25 Nov 2017 - 12:37:05 am

কবি আল মাহমুদের জন্মদিনে ‘বাসাসপ’ বিশেষ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কবিতা

Published on বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৩, ২০১৭ at ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

 

আজ ১১ জুলাই। ১৯৩৬ সা‌লের এই দি‌নে বাহ্মনবা‌ড়িয় জেলায় জন্মগ্রহণ ক‌রেন আধু‌নিক বাংলা সা‌হি‌ত্যের অন্যতম প্রধান ক‌বি আল মাহমুদ। আধু‌নিক বাংলা সাহি‌ত্যের প্রবাদ পুরুষ, জীবন্ত কবি আল মাহমুদের জন্মদিনে 'বাসাসপ' বিশেষ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কবিতাকিংবদ‌ন্তি আল মাহমুদ স্বকীয় ম‌হিমায় উদ্ভা‌সিত নিজস্বতা সৃজনকারী ক‌বি আল মাহমুদ এপার ওপার দুই বাংলায়ই সমান প‌রি‌চিত। ১৯৬৮ সা‌লে মাত্র ৩২ বছর বয়‌সে ক‌বি "বাংলা একা‌ডে‌মি পুরস্কার" প্রাপ্ত হ‌য়ে‌ছেন। ১৯৭১ সা‌লে ক‌বি আল মাহমুদের সন্ধান চে‌য়ে অল ই‌ন্ডিয়া রে‌ডিও‌তে ঘোষণা পাঠ ক‌রেন ভার‌তের বিখ্যাত বেতার উপস্থাপক দেব দুলাল ব‌ন্দ্যোপাধ্যায়। প‌শ্চিমব‌ঙ্গে ব্যাপক জন‌প্রিয় বি‌বে‌চিত হওয়ায় তাঁর তিন‌টি কাব্যগ্র‌ন্থের সমন্ব‌য়ে কলকাতার বিখ্যাত বাঙা‌লি সা‌হি‌ত্যিক সুনীল গ‌ঙ্গোপাধ্যায় এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধা‌নে প্রকা‌শিত হয় আল মাহমু‌দের ক‌বিতা।

স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সম‌য়ে সরকার বি‌রোধী জাস‌দের প‌ত্রিকা "গণকণ্ঠ" সম্পাদনার দা‌য়ে আল মাহমুদ জেল খা‌টেন। বঙ্গবন্ধু ক‌বি আল মাহমুদ‌কে অত্যা‌ধিক ভালবাস‌তেন। জেল হ‌তে মু‌ক্তির পর বঙ্গবন্ধু ক‌বি আল মাহমুদ‌কে ডে‌কে পাঠান এবং শিল্পকলা একা‌ডে‌মি‌তে চাকুরী গ্রহণ কর‌তে আ‌দেশ দেন। ক‌বি সাংবা‌দিকতা পেশায় ফিরার ইচ্ছা ব্যক্ত কর‌লেও বঙ্গবন্ধুর আ‌দেশ অমান্য কর‌তে পা‌রেন‌নি। দীর্ঘ‌দিন চাকুরী ক‌রে ১৯৯৩ সা‌লে শিল্পকলা একা‌ডে‌মির প‌রিচালক হি‌সে‌বে অবসর গ্রহণ ক‌রেন।

