সর্বশেষ

Saturday, May 16, 2026

পাটগ্রাম সীমান্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি আটক, ৭ পাসপোর্ট উদ্ধার

পাটগ্রাম সীমান্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি আটক, ৭ পাসপোর্ট উদ্ধার

 পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি : 

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) সাব্বির বিন শামসকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী দহগ্রাম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি কূটনৈতিকসহ মোট সাতটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাটের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি ও লন্ডন হাইকমিশনে মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা রয়েছে। তিনি ভারত থেকে অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন।

পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের পর তার চলাফেরায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে দহগ্রাম এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

আটক সাবেক এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।



বাংলাদেশের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে ছাড় দেয়া হবে না: শুভেন্দু

বাংলাদেশের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে ছাড় দেয়া হবে না: শুভেন্দু

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ যারা মা, বোন, শিশুকন্যাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করে এখনও বাংলাদেশের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বলে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর শনিবার (১৬ মে) প্রথম জেলা সফরে গিয়ে এক জনসভায় এমন মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সফরে প্রথমে ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন শুভেন্দু। সেখানে জেলার পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারাদের পাশাপাশি মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), এডিজিসহ (দক্ষিণবঙ্গ) অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সমস্ত জেলার পুলিশ সুপাররা। ওই বৈঠক থেকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে গঠিত পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এটি একটি নির্দিষ্ট দলের শাখা সংগঠনে পরিণত হয়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তার ক্ষতিপূরণ নেয়া এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস)র বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সোজা চলে যান ফলতায়। সেখানে একটি কর্মীসভায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। এ সময় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তৃণমূলের কোনও নেতাকর্মী যদি ঘর ছাড়া থাকে তাদের বাড়ি ফেরানোর দায়িত্ব স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক এবং পুলিশ সুপারের। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটাই শর্ত-ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় যেন তার নাম না থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা মা, বোন, দিদি, শিশু কন্যাদের উপর শারীরিক নির্যাতন করে এখনও বাংলাদেশের জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদেরও ছাড় দেয়া হবে না।’

Friday, May 15, 2026

ঠাকুরগাঁওয়ের বড় মাঠে পাওয়া গেল এসএসসি পরীক্ষার খাতার বান্ডেল

ঠাকুরগাঁওয়ের বড় মাঠে পাওয়া গেল এসএসসি পরীক্ষার খাতার বান্ডেল

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠ থেকে এসএসসি পরীক্ষার ৫০টি খাতা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে এক যুবক মাঠের পাশে রাস্তায় পড়ে থাকা খাতাগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব খাতা মাঠে এল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বড় মাঠ পশ্চিম পাশে রাস্তায় ঘোরাঘুরির সময় এক যুবকের নজরে আসে বেশ কিছু খাতা। পরে কাছে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেগুলো এসএসসি পরীক্ষার খাতা হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি দ্রুত পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।



ঠাকুরগাঁও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল বড় মাঠের পশ্চিম পাশে রাস্তা থেকে একজন ব্যক্তি প্রায় ৫০টি খাতা কুড়িয়ে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে আমরা সেগুলো উদ্ধার করি। বর্তমানে খাতাগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর মালিককে শনাক্ত করা যায়নি। মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এরইমধ্যে শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।


১৪ পদের সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩ পদে বিএনপি জয়ী

১৪ পদের সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩ পদে বিএনপি জয়ী

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন    মোহাম্মদ আলী  
                                       

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ দেশের আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩টি পদেই বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা। সদস্যের একটি পদে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (সবুজ প্যানেল) প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী


ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দুই হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সুবজ প্যানেলের আবদুল বাতেন ৭৮৮ ভোট পেয়েছেন।


নীল প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে দুই হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে মোহাম্মদ আলী জয়ী হয়েছেন। এই পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সুবজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার ৭৮৬ ভোট পেয়েছেন।

গত ২ এপ্রিল এক নোটিশে সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের (২০২৬–২৭) তারিখ ঘোষণা করা হয়। ১৩ মে (গত বুধবার) ও ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে মাঝখানে ১ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়।


এক বছর মেয়াদে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন হয়ে থাকে। পদগুলো হলো একজন সভাপতি, দুজন সহ-সভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহসম্পাদক ও সাতজন সদস্য।

নীল প্যানেল থেকে সহ-সভাপতির দুটি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান নির্বাচিত হয়েছেন। নীল প্যানেল থেকে সমিতির কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান জয়ী হয়েছেন। নীল প্যানেল থেকে সহ-সম্পাদকের দুটি পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল বিজয়ী হয়েছেন।


সদস্য ৭টি পদের মধ্যে ছয়টি পেয়েছে নীল প্যানেলের প্রার্থীরা। তারা হলেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও মো. টিপু সুলতান

সদস্যের অপর একটি পদ বিজয়ী হয়েছেন সুবজ প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী হন। এবারের নির্বাচনে ১১ হাজার ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন ভোট দেন।


সমিতির এ নির্বাচনকে নির্দলীয় বলা হয়। তবে দৃশ্যত রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের থেকে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে প্যানেলের আদলে নির্বাচন হয়ে থাকে। বিগত সময়ে সমিতির নির্বাচনে বরাবরই বিএনপিপন্থী (নীল হিসেবে পরিচিত) ও আওয়ামী লীগপন্থী (সাদা হিসেবে পরিচিত) আইনজীবী প্যানেলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো।


