সর্বশেষ

Tuesday, March 24, 2026

জামিন পেলেন ইনু-মেনন-মানিক

জামিন পেলেন ইনু-মেনন-মানিক

 

হাসানুল হক ইনু  শামসুদ্দিন মানিক  রাশেদ খান মেনন 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মানহানির মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি ইনুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি মেনন ও মানিককে হাজিরার জন্য আদালতে আনা হয়। শুনানি শেষে ইনুকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তিন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে।

গত ২১ জানুয়ারি এই মামলায় মেনন ও মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আইনজীবী জিয়াউল হক বাদী হয়ে আদালতে মানহানির মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে জিয়াউর রহমানকে ‘রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না; তিনি মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী ছিলেন।’ ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আড়ালে চলছে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আড়ালে চলছে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন



মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীর চিলাহাটি এলাকায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগ রয়েছে, স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন সোমবার চিলাহাটি হাইস্কুল মাঠে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এ বিষয়ে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ চিলাহাটি’র পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রলীগ ও জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, যা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, এর আগেও একই ধরনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ফলে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের একটি কমিটিতে চিলাহাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের একাধিক নেতা স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশন-এর বিভিন্ন পদে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনটির ১৬১ সদস্যের কমিটির অনেকেই ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আটক

ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আটক

লেঃজেঃ অব. মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করেছে ডিবি। সোমবার দিবাগত রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ডিআইজি শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ‌‌‘হ্যাঁ, আমরা তাকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। ’

পুলিশ বলছে, বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে সাবেক এই লেফটেনেন্ট জেনারেলকে আটক করা হয়।


উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

এর আগে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও পরে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। নির্বাচনের আগেই তিনি জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুলাখালী গ্রামে।

Monday, March 23, 2026

জলঢাকায় হলদি বাড়িতে জামে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

জলঢাকায় হলদি বাড়িতে জামে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

 

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারীর জলঢাকা হলদিবাড়ি মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৩ মার্চ ) সকাল ১১ টায়  নীলফামারী -৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী  ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।  মসজিদ কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক এর সঞ্চালনায়  এ সময় জলঢাকা উপজেলা জামায়াতের আমীর মোখলেছুর রহমান মাষ্টার , সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফয়সাল মুরাদ,গোলমুন্ডা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা তোজাম্মেল হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুজাহিদ মাসুম, বিশিষ্ট ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা তছলিম উদ্দিনসহ হলদিবাড়ি এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বীয়ান ও যুবক ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে উক্ত জামে মসজিদে খতিব ফরিদুল ইসলাম মোনাজাত করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে মাওঃ ওবায়দুল্লাহ সালাফী বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর আমরা সবাই সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন দুনিয়ায় কেউ মসজিদ তৈরি করলে অথবা তৈরিতে সহযোগিতা করলে আল্লাহ জান্নাতে তারজন্য  একটি ঘর তৈরি করে দিবেন। তিনি সরকারি বরাদ্দের সুষম বন্টনের মাধ্যমে জলঢাকা উপজেলার উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

Saturday, March 21, 2026

উৎসবমুখর বিরোধীদলীয় নেতার মিন্টুরোডের বাসভবন

উৎসবমুখর বিরোধীদলীয় নেতার মিন্টুরোডের বাসভবন


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার বিকেলে ২৯ মিন্টুরোডে বিরোধীদলের সরকারি বাসভবনে এই শুভেচ্ছাবিনিময় করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে সেখানে বেশ উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় উপলক্ষে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনটিতে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা দুটি প্যান্ডেল স্থাপন সহ আকর্ষণীয় সাজসজ্জা করা হয়। তবে বাসভবন চত্ত্বরে লাল কার্পেটে ঢাকা খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সবার সঙ্গে একে একে কুশল বিনিময় করেন। সেখানে আগত অতিথিদের জন্য নানা পদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। একইসঙ্গে প্যান্ডেলের মঞ্চে দেশের বিশিষ্ট ইসলামী শিল্পীদের অংশগ্রহণে নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা চলে। অনেকে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কুশলবিনিময়ের পাশাপাশি তারসঙ্গে ছবিও তোলেন।

এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এটিএম আজহার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আব্দুল হালিম, এহসানুল মাহবুবু জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ড. ফখরুদ্দিন মানিক, শ্রকিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে একইস্থানে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা-বিনিময় করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা.শফিকুর রহমান।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন সিস্টেম, এক জাহাজ থেকেই আয় ২০ লাখ ডলার

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন সিস্টেম, এক জাহাজ থেকেই আয় ২০ লাখ ডলার

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ  দখলদার ইসরাইল ও সাম্রাজ্যবাদ যুক্তরাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে লড়াই করছে ইরান। এরই মধ্যে বিশ্বের জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ দিয়ে পুরো যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দেশটি। এখন এই প্রণালিতে নতুন পদ্ধতি চালুর পর আয় বেড়েছে ইরানের। এমনকি এক জাহাজ থেকেই টোল পেয়েছে ২০ লাখ ডলার।

এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত করতে এখন থেকে তেহরানের পূর্বানুমতি নিতে হবে। দিতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি-ও। এজন্য নতুন পদ্ধতি চালু করছে ইরান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ভেটিং বা যাচাইকরণ ব্যবস্থা তৈরি করছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একটি নির্বাচিত অবরোধ দিয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

সামুদ্রিক সংবাদ ও বিশ্লেষণ সংস্থা 'লয়েডস লিস্ট' বুধবার (১৮ মার্চ) জানিয়েছে, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে যাতায়াতের জন্য তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে।

লয়েডস জানিয়েছে, ইরানের আইআরজিসি একটি নতুন যাচাইকরণ এবং নিবন্ধন ব্যবস্থা তৈরি করছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত অন্তত ৯টি জাহাজ ইরানের লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে একটি করিডোর ব্যবহার করে যাতায়াত করেছে। 


জানা গেছে, একটি ট্যাঙ্কার যাতায়াতের অধিকার পেতে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছে।


আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স মিলস বলেন, এই নতুন নিবন্ধন ব্যবস্থা একটি স্বল্পমেয়াদী সমাধান হতে পারে, তবে বীমা খাতের কারণে এটি বাধার মুখে পড়তে পারে।


তিনি আরও বলেন, ইরানি জলসীমা ব্যবহার করা, ইরানি বন্দরে ভেড়া এবং সমস্ত পণ্যের গন্তব্য ঘোষণা করার শর্তে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার এই প্রস্তাব বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। এটি ইরানি জলসীমায় প্রবেশের সময় জাহাজের অবস্থান গোপন রাখার দীর্ঘদিনের পদ্ধতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং চলমান সংঘাতের মধ্যে জাহাজগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার ক্ষমতাই নাই মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের!

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার ক্ষমতাই নাই মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের!


তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ চলতি বছরের ১৯ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ঘটে যাওয়া এক নাটকীয় ঘটনা বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর গর্ব এবং বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ লাইটনিং-টু ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালীন এই ঘটনাটি তথাকথিত স্টিলথ (অদৃশ্য) প্রযুক্তির অভেদ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে, বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে, তবে চালক অক্ষত রয়েছেন।

ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখা যায়, একটি ইনফ্রারেড সেন্সর দিয়ে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমানটি কোনো ধরণের প্রতিরক্ষামূলক কৌশল বা ডজ না নিয়েই উড়ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানটির স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা ব্যবস্থা (সেন্সরগুলো) আগত বিপদ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনাকে সামরিক পরিভাষায় একটি সফল স্যামবুশ বা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল অ্যামবুশ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সেবাস্টিয়ান রোবলিন মনে করেন, এফ-৩৫ মূলত রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য তৈরি করা হলেও অপটিক্যাল বা ইনফ্রারেড সেন্সরের কাছে এটি পুরোপুরি অদৃশ্য নয়। বিশেষ করে যখন স্বল্প পাল্লার লক্ষ্যভেদে বিমানটিকে নিচু দিয়ে উড়তে হয়, তখন মাটির কাছাকাছি থাকা মোবাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর জন্য এটি সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়ায়। ইরানের মজিদ বা রা’আদ-১ এর মতো সিস্টেমগুলো মূলত তাপ বা দৃশ্যমান ইমেজিং ব্যবহার করে কাজ করে, যা বিমানের রাডার ওয়ার্নিং রিসিভারকে সংকেত পাঠায় না।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এফ-৩৫ এর এন/এএকিউ-৩৭ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাপারচার সিস্টেমের (ডিএএস) কার্যকারিতা। এই সিস্টেমে থাকা ছয়টি ইনফ্রারেড ক্যামেরা ৩৬০ ডিগ্রি সুরক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও কেন সেটি ফ্লেয়ার বা ডেকয় ব্যবহার করতে পাইলটকে সতর্ক করেনি, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। কারিগরি ত্রুটি নাকি ইরানের উন্নত জ্যামিং প্রযুক্তির ক্যারিশমা, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এটি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে তাকে পরাস্ত করার কৌশলও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন এবং ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে কয়েক দফা জোরালো হামলা চালিয়েছে। তবে ইরান তাদের বিশাল অস্ত্রাগারকে সুকৌশলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিশাল ভৌগোলিক আয়তন এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডকে কাজে লাগিয়ে ইরানি কমান্ডাররা তাদের মোবাইল লঞ্চারগুলোকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে পশ্চিমা ও সোভিয়েত প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তৈরি তাদের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন স্টিলথ বিমানের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই হামলার রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্বও অপরিসীম। মার্কিন বিমানবাহিনী গত কয়েক দশকে আকাশযুদ্ধে কোনো মনুষ্যবাহী বিমান হারায়নি বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইরানি সেনাদের মনোবল যেমন বাড়িয়ে দেবে, তেমনি মার্কিন মিশন পরিকল্পনাকারীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ভবিষ্যতে স্বল্প পাল্লার বোমা বা জেডিএএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন পাইলটদের এখন অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যা অভিযানের গতি কমিয়ে দিতে পারে।

তবে একটি ইতিবাচক দিক হলো এফ-৩৫ এর স্থায়িত্ব। সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যেকোনো যুদ্ধবিমান আকাশেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টার বা শার্পনেলের আঘাতে চালনাশক্তি আংশিক হারালেও নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে। এটি বিমানের কাঠামোগত সক্ষমতা এবং পাইলটের দক্ষতারই পরিচয় দেয়। পেন্টাগন এই ক্ষতিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলেও সামরিক ইতিহাসে এটি একটি বিশেষ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তবে ওই মার্কিন যুদ্ধবিমানটি আদৌ নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে কিনা, সে নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক সমর বিশ্লেষক।

অনেকেই এখন বলছেন, স্টিলথ বা অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা মানেই অপরাজেয় হওয়া নয়। আধুনিক যুদ্ধে কোনো প্রযুক্তিই শতভাগ অভেদ্যতার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক সংঘাত আকাশযুদ্ধের রণকৌশলকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে।