আসছে ঈদ-পত্নীতলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা
৩০ আগ '১৭
0 Shares

আসছে ঈদ-পত্নীতলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ঈদের বাকি আর মাত্র দুই দিন। নওগাঁর পত্নীতলায় চাকড়া দিয়ে তৈরি যাতা-কামাররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেন কামারদের সারাদিন দম ফেলানোরও প্রহর নেই। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা। উপজেলা সদর নজিপুর পৌর সদর ধামইরহাট রোড়ের কাঁচা বাজার পশ্চিম পাশের পথ দিয়ে যেতেই কানে ভেসে আসছে ঢ্যাটাং ঢ্যাটাং আওয়াজ…। কাছে গিয়ে ক্যামারায় ছবি তুলতেই এক কামার কর্মি বলে উঠলেন- “ও… সাংবাদিক সাহেব। বলেই- হাতুড়ি পিটানো বাদ দিয়ে গামছা দিয়ে মাথা আসছে ঈদ-পত্নীতলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররাও মুখ ম-লের ঘাম মুছতে লাগলেন। আর জানালেন- সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কুরবানির ঈদের আগে ব্যস্ত হই হামরা, টেকাও কামাই করি এই সময়।” আজ যাঁরা বাপ-দাদার পৈত্রিক পেশা ধরে রেখে যাতা টেনে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে কৃষকসহ ঘরোয়া অস্ত্রের চাহিদা মেটাচ্ছেন এসব কামার শিল্পের কারিগরদের কাটছে এখন পুরো দিন ব্যস্ততম ও রাতের অর্ধ সময়। সারা বছরের মধ্যে কুরবানির পশু জবাইকে কেন্দ্র করেই তারা এ সময় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। ডিজিটাল যুগে অত্যাধুনিক নিত্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রের বাজারে হারিয়ে যাচ্ছে কামারের হাতে গড়া দেশীয় অস্ত্রের বাজার। রঙ ও চকচকা বাহরী রকমের দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারে ঝুঁকেছেন গ্রাম, শহর ও নগরের মানুষরা। কথা হয় নজিপুর বাসস্ট্যান্ড ধামইর রোডের অবস্থিত কামারীর সাথে নাম অনীল কর্মকার (৪২) ও সুকুমার কর্মকারের (৩০) ও রতন কর্মকার (২২) এর সাথে, তাদের গ্রামের বাড়ি আসছে ঈদ-পত্নীতলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা উপজেলা সদর নজিপুর পৌর এলাকার বাদপুঁইয়া। এর পাশের আরো একটি কামার দোকানের কৃঞ্চ কর্মকার (৪৩), উজ্জল (২৮) ও পবিত্র (২৩) তাঁরা জানান, বাপ-দাদার পৈত্রিক পেশা কামার শিল্প। চামড়ার তৈরি যাতা টেনে কাঠ কয়লা পুড়িয়ে আগুনে গলিয়ে তৈরি লোহার সামগ্রী বিক্রি করে চলত সংসার। উপজেলায় প্রায় ২শ কামার শিল্পে কাজ করত হাজারও কারিগর সংসার চালাতো ২ হাজার পরিবারের। আজ পতœীতলায় ৬/৭ জন কামার কারিগর পেশাকে আটকে রেখেছে। তাঁরা আরো জানান, দিনে ৩০০-৫৫০টাকা পর্র্যন্ত আয় করে থাকেন অন্য সময়ে। তবে, ঈদের সময়ে দিনে হাজারের বেশি টাকা আয় হয়ে থাকে কোন কোন দিন। তাঁদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন। নজিপুর বাসস্ট্যান্ড ধামইরহাট রাস্তার ধারে বসে কামার শিল্পের যাতা টানার কাজ। জানা যায়, বর্তমানে কুরবানি উপলক্ষে কামাররা প্রতিটি বটির দাম ৪০ থেকে ১৮০ টাকা, হাসুয়া ৮০-১৩০, কাঁচি ৩০-১৫০, চাকু ও ছুরি প্রকারভেদে ১৫০-৪০০টাকা, দা, কুড়াল ও চাপাতি কেজিতে ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

Print Friendly, PDF & Email

About dimlanews

Related Posts

    No posts found.

Leave a Reply

*

সম্পাদকের বক্তব্যঃ

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম ভিজিট করুন এবং বিজ্ঞাপন দিন।