অবশ্য ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) হয়। সেখানে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।


সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবারের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তবে বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল), জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (সবুজ প্যানেল) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স মনোনীত প্যানেলের (লাল-সবুজ প্যানেল) প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেন। নীল ও সবুজ প্যানেল থেকে ১৪টি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়। লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দেয়। এ তিন প্যানেলের বাইরে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

Thursday, May 14, 2026

জলঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর ত্রৈমাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জলঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর ত্রৈমাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

 

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা শাখার ত্রৈমাসিক রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে  উপজেলার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ হলরুমে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আমির মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোয়াম্মায়ার আল হাছানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার।


তিনি বলেন, ‘জলঢাকা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতে হবে। সকল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী ও মজবুত করার মাধ্যমে জলঢাকা উপজেলা শাখাকে ইসলামী আন্দোলনের দুর্গে পরিণত করতে হবে এবং সকল জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে হবে।’


সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী -৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী,জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. খায়রুল আনাম ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সাদের হোসেন, মনিরুজ্জামান জুয়েল,  উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আলহাজ্ব কামারুজ্জামান,ডিমলা উপজেলার নায়েবে আমীর হাবিবুর রহমানসহ উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

আপাতত শপথ নিতে পারছেন না আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলম

আপাতত শপথ নিতে পারছেন না আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলম

 

আসলাম চৌধুরী                সারোয়ার আলমগীর 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সদস্য হিসেবে ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে করা চট্টগ্রামের বিএনপি দলীয় দুই প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের পৃথক আবেদন নথিভুক্ত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। এর ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে আপাতত তারা শপথ নিতে পারছেন না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির দুই প্রার্থী চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে তাঁদের ফলাফল প্রকাশ গত ৩ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রাখা হয়েছে। এদিকে, এই দুই আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন গত ১৮ জানুয়ারি বৈধ ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দেন। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে আপিল বিভাগে আবেদন করে। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল দায়ের করেন। এরপর গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচন করার সুযোগ পান। কিন্তু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে, ঋণ খেলাপের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী মুহম্মদ নুরুল আমিন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। কিন্তু আদালতের আদেশের কারণে ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। এ অবস্থায় ফলাফল ঘোষণা ও শপথের সুযোগ চেয়ে সারোয়ার আলমগীর আবেদন করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সংসদ সদস্যদের শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। তবে সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে ফিরলেন মমতা ব্যানার্জি

আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে ফিরলেন মমতা ব্যানার্জি

 তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ 

মমতা ব্যানার্জি 

নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজের পুরনো পেশায় ফিরেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোট পরবর্তী সহিংসতার মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে একটি শুনানিতে অংশ নেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। মুসলিম ও রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্য করে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও খুনের অভিযোগ উঠেছে। সহিংসতায় অন্তত ৪ জন নিহত এবং ১০০০ জনের বেশি আটক হয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, ভোট পরবর্তী এসব সহিংসতার জন্য মামলা দায়ের করেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে, বহু কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া এবং আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

 

এই মামলার শুনানিতে অংশ নিতেই আইনজীবীর পেশায় ফিরেছেন মমতা ব্যানার্জি। আইন নিয়ে পড়াশোনা রয়েছে তার এবং একসময় তিনি আইন পেশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। যদিও চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টে এক মামলার শুনানিতে তিনি সাধারণ পোশাকেই অংশ নিয়েছিলেন, তবে এবার সম্পূর্ণ আইনজীবীর পোশাকেই আদালতে হাজির হলেন তিনি।

 

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভবানীপুর কেন্দ্রেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছেন মমতা। বর্তমানে তিনি বিধায়ক নন, শুধুমাত্র তৃণমূল নেত্রী হিসেবেই রাজনৈতিক লড়াই চালাচ্ছেন। এবার ভোট পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় আইনজীবী হিসেবে আদালতে ফিরলেন তিনি।

 

আইনজীবীর পোশাক পরেই আজ সকালে কলকাতার কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হন মমতা। হাইকোর্টে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে কৌতূহলী ভিড় জমে যায়। তবে কোনো মন্তব্য না করেই দ্রুত আদালতের ভেতরে ঢুকে যান তিনি।

 

আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়ে মমতা প্রথমেই জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি একজন আইনজীবী। আইনজীবী হিসেবেই তিনি শুনানিতে অংশ নিতে চান। ভোট পরবর্তী সহিংসতা তিনি জানান, ৯২ বছর বয়সি বৃদ্ধ থেকে ১৮-র তরুণ-তরুণী, সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘু ও তফসিলি জাতি মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

 

তিনি জানান, তাকেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি অনলাইনে অভিযোগ জানিয়েছেন, কিছু তাতেও কাজ হচ্ছে না। কলকাতায় বুলডোজার চালানোরও তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। মমতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। বাংলাকে বাঁচাতে হবে।

আদালতে তৃণমূল রাজনীতিক কল্যাণ ব্যানার্জি জানান, নির্বাচনের পর তৃণমূলের ১৫০-১৬০টি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে, রাজ্যজুড়ে ভাঙচুর চলছে, বুলডোজার চালানো হচ্ছে। বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার প্রসঙ্গে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। আবেদন জানানো হয়, আদালতের নির্দেশ ছাড়া যেন এ রাজ্যে বুলডোজার চালানো না হয়।