22 Nov 2017 - 11:20:34 am

রাতুল কি পারবে এর পরিসমাপ্তি ঘটাতে?

Published on বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৭ at ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার: হাতিয়ায় সর্বশেষ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার রিয়াজ উদ্দিন নামে এক যুবলীগ কর্মী। বুধবার সকালে সোনাদিয়া ইউনিয়নের সেতু মার্কেটের পশ্চিম দিকের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এই রিপোর্টটি যখন লিখতে বসছি প্রাপ্ত সংবাদ মতে, এটিই হাতিয়ার সর্বশেষ খুন। এই হাতিয়াতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের চেয়ে গত এক যুগে বেশী হানাহানিতে মেতেছিল আওয়ামীলীগ। নব্বই দশকের পর আওয়ামীলীগ কার্যত এ অঞ্চলে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এর এক ভাগের নিয়ন্ত্রণে সাবেক সংসদ সদ
স্য মোহাম্মদ আলী আর আরেক ভাগের নিয়ন্ত্রণে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ওয়ালী উল্লাহ। আধিপত্য, নিজেদের ক্ষমতা ও পেশীশক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে অর্ধ শতাধিক নেতা কর্মী খুন হয়েছে গত এক যুগে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে শত শত নেতাকর্মী। কেউ এর দায়ভার নিচ্ছে না কিংবা স্থায়ী কোন সমাধানও আসছে না। মোহাম্মদ আলী গ্রুপের আওয়ামীলীগ কোথাও মিটিং করলে অধ্যাপক ওয়ালী গ্রুপের লোকজন সেখানে নিষিদ্ধ। প্রায় একই অবস্থা ওয়ালী গ্রুপের ক্ষেত্রেও। হাতিয়ায় আওয়ামীলীগের বিপুল সংখ্যক সমর্থক রাতুল কি পারবে এর পরিসমাপ্তি ঘটাতে?থাকলেও গোষ্ঠীগত বিরোধের কারণে আওয়ামীলীগ কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অবস্থা এমন যে এখানে প্রার্থী যাকেই দেয়া হোক না কেন, জেতার মতো ভোট থাকলেও পরাজয় নিশ্চিত। আলী সমর্থকদের মনোনয়ন দিলে ওয়ালী উল্লাহরা দলবল বেধে নামবে তাকে হারাতে আর ওয়ালী উল্লাহ সমর্থকদের মনোনয়ন দিলেও মোহাম্মদ আলীরা একই কাজ করবে। যা গত নির্বাচনগুলো দেখা গেছে। ১০তম সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ আলীর সহধর্মিনী আয়েশা আলী নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম আমির। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, হাতিয়াবাসী এই দুই সম্প্রদায় থেকে মুক্তি চায়। লাশ, লাশের স্তূপ আর রক্তের গন্ধ, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, রাহাজানি থেকে মুক্তি চায় হাতিয়াবাসী। কিন্তু উপায় কি? বিএনপি সরকারের আমলে ফজলুল আজিম এবং পরেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপির এই নেতা সংস্কারপন্থী হওয়ার কারণে গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র নির্বাচন করে তিনি নির্বাচিত হন। এই নেতাও কট্টর আওয়ামী বিদ্বেষী। তার সময়েও আওয়ামীলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছিল। অবস্থা এমন যে, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির আমলে তো নিরাপদ নয়ই, আওয়ামীলীগের আমলেও নিরাপদ নয়। এই অবস্থা চলছে যুগের পর যুগ। একটি দলের প্রাণ নেতাকর্মী। আর তারাই লাশ হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে, ধর্ষিত হচ্ছে নিজ দলের একাংশ কিংবা প্রতিপক্ষের হাতে। সাগরে ঘেরা অপরূপ সৌন্দর্য্যরে হাতিয়া হতে পারত শান্তির নিবাস স্থল। কিন্তু সে হাতিয়া দিনে দিনে পরিণত হচ্ছে আগ্নেয়গিরিতে। সেখানে যেন কোন আইন নেই। যে যে অংশ নিয়ন্ত্রণ করে তার কথায় সেখানে আইন চলে। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে হাতিয়ায় ক্ষমতায় কে যাবে তা মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে হাতিয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কে? যে লালন করবে না গ্রুপিং কিংবা জলদস্যু ও বনদস্যুর বিশাল বাহিনী। আগামী সংসদ নির্বাচনে জলদস্যু বনদস্যু কিংবা গ্রুপিংবাজ নেতা কামনা করছে না হাতিয়াবাসী। প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যমতে, দলের হাই কমান্ডও হাতিয়ার বিষয় নিয়ে চিন্তিত। তারা (ওলি-আলীর) বাহিরের নেতা খুঁজছেন আগামী দিনে দলকে ঢেলে সাজিয়ে শান্তির জনপদে পরিণত করতে। ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে হাতিয়ায় সজ্জ্বন পরিচ্ছন্ন সদালাপী হিসেবে পরিচিত শহীদ পরিবারের সন্তান মাহমুদ আলী রাতুল নামে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হাতিয়াতে আওয়ামীলীগকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতকোত্তার ডিগ্রীধারী মাহমুদ আলী রাতুল পেশায় একজন তৈরী পোষাক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন যাবত হাতিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুটি হাইস্কুল এবং একটি কলেজ পরিচালনা করে আসলেও কখনো রাজনীতিতে আসার চিন্তা করেননি। তিনি সাভারে মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র নামে একটি হাসপাতাল গঠন করে স্বাস্থ্য সেবাসহ জনকল্যাণ মূলক কাজে নিবেদিত থেকেছেন দশকের পর দশক। রাজনীতির ঘেড়াকলকে বরাবরই তিনি এড়িয়ে চলতেন। গত কয়েক দশকে হাতিয়ার দৃশ্যমান রাজনীতি যেকোন ভদ্রলোককে রাজনীতিতে নিরুৎসাহিত করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শহীদ পরিবারের সন্তান হওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি দলের হাই কমান্ডের নির্দেশে হাতিয়ায় যান দলকে ঘোচাতে। ১৫আগষ্ট তার ডাকে হাতিয়ার প্রাণকেন্দ্র ওচখালীতে প্রায় অর্ধলক্ষ লোকের সমাবেশ ঘটে। ঐদিন শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যে বক্তব্য রেখেছেন তা ছিল ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি। এ প্রসঙ্গে তিনি দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিনের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় বলেন, বাল্যকাল থেকে মুজিব আদর্শে গড়ে উঠেছি। এখনো আদর্শ থেকে পিছপা হইনি। জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে আজ আমরা উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ উপহার পেতে চলেছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিকল্প নেই। হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের চলমান কোন্দল নিরসনে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ আলী রাতুল জানান, হাতিয়া আওয়ামী লীগে দ্বিধাবিভক্তি ও অনৈক্যের কারণে শান্তিপ্রিয় এ জনপদ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছিল। আমি পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এ কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। আগস্ট মাসের শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক সাংগঠনিক এলাকায় আলাদা আলাদা বৈঠকের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কথা শুনি এবং সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করি। বর্তমানে নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসতে শুরু করেছে। সবার মধ্যে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি নিরসন হতে চলছে। আশা করি, সাংগঠনিক শৃংখলা ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে আমরা আমাদের হাতিয়াকে আওয়ামীলীগের দুর্জয় ঘাটিতে পরিণত করতে পারব। বিশিষ্ট শিল্পপতি মাহমুদ আলী রাতুল আরো বলেন, জনগণ পেশীশক্তির রাজনীতি এখন আর পছন্দ করেনা। তারা চায় শান্তি ও উন্নতি। জনগণের সে আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটানো সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পবিত্র কর্তব্য। আগামীর রাজনীতি হবে উদার, গণতান্ত্রিক এবং উন্নয়নের রাজনীতি। তিনি বলেন, আমি হাতিয়াবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক মাঠ উপহার দিয়ে হাতিয়াকে শান্তি ও উন্নয়নের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই। মাহমুদ আলী রাতুল আশা প্রকাশ করে বলেন, হাতিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে সম্ভাবনাময় হাতিয়াকে আরো ৩টি উপজেলায় বিভক্ত করে জেলা হিসেবে রূপান্তর করা সম্ভব। এসব বিষয়ে সকল পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন এবং ভবিষ্যতে এগুলো নিয়েই কাজ করে যাবেন । এ প্রতিনিধির কাছে এমনই অভিমত ব্যক্ত প্রকাশ করেন তিনি। হাতিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা নদী ভাঙ্গন ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে তার পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি কার্যকরী পদক্ষেপই পারে হাতিয়ার নদী ভাঙ্গন সমস্যার টেকসই সমাধান করতে। সে পদক্ষেপ নিতে হবে জন প্রতিনিধিদেরকে। জন প্রতিনিধিগণ নিজ মাতৃভূমির প্রতি আন্তরিক হলে এর সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব। এছাড়া বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়দীপ্ত সফল দেশরতœ শেখ হাসিনার সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানও সহজ বিষয় বলে মন্তব্য করেন মাহমুদ আলী রাতুল। ব্যক্তি জীবনে মাহমুদ আলী রাতুল বিভিন্ন সেবা সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। হাতিয়াবাসীর আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল চট্টগ্রামস্থ হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি তিনি। ঢাকায় অবস্থিত ২০০ শয্যার মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ট্রাস্টি এবং অটিস্টিক আক্রান্ত বয়স্কদের ভোকেশনাল ট্রেনিং ও চাকুরির সংস্থানকারী সংগঠন পিএফডিএ এর সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন সেবা সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন তিনি। হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতির মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্রতা বিমোচন, দুর্যোগকালীন সহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের মাধ্যমে হাতিয়ার আপামর জনতার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন মুজিব আদর্শের সৈনিক মাহমুদ আলী রাতুল সর্বোপরি রাজনৈতিক অস্থিরতা, বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত পিছিয়ে পড়া জনপদ হাতিয়ার আগামী দিনে একজন পরিচ্ছন্ন, উদার, সহনশীল ও উন্নয়নকামী নেতার অভাব পূরণে মাহমুদ আলী রাতুলই হতে পারেন হাতিয়াবাসীর আশার শেষ ঠিকানা

Print Friendly, PDF & Email