22 Nov 2017 - 11:32:11 am

নিরবে চলে গেলো উত্তরের বর্ষীয়ান নেতা আজিজুর রহমানের মৃত্যুদিবস

Published on মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৬ at ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ৪ ডিসেম্বর নিরবে চলে গেলো উত্তরের জননেতা নিরবে চলে গেলো উত্তরের বর্ষীয়ান নেতা আজিজুর রহমানের মৃত্যুদিবসএ্যাডভোকেট আজিজুর রহমানের ২৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯১ সালের ঐ দিনে সকলকে কাঁদিয়ে মৃত্যুবরণ করেন বর্ষীয়ান এই নেতা। অথচ তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে কোনো স্মরণসভা করা হলো না, হলো না কোনো মিলাদ মাহফিল। হয়তো বর্তমান প্রজন্মের কাছে এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমানের নামটি অপরিচিত। কিন্তু একটা সময় ছিলো যখন বৃহত্তর দিনাজপুরে তাঁর নামটি ছিলো সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মুখে মুখে। তাঁর ভাষণ শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতো আজকের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলা। এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের তথ্য সংকলন করেছেন আমার খুব কাছের অনুসন্ধানপ্রেমী বন্ধু চৌধুরী মোঃ সিফাত বিন সারোয়ার (নির্ণয় চৌধুরী)। ফিচারটি সম্পন্ন করতে সাংবাদিক হিসেবে আমার সামান্য অবদান রাখার সুযোগ হয়েছিল বলে আমি গর্বিত।

মোহম্মদ আজিজুর রহমান ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমার মোহম্মদপুর গ্রামে (বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১১ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন) ১৯২০ সালে ১ নভেম্বর জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম মাওলানা আকিমুদ্দিন সরকার, মাতার নাম আলেকজান নেসা। ১৯৪৪ সালে ডিস্টিংশনস সহ (সকল বিষয়ে ৮৫% নম্বর) তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে লেখাপড়া শেষে ভারত পাকিস্তান ভাগ হলে তিনিও সেখানকার ছাত্রত্ব শেষ করে পূর্ব পাকিস্তানে নিজ ভূমিতে ফিরে এসে দেশগড়ার কাজে হাত দেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শিষ্য হিসেবে দেশে ফিরেই কিছু দিনের মধ্যেই তিনি পাকিস্তানি শাসকদের ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করতে শুরু করেন এবং কাল বিলম্ব না করে তাঁর শিক্ষা, মেধা, শ্রম ও অর্থ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন এ অঞ্চলের মানুষের ভেতর ‘বাঙালি’ বোধ জাগাতে। ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তার বিপ্লবী পিতা মাওলানা আকিমুদ্দিন সরকারের হাত ধরে ১৯৩৭ সালে তিনি স্কুলজীবনেই শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পাটির সদস্যপদ লাভ করেন। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। তাঁর পিতা ছিলেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চল এর ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা।

ক্রমান্বয়ে দীর্ঘপথ পেরিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে যান। সেখানে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অন্যতম ভাবশিষ্য হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন এবং কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের বেকার হোস্টেলে অবস্থানকালে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সহচর হিসেবে কাজ করেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা এই নেতার রাজনৈতিক পদযাত্রায় দেখা যায়, তিনি ছিলেন ১৯৪২ সালে অবিভক্ত বাংলা মুসলিম ছাত্র সংঘের প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক।

এরপর দেশভাগ হলে তিনি পিতার আদেশে দিনাজপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের পাশে ফিরে যান।
বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের (বর্তমান ছাত্রলীগ) সভাপতি দবিরুল ইসলাম (পরবর্তীতে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি, ভাষাসৈনিক ও এমএলএ) ১৯৪৮ সালে দিনাজপুরে রাজনৈতিক সভা থেকে গ্রেফতার হলে মোঃ আজিজুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।
১৯৫০ সালে আইনজীবী হিসেবে দিনাজপুর বার কাউন্সিলে যোগ দিয়ে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলায় ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দান করেন।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রট সরকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচনে ঘোড়াঘাট থেকে তেতুঁলিয়া পর্যন্ত অক্লান্তভাবে সাংগঠনিক পরিশ্রম করেন। মানুষের মাঝে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগাতে তিনি বৃহত্তর দিনাজপুর জেলায় ১৯৫৫ সালে ‘আওয়াজ’ নামে সর্বপ্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। তিনি সম্পাদক এবং মালিক হিসেবে এই পত্রিকার মাধ্যমে শক্তিশালী ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৭ সালের ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি কাগমারি সাংস্কৃতিক সম্মেলনে যোগ দেন এবং সেই সম্মেলনে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি এবং জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় মিলিত হন।

বৃহত্তর জিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, তিনি ১৯৬০-এর জুন থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। কিন্তু ৬ দফা ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেল আইয়ুবের জেল জুলুমের ভয়ে রাজপথ থেকে যখন বেশির ভাগ নেতাই সরে দাঁড়িয়েছেন, তখন মোঃ আজিজুর রহমান মাথায় গ্রেপ্তারের হুলিয়া নিয়েও জনতার অকুতোভয় সৈনিকের মতো গুটিকয় নেতা-কর্মী নিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি (দৃশ্যত কার্যকর সভাপতি) হিসেবে রুখে দাঁড়ান। বৃহত্তর দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে তেতুঁলিয়া পর্যন্ত বাঙালির আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তাঁরই পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুরে আওয়ামী লীগ ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে। তিনি তৎকালীন ঠাকুরগাঁও মহকুমার মোহম্মদপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করলেও তাঁর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনিই বৃহত্তর দিনাজপুর আওয়ামী লীগ রাজনীতির অপরিহার্য এবং শীর্ষ নেতা হয়ে ওঠেন।

বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা বার কাউন্সিলের সভাপতি এবং ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালে পরপর দু`বার বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় সেক্রেটারি ছিলেন এ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম জগলু এবং পরের দফায় অধ্যাপক ইউসুফ আলী। এছাড়া তিনি দিনাজপুর বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

অ্যাডভোকেট মোঃ আজিজুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকায় দেখা যায়, তিনি ১৯৭০ সালে বৃহত্তর দিনাজপুরের দিনাজপুর জাতীয় পরিষদ-২ (বর্তমানে ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও-২, ঠাকুরগাঁও-৩ আংশিক) আসন থেকে এমএনএ (পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া জাতীয় সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দিলে প্রতিবাদী জনতা নেমে আসে রাজপথে। শুরু হয় প্রতিরোধ সংগ্রাম। প্রতিরোধ সংগ্রাম শুরু হলে তিনি দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি হিসেবে সকল দলের নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনতাকে দৃপ্তভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে শুরু করেন।

এরপর মুক্তিযুদ্ধের প্রতিরোধ সংগ্রম শুরু হলে তিনি ৩ মার্চ ১৯৭১ সালে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বৃহত্তর দিনাজপুরের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। দিনাজপুর ইনস্টিটিউটে সেই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হলে তিনি ১৩ এপ্রিল ১৯৭১ সালে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব হাতে নেন।

১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে তিনি মুজিবনগর সরকার কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র ৭ নং সেক্টর এবং ৬ নং সেক্টরের অর্ধেক অঞ্চলের জন্যে লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদায় সিভিল অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজার উক্ত পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদায় সিভিল অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজার হিসেবে তাঁর কর্সস্থল ছিল ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানার অর্ন্তভুক্ত তরঙ্গপুরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের ৭ নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টারে।

সে সময়ে তাঁর সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দিনাজপুরের তৎকালীন তরুণ সাংবাদিক বারী। তার বক্তব্য মতে, মুক্তিযুদ্ধের ৭ নং সেক্টরের প্রথম কমাণ্ডার মেজর নাজমুল হক ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জলপাইগুড়িতে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেলে তৎকালীন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরুজ্জামান ৭ নং সেক্টরের লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার সিভিল অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজার হিসেবে মোঃ আজিজুর রহমান, এমএনএ-এর কাছে পরিচয়পত্র তুলে ধরে রিপোর্ট করেন এবং কমাণ্ডার হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। এর আগে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরুজ্জামান নওগাঁয় একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মোঃ আজিজুর রহমান লোক মারফত তাকে খবর দিয়ে তরঙ্গপুরে ডেকে আনেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং তার গণপরিষদ এর সদস্যপদ স্থগিত করে।যদিও তাকে গ্রেফতার করতে পাক সরকার ব্যর্থ হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের এই অকুতোভয় নেতা যুদ্ধের শেষধাপে দিনাজপুর এবং ঠাকুরগাঁও শহরে চূড়ান্ত আঘাত হানার পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য শিলিগুড়ির ভারতীয় ক্যান্টনমেন্টে তিনি জেনারেল জগজিত সিং আরোরার সঙ্গে মিলিত হন। তারই ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতা সংগ্রামের এই অকুতোভয় নেতা মিত্রবাহিনীর অগ্রগামী দলের সঙ্গে ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করে স্বাধীন বাংলার গৌরবের পতাকা উড়িয়ে দেন। এছাড়া ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর বিজয় উৎসবে দিনাজপুর গোরে শহীদ ময়দানে তার ভাষণটি ছিলো অগ্নিঝড়া, আবেগঘন, অনুপ্রেরণার সমন্বয়ে।

স্বাধীনতা উত্তর ১৯৭২ সালে এমসিএ (কনস্টিটিউশনাল অ্যাসেম্বলি অব বাংলাদেশ) হিসেবে সংবিধান প্রণয়নে নিয়োজিত হন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ১৬৭ জন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) এবং ৩০০ জন প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) মিলিয়ে সংবিধান তৈরি করার প্রত্যয়ে এমসিএ (কনস্টিটিউশনাল অ্যাসেম্বলি অব বাংলাদেশ) হিসেবে মর্যাদালাভ করেন।
বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, মোঃ আজিজুর রহমান তাজউদ্দিন আহমদ, মানিক মিয়াসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বিভিন্ন সময়ে এসব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার অনেক ছবিও আছে।

১৯৭৩ এর নির্বাচনের প্রাক্কালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে অ্যাডভোকেট মোঃ আজিজুর রহমান আওয়ামী লীগের  অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান এবং তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন সেখানেই সমাপ্ত হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অন্যতম কাণ্ডারি এবং বৃহত্তর দিনাজপুরের সূর্যসন্তান, সর্বস্বত্যাগী অকুতোভয় এই জননেতা ১৯৯১ সালের ৪ ডিসেম্বর ঘাসিপাড়াস্থ এক জীর্ণ ভাড়াবাড়িতে নিভৃতে বিনা চিকিৎসায় ইন্তেকাল করেন । দিনাজপুর শহরে সোনাপীর গোরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ
১.দিনাজপুরের ইতিহাস সমগ্রঃ মেহরাব আলী
২.দৈনিক জনকণ্ঠ
৩.দৈনিক যুগান্তর
৪.বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম

Print Friendly, PDF & Email