21 Feb 2018 - 01:37:43 pm

পীরগঞ্জে থাই পেয়ারা চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে কৃষক মথুর চন্দ্র বর্মন

Published on বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৬ at ১২:১০ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

পীরগঞ্জে থাই পেয়ারা চাষে স্বাবলম্বী  হয়েছে কৃষক মথুর চন্দ্র বর্মন মামুনুর রশিদ মেরাজুল পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকে: বছরব্যাপী থাই পেয়ারা চাষ করে জীবনকে পাল্টে দিয়েছেন পীরগঞ্জের কৃষক মথুর চন্দ্র বর্মন (৫৩)। তিনি চাষাবাদের ধরন পাল্টিয়ে পেয়ারার বাগানের পরিমান বাড়াচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি পরীক্ষামুলকভাবে মাল্টা চাষও করে সফল হয়েছেন। এখন বানিজ্যিকভাবে তিনি মাল্টা চাষ করবেন।

পীরগঞ্জের উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩ কি.মি দক্ষিনে পীরগঞ্জের রায়পুর ইউনিয়নের দ্বারিকাপাড়া গ্রামে রুহিনী কান্ত বর্মনের ছেলে মথুর চন্দ্র  বর্মন (৫০) এর বাড়ী। লেখাপড়া করে চাকরী না পেয়ে কৃষিকে তিনি পেশা হিসেবে গ্রহন করে ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন। মথুর পেশায় এখন স্বচ্ছল কৃষক। ওই গ্রামেই তিনি প্রায় সাড়ে ৩ একর জমিতে বছরব্যাপী থাই পেয়ারা চাষ করেছেন। তার লাভজনক এ চাষের কথা শুনে অনেকেই থাই পেয়ারা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন, পরামর্শও নিচ্ছেন।
চারা প্রাপ্তি, উৎপাদন খরচ ও ফলন:
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ প্রায় ৩ বছর আগে মথুরকে থাই পেয়ারা চাষে উদ্বুদ্ধ করলে তিনি প্রাথমিকভাবে ১ একর জমিতে পেয়ারার চারা লাগান। কৃষি বিভাগ তাকে বিনামুল্যে ২শ’ ৫০ টি পেয়ারার কলম চারা, ভার্মি কম্পোষ্ট (কেঁচো সার) এবং কিছু পরিমান রাসায়নিক সার টিএসপি, পটাশ দেয়া হয়। মাত্র ৬ মাসের মাথায় ফুল-ফল আসা শুরু হয়। প্রতিটি গাছ পেয়ারার ভারে ন্যুয়ে পড়ার উপক্রম হয়। আর প্রতিটি গাছের চারা একবার লাগালে ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ফলন দেয়। পরিশ্রম কম, জমিতে অতিরিক্ত সেচও দিতে হয় না। ফলে ভু-গর্ভস্থ পানিতে চাপও পড়ে না। তবে চারার মুল্যও বেশী ও সংকটও রয়েছে। পেয়ারা বিক্রিতে লাভবান হওয়ায় মথুর চাষের পরিমান বাড়ান এবং এক বছরে ২’শত ১০ মণ পেয়ারা বিক্রয় করে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। তিনি আরও জানান- থাই পেয়ারা বছরে ৪ বার ধরে। প্রতিটি গাছেই কমপক্ষে ১৫ টি পেয়োরা আসে। ১ টি করে পেয়ারা প্রায় আড়াইশ গ্রাম থেকে আধা কেজি ওজনের বেশী হয়। পশুপাখির কবল থেকে পেয়ারা রক্ষায় পুরো বাগান জাল দিয়ে ঘেরা দিয়েছি।
শ্রমিকদের বক্তব্য:
পেয়ারার বাগানে কর্মরত শ্রমিক বাবুল চন্দ্র বর্মন, হাফিজার রহমান, কার্তিক চন্দ্র, মশিউর রহমান বলেন, এখন মাঠে কাজ নাই, তারপরও আমরা বাগানে কাজ করছি। বাগানটিতে আড়াই হাজার পেয়ারা গাছের পরিচর্চা অর নিড়ানি দিয়ে প্রতিদিন ২শত টাকা করে মজুরী পাচ্ছি। খিদা লাগলে পেয়ারা লবন, মরিচ দিয়ে ঝাল করে মেখে খেয়ে তৃপ্তি পাই। ক্ষুধাও নিবারন হয়।
বাজারজাতের সুবিধা:
মওসুমের সময় প্রতি কেজি পেয়ারা ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। অন্য সময় প্রতি কেজি ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়। মথুর বলেন, ২ থেকে ৪টি পেয়ারা এক কেজি হয়ে থাকে। রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে মথুরের বাগানের পেয়ারা নিয়ে যাচ্ছে।
ঝুকি:
আলু, কলা, ভুট্টা, ধান, আম, বরই, লিচু চাষে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যতটা ক্ষতি করে, তার বিন্দু মাত্রও হয় না পেয়ারা চাষে। ফলে মথুর রবি শষ্য ও ফসলের চাষ ছেড়ে পেয়ারা চাষে ঝুঁকছেন। তার মতে, থাই পেয়ারা সারা বছরই গাছে থাকে, টাকাও আসে। কলার চাষে ব্যাপক কষ্ট আর লাভও কম, ঝুঁকি বেশী।
মথুরের বক্তব্য:
কৃষকরা দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারে। কৃষকের নিরাপত্তা দিলে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড সোজা হয়ে কয়েকধাপ এগিয়ে যাবে। কৃষকের নিরাপত্তা বলতে তিনি বলেন- স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋনদান, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্যে বাজারজাতের সুবিধা ছাড়াও সংরক্ষনে কোল্ড ষ্টোরেজ (হিমাগার) নির্মান করা। ফল চাষ করে কৃষকরা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনে ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দ্বারিকাপাড়ায় বাবার সাড়ে ৩ একর জমিতে পেয়ারা চাষ করেছি। পেয়ারা চাষে পরিচর্চা, সার ও কীটনাশক এবং রোগ-বালাই কম হওয়ায় পরিশ্রমও হচ্ছে কম। অন্যান্য ফসলের চেয়ে আনুপাতিক হারে উৎপাদন খরচ খুবই কম। আমি পরীক্ষামুলকভাবে বাড়ীতে কিছু মাল্টা ফলের গাছ লাগিয়েছি। সেটাও সফল হয়েছি। এখন বানিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র ঘোষ এই প্রতিনিধিকে জানান, বছরব্যাপী থাই পেয়ারা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এই চাষে ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। এটি জমিতে লাগানোর ৬/৭ মাস পর থেকেই ফলন শুরু হয়। ফলে কৃষকরা পেয়ারা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। একবার চারা লাগালে ১০/১২ বছর পর্যন্ত চলে। তিনি আরও জানান, পীরগঞ্জে ৩৫ জন চাষী ৬০ একর জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোখছেলুর রহমান বলেন- পেয়ারাতে ভিটামিন সি সহ অন্যান্য গুনাগুন সম্পন্ন পদার্থ রয়েছে। যা মানুষের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। থাই পেয়ারা বাউকুলের মত নয়, পেয়ারাটির স্বাদ বেশ মিষ্টি।

Print Friendly, PDF & Email