সর্বশেষ

Monday, April 27, 2026

প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী

 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ প্রাথমিকের সাড়ে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি রিভিউ হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গতকাল রোববার একটি গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিকের ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হয়নি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের সংকট রয়েছে। আমাদের শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এটি জরুরি। আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়া রিভিউ করছি না।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকের নিয়োগ নিয়ে গত সপ্তাহে আমরা সভা করেছি। সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, প্রাথমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তা ছিলেন। সেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া যেভাবে চলছে সেভাবে চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অর্থাৎ, নিয়োগে আমরা হাত দেব না।’

এর আগে যদিও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া রিভিউ করা হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ রিভিউ প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে মন্ত্রণালয়।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা। আমাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভুল হয়নি আমি এমনটি বলছি না; ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে প্রতিবেদন আমরা পেয়েছি, সেটাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ন্যূনতম আস্থা আমরা রাখতে পারি।’

জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপ এবং ১২ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রথম ধাপে ৮ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১৪ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া চলে। এরপর ২ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি করা হয়।

গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) এক হাজার ৪০৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
এরপর গত ২১ জানুয়ারি রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আড়াই মাসের বেশি হলেও এখনো প্রার্থীদের যোগদানপত্র দেওয়া হয়নি। এতে গতকাল রোববার সকাল থেকে শাহাবাগে অবস্থান নেয় সুপারিশপ্রাপ্ত চাকরিপ্রার্থীরা। পরে দুপুরে সচিবালয়ে তাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে করে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন তিনি।

Sunday, April 26, 2026

জুতাপেটার ঘটনায় সেই নারী শিক্ষক বরখাস্ত

জুতাপেটার ঘটনায় সেই নারী শিক্ষক বরখাস্ত

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি কলেজের নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বিএনপিকর্মী শাহাদত আলীকে চড় মারার দায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তবে আলেয়াকে জুতাপেটা করা বিএনপিকর্মী শাহাদত আলী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই পুলিশের কাছে একটি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। তবে দুর্গাপুর থানা পুলিশ রোববার পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

যদিও কলেজে ভাঙচুর ও নারী প্রদর্শককে প্রকাশ্যে জুতাপেটার ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি পুলিশের কাছে। তবে জুতাপেটা করা বিএনপি কর্মী শাহাদত আলী শাহাদ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

গত ২৩ এপ্রিল তাফসির মাহফিলের জন্য চাঁদা নিতে গিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন বিএনপি কর্মী শাহাদত ও কলেজের নারী প্রদর্শক হীরা। এ সময় শাহাদতের সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আফাজ উদ্দিন, এজদার আলী এবং গ্রাম্য মাতুব্বর আব্দুস সামাদ দারোগাও তার সঙ্গে ছিলেন।

অধ্যক্ষের কক্ষে বিএনপিকর্মী শাহাদত আলী শাহাদ ও প্রদর্শক হীরার মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং পরে জুতাপেটা ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। তার আগে বিএনপি নেতাকর্মীরা কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে ভাঙচুর চালায়।

এদিকে শনিবার বিএনপি নেতাকর্মীরা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা অধ্যক্ষ ও প্রদর্শককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কলেজ থেকে অপসারণের আলটিমেটাম দেন। এলাকায় বিক্ষোভও করেন ওই দিন বিকালে।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. আছাদুজ্জামান রোববার দুপুরে কলেজ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে তিনি কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুনকে পাননি। অসুস্থতার কারণে তারা অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানানো হয়।

কলেজ থেকে ফিরে রোববার বিকালে রাজশাহীতে মাউশি কার্যালয়ে অধ্যক্ষকে ডেকে আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন পরিচালক মো. আছাদুজ্জামান।

পরিচালক আসাদুজ্জামান জানান, উচ্ছৃঙ্খল আচরণের

অভিযোগে আলেয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় বিক্ষোভ হচ্ছে। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে অধ্যক্ষ ও প্রদর্শককে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও ঘটনার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এদিকে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগে বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কলেজের পুকুর ইজারা নিয়ে পান চাষ করলেও কোনো টাকা দেয় না। তারা কলেজের জমিতে পুকুর খনন করেও অর্থ পরিশোধ করেনি। বরং দফায় দফায় এসে নানা অজুহাতে চাঁদা নিয়ে যায়। পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা করলে সেখানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি।

