সর্বশেষ

Thursday, June 11, 2026

নীলফামারীতে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের জনশক্তিদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

নীলফামারীতে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের জনশক্তিদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

 

মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীলফামারী জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের উদ্যোগে জনশক্তিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) সকাল ১২.০০ ঘটিকায় নীলফামারী জেলা জামায়াত অফিসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীলদের আরও দক্ষ, সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ, কর্মসূচি ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম গণমানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে প্রচারকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি জনশক্তিদের পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা এবং আধুনিক গণমাধ্যম ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক ছাদের হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল কাদিম এবং প্রেস ক্লাব জলঢাকা-এর সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামানসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বশীলরা।

সভায় প্রচার ও মিডিয়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নীলফামারী জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ।

তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেটে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেটে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। এটিই হবে গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।

সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে আজ বেলা তিনটায় এই বাজেট ঘোষণা করবেন, যার সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস।

এটিই হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এবং সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণের চাপ থেকেই বাজেটের আকার এত বড় হচ্ছে বলে আভাস দিয়েছে অর্থবিভাগ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বাসস বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। একই সাথে বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।

গত কয়েকবছর ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ তেরটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

Wednesday, June 10, 2026

জলঢাকায় আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল যুবকের

জলঢাকায় আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল যুবকের

হাকিম বদিউজ্জামান জলঢাকা : পারিবারিক চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে  নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলবাড়িতে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল কিবরিয়া ইসলাম পিয়েল (২৪) নামে এক যুবকের। রক্তে ভেসে গেল পারিবারিক আঙিনা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথা ফেটে মুহূর্তেই নিথর হয়ে পড়লো যুবক পিয়েল।

নিহত কিবরিয়া ইসলাম পিয়েল ওই এলাকার কফদ্দি মামুদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,আজ বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৬ টায় চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার এক পর্যায়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কিবরিয়া ইসলাম পিয়েলের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে জলঢাকা থানা পুলিশ ও মীরগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— মোঃ মাজেদুল ইসলাম (২০), পিতা- তফর উদ্দিন; মোছাঃ মীম আক্তার (১৮), স্বামী- মোঃ মাজেদুল ইসলাম; এবং মোছাঃ তইবোন নেছা (৫০), স্বামী- তফর উদ্দিন। তাদের সকলের বাড়ি পূর্ব শিমুলবাড়ী এলাকায়। তারা সবাই সম্পর্কে নিহত পিয়েল এর চাচাতো ভাই ও ভাবী।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম জানান, “পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আটক ব্যক্তিরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নিহতের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।”

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে

নীলফামারীতে সেচ পাম্প বসাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২, আহত ১

নীলফামারীতে সেচ পাম্প বসাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২, আহত ১

 মাহমুদ আল হাছান তিস্তা নিউজ ঃ 

নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটায় মাছ ধরার জন্য পুকুরে সেচ পাম্প (মোটর) বসাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (১০ জুন) সকালের দিকে কচুকাটা ইউনিয়নের বাবুর বাজার নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—কচুকাটা ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন (৪৫) এবং পার্শ্ববর্তী কুটিপাড়া নদীরপাড় গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে মুজিবুর রহমান (৫০)। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মিঠু ইসলাম (৩০) নামের অপর এক যুবক আহত হন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ও ইউপি সূত্রে জানা যায়, সকালে বাবুপাড়া গ্রামের একটি পুকুরের পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এ লক্ষ্যে পুকুরে একটি সেচ পাম্প বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে অসাবধানতাবশত জালাল, মুজিবুর ও মিঠু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই জালাল ও মুজিবুরের মৃত্যু হয়।

কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একই সাথে দুইজনের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পল্টনের মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি

পল্টনের মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি

ডাঃ দীপু মনি 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলায় নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসান–এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে দীপু মনির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. রমজান আলী শিকদার। তিনি আদালতকে জানান, হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ–সংক্রান্ত অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনায় দীপু মনির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ বিচারাধীন।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মামলার কয়েকটিতে ইতোমধ্যে হাইকোর্ট থেকে জামিনসংক্রান্ত রুল জারি হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী জামিনও মঞ্জুর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টানা তিন মেয়াদে দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বাংলাদেশে সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ ভারতীয় নাগরিক, চাকরী করছেন বিভিন্ন সেক্টরে