কবি আহসান হাবী‌বের হা‌তে আধু‌নিকতায় লোকজ উপাদান ব্যবহা‌রের সূচনা হ‌লেও এ‌তে ব্যাপকতা দান ক‌রে নিজস্বতা অজূন ক‌রে‌ছেন ক‌বি আল মাহমুদ। আধু‌নিক শহর নির্ভর ক‌বিতা হ‌তে বের হ‌য়ে এ‌সে তি‌নি সৃ‌ষ্টি ক‌রে‌ছেন আধু‌নিক প‌ল্লি নির্ভর ক‌বিতা। ক‌বিতার ক‌বিতাংশ,-
"আমরা যেখা‌নে যা‌বো শু‌নে‌ছি সেখা‌নে না‌কি নেই
বাঁচার মত জল, জলস্রোত, বর্ষণ হ‌বে না।"
(কা‌লের কলস)
আধু‌নিক ক‌বিতায় স্বতস্ফূর্তভা‌বে বি‌দে‌শি ও আঞ্চ‌লিক শ‌ব্দের প্রথম সফল প্র‌য়োগকারী ক‌বি আল মাহমুদ। গ্রামীণ ঐ‌তি‌হ্যের সা‌থে সম্পৃক্ততার সরল স্বীকা‌রো‌ক্তি দি‌য়ে সফল আঞ্চ‌লিক শ‌ব্দের প্র‌য়োগ ক‌রে লি‌খে‌ছেন,-
"‌কোমল ধা‌নের চারা রুয়ে দি‌তে গি‌য়ে
ভাবলাম, এ মৃ‌ত্তিকা প্রিয়তমা কিষাণী আমার।"
(সোনালী কা‌বিন)

শ্র‌মি‌কের শ্র‌মের মূল্য আমরা কেউই দিই না। অথচ শ্র‌মিকরাই বি‌দেশ হ‌তে নি‌য়ে আ‌সে আমা‌দের সুনাম। শ্র‌মিক‌দের‌কে জাতীয় বীর আখ্যা‌য়িত ক‌রে ক‌বির ক‌বিতাংশ,-
"শ্র‌মিক সা‌ম্যের ম‌ন্ত্রে কিরা‌তের উ‌ঠিয়ে‌ছে হাত
হি‌য়েন সাঙের দে‌শে শা‌ন্তি না‌মে দে‌খো প্রিয়তমা,
এ‌শিয়ায় যারা আ‌নে কর্মজীবী সা‌ম্যের দাওয়াত
তা‌দের পোষা‌কে এঁ‌টে দিই বী‌রের ত‌কোমা।"
(সোনালী কা‌বিন)

যু‌গে যু‌গে ছিল দরবা‌রি ক‌বি‌দের ব্যাপক প্রভাব। দরবা‌রি তোষণকারী পদ‌লে‌হনকারী ক‌বি‌দের প্র‌তি প্রচন্ড ঘৃণা জা‌নি‌য়ে আল মাহমু‌দের ক‌ঠোর বাক্যবাণ,-
"পূর্ব পুরু‌ষেরা ক‌বে ছিল কোন সম্রা‌টের দাস
বি‌বেক বি‌ক্রি ক‌রে বানা‌তেন বা‌ক্যের খেঁায়াড়
সেই অপবা‌দে আজও ফুঁ‌সে উ‌ঠে ব‌ঙ্গের বাতাস
মুখ ঢা‌কে আলাওল-‌রোসা‌ঙ্গের অ‌শ্বের সোয়ার।"
(সোনালী কা‌বিন)

‌শিশু সা‌হি‌ত্যে ক‌বি আল মাহমু‌দের তুলনা তি‌নি নি‌জেই। ক‌বি লিখ‌ছেন,-
"আম্মা ব‌লেন পড়‌রে সোনা
আব্বা ব‌লেন মন দে,
পা‌ঠে আমার মন ব‌সে না
কাঁঠাল চাঁপার গ‌ন্ধে।"
জীব‌নের প্রথম‌দি‌কে মার্কসবা‌দি না‌স্তিকতাবা‌দে বিশ্বাসী হ‌লেও ক‌বি আ‌স্তিকতার দি‌কে প্রত্যাবর্তন ক‌রেন। ধর্মীয় চেতনায় গভীর বিশ্বাসের প্রভাব তাঁর সা‌হি‌ত্যে দেখা দি‌লে না‌স্কিতাবা‌দিরা ক‌বির ক্ষে‌পে যায়। বি‌শিষ্ট কোন না‌স্তিক সা‌হি‌ত্যিক যার আল মাহমু‌দের বিষ্ময়কর কাব্য প্র‌তিভায় মুগ্ধ, তারা প্রকা‌শ্যে কিছু না বল‌লেও তা‌দের ভক্ত সমাজ আভা‌সে ই‌ঙ্গি‌তে ক‌বি আল মাহমু‌দের সমা‌লোচনা কর‌তে থা‌কেন। অথচ ক‌বি‌দের ম‌ধ্যে বি‌ভিন্ন মতবা‌দে বিশ্বাসী ক‌বি থাক‌বে এটাই স্বাভা‌বিক। তা‌দের প্র‌তি ক‌বির বক্তব্য,-
"বৃ‌ষ্টির ছাঁ‌টে শিহ‌রিত হয় দেহ
কেউ ব‌লে আ‌মি ক‌বি কিনা স‌ন্দেহ!"

