মিজানুর রহমান মিলন,সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে অবৈধভাবে উচ্চ বিদ্যলয় ও কলেজের সরকারিভাবে বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ২ নম্বর কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ওই বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্ক্ষৃপক্ষ বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে অবৈধভাবে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিগত ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এলাকার মরহুম নজম উদ্দিন আহমেদ, নুর ইসলাম. মোসাম্মৎ বাছিয়া খাতুন, মরহুমা জাছিরন বিবি ও খাদিজা বেওয়া নামে শিক্ষানুরাগী পাঁচ ব্যক্তির দানকৃত ৮৭ শতক জমিতে বিদ্যালয়টি গড়ে উঠে। বতর্মানে বিদ্যালয়টিতে পৌণে তিন শত শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এদের মধ্যে ১১৫ জন বালিকা এবং ১৫৯ জন বালক। বতর্মানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য প্রধান শিক্ষক এ কে এম শফিউল আলমসহ ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন।
সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘেঁষে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ অবস্থিত। বিগত ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠানকালীন সময় থেকে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয়টি সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠসহ প্রধান ফটক ব্যবহার করে আসছে। পরবর্তীতে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয়টিকে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ উন্নীত করা হয়েছে। যদিও অদ্যাবধি বিদ্যালয় সংযুক্ত উচ্চ কলেজের পাঠদানের অনুমতি মিললেও একাডেমিক স্বীকৃতি কিংবা এমপিওভূক্ত হয়নি ।
চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের জন্য চারতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের বরাদ্দ মেলে। ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এ একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজটি পেয়েছে দিনাজপুরের ই- আমান কন্সট্রাক্টশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত জুলাই মাসে বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে। সে সময় সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শফিউল আলম তাঁর বিদ্যালয়ের জমিতে কলেজের বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়টি সৈয়দপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে ঘটনাটি সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়। সৈয়দপুর উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. গোলাম কিবরিয়ার লিখিত নির্দেশে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মো. আমিন উদ্দিন সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি মাপজোপ করে সীমানা নির্ধারণ করে দেন। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবওে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আর সে অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উচ্চ বিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ একমাসের বেশি সময় বন্ধ রাখা হয়।
এ অবস্থায় প্রধান শিক্ষক এ কে এম শফিউল আলম গত ২৩ অক্টোবর বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ বিদ্যালয়ের শুরু করেছেন পুনরায়। এ অবস্থায় তিনি ২৪ অক্টোবর আমি বিষয়টি নিয়ে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কথা বলতে যান। এ সময় বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক ফজলার রহমানের উপস্থিতিতে জনৈক আসাদুলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ওই দিনের ঘটনাটি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সৈয়দপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
প্রধান শিক্ষক এ কে এম শফিউল আলম বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের দায়িত্বে রয়েছি। তাই বিদ্যালয়ের সকল স্থাবর -অস্থাবর সম্পদ দেখার দায়িত্ব আমার উপরেই বর্তায়। আমি সেই দায়িত্ব কর্তব্য থেকে বিদ্যালয়ের জমিতে যাতে অবৈধভাবে উচ্চ বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করি। এটি আমার দায়িত্বকর্তব্যেও মধ্যে পড়ে।
সৈয়দপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহজাহান মন্ডল বলেন,ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে আমাকে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। আমিও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে উচ্চ বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবরে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
এ নিয়ে কথা হলে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, যে জমিতে সরকারিভাবে উচ্চ বিদ্যলয়ের একাডেমিক চারতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে তার পরিবর্তে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অন্যত্র জমি দেওয়া হয়েছে। যার বিনিময় দলিলও রয়েছে। এছাড়াও ওই জমিতে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য আমি গত ২৪ অক্টোবর নীলফামারী জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করেছি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সৈয়দপুর উপজেলার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, জমিটি সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নামে বিনিময় দলিল রয়েছে দেখে সেখানে সরকারিভাবে চারতলা একাডেমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে এলাকার একটি সূত্র জানায়, সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কর্ক্ষৃপক্ষ নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণ না করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে অবৈধভাবে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করছে। অথচ তারা বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমিতে দোকানপাট তৈরি করে ভাড়ায় দিয়েছে। এটি ঠিক নয়। এর আগে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে শহীদ মিনার ও প্রধান ফটক নির্মাণ করেছে।

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here