সৈয়দপুর থানার লাশ বহনকারী চায়না আর কারও লাশ বহন করবে না
১৭ জুলা '১৮

dimlanews

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম এর প্রকাশিত সংবাদ গুলো পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।

0 Shares

সৈয়দপুর থানার লাশ বহনকারী চায়না আর কারও লাশ বহন করবে না

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি: ভাই কি বলবো দুঃখের কথা। মানুষের বিবেক বলতে কিছুই নেই। লাশ তুলে ভ্যানে করে থানায় আনি, ময়নাতদন্তের প্রয়োজনে নীলফামারীতে নিয়ে যাই, আবার নিয়েও আসি। কিন্তু পারিশ্রমিক অনেক কম। একটু বাড়তি টাকা চাইলে আশ্বাস আর ধমক ছাড়া কিছুই মিলেনা। আমি আর লাশ বহনই করবো না। নেশাগ্রস্থ অবস্থায় যাকেই কাছে পেতেন তার কাছেই করতেন এমনই অভিযোগ। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও সংবাদ কর্মীদের কাছে এমনই কথা বলছিলেন সৈয়দপুরে লাশ বহনকারী পরিচিত ব্যক্তি চায়না।
তার এ কথার পাল্টা প্রশ্ন করে বলা হয়েছিল, তাহলে লাশ বহন করবে কে? সে উত্তরে বলে এজন্যই রাগ করে থাকতে পারিনা আমি। থানার অফিসাররা যখনই আমাকে ডাকে তখনই বুঝে নেই, লাশ নিয়ে আসতে হবে। লাশ বহন করে ৪/৫শ টাকা উপার্জন করলেও আমি এটাকে সেবা মনে করি। তবে আমি যখন থাকবো না তখন শুধু পুলিশ নয়, সৈয়দপুরের লোক বুঝবে চায়নার অভাব (কথাগুলো চায়না নিজের আঞ্চলিক ভাষা উর্দুতে বলছিল)।
পুলিশের ডাক পাওয়া মাত্রই ঝড় বৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে ছুটে আসতেন থানায়। ঠিকানা নিয়ে চলে যেতেন নির্দিষ্ট স্থানে। হোক না, পঁচা বা দুর্গন্ধময় লাশ। কিন্তু সে আর লাশ বহন করবে না। কেউ আর ডাকবে না তাকে। দেখা যাবে না তার পুরনো তৎপরতা। সত্যিই হলো তার কথা। সে নিজেই লাশ হয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সোমবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহে….রাজিউন)। তার পুরো নাম হাদিস উদ্দিন ওরফে চায়না (৫০)। সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট নতুন ক্যাম্প এলাকায় তার বাড়ি।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র, ৩ কন্যা সন্তান, আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্যক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ওইদিন রাতে গোলাহাট মসজিদে জানাযার নামাজ শেষে গোলাহাট কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
সূত্র জানায়, গত শুক্রবার দুপুরে সৈয়দপুর থানা চত্বরে আসে চায়না। এ সময় পুলিশের বাধা সত্বেও কাঠাল গাছে কাঠাল পাতা পাড়ার জন্য ওঠে। কিছুক্ষণ পরে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয় সে। ঘটনাটি টের পেয়ে পুলিশ সাথে সাথে স্থানীয় ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায় চায়নাকে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে ইন্তেকাল করেন চায়না। এদিকে তার মৃত্যু সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
তাকে শেষবারের মত দেখতে হাদিস উদ্দিন চায়নার বাড়িতে ছুটে যান সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজাহান পাশা, উপ-পরিদর্শক আব্দুল আজিজসহ থানার অন্যান্য অফিসারবৃন্দ। এ সময় তার শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তারা মৃতের পরিবারকে সহায়তারও আশ্বাস দেন। চায়নার মৃত্যু সংবাদ বিভিন্ন শিরোনামে ফেসবুকে ভাইরাল হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত চায়নাকে চিনেন এমন পুলিশ অফিসাররাও শোক প্রকাশ করেন। তারা চায়নার সেবামূলক কাজের প্রশংসা করে নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেন। 

 

About dimlanews

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম এর প্রকাশিত সংবাদ গুলো পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।

Related Posts

Leave a Reply

*

সম্পাদকের বক্তব্যঃ

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম ভিজিট করুন এবং বিজ্ঞাপন দিন।