25 Nov 2017 - 12:38:09 am

ফেসবুকে পরিচয় অতঃপর প্রতারণার ফাঁদে লাখ টাকা খোয়া : র‌্যাবের হাতে আটক-৩

Published on শুক্রবার, মার্চ ২৪, ২০১৭ at ২:৪০ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক: বিদেশীদের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রথমে ফেসবুকে বন্ধুত্ব সৃষ্টি। তারপর বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতা। বন্ধুত্ব থেকে বিশ্বস্ততা অর্জন। এরপর বিদেশ থেকে বাংলাদেশী ফেসবুক বন্ধুর জন্য উপহারসামগ্রী পাঠানোর টোপ দিয়েই প্রতারণা শুরু। আর ওই উপহারসামগ্রীর নামে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে লাখ লাখ টাকা খোয়াচ্ছেন ভুক্তোভোগীরা।

এ চক্রের সদস্যরা শুধু ফেসবুকেই নয়, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ইত্যাদি সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে টার্গেটেড ব্যক্তির কাছে নিজেদের আমেরিকা, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড অথবা ইউরোপের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেয়। চক্রটির প্রতারণার ক্ষেত্রে কিছু নারী সদস্যও কাজ করেন। টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে অনেক সময় নারী দিয়েও টোপ ফেলে প্রতারকরা। বন্ধুত্ব ও বিশ্বস্ততা অর্জন করার পর তারা বিভিন্ন কৌশলে টার্গেটেড ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সুকৌশলে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎকারী এমন একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আফজাল আহম্মেদ (৩৩), শরীফ আলমগীর (৪৫) ও শরীফুল আহম্মেদ ওরফে মোহন (২৩)। গত বুধবার মধ্য রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের পশ্চিম গেটের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-২।
র‌্যাব-২ এর অপারেশন অফিসার এএসপি ফিরোজ কাউছার জানান, গত ১৫ মার্চ এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) র‌্যাব ২-এর ক্যাম্পে এসে অভিযোগ করেন, গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি ফেসবুকের মাধ্যমে টমসন স্মিথ নামের এক স্কটিশ ভদ্রলোকের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। এরপর তার সাথে হোয়াট অ্যাপসের মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় কথাও হয়। বন্ধুত্বের সূত্রে টমসন স্মিথ তাকে স্কটল্যান্ড থেকে কিছু উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছেন বলে জানান। গত ১২ মার্চ, মিন-রো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের একজন মোবাইল ফোনে ওই অভিযোগকারীকে জানান, তার নামে একটি গিফট বক্স এসেছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাবদ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। পরের দিন ওই টাকা চেকের মাধ্যমে জমা দেন। কিন্তু একই দিন মিনো-রো ট্রেডের একই প্রতিনিধি মোবাইল ফোনে জানান, গিফট বক্স নিতে হলে এর ট্যাক্স (কর) বাবদ আরো ৯৭ হাজার ১৯৯ টাকা দিতে হবে। সেই অনুযায়ী চেকের মাধ্যমে এই অর্থও টাকা জমা করেন তিনি।
র‌্যাব জানায়, ওই দিনই সন্ধ্যায় আবার একই নম্বর থেকে বলা হয়, অ্যান্টি-টেররিজম ও মানিলন্ডারিং থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য আরো চার লাখ ৯৫ হাজার ৭০০ টাকা পাঠাতে হবে। অভিযোগকারী গত ১৪ মার্চ ব্যাংকে এই অর্থও টাকা জমা দেন। একই নম্বর থেকে চতুর্থবার বলা হয়, পাঠানো গিফট বক্সের স্ক্যান রিপোর্টের তথ্যে দেখা যায়, এর ভেতরে অনেক মূল্যবানসামগ্রী রয়েছে। এগুলোর কিয়ারেন্স বাবদ আরো দুই লাখ ৮৯ হাজার ৩৫০ টাকা পাঠাতে হবে। তখন অভিযোগকারী গিফট বক্সের অবস্থান জানতে চাইলে বলা হয়, পরে জানানো হবে।

এ অবস্থায় প্রতারক চক্রের আচরণ এবং গিফট বক্সের সঠিক ঠিকানা না জানানোর কারণে বিষয়টি অভিযোগকারীর কাছে সন্দেহজনক বলে মনে হয়। এ কারণে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি র‌্যাব ২-এর শরণাপন্ন হন। র‌্যাবের একটি দল সুকৌশলে জমা করা প্রতারকদের সাথে যোগাযোগ করে এবং মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের পশ্চিম গেট থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

এএসপি ফিরোজ কাউছার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তাদের এই কাজে আরো অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচ-সাতজন প্রতারক জড়িত। তারা প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, প্রতারণার ক্ষেত্রে তারা ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের আমেরিকা, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড অথবা ইউরোপের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের এ প্রতারণার ক্ষেত্রে কিছু নারী সদস্যও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বন্ধুত্ব ও বিশ্বস্ততা অর্জন করার পর তারা বিভিন্ন কৌশলে লক্ষ্য করা ব্যক্তির কাছ থেকে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।-নয়া দিগন্ত

Print Friendly, PDF & Email