তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদে বিল পাস হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিল পাসে বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা একমত ছিলেন না। আর এসব কারণ উল্লেখ করে বিরোধী দলের সদস্যরা মাগরিবের নামাজের আগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের সদস্যরা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়তার পর শেষ মুহূর্তে এসে ওয়াকআউট করায় বিস্ময় প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে গতকাল সংসদে ৩১টি বিল পাস হয়েছে। আজ বিকালে আবার বসছে সংসদ অধিবেশন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিল পাসের পর সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে, আমরা তার দায় নিতে চাই না। তাই সংসদ থেকে ওয়াকাআউট করছি।
বিরোধী দলের নেতা ওয়াকআউট ঘোষণা দিয়ে জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান। মাগরিবের বিরতির পর বিরোধী দল আবার সংসদে যোগ দেয়। ’ এ সময় সংসদে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কিছু বলার সুযোগ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব রিডিংয়ে ওনারা সহায়তা করেছেন।
কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সব প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পর ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কি না! সব প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি তারা আবার অংশগ্রহণ করবেন। ’ এদিকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলের তীব্র সমালোচনা করেন এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল : বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ।
আলাদা দুটি বিল পাসের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হয়। আর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। ফলে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো আইন থাকছে না। সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আইনগত ভিত্তিও থাকছে না। বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম আগের কাঠামোয় ফিরে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
জামুকা বিল নিয়ে জামায়াত-এনসিপি পরস্পরবিরোধী অবস্থান : পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশকে সংশোধন করে আইনে রূপ দিতে বিল পাস করেছে সংসদ। এতে জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়ে দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আল্লাহ ভালো জানেন ৭১ সালে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহ তাআলা তার নিখুঁত পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী। তবে তাঁদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টর (এনসিপি) পক্ষ থেকে এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়। সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদে বিল পাস : অন্তর্বর্তী সরকারের আনা জাতীয় ‘মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ রহিত করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃ প্রচলন করে আনা বিল সংসদে পাস হয়েছে। ওই বিলের বিরোধিতা করে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আগের মানবাধিকার কমিশন মূলত বিরোধী দল কমিশন হিসেবে কাজ করেছে। জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘জিয়া পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ শিকার। সরকার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ’