তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে এরপর প্রত্যাবর্তনের এক মহাকাব্য লিখল ইকুয়েডর। শক্তিশালী জার্মানিকে হারিয়ে নিশ্চিত করল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব।
সর্বশেষ
Friday, June 26, 2026
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোরের প্রস্তাব চীনের
তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনে ইকোনোমিক করিডোরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন।
মাহাদী আমিন বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার এবং চীন হয়ে একটি ইকোনোমিক করিডোর তৈরির প্রস্তাব এসেছে। এই ইকোনোমিক করিডোরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো, ট্রানজেকশন বাড়ানো এবং মাল্টি-মডারেল ট্রান্সপোর্টকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনের বীরদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন পরিদর্শন। সফর শেষে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় তার ও সফরসঙ্গীদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জামায়াত নেতা নিহত
তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবিরহাট এলাকায় ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ী ও জামায়াত নেতা মো. মহিউদ্দিন (৪২) নিহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ক্যাবল মহিউদ্দিন নামে পরিচিত ছিলেন।
শুক্রবার সকালে তার আকস্মিক মৃত্যুতে ভাটিয়ারীসহ পুরো সীতাকুণ্ডে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাদামবিবিরহাট বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনায় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট জাকিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদামবিবিরহাট বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মহিউদ্দিন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাস আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহত মহিউদ্দিন ভাটিয়ারী স্টেশন রোডের সততা ফার্মেসী ভবনের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। এলাকার মানুষের কাছে তিনি একজন সৎ, বিনয়ী ও পরোপকারী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মহিউদ্দিন ছিলেন সংগঠনের একজন নিবেদিতপ্রাণ, সৎ ও কর্মঠ কর্মী। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তার মৃত্যুতে আমরা একজন দায়িত্বশীল সহযোদ্ধাকে হারালাম। মহান আল্লাহ তাআলা তার সকল নেক আমল কবুল করুন, তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সইবার ধৈর্য দান করুন।
সূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ।
রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘রান এগেনেইস্ট ড্রাগ’ অনুষ্ঠিত
তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ‘সেভ দ্য ইয়ূথ, সেভ দ্য নেশন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীতে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘রান এগেনেইস্ট ড্রাগ’ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সপ্তাহব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন ‘ইয়ূথ এগেনেইস্ট ড্রাগ’-এর অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই রানিং ইভেন্ট শুরু হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত ও জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রানিং রুটটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ভিসি চত্বর এবং ফুলার রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের জনশক্তির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক তরুণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তর গঠন করেছে, পুনর্বাসন কেন্দ্রও তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহতা কমার বদলে দিন দিন বাড়ছে। দেশে বর্তমানে ৮৩ লক্ষ মাদকসেবী রয়েছে এবং মোট ফৌজদারি অপরাধের ৩৮ শতাংশই সংঘটিত হয় মাদককে কেন্দ্র করে। প্রতিবছর মাদকের কারণে ৪৪১ মিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ আহত হচ্ছে, হত্যার শিকার হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ যুবক তার যৌবন হারাচ্ছে। শুধু মাদক গ্রহণ করার কারণে পারিবারিক কলহ, পারিবারিক বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটছে। মাদক গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যা করছে। মাদক গ্রহণের টাকা না দিতে পারার কারণে পিতা তার সন্তানকে হত্যা করছে, সন্তান তার পিতার গায়ে হাত তুলছে, মায়ের গায়ে হাত তুলছে।
সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মাদকের মতো ভয়াবহ ব্যাধি দূর করতে হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগ সবার আগে প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাদকের এই সিন্ডিকেটের সাথে বর্তমান সরকারের মানুষজনই জড়িত হয়ে পড়েছে, তাদের ছত্রছায়ায় এই মাদকের বিস্তার ঘটছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে যুবসমাজকে শতভাগ মাদক থেকে দূরে রাখার 'এক্সপেরিমেন্টাল ট্রুথ ফর্মুলা' রয়েছে, যা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করলে তরুণ সমাজকে শতভাগ মাদক থেকে বিরত রাখা সম্ভব। আমরা সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই—আপনারা দলীয় প্রমোশনের সস্তা হাতিয়ার হিসেবে মাদককে প্রশ্রয় না দিয়ে এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করুন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত বলেন,সমাজের বর্তমান অধিকাংশ সমস্যার মূল উৎপত্তি এই মাদক। রাষ্ট্র একদিকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়, অন্যদিকে তা নির্মূলে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে চরমভাবে ব্যর্থ। আমাদের কারাগারগুলো আজ মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে আগামী দিনে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ‘ফাইট এগেইনস্ট ড্রাগ’ বা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে মাদক ও সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে। তিনি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক সকল জনশক্তি মাদকমুক্ত এবং যুবসমাজকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে ‘Run Against Drugs’-এর মতো সচেতনতামূলক কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সরকারকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে দেশপ্রেমিক জনগণ, শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি বাজেটে তামাকজাত পণ্যের কর কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, মাদক নির্মূলে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পর্যাপ্ত বাজেট, জনবল এবং দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ দেশের ক্রমবর্ধমান মাদক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, মাদক পাচারের পথ বন্ধ, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখা এবং শারীরিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ছাত্রশিবিরের মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও যুবসমাজের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
আয়োজনে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
Wednesday, June 24, 2026
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের ৪ জনকে বহিষ্কার
তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ রাজধানীর ধানমন্ডিতে গতকাল মঙ্গলবার ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার’ ঘটনায় জড়িত থাকা জামায়াতের ৪ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে একদিনের মাথায় এ বহিষ্কার করা হলো।
এ বিষয়ে বুধবার ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে মঙ্গলবার ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মিছিল শেষে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সাথে সংঘটিত ঘটনায় তদন্ত কমিটির সুপারিশে আজ বুধবার (২৪ জুন) ৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হচ্ছেন যথাক্রমে শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম ও মামুন হোসেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়- গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিক আহত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশিরের বাসায় যান। কেন্দ্র ও মহানগরীর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতিও প্রদান করা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সংগঠন তাৎক্ষণিক ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আজ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
Tuesday, June 23, 2026
জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
মাহমুদ আল-হাছান, তিস্তা নিউজ : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় রাস্তায় লাগানো সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়ম বহির্ভূতভাবে কর্তন ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রদীপ কুমার রায়কে ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে পরস্পর যোগসাজসে তারা আত্মসাত করে আসছেন।
জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার কৈমারী-দোলাপাড়া এলাকায় ২ হাজার ১০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে এলজিইডির মাধ্যমে ২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৭৩৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১২ মে ২০২৬। তবে সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা বেশ কয়েকটি বৃহদাকৃতির ইউক্যালিপটাস গাছ থাকায় সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছগুলো নিলাম ও টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের কথা থাকলেও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বন বিভাগ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রদীপ কুমার রায়ের মাধ্যমে গাছগুলো কেটে ফেলে এবং পরে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা করেন বলে অভিযোগ করেছেন সামাজীক বনায়নের সদস্যবৃন্দ।
সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সদস্য ধীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, “আমরা এই বাগানের সদস্য। কিন্তু গাছ নিলাম বা কর্তনের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রদীপ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে সেভাবেই গাছ কর্তন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলে ভয়ভীতি ও মারধরের আশঙ্কা থাকে। তাই কেউ মুখ খুলতে চায় না।”
এদিকে গাছ অপসারণে ব্যবহৃত স্কাভেটর মেশিনের পরিচালক জানান, প্রদীপ কুমার রায়ের নির্দেশেই তারা গাছগুলো কেটেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে প্রদীপ কুমার রায়ের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, “আমার কোনো দোষ নেই। জলঢাকা বন বিভাগ কর্মকর্তা আমাকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি সে অনুযায়ী কাজ করেছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “আমরা অনেক আগেই বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন ও বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Sunday, June 21, 2026
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন ওসি জলঢাকা
মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ নীলফামারী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন ২০২৬) বিকেলে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামানের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, নুজহাত তাসনীম আওন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক আহমেদ, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুত্রে জানা যায় জলঢাকা উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি নাজমুল আলম অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ, চুরি-ডাকাতি দমন, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জনগণের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও মসজিদভিত্তিক সচেতনতা মূলক সভা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে তার উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, বিভিন্ন মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেফতার, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে জলঢাকা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশ প্রশাসন উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছে। সম্মাননা গ্রহণ শেষে ওসি নাজমুল আলম দৈনিক প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু আমার একার নয়, জলঢাকা থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। যে কোনো পুরস্কার দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা আরও বাড়িয়ে দেয়। জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জলঢাকা গড়ে তুলতে আমরা আগামীতেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষ নেতৃত্ব, জনবান্ধব পুলিশিং এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকার জন্য ওসি নাজমুল আলমের এ সম্মাননা প্রাপ্তিকে জেলার প্রশাসনিক ও সামাজিক মহল ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও কর্মোদ্যমী হয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।


