22 Nov 2017 - 11:28:24 am

যত বড় জ্ঞানীগুণী পৃথিবীতে বড় হয়েছে, তারা কি বস্তা বোঝা বই মাথাই নিয়ে বড় হয়েছে?

Published on বুধবার, জুলাই ৫, ২০১৭ at ১১:১১ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email
জোছনা হক: এই নিছক শিক্ষাব্যবস্থা বর্জন করা হোক। আর যারা এই শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে তাদের থেকে ইতিহাস বা বিজ্ঞানের দু- একটা প্রশ্ন করে দেখুন পারবে কিনা!
 
যতো বড় জ্ঞানী, গুণী পৃথিবীতে বড় হয়েছে তারা কি বস্তাবোঝা বই মাথায় বহন করে পড়ে এই যোগ্যতা অর্জন করেছে? শিশু-কিশোর গুলো হাঁফিয়ে উঠেছে বইয়ের বোঝা আর এক, এক সাবজেক্টে কোচিং, টিউশন, এক্সটারা ক্লাস করতে করতে। 
 
আমাদের গার্ডিয়ানদের ও সচেতন হওয়া উচিত।বাচ্চাদের পড়ার নামে এক্সটারা টর্চার করে ওদের মানুষিক ভারসাম্য নষ্ট না করে ওদের মতো পড়তে দেওয়া উচিত। আর বাংলাদেশে এই নিছক শিক্ষা ব্যবস্থাকারীদের প্রতি সবাই আওয়াজ তুলে মানমম্মত শিক্ষার ব্যবস্থার দাবী জানানো হোক। 
 
যত বড় জ্ঞানীগুণী পৃথিবীতে বড় হয়েছে, তারা কি বস্তা বোঝা বই মাথাই নিয়ে বড় হয়েছে?
 
প্রশ্নের ধরন দেখুন, আপনাকে অনেক কিছুই নতুন করে  বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পড়তে হবে যেমন -সাধারণ জ্ঞান। যা ইন্টারের বিষয়গুলোতে নেই। এক বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজিতে প্রশ্ন হবে, অন্য গুলোতে বাংলায়। এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স থাকবে, যদিও সারাজীবন বাংলায় পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তা আবার ইংলিশেই উত্তর দিতে হবে,  প্রশ্ন হবে ইংলিশে।
 
নতুন বাংলা বইয়ে ইন্টার পড়ে, প্রশ্ন হয় তাদের জন্য পুরনো বইয়ের অধ্যায় থেকে। এটি কি প্রশ্ন খুব উচ্চমানের করার জন্য এই ব্যবস্থা। যেটা কোনো কালেই পাঠ্যপুস্তকের পড়ার অন্তর্ভুক্ত ছিলো না, সেটা প্রশ্নে দিয়ে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া এর উত্তর কেউ দিতে পারবে না। এটা প্রশ্নকর্তা এক ধরনের অর্জন অথবা ব্যক্তিগত আনন্দ ও বলতে পারেন। 
 
সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিষয়ে পড়ানো হবে তবুও পরীক্ষা নেয়ার পদ্ধতিতে অনেক রকমের নকশার প্রয়োজন। এইখানে ছাত্র-ছাত্রী বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই।
 
এসবের জন্য প্রয়োজন বইয়ের বাহার। সব বই কিনতে কিনতে হয়তো ২০০০-৩০০০ টাকা খরচ হবে। 
 
এরপর চাইলে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে ৫-১২ হাজার টাকা উজার করতে পারেন। তবুও যদি সন্তুষ্ট না হোন আলাদা ব্যাচে কোচিং করতে পারেন। ফরমের মূল্য গুলো দেখুন, ৩০০ -৫০০টাকা একটি বিভাগের জন্য।
 
যদি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়েও বেশি ক্ষমতাসীন হয়, সেখানে তারা কাকে জবাবদিহি করবেন।
 
এসব নিয়ে কিছু লেখা হলে বলা হয়, পাবলিক আর কি বলবে খেয়েদেয়ে কাজ নেই।
 
বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করলে সবাই আরো সোচ্চার হয়ে উঁচু গোলায় বলে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। যেখানে ভারত, পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে।
 
যেখানে ভর্তি কার্যক্রমে এতো তাল বাহানা, যেখানে ভর্তিতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গুলো একমতে আসতে পারে না, যেখানে তাদের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা রাখে না, যেখানে শুরুতেই ভুল দিয়ে শুরু, সেখানে আবার বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হয় কিভাবে?
যেখানে পড়াশোনা আর ভর্তি স্বচ্ছতা নেই। এক বিষয়ের জন্য একাধিক বিদ্যালয়ে একেক রকমের নিয়ম সেখানে কিভাবে শ্রেষ্ঠ হওয়ার আশা রাখে? 
তারাই সেরা হয়, যাদের শুরুটা স্বচ্ছ।সেরা হওয়ার স্বপ্ন মধ্যেবিক্ত, নিম্ন মধ্যবিক্তদের দু-চাজন চাড়া বাকী সবার জন্য নিচ্ছক হাস্যকর। বাণিজ্য আর দালালীএর নিয়ম-নীতি নিয়ে কখনো সেরা হওয়া সম্ভব নয়।
আমাদের মতো এতো পুস্তক অন্য কোনো জাতি পড়ে কিনা সন্দেহ্ !
বিদেশীরা  পাঠ্যপুস্তক দেখে অবাক হয়। বইগুলা সব স্কুলের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। তারা জানান, তাদের দেশে এতো পড়া পড়াইনা। স্কুলের পড়া স্কুলেই। বই স্কুলেই থাকতো, বাসায় আনা হতো না। কিন্তু, আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বইয়ের বোঝা আর দালালিতে পরিনত হয়েছে।
 
Print Friendly, PDF & Email