17 Jan 2018 - 02:48:43 pm

চিরিরবন্দরে বোরো ধান কাটার উৎসব শুরু কৃষকের আতঙ্ক দুর্যোগের

Published on শনিবার, মে ১৩, ২০১৭ at ১১:৪০ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

চিরিরবন্দরে বোরো ধান কাটার উৎসব শুরু কৃষকের আতঙ্ক দুর্যোগের মোহাম্মাদ মানিক হোসেন চিরিরবন্দর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিন্তা নিয়ে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ছত্রাক জনিত নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুভার্ব চিরিরবন্দরে খুব একটা বেশী না পড়লেও ঝড়-বৃষ্টি আতঙ্কে রয়েছে হাজারো কৃষক। কারণ চিরিরবন্দরে মাঠে মাঠে এখন চলছে বোরো ধান কাটার উৎসব। আকাশের গুমটে ভাব যেন দূর হচ্ছে না। এতে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কায় রয়েছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১৮ হাজার ৮শত ৪৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। আর উপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার মেট্রিক টন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মঠে মাঠে সোনালি ধানের দোলা দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন নতুন ধানের উৎসব বিরাজ করছে। ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। কালবৈশাখী ঝড়ের আগেই কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসলকে ঘরে নিতে চান।তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আকাশে গুমটে ভাব কৃষককে বেশ চিন্তায় ফেলেছে। তারা শঙ্কায় আছেন কখন না জানি শিলা-বৃষ্টিতে তাদের সর্বনাশ ডেকে আনে।

সাতনালা ইউনিয়নের মাষ্টার পাড়া গ্রামের কৃষক শাহীনুর,নজরুল,মমিনুল,সুদান নশরতপুর ইউনিয়নের বেলাল, ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের ছমির, বাবলুসহ আরো অনেকে জানান, ছত্রাক জনিত নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুভাব প্রথম দিকে দেখা দিলে আমরা খুব চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু সঠিক সময়ে কৃষি উপ-সহকারীর দেয়া পেসক্রিপশন অনুযায়ী স্প্রে করে ব্লাস্ট সংক্রমন থেকে ধানক্ষেত অনেকটাই রোগ মুক্ত ছিলো। তারা আরো বলেন, তবে এবার ধানের পুরো মৌসুম জুড়ে আবহাওয়ার এ লুকোচুরি খেলা আমাদের শঙ্কিত করে তুলছে।

উপজেলার তেতুঁলিয়া এলাকার কৃষক রমজান আলী বলেন, এবছর তিনি ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন  ইতোমধ্যে এক বিঘা জমির ধানকাটা হয়েছে। কাটা ধান মাঠে শুকানোর জন্য বিছানো রয়েছে। কিন্তু এ বছর এমন বৈরী আবহাওয়ায় কখন ঝড়-বৃষ্টি ধেয়ে আসবে বলা মুশকিল। তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলের অধিকাংশ মাঠেই চলছে ধান কাটার উৎসব। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এসব ধান কৃষকের ঘরে উঠবে। তাই ঝড়-বৃষ্টি হলে কৃষকের ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। একই এলাকার কৃষক আশরাফ আলী জানান, আকাশে যে মেঘের অবস্থা বিরাজ করছে তাতে করে শিলা-বৃষ্টির আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, বোরো ক্ষেতে এবারে ছত্রাক জনিত ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব প্রথমে আংশিক ভাবে দেখা দিয়ে ছিলো। তবে কৃষি বিভাগের সকল উপ-সহকারীরা কৃষকের পাশে থেকে  লিফলেট ও প্রসক্রিপশন সহ সব রকমের পরামর্শে চিরিরবন্দরে এ রোগের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। আশা করি উৎপাদনে কোন প্রভাব পড়বে না । তিনি আরো বলেন, আবহাওয়ার এমন বিরুপ প্রভাবে সামনে বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষক বোরো আবাদে বেশ লাভবান হবেন।

 

Print Friendly, PDF & Email