21 Nov 2017 - 03:00:42 am

মেরাজুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা

মহানবী (সা.) এর মেরাজ বৈজ্ঞানিক মোজেজা : ভাষা সৈনিক গোলাম সারওয়ার খান

Published on মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৫, ২০১৭ at ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

 মহানবী (সা.) এর মেরাজ বৈজ্ঞানিক মোজেজা : ভাষা সৈনিক গোলাম সারওয়ার খানপ্রেসবিজ্ঞপ্তি: বাংলাদেশ ন্যাপ সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব গোলাম সারওয়ার খান বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষের হেদায়েতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল এ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। নবীদের নবুয়তের দাবির সত্যতার প্রমাণে তাদের তিনি অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছেন। শরিয়তের পরিভাষায় যাকে বলে মোজেজা।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.) যেহেতু সর্বশেষ নবী ও রাসুল, তার পরে কেয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবী বা রাসুল আগমন করবেন না। তাই তার কেয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সব উম্মতের ওপর মহানবী (সা.) এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণকারী একটি মোজেজা যৌক্তিকভাবেই প্রয়োজন ছিল। কারণ আল্লাহ তায়ালা জানেন, তার নবীর উম্মতরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতি করবে। তারা চাঁদে যাবে। মঙ্গলগ্রহে যান পাঠাবে। তারা গতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। তাদের যুগ হবে গতির যুগ। তাই আল্লাহ তায়ালা তার নবী (সা.) কে এমন একটি বৈজ্ঞানিক মোজেজা দান করলেন যার মাধ্যমে তিনি তার নবীকে কেয়ামত পর্যন্ত আগত সব বিজ্ঞান, সব গতি ও আবিষ্কারকে পরাস্ত করে দিলেন। তাঁর নবীকে করলেন সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ। মহানবী (সা.) এর ইসরা ও মেরাজ ছিল তেমনি একটি বৈজ্ঞানিক মোজেজা।

গোলাম সারওয়ার খান বলেন, বর্তমান গতির যুগের বিজ্ঞানীরা বা মহাকাশ বিজ্ঞানীরাও যে বিষয়ে চিন্তা করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন। কারণ এটা মূলত সৃষ্টিকর্তার কাজ। তার কোনো মাখলুক এর হিসাব মেলাতে পারবে না। তিনি এর মাধ্যমে স্বীয় বন্ধুকে জগতের সবার ওপর মর্যাদা দিয়েছেন।

সোমবার বিকালে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে পবিত্র মেরানুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে প্রবীণ রাজনীতিক গোলাম সারওয়ার খান উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া'র সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফারুক হোসেস. যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ শাহজাহান সাজু, মোঃ নুরুল আমান চৌধুরী, সম্পাদক মোঃ কামাল ভুইয়া, নগর সদস্য সচিব মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক আনছার রহমান শিকদার, জিএম সাহেব আলী, অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম, যুব ন্যাপ যুগ্ম সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান পলাশ, আবদুল্লাহ আল কাউছারী, জাতীয় ছাত্রকেন্দ্র সমন্বয়কারী সোলায়মান সোহেল প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন,  মিরাজের ঘটনা থেকে মুমিন খুঁজে পায় সঠিক পথের দিশা, লাভ করে আল্লাহর অপার অনুগ্রহ ও দ্বিনের অবিচলতা। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) যে আল্লাহ তাআলার কাছে কত দামি ও মর্যাদার অধিকারী, তা এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। তাঁকে এমন মর্যাদা দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো নবীকে দান করা হয়নি। এ ঘটনার ফলে মুমিনের ঈমান মজবুত হয় এবং হৃদয়ে বিশ্বনবী (সা.)-এর ভালোবাসা সুগভীর হয়।

তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর মেরাজ সশরীরে হয়েছে। তাঁর দেহ ও আত্মা উভয়ই মিরাজে গমন করেছে। কেননা আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবী (সা.)-এর মেরাজ গমনকে তাঁর এক বিশেষ মুজিজা হিসেবে গুরুত্ব সহকারে কোরআন মজিদে বর্ণনা করেছেন। যদি মেরাজ গমন কেবল আত্মিক হতো, তবে তা তার মুজিজা হতো না। কেননা মুজিজা কখনো গাইরে নবী থেকে প্রকাশ পেতে পারে না। অথচ বেহেশত, দোজখ, আরশ, কুরসি পর্যন্ত কোনো কোনো আউলিয়াও আত্মিকভাবে সফর করতে পারেন। অবশ্য কোনো অলি সশরীরে তথায় গমন করতে অক্ষম। সুতরাং মেরাজ গমন সশরীরে সংঘটিত হয়েছে বলে স্বীকার করলেই তা মুজিজা হিসেবে গণ্য হয়।

তিনি আরো বলেন, কোরআন  মজিদে বর্ণিত আয়াতের শব্দের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে মহানবী (সা.)-এর মেরাজ গমন সশরীরেই সংঘটিত হয়েছিল। যেমন—‘সব দুর্বলতা থেকে পবিত্র ওই আল্লাহ, যিনি নিজের (সর্বশ্রেষ্ঠ) ‘আবদ’-কে—অর্থাৎ বান্দাকে রাতারাতি মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। ’ এখানে বিশ্বনবীর নাম মুবারকের স্থলে আল্লাহর বিশেষ আবদ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মহানবীর একটি বিশেষণ। ‘আবদ’ শব্দের অর্থ হলো বান্দা, এই আবদ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ইবাদত থেকে। ইবাদত অর্থ বন্দেগি। রুহবিহীন দেহ ‘আবদ’ নয় এবং দেহবিহীন রুহও আবদ নয়। বরং আবদ হতে হলে রুহ ও দেহ দুটিই সম্মিলিতভাবে থাকতে হয়। কাজেই মিরাজের  ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা যখন আপন ‘আবদ’-কেই নিয়ে গেছেন বলে উল্লেখ আছে, তখন প্রমাণিত হয়েছে যে রুহ ও দেহ উভয়ই নিয়ে গেছেন।

 

Print Friendly, PDF & Email