সর্বশেষ

Friday, July 31, 2026

জলঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিস উদ্বোধন

জলঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিস উদ্বোধন

 


মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীর জলঢাকায় সাংবাদিক সংগঠন রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে।আজ শুক্রবার( ৩১শে জুলাই) রিপোর্টার্স ইউনিটি জলঢাকা শাখার আয়োজনে বিকাল ৪.৩০ মিনিটে থানা মোড়স্থ নতুন  কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় । জলঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রাশেদুজ্জামান সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪-নীলফামারী-০৩ সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ্ সালাফী এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মোখলেছুর রহমান মাষ্টার, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহিনুর হক বাবু, উপজেলা কৃষকদল সভাপতি আমজাদ হোসেন, বিশেষ আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ইসলাম প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ্ সালাফি  বলেন, সাংবাদিকেরা জাতির বিবেক।

সমাজের সকল অসংগতি , দূর্নীতি, অনিয়মের  খবর প্রকাশ করে জাতির কাছে তুলে ধরতে হয়। এ জন্য সাংবাদিকদের অনেক সময় বাঁধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। তিনি বলেন, নির্ভীক ,বস্তুনিষ্ঠ ও সৎ সাংবাদিকতা করতে গিয়ে  কোন বাঁধা বিপত্তি সম্মুখীন হলে আমি আপনাদের পাশে থাকব। সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করে তিনি বলেন,একটি বিষয় তা হলো, সত্য, নিষ্ঠা ও জবাবদিহির আওতাধীন হয়ে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে। তিনি রিপোর্টার্স ইউনিটির উত্তর উত্তর সফলতা কামনা করেন  এবং সকল ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জলঢাকা উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে

‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ যশোরের মনিরামপুরে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু দাবি করেছেন, তার বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং বাস্তব কোনো নির্দেশনা ছিল না।

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির যৌথ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘আগামীকাল সকাল থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা হবে। একজন জামায়াতে ইসলামের কোনো কর্মীকে যদি উপজেলার মাঠে পাই, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে।’ ওই বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

একই বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নারী সমর্থকদের জামায়াতে ইসলামীর ‘বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, ফিতরা এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ নিয়ে ধর্মীয় প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

ভাইরাল বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, রাজনৈতিক মঞ্চে অনেক সময় রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়। তার বক্তব্যকে বাস্তব কোনো নির্দেশনা বা সহিংসতার আহ্বান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় জামায়াতের প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন এবং বিএনপির প্রায় ৭০০ জন সমর্থক অংশ নেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সবার পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।

মিন্টু বলেন, ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সময় তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। ভাইরাল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেন কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও তারা সতর্ক ছিলেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি জানিয়েছেন যে বক্তব্যটি ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য এবং এ নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনিরামপুর উপজেলা শাখার আমির ও যশোর জেলা শূরা সদস্য সহকারী অধ্যাপক ফজলুর রহমান ব্যস্ততার কথা জানিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সহিংসতার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, বক্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা।

Thursday, July 30, 2026

আগস্ট মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করলো সরকার

আগস্ট মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করলো সরকার

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্ট মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে জুলাই মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৪০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।



জলঢাকায় স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

জলঢাকায় স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

হাকিম বদিউজ্জামান (জলঢাকা) নীলফামারী : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মিষ্টি রানী রায় (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিষ্টি রানী রায় ঘুঘুমাড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় প্রচলিত তথ্যমতে মিষ্টি রানী রায়ের সঙ্গে পাশের গ্রামের আনোয়ার (৩৮) এর ছেলে মো. লিয়াজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। লিয়াজ একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র। সূত্রের দাবি, গত ২৮ জুলাই রাতে দুজনের দেখা হলে স্থানীয় কয়েকজন তাদের আটক করে মারধর করে। পরে ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় মেয়ের পরিবার ওই ছেলের সঙ্গে বিয়েতে রাজি হয়নি বলেও এলাকাবাসীর দাবি।

এদিকে, এলাকায় কেউ কেউ দাবি করছেন, মিষ্টি রানী রায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের বাবা নলী গোপাল (৩৯) বলেন, "আমার মেয়ে কীভাবে মারা গেছে, আমি জানি না।"

এ বিষয়ে মীরগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রাজু আহমেদ বলেন, "ঘটনাটি আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ সার্বিক তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নবম পে স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

নবম পে স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন মিললে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামোর অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলেও সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সম্পর্ক নেই।


