নিউইয়র্ক খেকে সালেম সুলেরী: নিউইয়র্কে প্রাণঢালা সম্মাননা পেলেন সংগঠক নূর ইসলাম বর্ষন। ‘প্রবাসী নাগরিক সমাজে’র আয়োজনে নেমেছিলো মানুষের ঢল। জ্যাকসন হাইটসের ‘পালকি সেন্টার’ ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। কীর্তিগাঁথা নিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রায় ৩৫ ব্যক্তিত্ব। পুষ্পাঞ্জলি অর্পণে ছিলেন ২৫ সংগঠনের প্রতিনিধি। নীরোগ জীবন ও আয়ুবৃদ্ধিতে ছিলো মিলাদ-মোনাজাত। তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট, মানপত্র, বিশেষ উপহার। পরিবেশিত হয় জীবনীভিত্তিক নিবেদিত কবিতা। সভাপতিত্ব করেন উদ্যোক্তা-্আহ্ববায়ক কাজী সাখাওয়াত আজম। বিজয়মাসে নতুন ধারার অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলো সংগঠনটি। প্রবাসের সেবক-সংগঠকদের জীবদ্দশায় সম্মাননা প্রদান। নূর ইসলাম বর্ষনকে দিয়ে সূচনা হলো কার্যক্রমের। অনুষ্ঠান সভাপতি স্বাগত বক্তব্যে ঘোষণাটি দেন। বলেন, মরণোত্তর সম্মাননার চেয়ে জীবনোত্তর স্বীকৃতি শ্রেয়তর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুখ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম সিকদার। বলেন, নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠায় বর্ষন সাহেবও অংশিদার। লোকসঙ্গীত উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রবাসীদের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে সেতুবন্ধন ঘটিয়েছেন। প্রখ্যাত গায়ক মুস্তাফা জামান আব্বাসীসহ খ্যাতিমানদের এনেছেন। ‘সুর’ নামে সমৃদ্ধ সংকলনও উপহার দিয়েছেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিলো পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠ, জাতীয় সঙ্গীত। আয়ুবৃদ্ধি ও নীরোগ জীবন কামনায় মিলাদ ও মোনাজাত। পরিচালনা করেন ইমাম কাজী  আব্দুল কাইয়ুম।

কথা-কবিতা নিবেদন করেন ‘তিনবাংলা’র কর্ণধার কবি সালেম সুলেরী। তিনি লিখেছেন >> গ্রাম-পরিজন হয়না অতীত, প্রবাসসেবায় ধন্য, / শিক্ষাভাতা, বস্ত্র শীতের, লাঠি– বুড়োর জন্য.. / প্রবাস থেকে স্বদেশ প্রেরণ, সংগঠিতকরণ, / দেশ-মাটিকে এমন মায়ায় ক’জন করে স্মরণ? অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন ‘নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশন’-খ্যাত মোহাম্মদ কাশেম। নাগরিক সমাজের পক্ষে সম্মাননা তুলে দেন ১৯বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সমন্বয়ে ছিলেন তিনজন প্রখ্যাত সংগঠক। ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন খান। ফারাক্কা আন্তর্জাতিক কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান সালু। জ্যামাইকার কলম্বাস-খ্যাত রিয়েলেটর পল খান। সমন্বয়ক জসিউদ্দিন ভুঁইয়া ছিলেন বিশেষ তদারকিতে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রত্যেকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রথাসিদ্ধ কোন প্রধান বা বিশেষ অতিথি ছিলো না। সম্মানিত অতিথি হিসেবে প্রায় ৩১জন বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. হামিদুজ্জামান, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ, মূলধারার রাজনীতিক মোরশেদ আলম, ৩৩তম ফোবানা সম্মেলনের আহ্বায়ক ও জেবিবি সভাপতি শাহনেওয়াজ, পিপল’এনটেক-খ্যাত প্রকৌশলী আবুবকর হানিপ, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসান, ‘মাস্টার এট ল’ এন. মজুমদার, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল হক মিলন, সাবেক সম্পাদক ফখরুল আলম, সোসাইটির সভাপতি প্রার্থী আশরাফ হোসেন নয়ন, চলমান সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সম্পাদক পদপ্রার্থী ও কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, টাইম টিভি ও বাংলা পত্রিকার কর্ণধার  আবু তাহের, টিবিএন টিভি’র নির্বাহী এ এফ এম জামান, বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান জিল্লু, সংগঠক গিয়াস  আহমদ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রেহানা জামান, নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতিদ্বয় ডা. আব্দুল লতিফ, রাফেল তালুকদার, সাবেক সভাপতি আতোয়ারুল আলম, সহ-সভাপতি ফতেহ আলম নূর, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশরাফ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাদ সোলায়মান, মুক্তিযোদ্ধা মশিয়ূর রহমান, জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি আব্বাসউদ্দিন দুলাল, জালালাবাদ এসোসিয়েশন-খ্যাত জনাব সেলিম, জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, পেনসিলভেনিয়া বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আলতামাশ বাবুল, ট্যাক্সিচালক এসোসিয়েশন অব পেনসিলভেনিয়ার প্রধান তোজাম্মেল হক প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সর্বসংগঠক আমানত হোসেন আমান, মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, শাহাদত হোসেন রাজু, জান্নাতুল নাঈম লাইজু, মনিরুল ইসলাম মনির, ফারজানা আফরোজ লিজা। বর্ষনপত্নী নাসরিন ইসলাম ও পুত্র প্রকৌশলী অয়ন ইসলামও বক্তব্য দেন। লেখক-সংস্কৃতিসেবী মোহর খানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় সঙ্গীতপর্ব। অংশ নেন রানু নেওয়াজ, শাহ মাহবুব, কামরুজ্জামান বকুল, ডা. নার্গিস রহমান, মিলনকুমার রায়, বাবলী হক, শাহনাজ পারুল, পারভীন বানু, তামান্না হাসিনা, গৌতম রায়, কাজল, সোনিয়া প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মুমু আনসারী।