আল মাহমুদ আধু‌নিক বাংলা সা‌হি‌ত্যের অন্যতম প্রধান ক‌বিই শুধু নন, তি‌নি একাধা‌রে একজন ঔপন্যা‌সিক, প্রাব‌ন্ধিক, গল্পকার, শিশু সা‌হি‌ত্যিক ও সাংবা‌দিক। ক‌বি আল মাহমু‌দের জন্য শুভ কামনা। বেঁ‌চে থাকুন ক‌বি কা‌লের কলস ধ‌রে অনন্তকাল।
বাংলা সা‌হি‌ত্যের জীবন্ত কিংব‌দ‌ন্তি ক‌বি আল মাহমু‌দের শুভ জন্ম‌দিন উপল‌ক্ষে সা‌হিত্য সংগঠন "বাংল সা‌হিত্য ও সংস্কৃ‌তি প‌রিবার (বাসাসপ)" দিনব্যাপী কর্মসূ‌চি ঘোষণা ক‌রে। ক‌বি আল মাহমু‌দকে নি‌বে‌দিত ক‌রে সংগঠ‌নের অনলাইন গ্রু‌পে পোস্টকৃত অসংখ্য ক‌বিতার মধ্য হ‌তে সাত‌টি স‌র্বোৎকৃষ্ট ক‌বিতা নির্বাচন ক‌রে সং‌শ্লিষ্ট ক‌বিতার ক‌বিগণ‌কে নগদ অর্থমূল্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। ক‌বিতাগু‌লি পাঠক‌দের উ‌দ্দে‌শ্যে দেওয়া হ‌লো।
*মুহাম্মদ ইয়াকুব
প্রধান সমন্বয়ক (বাসাসপ)

 

 

"ক‌বি আল মাহমুদ‌কে নি‌বে‌দিত ক‌বিতা গুচ্ছ"
১। কত উর্বর তোমার কাব্যভূ‌মি
ক‌বিঃ দালান জাহান
২। তু‌মি বাংলার সুবা‌সিত ফুল
ক‌বিঃ আ‌নিসুর রহমান
৩। প‌থি‌কের পথ
ক‌বিঃ আব্দুর রাজ্জাক বাবুল
৪। তিতাস পা‌ড়ের ক‌বি
ক‌বিঃ সো‌হেল আহসান
৫। আল মাহমুদ
ক‌বিঃ হ.ম. সাইফুল ইসলাম মনজু
৬। ক‌বি আল মাহমুদ
ক‌বিঃ মোঃ আ‌নোয়ারুল ইসলাম
এবং
৭। অ‌ধিরাজ
ক‌বিঃ বাবুল হো‌সেন বাবলু
******************************
সকল স‌র্বোৎকৃষ্ট ক‌বিতার কবিগণকে জানাই আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন। আপনা‌দের কলমের তেজ আরও শাণিত হোক বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার মহান প্রয়া‌সে।
______________________________
কবির জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা

কতো উর্বর তোমার কাব্যভূমি
দালান জাহান

এখানেই একটু উপরে ,
বুকের ঠিক মাঝখানে, আমার প্রশান্ত স্বদেশ ,
আর উর্বর আবেগের জন্মভূমি ,
তার একটু নিচেই-
ছোপ ছোপ রক্তের দাগ ,
যেখানে হাত দিয়ে রক্তাক্ত হয়ে মরেছে,
ডুবে যাওয়া পশ্চিম সূর্য ।

