15 Dec 2017 - 04:32:13 am

ডিজিটাল বাংলাদেশ ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

Published on বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০১৭ at ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

ডিজিটাল কথাটি : অন্তর্নিহিত তাৎপর্য স্পর্শ না হলেও  ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দযুগল ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছে। ইংরেজী ডিজিট শব্দের বিশেষণ হলো ডিজিটাল । ডিজিটের বাংলা অর্থ অঙ্ক; এখানে অঙ্ক অর্থ গণিত শস্ত্র নয়। ব্যাপকভাবে ব্যবহার হওয়া দশমিক পদ্ধতির  গণনার দশটি অঙ্ক : ০ হতে ৯ এই দশটি অঙ্কের ভিত্তিতে  ডিজিটাল যন্ত্রপাতির বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব। বস্তুত কম্পিউটার, ক্যালকুলেটর, মোাবাইল ফোন সেট সহ সব ধরনের ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ০ এবং ১ এই দুইটি অঙ্কের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। আধুনিক সভ্যতা ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়াই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’- এর অর্ন্তনিহিত তাৎপর্য।

ডিজিটাল যুগ কি? তার সংজ্ঞাটি আমি নিজে না দিয়ে উইকিপিডিয়া থেকে তুলে ধরছি। ওখানে বলা হয়েছে, তথ্য যুগ যাকে সাধারণভাবে কম্পিউটার যুগও বলা হয়। সেটি হলো- ‘‘সেই সময় যখন যে কোন মানুষ স্বাধীনভাবে তথ্য আদান প্রদান করতে পারবে এবং জ্ঞানভান্ডারে অবাধে প্রবেশাধিকার পাবে। মনে করা হয়  কম্পিউটার প্রযুক্তির অসাধারণ ও দ্রুত বিকাশ এবং ইন্টারনেটের সামগ্রিক বিস্তারের জন্যই এ যুগটি প্রবর্তিত হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ : ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আমরা এক বাক্যে বলি ২১ শতকের সোনার বাংলা।  আবার কেউ কেউ বলেন, সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ। আমার ভাবনা, ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে সুখী, সমৃদ্ধ, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর দূর্নীতি, দারিদ্র ও ক্ষুধা মুক্ত বাংলাদেশ। যার সকল প্রকারের বৈষম্যহীন প্রকৃত পক্ষে সম্পুর্ণভাবে জনগণের রাষ্ট্র এবং যার মূখ্য চালিকা শক্তি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। এটি বাঙ্গালির উন্নত জীবনের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আকাঙ্খা । এটি বাংলাদেশের সকল মানুষের নূন্যতম মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর প্রকৃষ্ট পন্থা। এটি ৭১ স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপকল্প। এটি বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত বা দরিদ্র দেশ থেকে সমৃদ্ধ, উন্নত ও ধনী দেশে রূপান্তরের জন্য মাথাপিছু আয় বা জাতীয় আয় বাড়ানো অঙ্গীকার। এটি বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সোপান। এটি ২১ শতকের সোনার বাংলা।

               ডিজিটাল বাংলাদেশ এই ধারনাটির কথা যখন প্রথম প্রকাশিত হয়, সেই ২০০৭ সালে তখন অনেকেই এ কথা বলেছেন যে, আমরা বাংলাদেশ নামক দুনিয়ার দরিদ্রতম একটি দেশ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী গ্রহণ করছি। কিন্তু অন্য দেশগুলো কি করছে? আর কোন দেশের নামের সাথে তো  ডিজিটাল  শব্দ যোগ হচ্ছে না। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে যখন এটি বর্তমান সরকারের ইশতেহারে লেখা হয় ,তখনও আমরা এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। তখনও আমাদের কাছে সারা দুনিয়ার পুরো চিত্রটা ছিল না। শুধু জানতাম দুনিয়ার প্রায় সকল দেশই  তার নামে সাথে ইংরেজী ‘ই’ বর্ণটি যোগ করে সেই দেশটি তথ্য প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করার চেষ্ঠা করেছে। তারা ই-গভর্নমেন্ট, ই-কমার্স ইত্যাদি নামে কর্মসূচী নিচ্ছে। আমরা ই-স্তোনিয়ার কথা শুনেছিলাম, ই-শ্রীলংকার কথা শুনেছিলাম। কিন্তু আমেরিকা-ব্রিটেন, জার্মানী এই সব দেশের কোন কর্মসূচীর সাথে আমাদের কোন পরিচয় ছিল না। অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের দেশের ভাবনাটা একটু আলাদা। আমরা কেবলমাত্র তথ্য প্রযুক্তির কথা বলছি না। কেবল মাত্র একটি ডিজিটাল রূপান্তরের কথা বলছি না। আমরা বৈষম্য দূর করার কথা বলছি, রাষ্ট্রের চরিত্র বদলানোর কথা বলছি। একটি পুঁজিবাদ রাষ্ট্র যে তার জনগনের মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারে না। পুজিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো কে জনগনের রাষ্ট্রে রূপান্তরের কথা বলছি।

প্রাসঙ্গিক ভাবনায়  বিশ্ব এখন ডিজিটাল প্লানেট : সারা বিশ্বের দিকে তাকালেই খুব সহজেই আমাদের চোখে পড়বে যে, পুরো দুনিয়াটা এখন ডিজিটাল প্লানেট হতে যাচ্ছে। এর ফলে প্রচলিত সকল কিছু বদলে যাবে। এমনিতেই এটি স্বাভাবিক যে ,কালের বিবর্তনে, মানুষের জ্ঞানবৃদ্ধির ফলে  দুনিযার পরিবর্তন আসে। এক সময় যখন দুনিয়ার মানুষেরা কৃষি কাজে ব্যস্ত ছিল, তখন তাকে আমরা কৃষি যুগ বলেছি। শিল্পযুগের  শুরু থেকে সেই যুগ, দুনিয়ার বহু দেশে বদলে দিয়েছে তাদের  সমাজকাঠামো, অর্থনীতি, সমাজ, পরিবার ও  ব্যক্তিকে। ডিজিটাল যুগ দুনিয়াটাকে সেই শিল্পযুগ থেকে আরও  অনেক বদলে দিচ্ছে।

প্রাসঙ্গিক ভাবনায় বিশ্ব একটা র‌্যাডিক্যালি নিউ কলাচার: এই কালচার গড়ে উঠার পিছনে রয়েছে, কম্পিউটার গ্রাফিক্স, মানুষের যোগাযোগ  ও ইন্টার -একটিভ মাল্টিমিডিয়া। দিনে দিনে ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর এমন যন্ত্রাদি আসবে, যা একটি নতুন সভ্যতার বাহন হবে। দুনিয়ার সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ ডিজিটাল যন্ত্রে বুদ্ধিমত্তা প্রদান করা। আমরা বিষয়টি  দেরিতে বুঝলেও দুনিয়ার বহু দেশ এটি উপলব্দি করেছে অনেক আগেই।

প্রাসঙ্গিকতায় বিশ্ব এখন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ: এটিও এর মাঝে খুব স্পষ্ট হয়েছে যে, ডিজিটাল প্লানেট বা ডিজিটাল বাংলাদেশের কোনটিই চুড়ান্ত লক্ষ্য নয়। এটি একটি মধ্যবর্তী স্তর ,যে সময় একটি ডিজিটাল রূপান্তর মাত্র। বস্তুত ডিজিটাল প্রযুক্তি একটি নতুন সমাজ ব্যবস্থা যা একটি নতুন সভ্যতার জন্ম নিচ্ছে। যাকে আমরা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বা ডিজিটাল সভ্যতা বলতে পারি। কোন সন্দেহ নেই আমাদের চারপাশের সকল কিছুই তখন জ্ঞানভিত্তিক হবে। সবচেয়ে বড় বিষয়টি হবে যে, এই সভ্যতার যে অর্থনীতি তা হবে জ্ঞানভিত্তিক। বিশেষজ্ঞরা এ অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসেবে যে সব জিনিসকে চিহ্নিত করেছেন সেই সব হলো বিশ্বায়ন, তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য বা জ্ঞান, নিউমিডিয়া  এবং যোগাযোগ।

বাংলাদেশের সমাজ তথ্য প্রযুক্তির প্রাসঙ্গিকতা: আমাদের হাজার বছরের লড়াইতে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সর্বশেষ স্তরটি তার কয়েকটি ঘোষণাই ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি। বাংলার স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক যে ঘোষণা, তাতেই ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলা আছে। আমরা যদি ১৯৭১ সালের ২রা মার্চে ঘোষিত স্বাধীনতার ইশতেহার, ০৭ ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ, ২৬ মার্চ ১৯৭১ এ জাতির জনকের স্বাধীনতা ঘোষণা ,১৭ ই এপ্রিল ১৯৭১ এর মুজিব নগর সরকারের ঘোষণা এবং ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রতি নজর দিই ,তবে বাঙালির রাষ্ট্রচিন্তা, মুক্তির স্বপ্ন, জনগনের রাষ্ট্র, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজ তন্ত্রেও যে রূপরেখাটি পাবো তাতেই ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল বিষয় নিহত আছে। শুধুমাত্র একটি বিষয়ই আমরা যুক্ত করছি যে, আমাদের স্বাধীনতার সেই লক্ষ্য অর্জন করার জন্য এখন আমাদেরকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের সমাজ  ডিজিটালে রূপান্তর করবো এবং  একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করবো।

