• Home »
  • বিনোদন »
  • আচ্ছা মেয়েটি কি আত্মহত্যা করলো? কি সের অভাব ছিলো মেয়েটির নাকি কেউ মেরে ফেললো?
আচ্ছা মেয়েটি কি আত্মহত্যা করলো? কি সের অভাব ছিলো মেয়েটির নাকি কেউ মেরে ফেললো?
১ মার্চ '১৮

dimlanews

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম এর প্রকাশিত সংবাদ গুলো পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।

0 Shares

আচ্ছা মেয়েটি কি আত্মহত্যা করলো? কি সের অভাব ছিলো মেয়েটির নাকি কেউ মেরে ফেললো?

অনলাইন ডেস্ক: ১৮ বছর বয়সের একটা মেয়ে, দুধে আলতা গায়ের রং, রেশমি চুল, মসৃণ ত্বক,হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো টানাটানা, দেখে বুঝার উপায় নেই যে মেয়েটি মৃত।
ক্ষনিকের জন্য বুকটার ভেতর একটা মোড়চ দিলে উঠলো, আসলে মানুষের জীবন কি??আচ্ছা মেয়েটি কি আত্মহত্যা করলো? কি সের অভাব ছিলো মেয়েটির নাকি কেউ মেরে ফেললো?
কিসের এতো বড়াই মানুষের??
কোন এতো হানাহানি, কেন এতো ক্ষমতার বড়াই??
যখন লাশকাটা ঘরে এই দৃশ্যে মুখোমুখি দাড়িয়ে আছি আর আনমনে এসব ভাবছি এমন সময় কারেন্ট চলে গেলো।
গুমোট একটা বদ্ধ অন্ধকারাচ্ছন্ন আবহাওয়া, জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি দাড় করিয়ে দিল আমাদের।
জীবনের মূল্যটা গভীর ভাবে আঁচ করতে পারলাম।
মেয়েটিরও আমাদের মত সবই আছে শুধু প্রাণটি নেই।
মেয়েটিও হয়তো এক সময় হাসতো, খেলতো, ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম জিতলে জয়উল্লাস করতো, মেয়েটিকে কেউ হয়তো অনেক ভালবাসতো, এই মেয়েটিকেই হয়তো তার মা ছোট বেলায় কতইনা আগলে রেখেছিলেন, খাইয়ে দিতেন, ঘুম পাড়াতেন।
মেয়েটিও হয়তো মজার মজার খাবার খেতে ভালবাসতো বা তার ভালো লাগতো পাড়ার মোড়ের ঐ ফুচকা-চটপটি।
সেই মেয়েটি, যে গত দিনও কথা বলতে পারতো,ক্ষনে ক্ষনে তার হাজারটা ইচ্ছা জন্মাতো সে একটি অন্ধকার রুমে, তাকে ঘিরে রয়েছি আমরা,কতগুলো উৎসুক চোখ,কারো চোখের কোনে মুক্তদানার মতো অস্রু,কেউ বা পায়চারি করে পরিবেশের সাথে খাপখায়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে,ডোমের হাতে চকচকে ছুরি,হাতুড়ি,বাটালি,কারেন্ট নেই, সবার হাতে মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বলছে।
এক মুহূর্তে নিজেকে লাশটির যায়গায় কল্পনা করলাম, আহা জীবন, কি এর মানে, কেন এতো এর মূল্য???
পুলিশবাহিনী লাশটি ফরেনসিকে পাঠায়েছিলো মূলত এটা খুন নাকি আত্মহত্যা সেটা পরিষ্কার হওয়ার জন্য।
অতঃপর স্যারদের অর্ডার মতো ডোম লাশ কাটা শুরু করলেন।
ছুরি চালালেন ডোম…..গলার মাঝ থেকে নাভী পর্যন্ত, চামড়াটা দুপাশে ছিলে ফেললেন, এবার বক্ষপিন্জরের মাঝবরাবর স্টার্নাম নামক হাড়াটা তরুনাস্থি সহ আলাদা করা হলো।
