• Home »
  • আন্তর্জাতিক »
  • ব্রেকিং নিউজ অব নিউ ইয়র্ক: সংবাদ পাঠকের পাতা’র বই ব্যবচ্ছেদ–একুশের কথা একুশের চেতনা
ব্রেকিং নিউজ অব নিউ ইয়র্ক:  সংবাদ পাঠকের পাতা’র বই ব্যবচ্ছেদ–একুশের কথা একুশের চেতনা
২০ ফেব্রু '১৮
0 Shares

ব্রেকিং নিউজ অব নিউ ইয়র্ক: সংবাদ পাঠকের পাতা’র বই ব্যবচ্ছেদ–একুশের কথা একুশের চেতনা

ব্রেকিং নিউজ অব নিউ ইয়র্ক:  সংবাদ পাঠকের পাতা’র বই ব্যবচ্ছেদ–একুশের কথা একুশের চেতনানিউ ইয়র্ক থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: নিউ ইয়র্ক সিটি লাইব্রেরি সিস্টেমের পৃষ্ঠপোষকতায় যাত্রা শুরু করলো বাংলা বুক ক্লাব পাঠকের পাতা। পাঠকের পাতা’র আয়োজকদের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারী আয়োজন করা হয় বই ব্যবচ্ছেদ এবং একুশের কবিতাপাঠ। ভাষার মাসের তাৎপর্যকে বিবেচনায় রেখে এ মাসের জন্য নির্বাচন করা হয় ওবায়েদুল্লাহ মামুন সম্পাদিত গ্রন্থ ‘একুশের কথা একুশের চেতনা’। এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে ২১ জন ভাষা সৈনিকের ২১টি প্রবন্ধ। মূল আলোচক কবি ও প্রাবন্ধিক কাজী জহিরুল ইসলাম একুশটি প্রবন্ধের ওপর চুলচেরা আলোচনা করেন এবং গ্রন্থটির কিছু অসঙ্গগতিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়। পাকিস্তানের ভাগে পড়ে পূর্ব বাংলা। কারণ পূর্ব বাংলার অধিকাংশ মানুষ মুসলমান। পূর্ব বাংলা হয়ে যায় পূর্ব পাকিস্তান। মুসলিম অধ্যুষিত পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দীন আহমদের এই বক্তব্যের পক্ষে কাজ শুরু করে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কিন্তু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ পূর্ব পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীগণ এর বিরোধিতা করেন। তাঁরা মনে করেন, পাকিস্তানের দুটি রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিৎ, উর্দু এবং বাংলা। যেহেতু পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সকলেই বাংলা ভাষায় কথা বলে, এখানকার রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী, খাজা নাজিমুদ্দিনসহ ক্ষমতাসীন সকল নেতৃবৃন্দ উর্দুকে বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইলে বাংলা ভাষার দাবিতে জোরালো আন্দোলন গড়ে ওঠে। যার চূড়ান্ত পরিণতি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ড। ছাত্ররা বাংলা ভাষার দাবীতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল নিয়ে বের হলে শাসকগোষ্ঠীর পুলিশবাহিনী গুলি চালায়। ঢাকার রাজপথ ভাষাসৈনিকদের রক্তে লাল হয়ে ওঠে। শহীদ হন সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, কিশোর ওহিউল্লাহসহ অনেকে। বাংলা ভাষার দাবিকে যারা যৌক্তিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন তাদের সংখ্যা অনেক। সেইসব ভাষা সৈনিকদের কলম থেকে বিভিন্ন সময়ে বেরিয়ে এসেছে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকথা, তাৎপর্যপূর্ণ প্রবন্ধ-নিবন্ধ। এমন ২১ জন ভাষা সৈনিকের লেখা একুশটি রচনা এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে। প্রতিটি রচনার প্রেক্ষাপট ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং এর পূর্বাপর ইতিহাস। সম্পাদক একুশে ফেব্রুয়ারির একুশ সংখ্যাটির তাৎপর্য বিবেচনা করে একুশটি রচনা সঙ্কলিত করেছেন, বায়ান্নর তাৎপর্যও এই বিবেচনায় আসতে পারতো। সেক্ষেত্রে হয়ত আমরা ৫২টি রচনা পেতাম। এই গ্রন্থের সকল রচনাকেই প্রবন্ধ/নিবন্ধ বা স্মৃতিকথা বলা যাবে না। কেননা এতে নিবন্ধ আকারে লেখা রচনা যেমন আছে, স্মৃতিচারণমূলক লেখাও আছে, আবার শ্রেফ ডায়রিতে টুকে রাখা টুকরো ঘটনাসমূহও রয়েছে, এছাড়া সঙ্কলিত হয়েছে বাংলা ভাষার দাবী উত্থাপন করে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে দেওয়া ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক বক্তব্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার, শফিউর রহমান, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, রিকশাচালক আউয়াল এবং কিশোর অহিউল্লাহ, এই আটজন ছাড়াও আরো কয়েকজন ভাষা আন্দোলন কর্মী ২১ তারিখের কাছাকাছি সময়ে শহিদ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, এই গ্রন্থে তাঁদের ইঙ্গিতও আছে কিন্তু তাঁদের নাম জানা যায়নি। কামাল লোহানি তাঁর প্রবন্ধ ‘আমাদের সংগ্রামের পথরেখা’- তে উল্লেখ করেন, ‘ভাষা সংগ্রামের এই চারদিনে মোট ৩৯জন শহিদ হয়েছেন।’ এম আর আখতার মুকুলের প্রবন্ধ ‘বাংলা ভাষা আন্দোলনের সমগ্র ইতিহাস’ থেকে জানা যায়, ‘এ ছাড়া রাস্তায় পড়ে থাকা অছাত্রের গোটা দুয়েক লাশ পুলিশ ট্রাকে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। (পৃষ্ঠা ৯৩)’ সেই অছাত্র ভাষা শহিদদের নাম আজও জানা যায়নি। এই গ্রন্থের অন্য কোনো নিবন্ধেও তাঁদের নাম পাওয়া যায়নি। হাসান হাফিজুর রহমানের প্রবন্ধ ‘বায়ান্নর ভাষার লড়াই’-এ তিনি লেখেন, ‘কিছু লাশ গুম হয়েছিল বলে শোনা গেছে। কিছু লোককে শনাক্ত করা হয়েছিল, কিছু লোককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সালাম, বরকত, রফিক এদের নাম পাওয়া গেছে। কিন্তু বাজারে জোর গুজব ছিল যে ৫০-৬০ জন লোক মারা গেছে। সে সময় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থাকলেও বাংলা ভাষার প্রশ্নে কোনো সংগঠনই দ্বিমত পোষণ করেনি।’ যেসব মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছিল তাঁদের বাইরে কি আর কেউ শহিদ হয়েছিল? ‘একুশের কথা একুশের চেতনা’ গ্রন্থ এই প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।’
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর উপস্থিত পাঠকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন মোরশেদুল আলম, ফাহিম রেজা নূর, আবদুল্লাহ জাহিদ, মুক্তি জহির প্রমূখ। মোরশেদুল আলম মূল প্রবন্ধে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এবং এর ডকুমেন্টেশনের অসম্পুর্ণতা তুলে ধরার জন্য কাজী জহিরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন নিউ ইয়র্ক সিটির মূল স্রোতধারার ভেতরে বাংলা ভাষার একটি বুক ক্লাবের সরব অস্তিত্ব দেখে। ফাহিম রেজা নূর পাঠকের পাতার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, এই আয়োজন আমাদেরকে নিয়মিত ভালো ভালো বাংলা বই পড়তে উৎসাহ জোগাবে যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। আবদুল্লাহ জাহিদ বলেন, একুশের কথা একুশের চেতনা একটি অসম্ভব ভালো বই। এই বইটি মন দিয়ে পড়লে বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পুরোটাই জানা হয়ে যায়। তিনি এর সম্পাদক ওবায়েদুল্লাহ মামুনকে এই গ্রন্থটি সম্পাদনা করার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ দেন। মুক্তি জহির এই গ্রন্থের একমাত্র নারী লেখিকা সুফিয়া আহমেদের রচনাটির সুত্র টেনে বলেন তাঁর প্রবন্ধটি আমাদের জানিয়ে দেয় যে ভাষা আন্দোলনে বেশ ক’জন নারী অসামান্য অবদান রাখেন তাঁরা হলেন, লায়লা সামাদ, শামসুন নাহার, শাফিয়া খাতুন, সারাহ তৈফুর, রওশন আরা বাচ্চু। এই নামগুলো জেনে একজন নারী হিসেবে আমি অনুপ্রাণিত বোধ করেছি। আলোচনার শেষ বক্তা হিসেবে ‘একুশের কথা একুশের চেতনা’ গ্রন্থের সম্পাদক ওবায়েদুল্লাহ মামুন উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর জবাব দেন। তিনি বলেন, এই গ্রন্থে একুশজন ভাষা সৈনিকের রচনা সংকলিত হয়েছে। লেখক নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তাঁদেরকে যারা আজ অবধি বা তাঁদের জীবনের শেষ দিন অবধি একুশের চেতনাকে ধারণ করেছেন, লালন করেছেন। বই ব্যবচ্ছেদ পর্ব শেষে একুশের কবিতা আবৃত্তি করেন নজরুল কবীর, পারভীন সুলতানা, তাহরীনা প্রীতি এবং শুক্লা রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজিয়া নাজমী।
মার্চ মাসের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে “বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী”। সদস্যরা বইটি কুইন্স লাইব্রেরির হলিস শাখা থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। আগামী ২৪ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে পাঠকের পাতা’র দ্বিতীয় বই ব্যবচ্ছেদ। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ওবায়েদুল্লাহ মামুন। ২৪ মার্চের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার কবিতা পাঠ করবেন বাচিক শিল্পীরা।

Print Friendly, PDF & Email

About dimlanews

Related Posts

Leave a Reply

*

সম্পাদকের বক্তব্যঃ

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম ভিজিট করুন এবং বিজ্ঞাপন দিন।