21 Nov 2017 - 03:02:58 am

ডিমলায় মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্রের আর্তনাদ, দোকানটি ভেঙে দিলে কি করে চলবো?

Published on মঙ্গলবার, নভেম্বর ১, ২০১৬ at ১০:১৯ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

ডিমলায় মাস্টর্স পড়ুয়া ছাত্রের আর্তনাদ, দোকানটি ভেঙে দিলে কি করে চলবো?সরদার ফজলুল হক: দোকান ঘরটি ভেঙে দেয়া হলে আমার কি করে চলবো। এ দোকান করেই তিন ভাই-বোনের লেখা-পড়ার খরচ আর পরিবারের ভরণপোষন যোগান দিতে হয়। আমাদের এক শতক জমিও নেই। তিস্তার বাঁধের নিচে বাবা-মা ও আমার তিন ভাই-বোন কোন রকমে বসবাস করে আসছি। তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম অফিসে এসে কথা গুলো বলেছে, কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র মিলন চন্দ্র দেবনাথ(২৪)। কথা গুলো বলার সময় তার দু’চোখে কোণে পানি চলে আসে।

সে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিযনের ছোটখাতা গ্রামের ভূমিহীন মুকুল চন্দ্র দেব নাথের ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে মুকুল সবার বড়। ছোটভাই কৃষ্ণ চন্দ্র দেব নাথ রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে অনার্সে পড়েছে। সে হাতিবান্ধা আলিম উদ্দিন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সবার ছোট বোনটির নাম মালা রানী দেব নাথ। সে উপজেলার গয়াবাড়ী স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণিতে পড়া-লেখা করে।

মিলনদের জায়গা-জমি বলতে কিছুই নেই। তিস্তা নদীর ডানতীর বাঁধের নিচে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একখন্ড জমিতে কোন রকমে বসবাস করে আসছে। পরিবারটির একমাত্র রোজগারের পথ একটি ছোট চা, পান, বিস্কুটের দোকান। মিলনের বাবা মুকুল দেব নাথ প্রায় দুই যুগে ধরে উপজেলার শুটিবাড়ী হাটের একটি জায়গায় চা,পান ও বিস্কুট বিক্রি করে সংসার ও সন্তানদের পড়া-লেখার খরচ যোগান দিয়ে আসছে। মিলন পড়া-লেখার পাশাপাশি এ দোকানে সহযোগীতা করতো বাবাকে। কিন্তু মিলনের বাবার বয়স হয়ে গেছে। তা ছাড়া অভাব অনাটনের সংসারে তার বৃদ্ধ বাবার শারীরিক বাসা বেঁধেছে নানা রোগব্যাধি।

এদিকে ৫ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ ও ছোট ১ ভাই, ১ বোন এবং নিজের পড়া-লেখার খরচ যোগাতে গিয়ে ওই দোকানে হাল ধরতে হয়েছে মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্র মিলনকে।

সম্প্রতি মিলনদের ওই দোকান ঘরটির জায়গার প্রতি নজর পড়ে যায় এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের। মহলটি প্রতিনিয়ত দোকান ঘরটি সড়িয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু দোকানটি সড়িয়ে নিয়ে কোথায় যাবে তারা। কি করে চলবে পরিবারটি। আর ৩ ভাই-বোনের পড়া-লেখার খরচই বা কে চালাবে। এ জন্য দোকান ঘরের জায়গাটি টিকিয়ে রাখার জন্য মিলন ও তার বৃদ্ধা বাবাকে ছুটতে হয়েছে এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ অনেকের কাছে। তবুও পরিত্রান পায়নি মিলন।

সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর রোববার সন্ধায় এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মিলনের দোকানে গিয়ে হাটের জায়গা থেকে দোকানঘরটি সড়িয়ে নিতে বলে। অন্যথায় তারা তার দোকানঘরটি ভেঙ্গে দিবে বলে হুমকি প্রদান করেন।  মঙ্গলবার (১নভেম্বর) ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এলাকাবাসীর দাখিলকৃত এক অভিযোগে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।

মিলনের দাবী, তার দোকান ঘরের জায়গাটি তাকে যেন প্রশাসন থেকে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ করে দেয়া হয়। এ জন্য সে জেলা প্রশাসনসহ উপজেলা হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email