15 Dec 2017 - 04:30:12 am

লস এঞ্জেলেসে “এল এ বাংলা টাইমস” নিউজ পোর্টালের ১ম বর্ষপূর্তি

Published on শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০১৫ at ৯:০৫ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

http://tistanews24.com/wp-content/uploads/2015/11/Untitled-13.jpgড.মাহবুব হাসান লস এঞ্জেলেস থেকে :  নানা রঙের বাহারি বর্ণিল আয়োজনে নাচে-গানে-আড্ডায় মেতে উঠলেন লস এঞ্জেলেসের প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

গত ২২ নভেম্বর রোববার লস এঞ্জেলেসের প্রবাসী বাংলাদেশী অধ্যুষিত 'লিটিল বাংলাদেশ'এর সুপরিচিত ভেন্যু শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টারে চোখ ধাঁধানো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হলো জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল LA Bangla Times-এর ১ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। অপূর্ব এই আয়োজনে প্রবাসী সকল সংগঠন, প্রবাসী কম্যূনিটির বিশিষ্ট নাগরিকরা ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক, লেখক, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, ছাত্র, বিভিন্ন শ্রেণীপেশা ও সংস্কৃতিমনা সকলেই একত্রে অংশ নিয়েছেন, উপভোগ করেছেন। লস এঞ্জেলসের কোন মিডিয়া পোর্টালের এ ধরনের আয়োজন ছিল প্রবাসী বাংলাদেশী কম্যূনিটিতে এবারই প্রথম ও অনেক ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রমধর্মী। এদিন শ্যাটো সেন্টার পরিণত হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক মহামিলন মেলায়।

এল এ বাংলা টাইমসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে অভূতপূর্ব বর্ণিল সাজে সজ্জিত ছিল শ্যাটো রিক্রিয়েশন সেন্টার। শতশত প্রবাসীদের পদচারনায় মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। অডিটোরিয়ামের বাইরেও অনেককে দেখা গেছে। মূল অডিটোরিয়ামে বাহারি মঞ্চ ছাড়াও বিভিন্ন প্রখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি ও তাদের রচনা সম্বলিত রঙিন ফেস্টুনগুলি এবং অতিথিদের সুবিধার্থে লাগানো বিগ স্ক্রীন প্রোজেক্টরে বিভিন্ন প্রেজেনটেশনগুলি সকলের নজর কেড়েছে। চারিদিকে ছিল উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন স্টলে দেশীয় পণ্যের পসারও জমে উঠেছিল বেশ। শীতের হিমেল এই সন্ধ্যায় চা'য়ের কাপে আড্ডা আর চমৎকার অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছিল সকলেই। এতে করে এল এ বাংলা টাইমসের প্রতি কম্যূনিটি প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভালবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এছাড়াও দর্শকদের ভেতর থেকে নির্ধারিত স্হানে একজন আমেরিকান সাংবাদিকের সংক্ষিপ্ত ইন্টারভ্যুর আয়োজনটিও ছিল ব্যতিক্রমী। দর্শক ও অতিথিদের জন্য এল এ বাংলা টাইমসের সৌজন্যে ছিল ফ্রি টি-শার্ট, চাবির রিং, কলম, স্টিকার, ২০১৬র ক্যালেন্ডার ইত্যাদি। চারিদিকে প্রবাসীদের ফটোসেশনেরও কোন কমতি ছিলনা।01

জনপ্রিয় পোর্টাল এল এ বাংলা টাইমসের ১ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গুণী প্রবাসী প্রফেসর ড. চৌধুরী এম শামীম।  এছাড়াও বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ উপস্হিত ছিলেন।

মাগরিবের নামাযের পরেই অনুষ্ঠান শুরু হবে ঘোষণা দিলেও তারও কিছুক্ষণ পরে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন লস এঞ্জেলেসের জনপ্রিয় এমসি (MC) শামসুন্নাহার মনি এবং সৃজনশীল উপস্হাপক মিঠুন চৌধুরী, চমৎকারভাবে তা করেছেন দুজনেই। শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ক্বারী জনাব আবুল কালাম। এরপরেই আমেরিকা ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। সকলে এসময়ে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর পাশাপাশি একত্রে গলাও মিলিয়েছেন, এ ছিল অসাধারণ সুন্দর কিছু মুহূর্ত।