ডিজিটাল বাংলাদেশ ও তার স্বপ্ন: কোন রাজনৈতিক দল এ শ্লোগান দিক বা না দিক ২০০৮ সাল থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এ শ্লোগানটি ঠাঁই পেয়েছে। যতই দিন যাবে, ততই এর গুরুত্ব বাড়তে থাকবে। তবে বাস্তবতা হলো আমাদের সকলের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন খুব স্পষ্ট নয়।সকলের  কাছে ডিজিটাল  বাংলাদেশকে কেবলমাত্র একটি আইসিটি কেন্দ্রীক বলে মনে হয়। ক্যানভাসটা আরও অনেক বড়। এটি একটি নতুন সমাজ গড়ে তোলার হাতিয়ার। মানব সভ্যতাকে  তৃতীয় যুগে পৌঁছে দিতে আমাদের এই ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দটি সে কারণে শুধুমাত্র আইসিটির জন্য উচ্চারণ করা হয় না, এটি একটি স্বপ্ন। এ স্বপ্নটা আইসিটির চেয়েও অনেক বড় বলে আমি মনে করি। ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে, বাংলাদেশের সকল মানুষর একটা বিশাল স্বপ্নের নাম।

প্রাসঙ্গক্রমে নতুন প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ: ১৯৭১ সালে আমরা যখন একটি নতুন পতাকা, নতুন জাতীয় সংগীত এবং একটি নতুন স্বাধীন দেশের কথা ভেবেছিলাম তখনও নতুন প্রজন্ম বা আগামী প্রজন্ম বা আমাদের সন্তানদের জন্য সেই যুদ্ধটাকে উৎসর্গ করা হয়েছিল। যুদ্ধটাও করেছিলাম আমরা তখনকার নতুন প্রজন্মের মানুষেরাই। সেই যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি।  দেশটা  জন্মেছে নতুন প্রজন্মের জন্যই। এবারও যখন আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, তখন সেটি অবশ্যই আমদের নতুন প্রজন্মের জন্য  বা আগামী দিনের  বাংলাদেশের মানুষের জন্যই দেখেছি।

প্রাসঙ্গিক চিন্তায় জনগনের রাষ্ট্র: আমরা ভাবী  ,সারা দেশে দরিদ্র সীমার নিচে কোন মানুষ বাস করছে না। নূন্যতম স্বচ্ছল মানুষ সবাই রয়েছে। অন্ন ,বস্ত্র ,বাসস্থান ,চিকিৎসা, শিক্ষা, নিরাপত্তা কোনটাতেই কোন মানুষের কোন সঙ্কট নেই। সবাই তার নূন্যতম প্রয়োজন মেটাতে পারছে। অন্নের অভাবে পড়ছে না কোন মানুষ। সারা দেশে থাকছে না কোন বস্ত্রহীন মানুষ। সরকার সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। যেটাই আমাদের জনগনের রাষ্ট্র।

প্রাসঙ্গিক ভাবনায় ডিজিটাল সংসদ, ডিজিটাল রাজনীতি, ডিজিটাল সরকার ও প্রশাসন ঃ আমাদের স্বপ্ন জাতীয় সংসদ হয়েছে ডিজিটাল । সকল কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। ডিজিটাল উপায়ে কর্মকান্ড প্রকাশিত হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সরকার হয়েছে ডিজিটাল। যা দক্ষ ও জনগণের সেবক। সরকারের সকল তথ্য নাগরিকরা যে কোন সময় যে কোন স্থান থেকে ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে জানতে পারছে। কোন তথ্য পাওয়া হোক বা না হোক কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন বা অন্য কোন ডিজিটাল যন্ত্রে ডিজিটাল উপায়ে নাগরিকরা সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারছে। এমনি হোক ডিজিটাল সরকার ও প্রশাসন।

প্রাসঙ্গিক দাবিতে যাতায়াত ও যোগাযোগ: যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার হোক সর্বত্রই। যেখানে থাকবে না হাতের ছোঁয়া। যেখানে থাকবে কম্পিউটার, মোবাইল এর ভূমিকা।

