সর্বশেষ

Thursday, July 30, 2026

জলঢাকায় স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

জলঢাকায় স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

হাকিম বদিউজ্জামান (জলঢাকা) নীলফামারী : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মিষ্টি রানী রায় (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিষ্টি রানী রায় ঘুঘুমাড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় প্রচলিত তথ্যমতে মিষ্টি রানী রায়ের সঙ্গে পাশের গ্রামের আনোয়ার (৩৮) এর ছেলে মো. লিয়াজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। লিয়াজ একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র। সূত্রের দাবি, গত ২৮ জুলাই রাতে দুজনের দেখা হলে স্থানীয় কয়েকজন তাদের আটক করে মারধর করে। পরে ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় মেয়ের পরিবার ওই ছেলের সঙ্গে বিয়েতে রাজি হয়নি বলেও এলাকাবাসীর দাবি।

এদিকে, এলাকায় কেউ কেউ দাবি করছেন, মিষ্টি রানী রায় গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহতের বাবা নলী গোপাল (৩৯) বলেন, "আমার মেয়ে কীভাবে মারা গেছে, আমি জানি না।"

এ বিষয়ে মীরগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রাজু আহমেদ বলেন, "ঘটনাটি আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ সার্বিক তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নবম পে স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

নবম পে স্কেল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন মিললে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন বেতন কাঠামোর অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হলেও সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সম্পর্ক নেই।


কাজিদের আয় ১৪৪০ কোটি, সরকারের কোষাগারে নেই ১ শতাংশও

কাজিদের আয় ১৪৪০ কোটি, সরকারের কোষাগারে নেই ১ শতাংশও

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ অনিয়ম, ঘুষ, লাইসেন্স ভাড়া ও বিপুল রাজস্ব ফাঁকির এক অগোছালো জালে বন্দি দেশের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা। সরকারের নামে কোটি কোটি টাকা কমিশন আদায় হলেও সেই অর্থের ১ শতাংশও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাণিজ্য, রাজনৈতিক সুপারিশ, ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ এবং আয়কর ফাঁকির মতো নানা অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে পুরো নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা।

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও কালবেলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। গড়ে একজন কাজির মাসিক আয় প্রায় ২ লাখ টাকা হিসেবে বছরে এ খাতে মোট লেনদেন বা আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। অথচ বিয়ের সময় সরকারের নামে কমিশন বা নিবন্ধন ফি আদায় করা হলেও সেই অর্থের ১ শতাংশও সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মের এখানেই শেষ নয়; লাখ লাখ টাকার ঘুষ-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সুপারিশে লাইসেন্স পাওয়া এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। অনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব কাজি আবার ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে নিজের ‘কমিশনটা’ ঠিকই আদায় করে নিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের ন্যায্য পাওনাটা দিতে তাদের অনীহা।

বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, দেনমোহরের প্রথম ৫ লাখ টাকার ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার টাকায় ১৪ টাকা হারে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই অর্থ আদায়ের পর তার কতটুকু সরকার পাচ্ছে, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাজিদের বার্ষিক ফি বা কমিশন জমার হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব তাদের নয়।



অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, একজন কাজি হতে জেলা পর্যায়ে ৩ থেকে ১০ লাখ এবং রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক সুপারিশ ছাড়া লাইসেন্স পাওয়া কঠিন বলেও জানিয়েছেন একাধিক নিবন্ধিত কাজি। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়, জেলা রেজিস্ট্রি অফিস এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত মাসোহারা ও সমিতির নামে চাঁদাও দিতে হয়।

এদিকে অনেক নিবন্ধিত কাজি নিজে দায়িত্ব পালন না করে লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কোথাও কোথাও একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করছেন, যদিও আইনে এমন কোনো সুযোগ নেই। এতে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সরকারের করনীতি অনুযায়ী, বছরে ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হলে আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ঢাকার অভিজাত এলাকা ছাড়াও অধিকাংশ এলাকার ওয়ার্ডে একজন কাজি মাসে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন। এসব কাজি লাইসেন্সের বিপরীতে বছরে নামমাত্র টাকা পরিশোধ করে বাকি সব টাকাই হাতিয়ে নেন। কিন্তু সরকারকে আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের তীব্র অনীহা লক্ষণীয়। কোনো কোনো কাজি আবার নিজের স্থাবর সম্পত্তির ওপর আয়কর দিয়ে কাজি পেশার আয় গোপন করেন। রাজধানীর একজন কাজি কম করে হলেও বছরে অর্ধকোটি টাকা আয় করেন।



অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি কাজি হিসেবে কাজ করছেন, যার ফলে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে পুরো বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ৩০০ কাজির নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বর্তমানে এসব বিষয়ে একাধিক মামলা ও রিট বিচারাধীন রয়েছে।



আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭-এর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবদুল ওয়াহাব কালবেলাকে বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার রেজিস্ট্রারভুক্ত কাজি আছেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৫ শতাধিক কাজির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।’ তবে কাজিদের বার্ষিক ফি বা সরকারের রাজস্ব আয়ের তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই তথ্য রাখার দায়িত্ব আমাদের না।’



এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব বলেন, কাজিদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম কমাতে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ডিজিটালাইজেশন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।



অন্যদিকে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম কিবরিয়া দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারের নামে আদায়কৃত কমিশন বছরে দুবার কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং কাজিরা আয়করও পরিশোধ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ভুয়া কাজি বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।



বিশেষজ্ঞদের মতে, শতভাগ ডিজিটাল পেমেন্ট, কেন্দ্রীয় হিসাব নম্বর, অনলাইন মনিটরিং, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা গেলে রাজস্ব ফাঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে সরকারের আয় বাড়বে এবং মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

সূত্রঃ দৈনিক কালবেলা।

Wednesday, July 29, 2026

শাপলা চত্বর ‘গণহত্যা’ মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

শাপলা চত্বর ‘গণহত্যা’ মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

লতিফ সিদ্দিকী 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর চালানো অভিযানের ঘটনায় গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রটি ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেওয়া হয়

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীসহ ইসির কাছে জামায়াতের ৩ দাবি

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীসহ ইসির কাছে জামায়াতের ৩ দাবি

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছে দলটি।

বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
চিঠিতে বলা হয়, সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব। সে কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনআস্থার প্রতিফলন থাকা জরুরি।
জামায়াতের দাবি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ তাদের সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আইন ও বিধিমালা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।

একই চিঠিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। দলটির ভাষ্য, তার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা অক্ষুণ্ন রাখতে ওই নিয়োগ বাতিল করা প্রয়োজন।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরিচালিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি। জামায়াতে ইসলামী আশা প্রকাশ করে বলেছে, নির্বাচন কমিশন উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

সূত্রঃ দৈনিক মানবজমিন।

ইউএনওকে সংবর্ধনা দিলেন জামায়াত এমপি, কুষ্টিয়ায় আলোচনা-সমালোচনা

ইউএনওকে সংবর্ধনা দিলেন জামায়াত এমপি, কুষ্টিয়ায় আলোচনা-সমালোচনা

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুকে তার কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল গফুর। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এমপির এমন সংবর্ধনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে মিরপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে নবনিযুক্ত ইউএনওকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এমপি আব্দুল গফুর।

এ ঘটনায় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার ক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও অনেকে এটিকে সৌজন্য ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, একজন সংসদ সদস্য যেভাবে দলবল নিয়ে ইউএনওর দফতরে গিয়ে সংবর্ধনা দিলেন, তাতে সরকারি কর্মকর্তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও অপ্রকাশিত চাপ তৈরির বার্তা যায়। এতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য একজন গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধি ও আইনপ্রণেতা। সাধারণত সরকারি কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়ে থাকেন। ফলে একজন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিক রীতি ও নিরপেক্ষতার দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে। তাদের মতে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সমন্বয় থাকলে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গতি বাড়তে পারে।

এ প্রসঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, আমি সম্প্রতি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি। যেহেতু আমরা একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব, সেই জায়গা থেকেই এমপি মহোদয় নিজ থেকে এসে সৌজন্য সংবর্ধনা ও উপহার দিয়েছেন। এতে ভবিষ্যতে সমন্বয় করে কাজ করা আরও সহজ হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি আব্দুল গফুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে নিজের ফেসবুক পেজে নবনিযুক্ত ইউএনওকে দেয়া সংবর্ধনার ছবি পোস্ট করেছেন তিনি।

Monday, July 27, 2026

সাবেক ৩২ ডিসি, বাধ্যতামূলক অবসরে

সাবেক ৩২ ডিসি, বাধ্যতামূলক অবসরে

 

তিস্তা নিউজ ডেস্ক ঃ ২০১৮ সালের ‘বিতর্কিত’ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি)সহ ৩২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সবশেষ যুগ্ম সচিব (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন তারা।

সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যেহেতু সরকার জনস্বার্থে তাকে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে; সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এই কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

তারা হলেন— পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, এ জেড এম নুরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, মো. আলী আকবর ও রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের।

যুগ্ম সচিব পদের এসব কর্মকত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।