এরপরে আগত সকল অতিথিদের প্রতি স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এল এ বাংলা টাইমস পোর্টালের সিইও জনাব আবদুস সামাদ। তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এল এ বাংলা টাইমস আপনাদেরই পোর্টাল। আপনারাই এর পাঠক ও লেখক। আমাদের আজকের আয়োজনটি আমরা লস এঞ্জেলসের স্হানীয় বিভিন্ন প্রতিভাবান শিল্পীদের নিয়ে সাজিয়েছি। আমরা সব সময়েই লস এঞ্জেলেসবাসীকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চাই। আপনাদের সকলের ভালবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে এল এ বাংলা টাইমস এগিয়ে যাবে বহুদূর।03

এরপরে তিনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. চৌধুরী এম শামীম'কে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট দিয়ে এল এ বাংলা টাইমসের পক্ষ থেকে সম্মান জানান। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আমেরিকায় শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ইনফরমেশন কম্যূনিটির মানুষের মাঝে আরো ব্যাপকভাবে প্রচারে ভূমিকা রাখবে, এতে করে আমাদের শিক্ষার্থীরা তথা বাংলাদেশীরা উপকৃত হবে। ড. চৌধুরী এম শামীম দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় যোগ্যতা ও সম্মানের সাথে অধ্যাপনা করে এসেছেন। ১৯৮৭ সালে ড. চৌধুরী এম শামিম ইউনিভার্সিটি অফ সাউদারন ক্যালিফোর্নিয়া  আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পিএইচডি লাভ করেন। তিনি California State University Fullerton র রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা  শুরু করেন ১৯৮৯ সালে। তিনি ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে লেকচারার হিসেবে  শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন । ১৯৭৯ সালে তিনি Bangladesh Institute of International and Strategic Studies এর ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। একই বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। এসময় তিনি ডেলিগেট হিসেবে ভারত মহা সাগর অঞ্চলের রাজনৈতিক কমিটি সহ অন্যান্য এডহক কমিটিতে ভূমিকা রাখেন । জাতিসংঘ থেকে ফিরে ড. চৌধুরী এম শামিম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ড. চৌধুরী এম শামিম University of California Riverside এ মডেল জাতিসংঘের ডাইরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বহু আর্টিকেল ও বই লিখেছেন।01

প্রধান অতিথির বক্তব্যের পরে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জনাব ম.হামিদ। তাকেও এল এ বাংলা টাইমসের সিইও আবদুস সামাদ ফুল দিয়ে বরণ করেন। এল এ বাংলা টাইমসের পক্ষ থেকে এদিন জনাব ম. হামিদকে 'লাইফটাইম এ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করা হয়। বিশেষ অতিথি তার বক্তব্যে সুদূর প্রবাসে সকলের বাংলাদেশী সংস্কৃতির এ চর্চার প্রশংসা করেন। জনাব ম. হামিদ বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভি'র ডিরেক্টর জেনারেল ২০১২-২০১৪, বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএফডিসি)র ম্যানেজিং ডিরেক্টর (২০১১-২০১২)। এর আগে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান (২০০৬-২০০৯), বৈশাখি টিভির চিফ এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (২০০৭), আর টিভির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (২০০৮-২০১০) ছিলেন। বিভিন্ন আন্তরজাতিক মিডিয়া টেলিভিশন ও ফিল্ম ওর্গানাইজেশনের সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়াও কংগ্রেসম্যান ব্র্যাড শ্যারমেনের (Congressman Brad Sherman) পক্ষ থেকে জনাব আবদুস সামাদকে এবং এল এ বাংলা টাইমসকে আলাদা করে 'রিকগনিশন সার্টিফিকেট' প্রদান করা হয়েছে।

অতিথিদের বক্তব্যের পর তাদের সহ লস এঞ্জেলেসের সকল বিশিষ্ট কম্যূনিটি লিডারদের মঞ্চে একত্রে নিয়ে এল এ বাংলা টাইমসের সিইও জনাব আবদুস সামাদ ১ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ম্যাগজিন 'স্মারক'এর মোড়ক উন্মোচন করেন। ষাট পৃষ্ঠার সম্পূর্ণ রঙিন ও উন্নতমানের ম্যাগাজিনটি অনেককেই একাধিক কপি নিতে দেখা গেছে। এরপরে মঞ্চে নিয়ে আসা হয় এল এ বাংলা টাইমসের ১ম বর্ষপূর্তির জন্য অর্ডার করা বিশেষ কেক। সকল অতিথিদের নিয়ে কেক কাটেন প্রধান ও বিশেষ অতিথি। এসময় একে অপরকে কেক খাইয়েও দেন। দর্শকদের মধ্যে এসময় ছিল তুমুল করতালি। কৃত্রিম ফগ (fog) মেশিনের ধোঁয়া আর রঙবেরঙের স্পট লাইটের কারসাজিতে আবহটি ছিল সত্যিই উপভোগ্য।

বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার পরে শুরু হয় বিনোদন ও সাংস্কৃতিক পর্ব। এ পর্বেও যথেষ্ট মুন্সীয়ানার স্মাক্ষর রেখেছে অনুষ্ঠানকে বাড়তি উপভোগ্য করেছেন লস এঞ্জেলসের দুই জনপ্রিয় এম সি, প্রিয়মুখ শামসুন্নাহার মনি এবং মিঠুন চৌধুরী। LA Bangla Times তাদের আয়োজনে লস এঞ্জেলেস ও ক্যালিফোর্ণিয়ার বিভিন্ন প্রতিভাধর শিল্পীদের নিয়ে এ আয়োজন সাজিয়েছিল। খ্যাতিমান ম্যাজিশিয়ান 'এমেইজিং ডেভিড' চমৎকার যাদু প্রদর্শন করে দর্শকদের মাতিয়ে তুলেন। বিশেষ করে শিশু ও ছোটদের আনন্দ ও উচ্ছলতা ছিল চোখে পড়ার মতো। চম্যকার নৃত্য পরিবেশন করেন লস এঞ্জেলেসের নবাগত শিল্পী শুভ্রা রায় ও তার সহযোগীরা। তাদের নাচ সকলের প্রশংসা পেয়েছে।

গান গাইতে প্রথমেই মঞ্চে আসেন আরেক তরুণ প্রতিভাবান শিল্পী লাবনী। তিনি বেশ কিছু জনপ্রিয় আধুনিক গান করেন। লাবনীর গানের পরে আবারও একটি চমৎকার নৃত্য উপহার দেন শুভ্রা ও তার সঙ্গীরা। এরপরে 'কোকিলকন্ঠি' খ্যাত স্হানীয় জনপ্রিয় গায়িকা মিতালী মঞ্চে উঠলে দর্শকরদের বিভিন্ন অনুরোধের গান করেন। তিনি তার গাওয়া বাংলা ছায়াছবির গানও পরিবেশন করেন। তার সুরের মূর্ছনায় মেতে উঠেছিল হল ভর্তি দর্শকশ্রোতা। আধুনিক বাংলা গানের জনপ্রিয় গান শুনে সকলেই যেন হারানো দিনগুলিতে ফিরে গিয়েছিল।

এরপরে বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশন করেন নবাগত প্রতিভাময় শিল্পী সুসময়। একটিমাত্র গান গেয়ে তিনি সবার প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। সুসময়ের গান যখন দর্শকশ্রোতাদের মাঝে ব্যান্ড সঙ্গীতের আমেজ তৈরী করেছে, তখনি বিশেষ ইনট্রো'র সাথে মঞ্চে আসে বর্তমান সময়ে লস এঞ্জেলেসের তরুণ সমাজের সেনসেশন, ওয়েষ্ট কোস্টের জনপ্রিয় ও অপ্রতিদ্বন্দী বাংলা ব্যান্ড 'Freedom Age' । এ সময়ে প্রোজেক্টরে ফ্রিডম এইজের বিশেষ Slide Show presentation দর্শকরা উপভোগ করেন। যথারীতি উপস্হিত সকলকে গান গেয়ে মাতিয়ে তুলেন ফ্রিডম এইজের ফ্রন্টম্যান ও লিড ভোকালিস্ট, রকস্টার সামি নোবেল। এদিন বাংলা গানের পাশাপাশি একটি সুফিধারার রক গানও করেছে ফ্রিডম এইজ। এ গানটিতে গতানুগতিক ব্যান্ডের বাদ্যযন্ত্রের বাইরে তবলা ও পারকিশান্সও ব্যবহার করে তারা। বিভিন্ন জনপ্রিয় গানগুলি করার সময় সামি নোবেল তার সাথে সবাইকেও গাইয়ের তুলেন। তারুণ্যের জয় জয়কার যেন চারিদিকে। তুমুল হর্ষধ্বনি ও করতালিতে মুখরিত অডিটোরিয়াম ভর্তি দর্শকশ্রোতা।

ফ্রিডম এইজের গানের মাধ্যমেই শেষ হয় LA Bangla Times -এর জমকালো ও চোখ ধাঁধানো ১ম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান। সবশেষে দুই এমসি মনি ও মিঠুন সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন। সকলেই দারুন উৎসাহ উদ্দীপনা ও আনন্দ সহকারে অনুষ্ঠান উপভোগ করে তৃপ্তি নিয়ে সান ডে নাইটে বাড়ি ফিরে যান।

এ অনুষ্ঠান টি প্রবাসীদের মনে বহুদিন স্বরণীয় হয়ে থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email