বিএনপির, জীবিত ফেরাদের ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের

নিখোঁজদের ৬৮ শতাংশ বিএনপির, জীবিত ফেরাদের ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, গুম সংক্রান্ত মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ তাদের কাছে জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।


কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানান, এখনও অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। তার ভাষায়, ‘গুমের প্রকৃত সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে আরও ভুক্তভোগীর খোঁজ পাওয়া যায়, যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই আমরা নিজেরা যোগাযোগ করলেও ভুক্তভোগীরা অন-রেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।’


কমিশনের সদস্যরা জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—জোরপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। তাদের ভাষায়, প্রাপ্ত ডেটা থেকে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে গুম ছিল ‘পলিটিক্যালি মোটিভিটেড ক্রাইম’।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব গুমের শিকার ব্যক্তি জীবিত ফিরে এসেছেন, তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। অন্যদিকে, যারা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।


কমিশন জানায়, হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের নাম উঠে এসেছে।


কমিশনের সদস্যরা জানান, শেখ হাসিনা নিজে একাধিক গুমের ঘটনায় সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন। পাশাপাশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা থেকে বোঝা যায়—সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে।


প্রতিবেদন গ্রহণ করে গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। জাতির পক্ষ থেকে আমি কমিশনের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাংলায় যে ‘পৈশাচিক’ শব্দটি আছে, এক কথায় এই ঘটনাগুলোকে সেই শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই রিপোর্ট বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে মানুষের ওপর কী ভয়ংকর নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার ডকুমেন্টেশন। এই ধরনের নৃশংসতা যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’


প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কমিশনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যৎ করণীয় উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। তিনি আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব স্থানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থান ম্যাপিং করারও নির্দেশনা দেন।


কমিশনের তদন্ত অনুযায়ী, বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। শত শত গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করে ওই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও লাশ গুমের প্রমাণ পাওয়া গেছে।


কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থানের জন্য তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, ‘আপনি দৃঢ় ছিলেন বলেই আমরা এই কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমাদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা আপনি দিয়েছেন।’ পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করে এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া।

পাবনায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে অর্ধদিবস হরতাল

পাবনায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে অর্ধদিবস হরতাল


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি ‘নেসকো’র প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুন নূর ও সহকারী প্রকৌশলী হুসেইন তোহাকে প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হয়েছে। সচেতন নগরবাসী ফোরামের পক্ষ থেকে রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

কর্মসূচি চলাকালে ঈশ্বরদী রেলগেট, স্টেশন রোড, চাঁদ আলী মোড়, ফতেমোহাম্মদপুর, বকুলের মোড়, পোস্ট অফিস মোড়, আলহাজ মোড়, বড়ইচারা, ভেলুপাড়াসহ বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং বাঁশ বেঁধে সড়ক অবরোধ করা হয়। দুপুর ১২টার পর হরতাল শেষে জিরো পয়েন্টে পথসভা হয়। এ সময় আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন সচেতন নগরবাসী ফোরামের আহ্বায়ক রাজিবুল আলম ইভান। 

রাজিবুল আলম ইভান বলেন, নেসকোর প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধ, আন্দোলনকারীদের ২০১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, নেসকোর ঈশ্বরদী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুন নূর ও সহকারী প্রকৌশলী হুসেইন তোহাকে প্রত্যাহার, মিটার রিডার নজরুল ইসলামকে অপসারণসহ ছয় দফা দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীকালে পূর্ণদিবস হরতাল ও অনির্দিষ্টকালের জন্য অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে।

পথসভায় অন্যদের মধ্যে ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সদস্য রাগিব আহসান রিজভী, সদস্য কায়েদে আজম, ইমরান আহমেদ, সুলতানা পারভীন, রুবেল আহমেদ, শামীম আহমেদ, দুলাল মণ্ডল, ডা.আব্দুল মোমিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া যাচ্ছেন তারেক রহমান ‎

দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া যাচ্ছেন তারেক রহমান ‎

 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার বাইরে এটি দিয়েই তার প্রথম সফর শুরু করতে যাচ্ছেন। সেখান থেকে যাবেন রংপুরে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে বগুড়ার বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, আগামী ১১ জানুয়ারি বগুড়ায় রাতযাপন করবেন তারেক রহমান। পরদিন ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় দেশনেত্রী তার মা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে গণদোয়ায় অংশ নেবেন। পরে তার রংপুর যাওয়ার কথা রয়েছে। যাওয়ার পথে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করবেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল জানান, ইনশাআল্লাহ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে বগুড়াবাসীর। দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিন পর ১১ জানুয়ারি (রোববার) বগুড়া আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বগুড়াবাসীর গর্বের সন্তান তারেক রহমান। ওই দিন তিনি বগুড়ায় রাতযাপন করবেন। পরের দিন সোমবার সকাল ১০টায় মা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে গণদোয়ায় অংশ নিবেন।

এ বিষয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব  বলেন, ১২ জানুয়ারি দলীয় প্রধান তারেক রহমান রংপুরে যাওয়ার পথে শিবগঞ্জ উপজেলা মহাস্থানের হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করবেন। এসময় আমরা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে তাকে স্বাগত জানাবো এবং পরে দলীয় নেতাকর্মীরা শিবগঞ্জের শেষ সীমানা রহবল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত প্রধান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তাই তার মনোনয়ন বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

