সুবীর সরকার কোচবিহার: রাসমেলা মানেই দূরাগত হাওয়ায় ভাসা এক মেদুরতা সুবীর সরকার রাসমেলা।কোচবিহারের রাসমেলা।উত্তরবাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ মহোৎসব।লক্ষ মানুষের সমাগমে এক অদ্ভুত বর্নময়তা।ছোটবেলা থেকেই আমার জীবনে মায়া ফেলে গেছে এই মেলা।রাসমেলায় সার্কাসের মাঠের পাশেই মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়।সেই স্কুলেই আমি পড়াশোনা করতাম।তাই চোখের সামনেই নির্মিত ও বিনির্মিত হতে দেখতাম পুরো রাসমেলাকেই।সে এক বিষ্ময়কর অভিজ্ঞতা। আমার চোখের সামনে তৈরি হতে থাকতো সার্কাসের তাঁবু।স্কুল থেকে দল বেঁধে যেতাম হাতিদের,ঘোড়াদের দেখতে।দেখতাম জোকারদের স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়াতে।আমাদের স্কুলের সামনে সারি সারি বসে যেত টমটম গাড়িওয়ালারা।ক্লাসে মন বসতো না।টমটম গাড়ির পিঠে কাঠি পড়লে ভেতরের দুরন্ত পাগলটা কেমন জেগে উঠতো।চমৎকার কাটাতাম মেলায়।স্কুলের টিফিন ও স্কুল শেষে দল বেঁধে আমাদের মেলাবাড়ি তন্ন তন্ন করে ঘুরে বেড়ানো।কত নুতন মানুষ,কত কত দেখা কেমন করে তুলতো বুঝি গোটা আমিটাকেই।আমার দিদিমা ছিলেন গান,কীর্তন ও যাত্রাভক্ত মানুষ।প্রায় প্রতিসন্ধ্যায় দিদিমার সাথে মদনমোহন বাড়ি।সেখানে ভাওয়াইয়া,কুশান পালা শুনতাম।যাত্রা দেখতাম।কীর্তনের পদাবলী শুনতাম।কত কত মানুষের ভিড় ঘিরে থাকতো আমাকে।কি একটা বুঝি ঘটে যেত আমার অন্দরে আমার অজান্তেই! রাসমেলায় অন্যতম আকর্ষণ বোধ করতাম পুতুল নাচ,ভেটগুড়ির জিলাপি আর নীরার কাটলেটের প্রতি।বাবা মার সাথে ঘুরে ঘুরে আমি নাগরদোলা চরতাম,সার্কাস দেখে ফেলতাম একাধিকবার।সার্কাসের ট্রাপিজের খেলা,পশুপাখির খেলা আর জোকারদের পুরোটাই আমার সবিশেষ পছন্দের ছিল।মধ্যরাতে ঘুমন্ত শহরে কখনো ছড়িয়ে পড়তো সার্কাসের অসুখী বাঘের হুংকার।সেটা হয়তো বন্দী জীবনের হাহাকার।সার্কাস তাঁবুর আলো ও বাজনা বাজিয়েরা এবং সার্কাসতাঁবু ভীষণ টানতো আমাকে।সব মিলিয়ে রাসমেলা ছিল আমার জীবনের সর্বসেরা উৎসবের মতো।যৌবনে বন্ধুদের সাথে,বান্ধবীদের সাথে,প্রেমিকাদের সাথে অনন্ত সময় কাটিয়েছি রাসের মেলায়। এখন পরিণত বয়সে সব দেখাই বদলে গেছে।বদলে গেছে আমাদের রাসমেলাও।বহরে ও পরিসরে।মেলা এখন ডিজিটাল।কিন্তু রাসমেলায় সেই টান,সেই ম্যাজিক এখনো রয়েছে।আমি আজও মেলাকে উপভোগ করি।শিহরণ বয়ে বেড়াই।নুতনরকমভাবে সমস্ত দেখাগুলি ফিরে ফিরে আসে।আর ‘পুতনা রাক্ষসীর’ সাথে তরুণ বন্ধুদেরকে নিয়ে এখনো হই হই করে সেলফি তুলি। আসলে রাসমেলা আদতেই এক মায়া ও ম্যাজিকের নাম।

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, প্রকাশক ও সম্পাদক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here