• Home »
  • সারাদেশ »
  • নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত
নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত
৫ এপ্রি '১৮
0 Shares

নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত

নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ভাষাসৈনিক রেজাউল করিমের ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিতপ্রেসবিজ্ঞপ্তি// নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ৫২’র জীবন্ত কিংবদন্তী ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম এর ৮২তম জন্মবার্ষিকী তাঁর শ্যামলীস্থ রজনীগন্ধা বাসভবনে পালিত হলো। জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রথমেই তাকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও অন্যন্যা স্যোসাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান খোকন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদের মহাসচিব আর.কে রিপন ও বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ও জাতীয় সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান পাঠান আজহার উদ্দীন প্রিন্স, ২১ শে সাংস্কৃতিক পরিষদের মহাসচিব মোঃ রাসেল ভাষা সৈনিক রেজাউল করিমকে ক্রেস্ট প্রদান করেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও ভাষা সৈনিককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এছাড়াও সকলের উপস্থিতিতে ভাষা সৈনিক কেক কেটে তার জন্মদিন পালন করেন।
এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেখতে দেখতে ৮১ বছর শেষ করে ৮২ বছরে পা রাখলাম। আমার স্ত্রী ১৯৯৭ সালে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, তারপর আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমার এই দীর্ঘ পথ চলা। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই আনন্দবোধ করি। যে কটা দিন বেঁচে আছি, মানুষের জন্য কিছু করতে পারি আপনারা সেই দোয়াই করবেন। এ সময় জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখেছেন তারা কেউ বীরশ্রেষ্ঠ, বীর বিক্রম, বীর উত্তম, বীর প্রতীক উপাধি পেয়েছে। তাঁদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাদের সমাধি করা হয়। অথচ যারা মায়ের ভাষা বাংলার জন্য জীবন উৎসর্গ করলেন, রাজপথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলেন, তাদেরকে আমরা কোন মর্যাদা দিতে পারিনি। তাদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা দিতে ব্যর্থ রাষ্ট্র কেন এ প্রশ্ন বার বার আমার হৃদয়ে জেগে উঠে। তিনি আরো বলেন, ভাষা সৈনিকদেরকে যদি আমরা তাঁদের যথাযথ মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়, আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। আগামী ২০ বছর পর ইচ্ছা করলেও আমরা কোন ভাষা সৈনিকদের এভাবে সম্মান দিতে পারবো না। বয়স ও সময়ের কারণে তাঁদের অধিকাংশই না ফেরার দেশে চলে যাবেন। আগামী ৫০ বছর পর সারা বাংলাদেশ খুঁজে একজনও ভাষা সৈনিকদের খুঁজে বের করতে পারবো না। তাহলে তাদের জীবদ্দশায় কেন আমরা তাদেরকে সম্মান দিতে ব্যর্থ হচ্ছি? তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান, অবিলম্বে সকল ভাষা সৈনিকদের তালিকা করে তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করতে হবে।
৫২’র জীবন্ত কিংবদন্তী ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম ১৯৩৭ সালের ৪ এপ্রিল বগুড়া জেলাধীন সারিয়াকান্দা থানার নারচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. মোজাহেদ উদ্দিন তরফদার এবং মাতার নাম আকলিমা খাতুন। ১৯৫২ সালে ওয়েস্ট এ্যান্ড হাইস্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি একুশের আন্দোলনের সাথে জড়িত হন এবং নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে বহুজাতিক কোম্পানী লিভার ব্রাদার্স (পাকিস্তান) লিঃ এ যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এর পূর্বে কিছুদিন তিনি এম.এম ইস্পাহানী লিঃ এ চাকুরীতে ছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তান কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রি সিআইপিতে কর্মরত থাকাকালে স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। অতঃপর ১৯৭৩ সালে বদলী বিসিআইসি’র অধীনে ঘোড়াশাল ও আশুগঞ্জ সারকারখানায় ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। অতঃপর ফেঞ্জুগঞ্জ সার কারখানার মহা ব্যবস্থাপকের পদ থেকে অবসর নেন ১৯৯৭ সালে। ১৯৬৫ সালে তিনি বেতার ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় নজরুল গীতি কন্ঠশিল্পী সেলিমা করিমের সঙ্গে প্রণয়ের সূত্রে আবদ্ধ হন। ১ ছেলে ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রয়েছে তার। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে অবসর সময় কাটাচ্ছেন তিনি। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাদার তেরেসা পদকসহ অসংখ্য পদক পেয়েছেন তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভাষাসৈনিকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে চলেছেন। জীবন্ত কিংবদন্তী ভাষাসৈনিকের দাদা রজিব উদ্দিন তরফদার (১৮৯১-১৯৫৯) নিখিল বাংলা প্রজা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন, প্রজাবন্ধু হিসাবে তাঁর কালের বিখ্যাত ব্যক্তি। তিনি ১৮৯১ সালে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দী উপজেলার নারচী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম দারাছতুল্লাহ তরফদার। রজিবউদ্দিনের পূর্ব পুরুষগণ দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট পরগনায় বসবাস করতেন। ১৮৯৬ সালে তিনি নিজগ্রাম নারচী এমভি. স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন এবং পরে হরিনা এমই, স্কুলে ভর্তি হন। মেধাবী ছাত্র বৃত্তি পরিক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করেন । ১৯০২ সালে বগুড়া জেলা স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এই সময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বিপর্যয় দেখা যায়। যার কারনে তিনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেন নি। কিন্তু তিনি সামাজিক আন্দোলন এবং নানা ঘাত প্রতিঘাতের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সত্যিকারে অর্থেই একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। ১৯০৭ সালে নিজ গ্রাম নারচীতে একটি এমই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং স্বয়ং উক্ত স্কুলের সেকেন্ড পন্ডিত পদে শিক্ষকতা করেন। রজিবউদ্দিন তরফদার ১৯২০ সালে খিলাফত আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯২৩ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য পদে বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। ১৯২৪ সালে তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বাধীন স্বারাজ পার্টিতে যোগদান করে ব্রিটিশ সরকার বিরোধী দলে অবস্থান নেন। ১৯৩০ সালে রজিবউদ্দিন তরফদার দুর্বার প্রজা আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই সময় তিনি ‘নিখিলবঙ্গ প্রজা সমিতি’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন। এই সমিতি সভাপতি ছিলেন মৌলানা মহাম্মদ আকরাম খাঁ। ১৯৩৫ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্ব›িদ্ধতায় বগুড়া হতে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। শেরে বাংলা একে ফজলুক হকের নেতৃত্বে একটি ব্যাপক ভিত্তিক প্রজা সংগঠক গড়ে ওঠে। সংগঠনের নাম দেয়া হয় ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’ যার সভাপতি ছিলেন শেরে বাংলা একে ফজলুক হক ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত তিনি হন। প্রজাবাহিনী নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন তিনি। একজন মহান দেশপ্রেমিক ও প্রতিভাধর প্রজা সংগঠক জননেতা ১৯৫৯ সালে ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪টায় শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন। তাঁরই পুত্র মোঃ মোজাহেদ উদ্দিন তরফদারে পুত্র জীবন্ত কিংবদন্তি ৫২ ভাষা সৈনিক, ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম-এর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সময়ের দাবী।
বার্তা প্রেরক ,আর.কে রিপন, মহাসচিব, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদ.ঢাকা।
Print Friendly, PDF & Email

About dimlanews

Related Posts

Leave a Reply

*

সম্পাদকের বক্তব্যঃ

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম ভিজিট করুন এবং বিজ্ঞাপন দিন।