রাজশাহীর দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চানন্দ সরকার জানান, অধ্যক্ষ থানায় এসে জিডি করতে চাননি; অনলাইনে জিডি করতে চেয়েছিলেন; কিন্তু এ ধরনের বিষয়ে অনলাইনে জিডি করার সুযোগ না থাকায় তা করা সম্ভব হয়নি।

ওসি আরও জানান, নারী প্রদর্শক আলেয়াকে জুতাপেটা করা বিএনপিকর্মী শাহাদত আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। এখন বিষয়টি জানাজানির পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। পুলিশ আগে এ বিষয়ে অবগত না থাকলেও বর্তমানে বিষয়টি জানা গেছে এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

এ ঘটনার পর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে শাহাদত আলীর দলে কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকায় তার বিরুদ্ধে দলীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

Saturday, April 25, 2026

জলঢাকায় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত

জলঢাকায় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত

 

মাহমুদ আল-হাছান,  তিস্তা নিউজ :  নীলফামারীর জলঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের সমন্বয়ে "সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ"  গঠিত হয়েছে। জলঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জনাব আলহাজ্ব কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ গঠনের মতবিনিময় সভা জলঢাকা অনির্বাণ উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথীর বক্তব্যে  নীলফামারী-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ওবায়দুল্লাহ সালাফী বলেন- প্রয়োজনীয় পড়াশোনার মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে সচেতন হওয়া। সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে পেশাগতভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমাদের উত্তরাঞ্চল এই ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। 

এমপি মহোদয় সাংবাদিকগনের যে কোনো সমস্যা সংসদে উথ্থাপনের প্রয়োজন হলে তাকে তা জানানোর অনুরোধ করেন।


অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব জায়েদ ইমরুল মুজাক্কিন বলেন, সাংবাদিকগন রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ন চতুর্থ স্তম্ভ। একটি রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত ও সঠিক ট্রাকে চালাতে হলে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সাংবাদিকগন যে কোনো তথ্যের প্রয়োজনে আমার কাছে এলে আইনী বাধা না থাকলে আমার অফিস সাথে সাথেই সেই তথ্য প্রদান করে এবং আমার অফিস এ বিষয়ে সবসময়ই সচেতন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জলঢাকা থানার সেকেন্ড অফিসার জনাব আবু হাসান,  জলঢাকা অনির্বাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব রোকনুজ্জামান চৌধুরী, জলঢাকা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জনাব মাহবুবর রহমান মনি, জলঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জনাব রাশেদুজ্জামান সুমন, জলঢাকা সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি জনাব রবিউল ইসলাম রাজ, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি জনাব গোলাম রব্বানী ডলার, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট ইউনিয়ন জলঢাকা-বিজেইউজে'র সভাপতি জনাব মাহমুদ আল-হাছান সহ সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ। 

সভাশেষে জলঢাকা উপজেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষনা করেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব ওবায়ূুল্লাহ সালাফী। জলঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামানকে আহ্বায়ক ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জনাব মাহবুবর রহমান মনিকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। আহ্বায়ক কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করবেন বলে সভায় জানানো হয়েছে।

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘দেশকে আবার ভিন্নভাবে তারা স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কিনাসেই চিন্তা আমাদের করতে হবে। তাদের যে অতীত ইতিহাসআমরা সবাই জানি। দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।

আজ শনিবার (২৫ এপ্রিলরাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

জামায়াত আমীরের এই বক্তব্যকে বিভেদ ও ধুম্রজাল তৈরির প্রচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।  তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত প্রতিফলিত হয়েছে। জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে এই নির্বাচন স্বীকৃত। দীর্ঘ ১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশিবিদেশি পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে ২১৩টি আসন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিয়ে জামাত আমিরের বিতর্কিত মন্তব্য শুধু অনভিপ্রেত নয় বরং এটি সুস্থ চিন্তার পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেনজামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য বিএনপি কেবল প্রত্যাখ্যানই করছে না বরং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। ৫ আগস্টের পর আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ পেয়েছিএকটি বিশেষ পক্ষ বারবার বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করতে চাইছে। তারা দেশকে আবারও স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিতে চায় কি নাতা দেশবাসীকে ভেবে দেখতে হবে।