এই যে হার্ট ব্লক আর বন্ধ রক্তের শিরা,
মাথার উপর রোদ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা,
হাসপাতালের নগ্ন বারান্দা,
এই ভাঙা ছাদের গড়িয়ে পড়া আলোয়,
কবিদের কাঁচের মতো জীবন-
যেখানে বসে তারা এঁটে দেয়,
দেশ প্রেমের অন্তহীন দৃঢ়তা ,
জোরালো বন্ধন
বিষণ্ণ দিনের স্মৃতি নিয়ে-
ভূমিষ্ঠ করে ক্ষুধার্তের অশ্রুপাত ।

এখানেই আমাদের আল মাহমুদেরা গর্বিত,
তাদের সারাটা দেহ মানচিত্র মনে হয়,
সমুদ্রটা গ্লাসে ভরা জল মনে হয়,
প্রস্তরের পাহাড় কে মনেহয় ফুলের উদ্যান,
হে আমার প্রশান্ত স্বদেশ,
কতো উর্বর কতো উর্বর তোমার কাব্যভূমি।

এক অদ্ভুত গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে চারদিকে,
হয়তো যূথবদ্ধ ইচ্ছেগুলো,
নিরানন্দে ছুটছে আর ছুটছে-
শব্দের সোনালি অন্ধকারে ।
___________________________
তুমি বাংলার সুবাসিত ফুল
-আনিসুর রহমান

তিতাস পাড়ের সবুজ গায়ে
ফুটল সুবাস ফুল,
নদীর ঢেউয়ে বটের ছায়ে
উঠল খুশির দুল।
:
সাহিত্য কানন জাগ্রত হলো
উদয়ে নতুন রবি,
বাংলা ভাষার মানুষ পেলো
লোকজ প্রীতির কবি।
:
তিতাস একটি নদীর নাম
কালের কলস লিখে,
উভয় বাংলায় কতো যে দাম
ছড়িয়ে দিকে দিকে।
:
সোনালি কবিনে সোনাই ঝরে
মুগ্ধতা ছড়ায় প্রাণে,
বখতিয়ারেরর ঘোড়ায় চড়ে
বিজয় মুকুট আনে।
:
মনের নিপুণ ভাবনা যতো
সাজিয়ে আপন হাতে,
সাহিত্য মালায় গেঁথেছে কতো
জ্যোৎস্না আঁধার রাতে।
:
মনের মাধুরী মিশিয়ে বেশ
কাবিলের বোন সৃষ্টি,
সাহিত্য সাধনে কাঁপিয়ে দেশ
কেড়েছে সবার দৃষ্টি।
:
দেশের কথন দশের কথন
লিখিয়া কবিতা গানে,
অসত্য অন্যায়ে ঘটিয়ে পতন
শ্রেষ্ঠত্ব ছিনিয়ে আনে।
:
স্বাধীন যুদ্ধের সাহসী বীর
দেশ প্রেমেতেই বুঁদ,
উন্নত সদা রাখিয়ছো শির
কবি আল মাহমুদ।
:
সাহিত্য আকাশে আলোক বাতি
তোমার জ্ঞানের হয়না তুল,
পৃথিবী ব্যাপিয়া তোমার খ্যাতি
তুমি বাংলার সুবাসিত ফুল।
___________________________
পথিকের পথ
আব্দুর রাজ্জাক বাবুল
-----------------------------------------
অতঃপর পথেরা দেখলো আরেকটি পথ,
আপন সৃষ্টির পথে বিজয়ী রথ
রচে সমৃদ্ধির 'সোনালি কাবিন '।
বাংলা সাহিত্যের সংগ্রামী মাঠে কিভাবে ছোটে
বিজয়ী 'বখতিয়ারের ঘোড়া!