আমাদের সামনে একটা তরতাজা সদ্য মৃত লাশ, নিথর দেহ, আমার কাছে মনে হচ্ছিল মেয়েটি ঘুমিয়ে আছে, হয়তো এই উঠে বসবে, হয়তো আবার ফিরে যাবে তার স্বপ্নের সংসারে, তার প্রিয় মানুষগুলোর কাছে।
ডোম এবার তার হার্ট, লাঙ্গস, লিভার, কিডনি, ইউটেরাস, পাকস্থলী সব গুলো ভিসেরা একটা একটা করে আলাদা করলেন এবং আমাদের সেগুলো কেটে কেটে ছোট টুকরো করে দেখালেন, সেগুলোর ভেতর রক্তের ক্লটিং দেখে এটা আত্মহত্যা নাকি খুন সেটা বিশষজ্ঞরা জাচাই বাছাই করছিলেন।
এবার ডোম লাশের কানের এক পাশ থেকে আরেক পাশ পর্যন্ত কেটে চুলগুলোর দুপাশ ধরে অনেকটা মুরগীর চামড়া ছুলার মতো একটা টান দিলেন।
মাথার খুলিটি বেরিয়ে আসলো, কে বলবে এক দিন আগেও এই মেয়েটি পৃথিবীর রূপ,রস,আলো উপভোগ করতে পারতো।
এবার হাতুড়ি বাটালি দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাথার খুলি ফাটানো হচ্ছে, প্রতিটি আঘাতের শব্দ আমার দু কানকে ছিড়ে বেড়িয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।
আচ্ছা মেয়েটি কি আত্মহত্যা করলো???
কি সের অভাব ছিলো মেয়েটির নাকি কেউ মেরে ফেললো???
বিভীষিকা ময় আবহাওয়া, কিছু উৎসুক চোখ, সামনে একটি সদ্যমৃত দেহ, বাইরে স্বজনের আহাজারি, মায়ের চোখে জল, আমাদের বুকে কম্পন, মাথা-চোখ-বুক কষ্টে ভারি হয়ে আসা।
হয়তো একসময় এসব দেখতে দেখতে সয়ে যাবে, কিন্তু হৃদয়ে যে রক্তক্ষরনটা হয়েছে তা দগদগেই থেকে যাবে।
শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মহোদয়, আমাদের বারবার প্রশ্ন করছিলেন, একটা ১৮ বছর বয়সের সদ্য বিবাহিতা মেয়ে কি কি কারনে আত্মহত্যা করতে পারে???
মাথায় কিছু খেলছিলো না, এমন একটি পরিবেশে কিছু মাথায় আসার কথাও না।
আসলে আমাদের সামনে এটা নিছক কোন লাশ ছিল না, এটা ছিল একটি শিক্ষা, মর্মান্তিক শিক্ষা।
এই একই পরিনতি আমাদের সবারই হবে, হয়তো কোন লাশ কাটা ঘরে, কারো বা চিতায়, আবার কারো বা কবরে।
জানি না লাশটি আত্মহত্যার নাকি খুনের, এটাও জানি না শাস্ত্র মতে লাশটি বেহেশতে যাবে নাকি দোযখে।
তখন শুধু জসীম উদ্দীনের সেই কবর কবিতার লাইনটি মনে পড়ছিলো……..
” মসজিদ হতে আজান হাঁকিছে, বড় সে করুণ সুর,,,
মোর জীবনের রোজ কেয়ামত ভাবিতেছি কত দুর ” সূত্র: সামাজিক কল্যাণ তহবিল(Social Welfare Fund)

Print Friendly, PDF & Email

About dimlanews

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম এর প্রকাশিত সংবাদ গুলো পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।

Related Posts

Leave a Reply

*

সম্পাদকের বক্তব্যঃ

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম ভিজিট করুন এবং বিজ্ঞাপন দিন।