Sunday, January 4, 2026

কুড়িগ্রাম -৩ ও নেত্রকোনা -৫ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা

কুড়িগ্রাম -৩ ও নেত্রকোনা -৫ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ  মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাসুম মোস্তাফার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। 

রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন। 

তিনি জানান, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মাসুম মোস্তাফা একটি মামলার রায়ের বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন। নির্বাচন আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রে দেওয়া কোনো তথ্য ভুল বা বিভ্রান্তিকর হলে সেটি অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। এ কারণেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, তবে নির্বাচন আইন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। ফলে আপাতত মাসুম মোস্তাফার মনোনয়নপত্র অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হলেও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম মোস্তাফা বলেন, আমার একটি তথ্যগত ভুলের কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে এ ভুলটি ইচ্ছাকৃত নয়। সোমবার থেকেই মনোনয়নের বৈধতা ফিরে পাওয়ার জন্য আপিল প্রক্রিয়া শুরু করব। আশা করি, আমার মনোনয়ন বৈধতা ফিরে পাব।

একইদিন কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহাবুবুল আলম সালেহীর মনোয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করা হয়।

কারন হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ওনার দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ডকুমেন্ট দেখাতে পারেনি। ব্যারিষ্টার সালেহী অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে ডকুমেন্ট দেখানোর সুযোগ না দিয়ে উঠে যান। উচ্চতর আদালতে আপিল করবেন এবং মনোনয়ন ফিরে পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।

 

ফরিদপুর-১ আসনে ১৫ প্রার্থীর মনোনয়ন, কারওটাই বৈধ নয়

ফরিদপুর-১ আসনে ১৫ প্রার্থীর মনোনয়ন, কারওটাই বৈধ নয়


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ফরিদপুর-১ (মধুখালী–বোয়ালমারী–আলফাডাঙ্গা) আসনে দাখিল করা সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাচাই-বাছাই শেষে কারও মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়নি।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সভা শেষে এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা।


রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত এবং ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া প্রার্থীরা রোববার বিকেল ৪টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংশোধনী জমা দিয়ে মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

স্থগিত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— চারবারের সংসদ সদস্য ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা (ঢাকা জেলা শুরা সদস্য)।

এছাড়া আরও যাদের মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে— বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মৃন্ময় কান্তি দাস, জাতীয় পার্টির সুলতান আহমেদ খান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মুহাম্মদ খালেদ বিন নাছের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শরাফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল বাসার খান।


স্থগিতের কারণ


শাহ মো. আবু জাফরের ক্ষেত্রে দুটি মামলার তথ্য হলফনামায় না থাকা


খন্দকার নাসিরুল ইসলামের ক্ষেত্রে তিনটি মামলার তথ্য জমা না দেওয়া


মো. ইলিয়াস মোল্লার ক্ষেত্রে আয় বিবরণীতে অসঙ্গতি


বাতিল হওয়া সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটার তালিকার এক ভাগ তথ্য সঠিক না থাকায় যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে— শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু, মো. হাসিবুর রহমান, আরিফুর রহমান দোলন, মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ, লায়লা আরজুমান বানু, মো. গোলাম কবীর মিয়া।


রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আর স্থগিত হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন করলে মনোনয়ন বৈধ হতে পারে।

তুচ্ছ কারণে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

তুচ্ছ কারণে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে : মিয়া গোলাম পরওয়ার


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইয়ে কিছু রিটার্নিং অফিসারদের কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

তাদের দাবি তথ্য প্রমাণ, কাগজপত্র দাখিল করার পরও আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন বিষয় ধরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়া হচ্ছে। 

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার (৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেন, সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর এমপি পদপ্রার্থীগণের মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এই যাছাই-বাছাইয়ের সময় কোনো কোনো জেলার রিটার্নিং অফিসারদের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোনো কোনো জেলায় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসারের ব্যক্তিগত এখতিয়ারে পড়ে বা তিনি ব্যক্তি বিবেচনায় ছাড় দিতে পারতেন এমন ক্ষেত্রেও কঠোর নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে রিটার্নিং অফিসারদের বাড়াবাড়ি করার কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। প্রদত্ত তথ্য প্রমাণ, কাগজপত্র দাখিল করার পরও উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রার্থিতা বাতিল করে দেওয়া মোটেও সমীচীন হয়নি। অপ্রয়োজনীয় ও অহেতুক কিছু বিষয়ে যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন বিষয় ধরে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো একটি মহলের ইন্ধনে এসব করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ রকম চলতে থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে তা দেশবাসীর কাছে বড় প্রশ্ন। রিটার্নিং অফিসাররা যেন এ ধরনের গুরুত্বহীন তুচ্ছ ঘটনায় কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল না করেন সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তুচ্ছ অজুহাতে যাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে তাদের প্রার্থিতা অবিলম্বে বৈধ ঘোষণার জন্য আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সবার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে নির্বাচনের মাঠ সমতল করার জন্য আমি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।