22 Nov 2017 - 11:25:22 am

ইকোফেমিনিজম ও এক অবহেলিত নারীর গল্প – রক্তিম মিলনের লেখা

Published on বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৭ at ২:০২ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

রক্তিম মিলন: ইকো শব্দটির অর্থ হচ্ছে নিসর্গ। ফেমিনিজম বহুল পরিচিত শব্দ। ফেমিনিজম এর অর্থ হল নারীবাদ। নারীর ন্যায্য অধিকার আদায় সম্বলিত মতবাদ এবং নারী অধিকার আদায়ের আন্দোলনকারীদের মতাদর্শ নারীবাদ বা ফেমিনিজম। ইকোফেমিনিজম অর্থ হল নিসর্গ নারীবাদ। প্রকৃতির সমার্থক শব্দ নিসর্গ। প্রকৃতিতে মানুষের আধিপত্য প্রকৃতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নারীর প্রতি পুরুষ আধিপত্য নারীকে নিয়ে যাচ্ছে ধবংসের দিকে। প্রকৃতিকে রক্ষা করার নিমিত্তে যে সবুজায়ন চলছে সেটি সবুজ আন্দোলন। নারীকে রক্ষা করবার আন্দোলনের ইতিহাস খুব পুরনো নয়। সময়ের হিসেবে মাত্র দুই শতক পেরিয়েছে। পরিবেশ রক্ষার ন্যায় কোমল নারীকে রক্ষার আন্দোলনের তাত্ত্বিক নাম ইকোফেমিনিজম।ইকোফেমিনিজম ও এক অবহেলিত নারীর গল্প - রক্তিম মিলনের লেখা
নারীবাদী লেখক, সাহিত্যিক, বিদ্বৎ সমাজ মনে করেন, নারী সুযোগ পেলে দর্শন, কলা, বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি সব অঙ্গনে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে। নারী প্রাণ তোষণ করে, প্রাণ পালন, প্রাণ সৃষ্টি করে। কিন্তু এই সমস্ত যন্ত্রণা থেকে তাঁর মুক্তি পাবার অধিকার আছে।
চলচিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ অপু বিশ্বাস, শাকিব খানের ঘটনা আমাকে নাড়া দিয়ে গেল। চলচিত্র অঙ্গনে উভয়ই সুপরিচিত। কিন্তু অধিকারের প্রশ্নে নারী হওয়ায় অপু বিশ্বাস খানিকটা বেকায়দায়। কারণ সে নারী।
তাঁদের বিয়ের হবার পরও মিডিয়া সেলিব্রেটি হওয়ার কারণে বহুদিন খবরটি গোপন থাকে। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় অপু বিশ্বাস। সন্তান হবার পরও সে প্রকাশ্যে আসে না। তাঁর ভাবনায় শাকিব খানের ইমেজ ও ক্যারিয়ার, সেই সাথে শাকিব খানের চাপ। পর্দার আড়ালে থাকতে থাকতে একঘেয়ে জীবনকে সে মেনেই নিয়েছিল। কিন্তু নিপীড়ন আর সন্তানের অধিকার প্রশ্নে সে চুপ থাকতে না পেরে চ্যানেল ২৪ এ সমস্ত কথা বর্ণনা করে দর্শককে জানিয়েছে (১০ এপ্রিল ২০১৭, এক্সক্লুসিভ অপু)। সকলে সেই কষ্টের কথা শুনেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী শাকিব খান তাঁদের ছেলের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেবে কিন্তু অপু বিশ্বাসকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেবে না।
সিনেমায় এ রকম ঘটনা বহু দেখেছি। স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে দেবার পরও সন্তানের প্রতিশোধ স্পৃহা সিনেমার দৃশ্য একটি হ্যাপি এন্ডিংয়ের দিকে যায়। সন্তান মিলিয়ে দেয় বাবা-মাকে। শাকিব খানও বোধ হয় এ রকম সিনেমায় অভিনয় করেছে। কিন্তু রুপালি পর্দার গল্প বাস্তবে প্রতিফলিত হবে কি না সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নিকট ভবিষ্যতই বলে দিবে কি হবে পরিণতি। তবে আপাত ঘটনা পুরো সমাজকে নাড়া দিয়ে গেল।
ক্যারিয়ারগত জীবনে, গ্লামারাস জীবনে, পূজিঁর ব্যবসায় দু‘জনই সফল। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে অপু বি্বোস কি সিনেমা শিল্পে পণ্য হয়ে গেল? শাকিব খান তাঁর প্রয়োজনে অপু বিশ^াসকে বিয়ে করলেন। সন্তানের জন্মদানের কার্য সম্পাদন করলেন। প্রয়োজন শেষে তাঁকে আস্তাকুড়ে ছুড়ে মারতেও দ্বিধাবোধ করলেন না। কিন্তু নিসর্গনারীবাদীরা মনে করেন, জুটির এক পক্ষ দুর্বল বলে অন্যপক্ষ তাঁকে শাসন ও পরিচালনা করতে পারে না। হেনরিক ইবসেনের বিখ্যাত নাটক ডলস হাউসে দেখা যায় নাটকের শেষ অঙ্কে নোরা তাঁর স্বামীকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে নিজস্ব স্বাধীনতা খুঁজতে। অপু বিশ্বাসও বাস্তবের জীবন পর্দায় তাই করল। সে তাঁর স্বামী শাকিব খানকে ছেড়ে সন্তানকে নিয়ে নতুন জীবন গড়তে চাইল। ভবিষ্যত তাঁর সুখকর হোক বা না হোক সে নোরার মত এক প্রতিবাদ  রচনা করল। সমস্ত (কা)পুরুষদের চপেটাঘাত করল।
সকল তত্ত্বই প্রেক্ষাপট নির্ভর। অপু বিশ্বাসের প্রতিবাদও একটি প্রেক্ষাপট রচনা করল। নারী প্রাণ সৃষ্টি করতে পারে (সন্তান জন্ম দিতে পারে)। প্রাণ পালনও করতে পারে। সে তাঁর সন্তানের দায়িত্ব একাই নিতে চায়। আমাদের সমাজে সিঙ্গেল মা খুব একটা নেই। অপু বিশ্বাস পরবর্তী জীবনে সিঙ্গেল থাকুন আর নাই থাকুন তাঁর সন্তান বেড়ে উঠলে সে তাঁর বাবাকে ঘৃণাই করবে। সমাজও খুব সহজে বিষয়টি ভুলবে না।
মিডিয়া আপাতত মুখরোচক খবরের স্বাদ বাড়াবে। কিন্তু অপু বিশ্বাস যেন আর পণ্য হয়ে না ওঠেন। মিডিয়ার বাড়তি আর্কষণ, বাড়তি পপুলারিটি পেতে যেন বাড়তি কিছু না করেন। তাহলে মা হিসেবে, নারী হিসেবে তিনি সবার সমর্থন ও সহযোগিতা পাবেন।
ইকোফেমিনিজমের মূল দর্শন হল প্রকৃতিতে যে দূষণ চলছে তাতে মানব অস্তিত্ব বিপন্ন, কর্পোরেট জগতে কিংবা অন্যত্র পুরুষ আধিপত্য নারী-পুরুষ সমতায় ভারসাম্য নষ্ট করছে। প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকুক। নারী-পুরুষ সমতা বজায় থাকুক। নষ্ট পুরুষতন্ত্রের প্রতি ধিক্কার।

Print Friendly, PDF & Email