ইসলামাবাদে গিয়েছেন আরাগচি, পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

ইসলামাবাদে গিয়েছেন আরাগচি, পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। গতকাল শুক্রবার একটি ছোট প্রতিনিধি দলকে নিয়ে ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন তিনি।

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, আরাগচি ও তার নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধিদের আগমণ উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


ইসলামাবাদে অবতরণের পর আরাগচি ও তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সোজা সেরেনা হোটেলে চলে যান; সেখানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।


ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার ৪০ দিন পর, ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর গত ১১ এপ্রিল এই সেরেনা হোটেলেই প্রথম দফা সংলাপে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিরা। সেই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতা ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।  

১১ এপ্রিলের সেই সংলাপের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি ও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর; কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে বৈঠক ও আলোচনার পরও ব্যর্থ হয় সেই সংলাপ, চুক্তি স্বাক্ষর না করেই ফিরে যান ভ্যান্স এবং ঘালিবাফ।


এবারের দ্বিতীয় দফা সংলাপে ইরানি প্রতিনিধি দলে নেই ঘালিবাফ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে ২য় সংলাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল এবং সেই দলে জে ডি ভ্যান্স অনুপস্থিত। অর্থাৎ, সম্ভাব্য এই দ্বিতীয় দফা সংলাপে ভ্যান্স এবং ঘালিবাফ— কেউই থাকছেন না।


সৈয়দ আরাগচি পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির দপ্তরের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলেছে, কাতারের আমির এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে এবং ফোনকলে আমির বলেছেন, যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের এই প্রয়াসকে কাতার পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে দোহা।

সূত্রঃ রয়টার্স।

Friday, April 24, 2026

শিক্ষার্থীদের সড়কে দাঁড় করিয়ে ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা

শিক্ষার্থীদের সড়কে দাঁড় করিয়ে ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুরে শিক্ষার্থীদের সড়কে দাঁড় করিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেমা তাকমিলাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরে বেসরকারি সেবামূলক সংস্থা ‘ওব্যাট হেল্পার্স’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।


‘সুস্থ মা ও সুস্থ শিশু’ নিশ্চিতকরণে পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৯৯ জন নবজাতকের মায়ের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ইউএনওর গাড়ি আগমনের সময় একজন আনসার সদস্য গাড়ির দরজা খুলে দিচ্ছেন। সড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। গাড়ি থেকে নামার পর তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।


এ বিষয়ে ওব্যাট হাই স্কুলের ইনচার্জ মনজুর আলম বলেন, ‘এটি আমাদের একটি নিয়মিত শিক্ষার্থী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। শিক্ষার্থীদের সড়কে দাঁড় করানোর বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত।


ইউএনও ফারাহ তাকমিলা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সড়কে দাঁড় করিয়ে ফুল দেওয়া হয়নি। এটি সঠিক নয়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিতে বলি।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলে দায়িত্ববোধ থেকেই উপস্থিত থাকতে হয়।’


উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের জনসমক্ষে বা সড়কে দাঁড় করিয়ে আনুষ্ঠানিকতা পালনের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি

এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন সাবেক যুবদল নেতা ও ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক সরকার, জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, সামাজিক আন্দোলনকর্মী মহিউদ্দিন রনি এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা ফুল দিয়ে নতুন সদস্যদের বরণ করে নেন।

ইসহাক সরকার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি একাধিক মামলার আসামি হন, যার সংখ্যা তিন শতাধিক বলে জানা যায়। 

পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় আদালত থেকে তিনি খালাস পান। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে এনসিপিতে যোগ দেন মহিউদ্দিন রনি, যিনি রেল খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। তার সামাজিক আন্দোলন ও প্রতিবাদী ভূমিকা তাকে তরুণদের মাঝে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। অন্যদিকে নুরুজ্জামান কাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক ও কন্টেন্টভিত্তিক ভিডিওর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এই নতুন মুখদের যুক্ত হওয়া দলটির সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করবে।