21 Nov 2017 - 03:10:46 am

বিরামপুরে স্পন্দন একাডেমীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বানিজ্য

Published on বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬ at ৬:২৭ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

বিরামপুরে স্পন্দন একাডেমীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বানিজ্যবিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুরে কয়েকটি  স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক মেতে উঠেছে রমরমা কোচিং বানিজ্য নিয়ে। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে আরো উন্নত ও গতিশীল করতে শিক্ষার্থীদের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসামুখী করতে যেখানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ সেখানে তাদের এই বানিজ্য সত্যিই হতাশাজনক।

সম্প্রতি জানা গেছে যে, কিছু অর্থলোভী শিক্ষক বিরামপুরে কোচিং সেন্টার খুলে সেখানে তাদের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষকদের নিজ নিজ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতে সেই কোচিং-এ ভর্তি হয় সেজন্য নানাভাবে তাদের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।

বিরামপুরের কিছু কোচিং সেন্টারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে যে, প্রায় সব কোচিং সেন্টার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষিত বেকার যুবক এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু পৌর শহরের ধানহাটি মোড়ে অবস্থিত ‘স্পন্দন একাডেমী’ নামে একটি কোচিং সেন্টারে চলছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বানিজ্য।

বিরামপুরে স্পন্দন একাডেমীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বানিজ্যস্পন্দন একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত প্রোসপেক্টাস ও লিফলেটে বিভিন্ন শিক্ষকদের তালিকায় দেখা যাচ্ছে যে, কেউ অধ্যাপক আবার কেউ সহকারী শিক্ষক।
অধ্যাপকের তালিকায় রয়েছেন- সারোয়ার রাশেদ (পরিচালক), জাহিদুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দিন, নাজির হোসেন, আব্দুল বাকী ও আব্দুল মতিন। সহকারী শিক্ষকদের তালিকায় আছেন- তরিকুল, সিরাজুল ও মোস্তাকিম (রাজু)। এ ছাড়াও নাম না থাকা অনেক স্বনামধন্য অধ্যাপক ও স্কুলের শিক্ষক কেচিং-এ পাঠ পরিচালনা করে থাকেন বলে লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে।

প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত সম্মানিত অধ্যাপক সাহেবগণ এবং স্কুলের শিক্ষকবৃন্দরা অবশ্যই কোন না কোন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক, যারা পরিচালকের (সারোয়ার রাশেদের) ছত্রছায়ায় একত্রিত হয়ে ব্যবসায় মেতে উঠেছে।
এলোকার শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিরা ক্ষোভের সাথে বলেন, কিছু কিছু শিক্ষকের এমন অর্থলোভী আচরণ খুবই দুঃখজনক। অত্র এলাকায় শিক্ষা খাতে এমন বানিজ্য চলতে থাকলে অচিরেই শিক্ষা ব্যাবস্থাপনায় ধস নামবে বলেও তারা মন্তব্য করেন। তার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য থেকে সরে এসে  নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদানে মনোযোগী হওয়ার দাবি তুলেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস.এম জিন্নাহ্ বলেন, “আমাদের কিছু নির্দেশনা রয়েছে যার বাহিরে কেউ কোচিং পরিচালনা করতে পারবে না। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক দ্বারা কোচিং চালানোর বিষয়টি আমার নজরে নেই।

তবে এ ব্যাপারে কোন রকম অভিযোগ পেলে সেই কোচিং-এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”

Print Friendly, PDF & Email