বাংলাদেশে সাড়ে ৮ হাজার অবৈধ ভারতীয় নাগরিক, চাকরী করছেন বিভিন্ন সেক্টরে

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ 

সরকারি হিসাবে এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সবচেয়ে বেশি। তাদের সংখ্যা সাড়ে ৮ হাজার। তারা অবৈধভাবে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা গেছে। এদিকেবাংলাদেশি উল্লেখ করে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালালেও সেই পথে হাঁটছে না ঢাকা। বাংলাদেশ চায়নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অবৈধ ভারতীয়দের সেই দেশে হস্তান্তর করতে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ইতোমধ্যে ভারতকে বেশ কয়েকটি চিঠি দিয়েছে সরকার। কিন্তু এসব চিঠিকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না ভারত। উলটো তারা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। অথচ বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতের অবৈধ নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে থেকে যাওয়া এবং অবৈধভাবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখন দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসায় এসে আর ফিরে না গিয়ে এখানেই থেকে যাওয়ার প্রবণতা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ভারতীয় নাগরিকরা মূলত দুটি উপায়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। প্রথমতঅধিকাংশ ভারতীয় নাগরিক বৈধ ট্যুরিস্টবিজনেস বা অনঅ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা দেশে ফিরে যান না। দ্বিতীয়ততৈরি পোশাক খাতটেক্সটাইলবায়িং হাউজকরপোরেট প্রতিষ্ঠানতথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বিভিন্ন এনজিওতে মধ্যম থেকে উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় বহু ভারতীয় কাজ করছেন। এদের অনেকেরই বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা আয়কর নথি নেই।

সূত্র জানায়অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকরা হুন্ডি বা বিভিন্ন অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ভারতে পাঠাচ্ছেন। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করছে। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় তারা সরকারকে কোনো আয়কর বা ট্যাক্স দেন না। ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। শুধু তাই নয়বাংলাদেশের শিক্ষিত ও দক্ষ যুবসমাজ যখন উচ্চপদস্থ চাকরির জন্য লড়াই করছেতখন টেক্সটাইল ও করপোরেট খাতের অনেক শীর্ষ পদ বিদেশিবিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের দখলে চলে যাচ্ছে। এছাড়া লিগ্যাল ডকুমেন্ট ছাড়া বসবাসকারী এসবের কিছু নাগরিক বিভিন্ন সময় জালিয়াতি এবং আর্থিক প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ছেন। যথাযথ ট্র্যাকিং সিস্টেম না থাকায় অপরাধ করার পর এদের চিহ্নিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

সূত্রমতেবাংলাদেশে অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয়দের ৫০ ভাগের বেশি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল সেক্টরে নিয়োজিত। তারা ঢাকার সাভারআশুলিয়াগাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ডাইংওভেন এবং নিটওয়্যার ফ্যাক্টরিতে কাজ করছেন। তাদের বেশির ভাগের পদবি মার্চেন্ডাইজারটেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারওয়াশিং ও ডাইং এক্সপার্ট এবং ফ্লোর ম্যানেজার। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছোটবড় বায়িং হাউজে বিদেশি বায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোলের জন্য অনেক ভারতীয় নাগরিক কাজ করছেন। এ সেক্টরে তাদের হার ১৫ থেকে ২০ ভাগ। বিভিন্ন বেসরকারি বড় গ্রুপ অব কোম্পানিজ এবং কিছু ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় ভারতীয়রা কাজ করছেন। এদের হার ১০ থেকে ১২ ভাগ। বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল আইটি সেক্টরে ৫ থেকে ৮ ভাগ ভারতীয় টেকনিশিয়ান কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরামর্শক বা কনসালট্যান্ট হিসাবে ৩ থেকে ৫ ভাগ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে কাজ করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছেইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবিসমন্বয়ে গঠিত টিম বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়সহ ও অন্যসব বিদেশি নাগরিকের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি যেসব পোশাক কারখানাবায়িং হাউজ বা করপোরেট প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। এছাড়া তিন মাস বা স্বল্পমেয়াদি ভিসায় এসে যেন কেউ কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে না পারেসেজন্য কঠোর ভিসা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। অন্যদিকে পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আইনি ফ্রেমওয়ার্ক কঠোরভাবে বজায় রাখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বলেনপাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবিসমন্বয়ে গঠিত টিম অবৈধ বিদেশিদের সংখ্যা আমাদের দিয়েছে। তাদের সবার নামপরিচয় আমরা চেয়েছি। নামপরিচয় পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