কৃষি ব্যবস্থায় ডিজিটাল: কৃষক ঘরে বসে সুবিধা পাবে মোবাইল ফোনে তথ্যাদি, জানবে কৃষি পণ্যের বাজার, ডিজিটাল যন্ত্রে।

ভূমি ব্যবস্থা: ভূমি ব্যবস্থায় থাকবে। ই-ফাইলিং, ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যাপ, অনলাইন আবেদন সহ ইত্যাদি।

ডিজিটাল কমার্স: ২০২১ সালের বাণিজ্যের নাম হয়েছে ডিজিটাল কমার্স। শো রুম, শপিং মল, উইন্ডো শপিং বা সামাজিকতার জন্য এসব স্থান ব্যবহৃত হলেও বেশির ভাগ মানুষ ইন্টারনেটেই কেনা কেটা সেরে নিচ্ছেন। প্রতিটি দোকান বা সংস্থার নিজস্ব ওয়েব সাইড রয়েছে এবং তারা ইন্টারনেটে  লেনদেন করছে। যেটা বর্তমানে ডিজিটাল কমার্স হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে।

স্বাধীন মিডিয়া ডিজিটাল: পত্রিকাগুলোর সকালের সংস্করণ প্রকাশিত হলেও ২৪ ঘন্টার তাজা খবর আমরা পেয়ে যাচ্ছি। মোবাইল ফোনে স্যাটেলাইট টিভি দেখছে। ইন্টারনেটে চ্যানেল দেখা যাচ্ছে। নাটক কবিতা, চলচ্চিত্র বানিয়ে তাতে মিউজিক দিতে পারছে। যা ডিজিটাল স্বাধীন মিডিয়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

ডিজিটাল টেলিমেডিসিন: ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম পদক্ষেপ হচ্ছে টেলিমেডিসিন সুবিধা। এর ফলে সারা বিশ্বের উন্নতমানের সব হসপিটালের ডাক্তার অর্থাৎ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের দ্বারা গ্রামের লোকেরা তাদের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে ঘরে বসেই।
ডিজিটাল লাইফ স্টাইল: মানুষের জীবন ধারায় ইন্টারনেট হচ্ছে অপরিহার্য জিনিস। দেশের যে কোন স্থানে ডিজিটাল যন্ত্র দিয়ে ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে। জীবনের সকল কাজের কেন্দ্র হচ্ছে ইন্টারনেট, ফেসুবুক, মাই স্পেস, হাই-৫, টুইটার ইত্যাদি সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জীবন ধারা পরিবর্তন ঘটছে।

ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা: প্রতিটি মানুষের জন্য মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা বাধ্যতামূলক হয়েছে এবং সরকার সেই শিক্ষা বিনামূল্যে প্রদান করছে। শিক্ষার ন্যূনতম এই স্তরটিতে কোন বৈষম্য থাকছে না। স্কুল হোক, মাদরাসা হোক সবার জন্যই এক ধারার পাঠ্য বিষয় থাকছে। শহর-গ্রাম, ছোট-বড়, ধনী-গরীব সকলের জন্য নূন্যতম শিক্ষার একটাই ধারা প্রবাহমান থাকছে। দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজের কম্পিউটার বা অন্য কোন ডিজিটাল যন্ত্র আছে। ক্লাশরুমগুলো কম্পিউটার বা ডিজিটাল যন্ত্র দিয়ে ভরা আছে। শিক্ষক শিক্ষিকারা ডিজিটাল যন্ত্রে সজ্জিত আছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসের সকল স্থানে আছে ইন্টারনেট । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থপনা হচ্ছে ইন্টারনেট। পাঠাগারগুলো হয়ে গেছে ডিজিটাল। সকল পাঠ্য পুস্তক ইন্টারনেটে বা ডিজিটাল ফরম্যাটে পাওয়া যাচ্ছে। হতে পারে এরই মাঝে সকল বই, মুল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষক-শিক্ষিকা নির্দেশিকা ইত্যাদি ইন্টার একটিভ মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যরে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকরা নিজেরা তৈরী করেছেন সফটওয়্যার। ছাত্র-ছাত্রীরা ও তাদের পাঠ নিজেরা ডিজিটাল উপায়ে পেশ করছে। বাড়ীতে বসে ক্লাস করে যাচ্ছে। এমনকি বিদেশে বসে ক্লাশ করা যাচ্ছে। দেশে বসে বিদেশের ক্লাসেও যোগ দেয়া যাচ্ছে। পরীক্ষা দেয়া যাচ্ছে ঘরে বসে। ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে পরীক্ষা দেওয়ার পর পরই। সার্টিফিকেট কোন জরুরী বিষয় নয়। যে কেউ ইন্টারনেটে গিয়ে জেনে নিতে পারছে কার কি ফলাফল।

