• Home »
  • নীলফামারী »
  • ডোমারে প্রেমের জয়: ধর্মান্তরিত হোসনে আরার লাশ মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ
ডোমারে প্রেমের জয়: ধর্মান্তরিত হোসনে আরার লাশ মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ
১২ এপ্রি '১৮
0 Shares

ডোমারে প্রেমের জয়: ধর্মান্তরিত হোসনে আরার লাশ মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি: আইনী জটিলতায় চার বছরের বেশি সময় ধরে হিমঘরে সংরক্ষনে থাকা ধর্মান্তরিত নীলফামারী ডোমার উপজেলার হোসনে আরা ইসলামের মরদেহ ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে মরদেহ দাফন করতে হবে। নীলফামারীর জেলা প্রশাসককে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন আদালত। একইসঙ্গে দাফনের আগে হোসনে আরা ইসলামের মরদেহ তার বাবার পরিবারকে দেখার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ডোমারে প্রেমের জয়: ধর্মান্তরিত হোসনে আরার লাশ মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফনের নির্দেশমামলা ও ঘটনার বিবরন মতে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের খামার বমুনিয়া গ্রামের অক্ষয় কুমার রায় মাস্টারের মেয়ে কলেজ ছাত্রী সঙ্গে একই উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়ন পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের জহুরুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে হুমায়ুন ফরিদ লাইজু ইসলামে(২৩) প্রেমের সর্ম্পক ছিল। তারা ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর বিয়ে করে। এ জন্য লিপা রানী রায় ইসলাম ধর্ম গ্রহনপূর্বক মোছাঃ হোসনে আরা ইসলাম নাম ধারন করে এবং নীলফামারী নোটারি পাবলিক কাবের এভিডেভিটের মাধ্যমে দুই লাখ ১ হাজার ৫০১ টাকা দেনমোহরে হুমায়ুন ফরিদ লাইজু ইসলামকে বিয়ে করে। এরপর তারা স্বামী স্ত্রী হিসাবে বসবাস করে আসছিল। এ অবস্থায় মেয়েটির পিতা অক্ষয় কুমার রায় মাষ্টার ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর বাদী হয়ে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি অপহরন মামলা দায়ের করে। মামলার পর মেয়ে ও ছেলে স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ে সকল কাগজপত্র সহ আদালতে হাজির হয়ে জবান বন্দি প্রদান করে। ফলে আদালত ছেলে মেয়েকে হেফাজতে রেখে মামলার সার্বিক বিবেচনা করে অপহরন মামলা খারিজ করে দেয়। এরপর মেয়ের বাবা মামলার খারিজ আপিলে তার মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়স্কো ও মস্তিস্কো বিকৃতি (পাগল) দাবি করে আদালতে কাগজ পত্র দাখিল করে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শারিরিক পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে রাজশাহী সেফ হোমে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারী মেয়েটির স্বামী হুমায়ূন ফরিদ লাইজু ইসলাম বিষপান করে আত্মহত্যা করে। এরপর মেয়েটির স্বামী হুমায়ূন ফরিদ লাইজু ইসলাম আত্মহত্যা করার বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করে মেয়ের বাবা মেয়েকে তার জিম্মায় নিতে আদালতে আবেদন করে। আদালত তা মঞ্জুর করলে ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারী মেয়েকে নিয়ে মেয়ের বাবা তার বাড়িতে নিয়ে নিজ জিম্মায় রাখেন। তবে মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়স্কো ও মস্তিস্কো বিকৃতি (পাগল) দাবি করে আদালতে দায়ের করা মেয়ের বাবার মামলটি চলমান থাকা অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর ৫৪ দিন পর ২০১৪ সালের ১০ মার্চ দুপুরে বাবার বাড়ীর নিজ শোয়ার ঘরে সবার অগোচরে কীটনাশক পান করে মেয়েটি। তাকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে মারা যায়। ডোমার থানা পুলিশ হাসপাতাল হতে মেয়েটির মরদেহ রাতেই উদ্ধার করে। পরের দিন ১১মার্চ/২০১৪ নীলফামারী জেলার মর্গে মেয়েটির মরদেহ ময়না তদন্ত করা হয়। ওই দিন পুত্রবধু দাবী করে মেয়েটির শ্বশুড় জহুরুল, ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক দাফনে ও মেয়েটির বাবা অক্ষয় কুমার রায় হিন্দু শাস্ত্রে সৎকারের জন্য তাৎনিকভাব নীলফামারী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আবেদন করে। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (জেলা প্রশাসক) এর আদালতে উভয়পক্ষের শুনানী চলে ওই দিনসন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত। ওই শুনানীতে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বিষয়টি ডোমার থানা পুলিশকে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ প্রদান করে।
এ ব্যাপারে ডোমার থানার তৎকালিক ওসি (তদন্ত) আইউব আলী মেয়ে ও ছেলে পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অটুট থাকায় ডোমার থানা পুলিশ আদালতে ১২ মার্চ/২০১৪ একটি প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত মেয়েটির মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংরক্ষনের আদেশ প্রদান করে। ফলে আজ বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল/২০১৮) পর্যন্ত মেয়েটির মরদেহ চার বছর ১ মাস ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষন রয়েছে।সুত্র মতে, মামলাটি দ্রুত নিস্পতি করার জন্য হাইকোটে আবেদন করেছিল মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্র। এই আবেদনের পর দুই কার্য্যদিবসে হাইকোট এই আদেশ প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।
রায়ের সময় আদালতে হোসনে আরা ইসলামের শ্বশুড় জহুরুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও মেয়েটির বাবা অক্ষয় কুমার রায় মাষ্টার নিজ এলাকায় ছিলেন। তিনি গ্রামের বামুনিয়া নাঠুয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
এই মামলার রায়ে হোসনে আরা ইসলামের শ্বশুড় জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে সন্তোষ প্রকাশ করলেও নিপার বাবা অক্ষয় কুমার রায় কোন মন্তব্য করেননি। দুপুরে তার কর্মস্থলের স্কুলে তাকে দেখা যায়। তিনি এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কাছে কোন মন্তব্য করতে চাননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, উচ্চ আদালতে নির্দেশ ও আদেশের পত্র হাতে পাওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আদালতে মেয়ের বাবার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সমীর মজুমদার।আর ছেলের বাবার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম বদরুদ্দোজা।

Print Friendly, PDF & Email

About dimlanews

Related Posts

Leave a Reply

*

সম্পাদকের বক্তব্যঃ

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম ভিজিট করুন এবং বিজ্ঞাপন দিন।