তুমি পথের নও, পথই তোমার---
স্বকীয় স্বত্বার অনন্য সম্ভার
তোমাকে করেছে যুগের রাজা।
অনন্য সফলতার স্বাদে ভরা 'কালের কলস'
তোমার ভাণ্ডারের সাধিত সম্পদ।

তুমি অমর 'লোক লোকান্তরে' আপন মহিমায়
প্রিয় মাহমুদ, তোমার কবিতায়
অনুভূতির অবারিত মাঠ।
সত্য আর ভালবাসার সুনিবিড় সঙ্গমে
তোমার লিখনির পবিত্র প্রসব।

ভাঙা-গড়ার সংগ্রামে বিশ্বাসের বুনিয়াদ,
জড়ো হলো সত্য তাবৎ
শীর্ষ সত্যের সুনিবিড় ছায়ায়।
অসীম মায়ায় দুলে ওঠে পর্দা
দৃষ্টির দুয়ারে বিজয়ীর পথ।

তুমি প্রেরণা আপামর জনতার,
জীবন বুঝতে চাওয়া সব মানুষের।
সময়ের স্রোতে জীবনের নৌকায়
বিজয়ের পাল তোলে
দক্ষ মাঝির নিপুণ কারিশমা।

হে সাহিত্যের সোনার ছেলে!
বাংলা মায়ের কোমল কোলে
তোমার এই আগমন দিন
হোক অগণন ভালবাসার সত্য ছোঁয়ায়।
অনুসারীর আকুতিতে পথটা তোমার
চলার স্বাদে হোক অক্ষয়।
___________________________

 

তিতাস পাড়ের কবি
সোহেল আহসান
---------------------------------------------------
লোকজ কবি জাগলে তুমি
তিতাশ পাড়ের গ্রামে
তিতাশ নদীর ঢেউগুলো যে
পাড়ের কাছেই থামে।

লিখলে তুমি মায়ের কথা
ভাষার কথাও আরও
ফুল পাখিদের কথা তুমিই
লিখতে শুধু পারো।

মাটির বুকে মিশলে তুমি
গাইলে মাটির গান
বৃষ্টি নামে কাব্যে তোমার
নদীর কলতান।

তোমার মাঝে পাই যে খুঁজে
গাঁয়ের চেনা রূপ
চৌকাঠে যাঁর নিপূণ হাতের
নানান রঙের ছোপ।

তোমার মতো আর কে পারে
আঁকতে মেঠোপথ
দূর্বা ঘাসের সবুজ মাঠে
নামিয়ে আলোর রথ।

বখতিয়ারের ঘোড়ায় চড়ে
চর্যাপদের দেশে
মুকুট বিহীন কাব্যরাজে
এলে বীরের বেশে।
__________________________

অাল-মাহমূদ

হ.ম.সাইফুল ইসলাম মনজু

তিতাসের কূল খেয়েছিল দোল তোমাকে সকোলে পেয়ে,
ঝাঁকেঝাঁকে পাখি মেলে নিজ অাঁখি দেখেছিল শুধু চেয়ে।
শিশু ফুটফুটে মনভরে উঠে প্রকৃতি হারায় বাক,
খুশির ঘূর্ণি যাতনা চূর্ণি শূন্যে খেয়েছে পাক।

তুমি ধীরেধীরে পরিবার ঘিরে মাথার মুকূট হও,
মানুষের হয়ে তোমার হৃদয়ে দুঃখ-যাতনা বও।
বেদনার ভার টেরপায় হাড় সচেতন হয়ে উঠে -
বাঁচাতে মানুষ জ্বালাতে ফানুস কলম নিয়েছ মুঠে।

করে দিলে শুরু বুক দুরুদুরু লড়াই চলেছে বেশ,
সমাজচিত্র শত্রু - মিত্র উঠে অাসে জাতি - দেশ!
দিল ছিল সাদা অসংখ্য বাধা থামাতে পারেনি গতি,
কাদা দিত যারা অাজ সেই তারা তোমার সুজন অতি।

পরিবার হতে এসে রাজপথে দেশের মুকূট হলে,
নবরঙফুলে নওমালা ঝুলে তোমার প্রবীণ-গলে।
অাজ এ দিবসে সকলে হরষে তোমাতেই অাভিভুত,
বাজে কলরবে চিরদিন রবে হৃদে অাল - মাহমুদ!
__________________________