অনুষ্ঠানে বক্তাবৃন্দ জনাব বর্ষনের জীবনচিত্র তুলে ধরেন। অধিকাংশের মতে সাধারণ জীবনযাত্রার কারণে তিনি প্রশংসনীয়। মুখে পান, হাতে ছাতা নিয়ে ২৮ বছর ধরে চলছেন। মূলধারায় আবাসিক হোটেলের ফ্রন্টডেস্কে মর্যাদাপূর্ণ কাজ করেছেন। অবকাশের পুরোটা সময় দিয়েছেন কমিউনিটির কল্যাণমূলক কাজে। প্রবাসজীবনের চেয়ে স্বদেশের মাটি-মানুষকে অধিক গুরুত্ব দিতেন। বর্ষনপত্নী নাসরিন ইসলাম বলেন, আমরা আজ ধন্য। এই জীবনে স্বামীর পাশাপাশি কমিউনিটির সবার ভালোবাসা পেয়েছি। বর্ষনপুত্র প্রকৌশলী অয়ন ইসলাম স্বল্পকথায় সবার নজর কাড়েন। বলেন, তিন সদস্যের পরিবার আমাদের। বাবাকে ঠিকমতো না পেয়ে অনেক কষ্ট পেতাম। এখন দেখছি আপনাদের নিয়ে বাবার বিশাল পরিবার। এখন আর অভিযোগ নেই, সবাই আমরা এক পরিবার। সম্মাননাপ্রাপ্তি বিষয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন সংস্কৃতিসেবী বর্ষন। বলেন, আমি দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত হওয়ার পথে। আজকের সার্বজনীন ভালোবাসায় আমার সাংগঠনিক জীবন ধন্য। আমার আয়ু যেন এক আয়োজনেই কুড়ি বছর বৃদ্ধি পেয়েছে।

কমিউনিটির প্রতিধিত্বকারী অসংখ্য মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। একনজরে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আজিজুল হক, বিশেষজ্ঞ ড. হুমায়ূন কবির, অধ্যাপক-গবেষক হোসনে আরা, নজরুল একাডেমি’র কর্মকর্তা অধ্যক্ষ আজিজুল হক মুন্না, জাতীয় পার্টি সভাপতি হাজ্বী আব্দুর রহমান, সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান চৌধুরী, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সভাপতি ডা. ওয়াজেদ খান, সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাংবাদিক সনজীবন সরকার, এটিএন বাংলা’র কানু দত্ত, লোকসঙ্গীত সম্মেলনের সংগঠক লেখক এবিএম সালেহউদ্দীন, সংস্কৃতিসেবী কাজী জাহাঙ্গীর খান, সংগঠক মোজাফ্ফর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, স্বদেশ ফোরাম সভাপতি কবি অবিনাশ আচার্য, বরিশাল বিভাগ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফর রহমান লাতু, সংগঠক ফারুক হোসেন মজুমদার, অধ্যক্ষ এস এম জুয়েল, ফিনান্সিয়াল কনসালটেন্ট শাহ ফিরোজ রানা প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে নৈশভোজের ব্যবস্থা ছিলো।

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here