21 Nov 2017 - 03:09:00 am

জোসনা হক সৃষ্টিশীলতার আগ্রহের কেন্দ্রে নিরলস পরিশ্রমী এক আলোকিত নারী

Published on শুক্রবার, জুলাই ১৪, ২০১৭ at ৭:১৪ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email
মোহাম্মদ ফিরোজ, সৌদিআরব প্রতিনিধি : জোসনা সক সত্যিই তিনি সৃষ্টিগত আর স্বমহিমায় প্রতিভাতে উজ্জ্বল। লেখিকা জোসনা কবিতা আর ছোট গল্প সাজানো অত্যান্ত সাবলীল আর সহজ ভাষায় ভেতরের আকুতি মেশানো সত্যের মোড়ল। যে কাউকেই তার কবিতা ও সাহিত্য সৃষ্টি আকর্ষণ জোসনা হক সৃষ্টিশীলতার আগ্রহের কেন্দ্রে নিরলস পরিশ্রমী এক আলোকিত নারীকরবেই। কারন প্রতিভা থাকলে জ্বলে ওঠে যে কোন মানুষ। মা, মাটি, সবুজের দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কর্ণফুলী নদী ও সবুজ, শ্যামল প্রকৃতির রুপে ঘেরা চট্টগ্রাম জেলার দক্ষিণে সাতকানিয়া, লোহাগাড়ার উপজেলার উওর পদুয়া ইউনিয়নে সম্ভ্রান্ত পরিবারের তিন ভাই চার বোনদের মধ্যে আদরের দুলালী জোছনা হক। পিতা মৃত নুরুল হক সাওদাগর (সাবেক চেয়ারম্যান) তখনকার সিংহ পুরুষ ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের এক ধনাট্য ব্যবসায়ী, গরিব ও দুঃখীদের জনদরদী। মা বেগম জান গৃহিণী ও দানশীল এক মহীয়সী মহিলা। জোছনা হক বেড়ে উঠেন নিজ পিত্রালয়ে সাদেক সিকদার বাড়ীতে।খুব অল্পবয়সে বিয়ে হয় চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার ইউচুপের পাড়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। স্বামী মাহমুদ।বিয়ের পর পড়াশুনা করে নিজ পিত্রালয়ে মাধ্যমিক ও কলেজে। বর্তমানে তিন কন্যা নিয়ে প্রবাসে স্বামী সহ অবস্থানরত আছেন। জোছনা হক খুব অল্প বয়স থেকে লেখালেখি করেন। একাধারে লেখক ও কবি সাহিত্যিকা হিসাবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। পড়াশুনা অবস্থায় জাতীয় পত্রিকায় কবিতা, ছোট গল্প লেখতেন। কলেজে দেয়াল পত্রিকায় বেশ সুনামও অর্জন করেন। পাশাপাশি জেলা প্রতিনিধি হিসেবে এক বছর কাজ করেন "দৈনিক স্বাধীন দেশ পত্রিকায়" সামাজিক, পারিপার্শিক,পরিবার জীবনের অনেক বাঁধা পেরিয়ে বিদেশে গিয়ে ও জোছনা হকের কলম কেউ থামিয়ে রাখতে পারেনি, এইটা ছিল বাংলা ভাষার প্রতি জোছনা হকের ভালবাসা চেষ্টা।  বশেষে ২০০৩ এ জোছনা হকের নিরলস পরিশ্রমের সাধনা হিসেবে প্রথম বই প্রকাশ হয়। "ঘর আজো কাঁদে" বইটি বের হওয়ার পর বাংলা একাডেমী থেকে বিনামূল্যে লেখার সুযোগ পেলেও আবার ব্যস্ত হয়ে যাই সংসার জীবনে। অনেক স্বপ্নের মাঝে দিন যাপন করতো প্রবাসে জোছনা হক। আবার লেখা শুরু করে এইভাবে আরো তিনটি বই লেখতে থাকে। ভালবাসা, যৌতুক, নির্যাতন,প্রবাস নিয়ে।২০০৭ বই গুলো পাবলিশ হয়।"ভালবাসার দাফন "শুধু কেঁদেছিলাম "আমার ভালবাসা হারিয়ে গেছে সেই প্রবাসে" ২০১৬ যৌথ প্রকাশনায়,পাবলিশ হয়,"প্রবাস প্রান্তরে "এবং "ভালবাসার সাতরঙ"নির্বাচিত কবিতার বই। 
একটি যৌথ সংঘটনের পরিচালনায় ম্যাগাজিন "গল্পকথার " সহ সম্পাদক। উক্ত সংঘটনের সিনিয়র পরিচালক। কবি, উপন্যাসিক জোছনা হক বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথে আড়ালে কাজ করে যাচ্ছেন, তরুণ সমাজের প্রেরণার এক উদ্দীপনা জোছনা হক। অবহেলিত সমাজ, সমাজের কুসংস্কার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সোচ্চার প্রতিবাদী কন্ঠ। জীবনের বাঁধা বিগ্নতা সব উপেক্ষা করে কলম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীদের আকুলতা আর আর্তচিৎকার জোছনা হককে ব্যথিত করে, তাদের সুখ, দুঃখ তুলে ধরে জোছনা হকের লেখায়। জোছনা হক ভয়ভীতি উপেক্ষা করে নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছেন।আলাপ কালে জোসনা হক বলেন-আমাকে মেয়ে হিসেবে নই, একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করুক আমি এইটুকু চাই। নিজেকে খুব ক্ষুদ্র, নগণ্য হিসেবে মানুষের কাছে প্রকাশ করতে ও ভালবাসতে চাই। আরো বলেন, আমি যখন কোন সামাজিক কাজ করতে যাই আশেপাশের মানুষের কতো বাঁধা, আপত্তি। আর কতো? আর কতো আমাদের নিয়ে মানুষের আপত্তি থাকবে, খুব দুঃখ প্রকাশ করেন কবি। কবি জোসনা হক পরিবারের সাথে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। রুচিশীল পোশাক থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে  মানুষের উপকারে যেকোন কাজে নিজেকে উপাস্থাপন করতে পছন্দ করে তিনি। লেখনশৈলী দিয়ে একজন লেখক যেমন একদিকে ধারণ করেছেন অবহেলিত গ্রামীণ জীবনবোধকে। অন্যদিকে অত্যন্ত গতিশীল উপায়ে প্রকাশ করেন ঘটমান নগরজীবন। তিনি প্রবাসে থেকেও চেষ্টা করে যাচ্ছেন একজন পরিপূর্ণ লেখকের এটাই সার্থকতা। নিজে সংবেদনশীল নারী বলে গ্রামীণ ও নাগরিক জীবনে নারী-মনস্তত্ত্বের স্বাতন্ত্র্যকে পেরেছেন উপলব্ধি করতে। বাংলাদেশের গ্রামীণ ও নাগরিক জীবনপ্রবাহকে একেবারে সন্ধিস্থল থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। নারীদের বাঁধা,বিপত্তি আসতে পারে এইটা স্বাভাবিক, এসব উপেক্ষা করে নিজের অবস্থান নিজেকে তৈরে করে অন্য নারীকে সাহসও সফলতার মুখ দেখানো আমাদের কর্তব্য বলে জানান তিনি।
Print Friendly, PDF & Email