21 Nov 2017 - 03:03:11 am

অর্থাভাবে মেধাবী ছাত্র মোস্তাফার বিশ্ববিদ্যালয় পড়া অনিশ্চিত

Published on সোমবার, নভেম্বর ৭, ২০১৬ at ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

অর্থাভাবে মেধাবী ছাত্র মোস্তাফার বিশ্ববিদ্যালয় পড়া অনিশ্চিতমোহাম্মাদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: হাতে পেয়ে হারিয়ে ফেলার চেয়ে বরং একেবারেই না পাওয়ার বেদনাটা অধিক সহনীয়। হয়তো তাই, বিজয় দোর গোড়ায় এসে হাত ফসকে চলে যাবার অজানা আশংকায় অস্থির মোস্তাফা কামাল। একই কারণে কষ্টটা বেড়ে গেছে তার বাবা-মা আর ভাই-বোনদের।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান মোস্তাফা যেন গোবরে পদ্মফুল। সেই শিশুকাল থেকে দিনভর শ্রম খেটে পরিবারকে সহায়তাদানের চেষ্টা করছে। অন্যের নিকট থেকে বই, খাতা-কলম চেয়ে নিয়ে অতি কষ্টে কোন রকমে লেখা-পড়াটা চালিয়ে আসছে। কেউ তার দিকে ফিরে তাকায়নি। এ ভাবেই, মোস্তাফা কামাল কুমরিয়া দ্বী-মুখি উর্চ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ- ৪.৯০ পায়। পরবর্তীতে খানাসামা বাংলাভাষা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি তে অংশ নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও  জিপিএ-৫ অর্জন করলে বাবা-মা আশাবাদি হয়।

কিন্তু দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থী টাকার অভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরে সুনামের সঙ্গে উত্তীর্ণ হলেও ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে তাঁর দরিদ্র মা বাবার চোখে মুখে বিষন্নতার ছাপ। মোস্তাফা কামালের বাবা এছাক আলী পেশায় রিক্সচালক। বয়সের ভারে ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি এখন টিক মত রিক্স চালাতে পারে না। মা গৃহিনী সুফিয়া বেগম। চার ভাইবোনের মধ্যে মোস্তাফা প্রথম।

মোস্তাফার স্বপ্ন ছিল-সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা-পড়া করবে। বাবা-মা আর ভাই-বোনদের উৎসাহে নিজের স্বপ্ন পূরণে ব্রতী হয় মোস্তাফা। রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়ের “ঙ” ইউনিটে ২০১৬ সালের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। অর্জন করে ১৫৬ তম স্থান। তা’তে কী। সবকিছুর আসল চালিকা-শক্তি বিশ্বদ্যিালয়ে ভর্তির টাকা যে নাই তার। চিন্তিত বাবা এছাক অর্ধকর্ম-অক্ষম। জমা-জমি বলতে আট শতাংশ বাড়ী-ভিটে। দুই পুত্র, এক কন্যা ও স্ত্রীসহ পাচঁ সদস্যের সংসার এছাক আলীর। আহারে-অনাহারে দিন যেন কাটতে চায় না। টাকার অভাবে মোস্তাফার স্বপ্ন যেন পূরণ হবার নয়। মেধাবী ছাত্র মোস্তাফার প্রত্যাশা সমাজে বিত্তবানরা তার লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সহযোগিতার হাত বাড়াবে। মোস্তাফা  বলে আমার সামনের দিন গুলোতে আমার কপালে কী যে আছে তা ওপর ওয়ালাই জানেন। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন আরও সামনে এগোতে পারি ।

চিরিরবন্দরের খ্যাতনামা কোচিং সেন্টার ওয়েমার্ক প্রতিষ্টাতা ও মোস্তাফার প্রিয় স্যার মো: জাকির হোসেন বলেন আমি নিজের সন্তান মনে করে পাঠদান দিয়েছি মোস্তাফাকে তার উজ্জল ভুবিষ্যৎ ভেস্তে যেতে পারে না সবাই সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিলে মোস্তাফার কাঙ্খিত লক্ষে পৌচ্ছাতে পারবে। আমি দোয়া করি।

বাংলাভাষা কলেজের অধ্যক্ষ মো.আহসান টুটল বলেন, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও মোস্তাফা কামাল অত্যন্ত মেধাবী। ওর পাশে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে ভবিষ্যতে অবশ্যই সে আরও ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস।

Print Friendly, PDF & Email