♥কবি আল মাহমুদ ♥
মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম
তাং- ১১/৭/২০১৭খৃস্টাব্দ
--------------////---------------
আজি তারুণ্যের নিয়ত অবনমনে
তোমাকেই বড় বেশি পড়ে মনে,
চির সবুজ চিত্ত বোননে
কলমের বীজে কাগজের জমিনে,
জাতির ভবিষ্যৎ চিন্তায় বুদ,
চির তরুণ কবি আল মাহমুদ।

জাতির ক্রান্তির কালে তোমার মসী কথা বলে,
পরিক্ষিত তেজস্বী বাঙ্গালি
নিয়ত অন্যায়কে গিয়াছ দলি,
তোমার দান হবেনা শোধ,
চির তরুণ তুমি কবি আল মাহমুদ।

বন্ধকি বিবেকের শব্দবানে
জননীর তারুণ্যে জীর্ণতা আনে,
নেশার প্রাবল্য গ্রাস জাতির ওষ্ঠাগত শ্বাস,
নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে তুমি দীপ্ত কিরণ আশ।
তোমার লেখনী হয়ে আছে সবুদ,
তুমি আলোক প্রভাকবি আল মাহমুদ।

বিকলাঙ্গ সংস্কৃতির আগ্রাসন
ছিরছে জননীর বসন,
লাঞ্ছিতা মাতা ব্যথিত বদন,
ফিরাতে জৌলুষ রুখতে আগ্রাসন,
মায়ের বীর সন্তান তোমাকেই বেশী প্রয়োজন,
তোমার তেজস্বী কলম জাগাক বিবেকবোধ,
চির যোদ্ধা তুমি কবি আল মাহমুদ।
___________________________
অধিরাজ -কবি
বাবুল হোসেন বাবলু
.
কবি আল-মাহমুদ আধুনিক কবিতার অগ্রজ প্রাণ -
বাঙালীর হৃদয়ে চির ভাস্বর রবে অমলিন অম্লান ।
.
অভিবাদন অভিবাদনে মুখরিত কবি বিশ্বজোড়া -
ভক্তকুল সাজিয়েছে সজ্জিত অর্ঘ্য সহস্র ফুলের তোড়া ।
.
কবির বিশাল মন-জগতে অহরোজ কাল্পিক চারণ -
কষ্টের মহাসিন্ধু কি সুখস্বপ্ন আপন বুকেতে ধারণ ।
.
কল্পনার রথে চলমান নিত্য আপনি আপনায় সারথি -
অন্বেষণে ব্যাকুল বর্ণীল চিত্রের প্রেম কিবা প্রকৃতি !!
.
যাপিত জীবনের আলেখ্য বয়নে সচল কবিমসি -
প্রসন্ন কখনো -বিষণ্ণ গাঁথনে রচিত কাব্য মানসী।
.
বারিধারায় শীতল তপ্ত হৃদয় -দহন নিরন্নের রোদনে -
পদচুমে খ্যাতি -কাতর আবার তিরস্কারের কালি লেপনে ।
.
হৃদ-বাতায়নে উঁকিমারে আরাধ্য মানস কন্যা -
আপন মনে সাজায় বাসর রণিত সুরের বন্যা ।
.
ভূমণ্ডল ছাড়িয়ে বিচরণ কখনো উর্ধ্ব নীল অাকাশে -
বিলায় আপনাকে অকাতর প্রীতিতে মানুষকে ভালবেসে ।
.
মন কাননে আনাগোনা সদায় -ষোড়শী মহিষীর -
প্রেমরসে সিক্ত মনের বিত্তে -অধিরাজ ক্রন্দসীর ।
.
আপন আসনে আপনি রাজা অগণিত কাব্যের রচক -
বিনীত শব্দ হাতের মুঠোয় শৈল্পিক রাজের শাসক ।
.
কে করে অযতন মূর্খরা সব কি বুঝে শিল্পির সাধন -
কবির কন্ঠে সাম্যের গীতি মানেনা বারণ শাষণ ।
.
কবির তপস্যা মানব কল্যাণে আজন্ম নমস্য পূজনীয় -
প্রণতি শতবার কবির চরণে আজ -হে চির বরণীয় !!

Print Friendly, PDF & Email