এখন যে টা দরকার ...:

সচেতনতা বৃদ্ধি: ডিজিটাল প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি সাধনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নিজের অবস্থান সমুন্নত রাখতে প্রতিটা বিভাগ, দপ্তর, মন্ত্রনালয় কে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফলে, সংশ্লিষ্ট সবাইকে  আরও অধিকতর সচেতন হতে হবে। ব্যবহারিক কর্মকান্ড দৈনন্দিন কর্মসূচী ও জীবন পরিচালনায় সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
সক্রিয় অংশগ্রহণ: দেশের প্রত্যেক নাগরিকের প্রতিযোগিতার বাজারে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার নিমিত্ত্বে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ডিজিটালাইজেশনের সুবিধাটা ভোগ করার একান্ত জরুরী।
আন্তরিকতা বৃদ্ধি: সবার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিটা ক্ষেত্রের সুবিধা ভোগ করার জন্য আন্তরিকতার বিকল্প কিছু নেই। যার প্রেক্ষিতে আন্তরিকতার নূন্যতম ঘাটতি থাকলে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন অধরায় থেকে যাবে। তাই আন্তরিকতা বৃদ্ধি আবশ্যক।  
কাজে রূপান্তর: একথা বলা যাবে না যে, বিগত সময়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য ব্যাপক কাজ কার হয়েছে। তবে একেবারে কিছুই হয় নি সেটিও বলা যাবে  না। আমরা এই সরকারের আমলে কিছু কর্মপরিকল্পনাকে কাজে রূপান্তরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করছি। সরকারের আইসিটি টাস্কফোর্সকে সক্রিয় করার হয়েছে। সরকার মোবাইল ব্যাংকিং এর অনুমোদন দিয়েছে। অনলাইন পেমেন্ট এবং অনলাইন ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সরকার বাংলা গভঃ নেটওয়ার্ক প্রকল্পের হাজ শুরু করেছে। ফলে সরকারের সকল  অংশ  নেটওয়ার্কের  আওতায় আসবে। ইনফো সরকার নামক আরেকটি নেটওয়ার্ক প্রকল্প সরকার বাস্তবায়ন করছে ,ফলে সৃষ্টি হয়েছে সরকারের ওয়ান স্টপ সেবা ।  
ডিজিটাল ডিভাইড এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ক সর্তকতা গ্রহণ :  জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠার বা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে একট প্রচন্ড ভয়ের জায়গা হলো ডিজিটাল ডিভাইড। সারা দুনিয়োতেই ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে ডিজিটাল ডিভাইড তৈরী ও সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব হিসেবে বিদ্যমান ডিজিটাল ডিভাইড আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ সুবিধাভোগী, শোষক গোষ্ঠী, ধনী বা বিশেষ সম্প্রদায় গোষ্ঠীর জন্য আরও কষ্টকর হতে পারে।এই বৈষম্য শহর- গ্রাম, ধনী -দরিদ্র, শিক্ষিত- অশিক্ষিত, নারী- পুরুষ  এমন অনেক ভাগেই বিভক্ত হতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অন্দোলন করার সময় বারবার আমার এই শঙ্কা হচ্ছে যে, এর ফলে আমরা না দরিদ্রকে আরও দরিদ্র, শোষিতকে আরও শোষিত এবং নির্যাতিতকে আরো নিয়াতিত করে ফেলি। সে জন্যই ডিজিটাল ডিভাইড  রাখাটা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটা বড় লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অগ্রাধিকার হতে হবে।

                              কখনও কখনও এমনটি মনে হতে পারে যে, এটি হয়তো উচ্চাভিলাসী, অলীক বা বাস্তবায়ন অযোগ্য একটি কল্পনার ফানুস। ভাবলেই সব হবে, স্বপ্ন দেখলেই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন  করা যাবে এমনটি নাও হতে পারে কিন্তু চেষ্টা করলে সেটি হতেও পারে। আসুন না সবাই মিলে স্বপ্নটা দেখি। শুনেছি সকলে মিলে কিছু চাইলে সেটি পাওয়া যায়।ডিজিটাল বাংলাদেশ ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

লেখক:  সেলিম রেজা,
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা, হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।

Print Friendly, PDF & Email