Tuesday, June 9, 2026

জলঢাকায় নদীতে ভয়ঙ্কর "আইপিএস প্রযুক্তির" ব্যাবহার, বিলুপ্তির পথে দেশী মাছের সকল প্রজাতি

জলঢাকায় নদীতে ভয়ঙ্কর "আইপিএস প্রযুক্তির" ব্যাবহার, বিলুপ্তির পথে দেশী মাছের সকল প্রজাতি

মাহমুূদ আল-হাছান,  তিস্তা নিউজ : উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ছোট-বড় নদীতে অসাধু জেলেরা 'ইলেক্ট্রোফিশিং' বা ভয়ঙ্কর আইপিএস প্রযুক্তি ব্যাবহার করে অবাধে দেশিয় মাছের বংশ ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিশেষ করে নীলফামারী জেলার জলঢাকা ও ডিমলা উপজেলার তিস্তা , বুড়ি তিস্তা ও চাড়ালকাটা নদীতে অসাধু চক্র এই প্রক্রিয়ায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ নির্বংশ করার কাজে লিপ্ত আছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, গভীর রাতে ছোটো ছোটো নৌকায় আইপিএস বেঁধে নদীর পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এই বিদ্যুতে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিটার এলাকার পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এর ফলে ওই এলাকায় থাকা ছোটো বড় সব রকমের মাছ এমনকি অন্যান্য পোকামাকড় থাকলেও সেগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হার্ট আ্যাটাক করে এবং মারা যায়। সাধারনতঃ এলাকার লোকজন ঘুমিয়ে পড়ার পরে এই নৌকাগুলো নদীতে নামানো হয় এবং সারারাত মাছ ধরে ভোর রাতে তারা ফিরে যায়। 


এভাবে দেশিয় প্রজাতীর মাছ পোনা সহ মেরে ফেলা হচ্ছে এবং এজন্যে দেশের বাজারগুলোতে দেশী মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নদীতে আর তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনিতেই নাব্যতা সঙ্কটে ভুগছে দেশের অধিকাংশ নদনদী। পানির অভাবে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। তার উপর যেটুকু মাছ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলোও বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, পোনা অবস্থাতেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের সাধারন দরীদ্র শ্রেনীর মানুষ এবং নদী তীরবর্তী লোকজনের পুষ্টি চাহিদা পুরনের আর কোনো উপায় থাকছে না।


ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের সাত কাপাটি এলাকার বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি একটু বৃদ্ধি পেলেই এই চক্রটি তৎপর হয়ে ওঠে। প্রায় প্রতি রাতেই তারা তিস্তা এবং বুড়ি তিস্তা নদীতে আইপিএস দিয়ে মাছ ধরে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দু/এক বছরের মধ্যে নদীতে আর কোনো দেশী মাছ খুঁজে পাওয়া যাবে না। মা এবং পোনা মাছ সহ সবজাতীয় মাছ যেভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক।


গোলমুন্ডা ইউনিয়নের বুড়ি তিস্তা নদী চরের বাসিন্দা মন্টু মিয়া বলেন, ২/১ দিন পরপর আইপিএস দিয়ে মাছ ধরার লোকজন আমার বাড়ীর পাশ দিয়ে যাতায়াত করে এবং আইপিএস দিয়ে নদীতে মাছ ধরে। তারা খুবই ধূর্ত এবং সংঘবদ্ধ। দুই চারজন মিলে তাদের প্রতিহত করা সম্ভব নয়। তাছাড়া কয়টা দলকে প্রতিহত করবেন! নিত্য নতুন দল এই অবৈধ কাজে জড়িত আছে। শুধু তিস্তা কিংবা বুড়ি তিস্তা নদীতেই নয়, ধুম নদির ছোটো নদিতেও এভাবে মাছ মেরে ফেলা হচ্ছে। 

সাধারন মানুষের দাবি, নৌ-পুলিশ এবং সাধারন পুলিশ সহ জনগনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে এই ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া বন্ধ করা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত। নাহলে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ভয়াবহ সঙ্কটে পড়বে এবং জীব বৈচিত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি এবং এ বিষয়ে জন সচেতনতা সৃষ্টি ও আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।