মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় রেললাইনের উভয় পাশে অসংখ্যক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে যেমন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন, তেমনি বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। যদিও বাংলাদেশ রেলওয়ের (বিআর) আইন অনুযায়ী রেললাইনের উভয় পাশের বিশ ফুট এলাকা বিপজ্জনক ও সংরক্ষিত এলাকা।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মাঝ দিয়ে চলে গেছে পার্বতীপুর – সৈয়দপুর- চিলাহাটি রেললাইন। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন ষূত্র জানায়, সৈয়দপুর থেকে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী পর্যন্ত আন্তঃনগর ও লোকাল মিলে সাতটি ট্রেন ১৪ বার চলাচল করে। সেই সঙ্গে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামতের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় প্রতিদিনেই ওয়াগন ও বগি ওই রেলওয়ে লাইন দিয়েই আনা ও পাঠানো হয়।
আর সৈয়দপুর শহরের ১২৬ নম্বর রেলওয়ে গেট থেকে ১২৫ নম্বর গেট হয়ে দক্ষিণের হাতিখানা বানিয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রেল লাইন ঘেঁষে দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্যক অবৈধ স্থাপনা। এ সবের মধ্যে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেডিং দোকান, কামার, স্বর্ণকার, মাংস, ট্রাঙ্ক-বালতির কারখানা, কাগজের বাক্স তৈরি কারখানা, টেইলার্স, আসবাব তৈরি কারখান প্রভূতি। এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রেললাইনে ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ পিকআপ স্ট্যান্ড ও ফলের পাইকারী আড়ৎ। রেললাইনের দুই পাশের ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটার জন্য ক্রেতারা সাধারণত রেলওয়ে লাইন ব্যবহার করে থাকেন। আর এ সব দোকানপাটের ময়লা আবর্জনা নিত্যদিন রেলওয়ে লাইনের ওপর এনে ফেলছে ব্যবসায়ীরা। এতে রেলওয়ের লাইন, ক্লিপ ও পাথর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়াও লাইনের ওপরে প্রতিদিনের ভ্রাম্যমান ফেরিওয়ালা বসে। তারা মূলতঃ লাইনের ওপর বসে দৈনন্দিন বেচাবিক্রির কাজ করছেন। আর তারা ট্রেন আসার হুইসেল শুনে কিছু সময়ের জন্য সরে পড়ছেন। এতে রেলওয়ে লাইনের ওপর মানুষের সরব উপস্থিতি থাকছে। ফলে এতে করে প্রতিনিয়ত রেলওয়ে লাইনের মারাত্মক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। সেই সঙ্গে ফলের পাইকারী আড়তের প্রতিদিনের ময়লা -আবর্জনা অহরহ ফেলা হচ্ছে রেলওয়ে লাইনে।
গত ৩০ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সুলতান মৃধা এ বিষয়টি পাকশী ডিইএনকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। কিন্তু ওই বিষয়টি অবহিত করার প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি অদ্যাবধি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুরের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সুলতান মৃধা জানান, সুষ্ঠুভাবে ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যে সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেললাইনের ৩৯৩/০ হতে ৩৯৫/৬ পর্যন্ত দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে রেলওয়ের পাকশী ডিইএন/২/ বরাবরে পত্র দেয়া হয়। চলতি বছরের গেল র৩০ জুন ওই পত্র দেওয়া হলেও আজ অবধি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। তিনি আরো জানান, গত চলতি মাসে সৈয়দপুর শহরের দুই নম্বর রেলওয়ে গেট এলাকায় রেলওয়ে লাইনের আশপাশে বসা পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে দুই দফায় ওই উচ্ছেদের কয়েক ঘন্টা পরে আবারো দোকানপাট নিয়ে বসে পড়েন পুরাতন কাপড়ের ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির স্থানীয় শাখার নেতা কমরেড রুহুল আলম মাস্টার বলেন, এলাকার ব্যবসায়ীরা রেললাইনের পাশে দোকান বসিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। বিশেষ করে পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ীরা। তিনি জানান, পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রতিদিন মোটা অংকের বখরার টাকা দিলেই নিশ্চিন্তে ব্যবসা করা যাচ্ছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাষ্টার মো. শওকত আলী বলেন, রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। ওই সব অবৈধ স্থাপনার কারণে ট্রেন চালকরা সামনে ঠিকভাবে দেখতে পান না। এর ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

তিস্তা নিউজের নিউজ রুম থেকে সমস্ত বিভাগসহ বাংলাদেশের সর্বশেষ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। আপনি যদি তিস্তানিউজ ২৪.কম এ প্রকাশের জন্য আমাদের ট্রেন্ডিং নিউজ প্রেরণ করতে চান তবে আসুন এখনই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার নিউজটি আমাদের নিউজ রুম থেকে নিউজ ডেস্ক হিসাবে প্রকাশিত হবে। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদান্তে- আব্দুল লতিফ খান, সম্পাদক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here