মাহমুদ আল- হাছান, তিস্তা নিউজঃ
রংপুরের পীরগঞ্জে যাত্রাগানের শিল্পী দেলোয়ারা বেগম ঝিনুক (৩৬) কে জবাই করা খন্ডিত মস্তক ৪১ ঘন্টা পর পুলিশ এবং র্যাব সদস্যরা খুনী আতিকুর রহমান (৩৫) কে সাথে নিয়ে উদ্ধার করেছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৩ টার দিকে উপজেলার করতোয়া নদীর টোংরাদহ নামক স্থান থেকে খন্ডিত মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার সকালে পুলিশ ওই নদীর বড় বদনারপাড়া নামক স্থান থেকে মাথা বিহীন লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
জানা গেছে, পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের বড় বদনারাপাড়া গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে আতিকুর রহমান (৩৫) একজন পেশাদার জুয়াড়ী। সে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রাগানের শিল্পী নিয়ে আসতো। কয়েকদিন আগে সে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের পশ্চিম গোলমুন্ডা ফকিরপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে দেলোয়ারা বেগম ঝিনুক (৩৬) কে তার বাড়ীতে নিয়ে আসে। গত শুক্রবার সকালে পীরগঞ্জের করতোয়া নদীর তীরে বড় বদনারপাড়ায় একটি মরিচের ক্ষেত থেকে ঝিনুকের মাথা বিহীন লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। পরে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ এবং র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আতিকুর রহমান কে আটক করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঝিনুকের ফেলে রাখা লাশের স্থান থেকে ১ কিলোমিটার দূরে ওই নদীর টোংরারদহ নামকস্থানে নদীপাড়ে কাঁদার নীচ থেকে ঝিনুকের খন্ডিত মাথাটি ৪১ ঘন্টা পর শনিবার বিকেলে উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করেন রংপুরের পুলিশ সুপার আবু সাইম। এ সময় পুলিশের রংপুর সি- সার্কেলের এএসপি আসিফা আফরোজ আদরী, ওসি এমএ ফারুক উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার কারণ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ওসি এমএ ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে আতিকুর একটি ধারালো ছোরা দিয়ে ঝিনুককে জবাই করে লাশ ফেলে রেখে মাথাটি নিয়ে গিয়ে নদীরপাড়ে পুঁতে রাখে। তাকে সাথে নিয়ে খন্ডিত মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে দেলোয়ারা বেগম ঝিনুক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দিলালপুর গ্রামের মৃত মহির উদ্দিন এর ছেলে রেজাউল করিমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। পরে তাদের তালাক হয়ে যায়।