কাজিদের আয় ১৪৪০ কোটি, সরকারের কোষাগারে নেই ১ শতাংশও

কাজিদের আয় ১৪৪০ কোটি, সরকারের কোষাগারে নেই ১ শতাংশও

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ অনিয়ম, ঘুষ, লাইসেন্স ভাড়া ও বিপুল রাজস্ব ফাঁকির এক অগোছালো জালে বন্দি দেশের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা। সরকারের নামে কোটি কোটি টাকা কমিশন আদায় হলেও সেই অর্থের ১ শতাংশও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাণিজ্য, রাজনৈতিক সুপারিশ, ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ এবং আয়কর ফাঁকির মতো নানা অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে পুরো নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা।

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও কালবেলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। গড়ে একজন কাজির মাসিক আয় প্রায় ২ লাখ টাকা হিসেবে বছরে এ খাতে মোট লেনদেন বা আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। অথচ বিয়ের সময় সরকারের নামে কমিশন বা নিবন্ধন ফি আদায় করা হলেও সেই অর্থের ১ শতাংশও সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মের এখানেই শেষ নয়; লাখ লাখ টাকার ঘুষ-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সুপারিশে লাইসেন্স পাওয়া এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। অনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব কাজি আবার ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে নিজের ‘কমিশনটা’ ঠিকই আদায় করে নিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের ন্যায্য পাওনাটা দিতে তাদের অনীহা।

বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, দেনমোহরের প্রথম ৫ লাখ টাকার ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার টাকায় ১৪ টাকা হারে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই অর্থ আদায়ের পর তার কতটুকু সরকার পাচ্ছে, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাজিদের বার্ষিক ফি বা কমিশন জমার হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব তাদের নয়।



অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, একজন কাজি হতে জেলা পর্যায়ে ৩ থেকে ১০ লাখ এবং রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক সুপারিশ ছাড়া লাইসেন্স পাওয়া কঠিন বলেও জানিয়েছেন একাধিক নিবন্ধিত কাজি। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়, জেলা রেজিস্ট্রি অফিস এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত মাসোহারা ও সমিতির নামে চাঁদাও দিতে হয়।

এদিকে অনেক নিবন্ধিত কাজি নিজে দায়িত্ব পালন না করে লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কোথাও কোথাও একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করছেন, যদিও আইনে এমন কোনো সুযোগ নেই। এতে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সরকারের করনীতি অনুযায়ী, বছরে ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হলে আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ঢাকার অভিজাত এলাকা ছাড়াও অধিকাংশ এলাকার ওয়ার্ডে একজন কাজি মাসে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন। এসব কাজি লাইসেন্সের বিপরীতে বছরে নামমাত্র টাকা পরিশোধ করে বাকি সব টাকাই হাতিয়ে নেন। কিন্তু সরকারকে আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের তীব্র অনীহা লক্ষণীয়। কোনো কোনো কাজি আবার নিজের স্থাবর সম্পত্তির ওপর আয়কর দিয়ে কাজি পেশার আয় গোপন করেন। রাজধানীর একজন কাজি কম করে হলেও বছরে অর্ধকোটি টাকা আয় করেন।



অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি কাজি হিসেবে কাজ করছেন, যার ফলে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে পুরো বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ৩০০ কাজির নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বর্তমানে এসব বিষয়ে একাধিক মামলা ও রিট বিচারাধীন রয়েছে।



আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭-এর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবদুল ওয়াহাব কালবেলাকে বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার রেজিস্ট্রারভুক্ত কাজি আছেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৫ শতাধিক কাজির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।’ তবে কাজিদের বার্ষিক ফি বা সরকারের রাজস্ব আয়ের তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই তথ্য রাখার দায়িত্ব আমাদের না।’



এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব বলেন, কাজিদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম কমাতে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ডিজিটালাইজেশন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।



অন্যদিকে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম কিবরিয়া দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারের নামে আদায়কৃত কমিশন বছরে দুবার কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং কাজিরা আয়করও পরিশোধ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ভুয়া কাজি বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।



বিশেষজ্ঞদের মতে, শতভাগ ডিজিটাল পেমেন্ট, কেন্দ্রীয় হিসাব নম্বর, অনলাইন মনিটরিং, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা গেলে রাজস্ব ফাঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে সরকারের আয় বাড়বে এবং মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

সূত্রঃ দৈনিক কালবেলা।

Wednesday, July 29, 2026

শাপলা চত্বর ‘গণহত্যা’ মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

শাপলা চত্বর ‘গণহত্যা’ মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

লতিফ সিদ্দিকী 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর চালানো অভিযানের ঘটনায় গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রটি ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া হয়