• Home »
  • জাতীয় »
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের আর্তি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের আর্তি
৫ জুলা '১৮

dimlanews

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম এর প্রকাশিত সংবাদ গুলো পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।

0 Shares

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের আর্তি

সরদার ফজলুল হক: ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের সংগঠন “বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা মেডিকেল স্টুডেন্ট’স এ্যাসোসিয়েশন” এর ৪ দফা দাবি সম্বলিত একটি প্রচার  পত্র সম্প্রতি আমার হাতে আসে। এ প্রচার পত্রের সূত্রধরে খোঁজ-খবর নিয়ে জানাযায়,  সারাদেশে মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাাটস্) শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের জন্য অনেক দিন থেকেই আন্দোলন করে আসছে। ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের দাবি গুলো হলো- (১) বঙ্গবন্ধুর প্রথম পঞ্চমবার্সিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা। (২) ম্যাটস শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত অসঙ্গতিপূর্ণ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে “মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ” গঠন, (৩) কমিউনিটি ক্লিনিকে ডিপ্লোমা চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করে তাতে ১০ বেতন গ্রেডে নিয়োগ প্রদান এবং (৪) ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপকালীন ভাতা প্রদান।

ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের এ আন্দোলন এখন আর্তনাদে রূপ নিয়েছে। কবে নাগাদ তাদের এ আর্তনাদ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্ণধার ব্যক্তিদের হৃদয়ে নাড়া দিবে? পাশাপাশি এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে বর্তমানে চরম উৎকন্ঠার মাঝে হাবু-ডুবু খাচ্ছে। অভিভাবকসহ সমাজের সচেতন মানুষ মনে করেন, ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের দাবি অত্যন্ত  যৌতিক এবং সময়োপযোগি।

দাবি: বঙ্গবন্ধুর প্রথম পঞ্চমবার্সিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাটস শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা।
দেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা নার্স, ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজি, কৃষি ডিপ্লোমা ইত্যাদী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও মেডিকেল এ্যাসসিটন্টে (ডিপ্লোমা মেডিকেল) শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের কোন ব্যবস্থা নেই। অথচ উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের অধিকার দেশের যে কোন নাগরিকের রয়েছে।

দাবি: ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত অসঙ্গতিপূর্ণ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে “মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড অব বাংলাদেশ” গঠন। দেশে সাধারণ শিক্ষা, ইসলামী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষাসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক শিক্ষা বোর্ড থাকলে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বোর্ড নেই। বর্তমানে মেডিকেল ডিপ্লোমা কোর্সটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধিনে পরিচালিত হচ্ছে। এর বিভিন্ন নেতিবাচক দিকের মধ্যে রয়েছে, যেমন দেশে কয়েক লক্ষ এসএসসি পরিক্ষার্থীদের ফলাফল ১-২ মাসের মধ্যে প্রকাশ হয়, সে দেশে ২০ হাজার ম্যাটস পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে প্রায় ৬ মাস সময় লাগে, সে ফলাফল আবার একদিনে প্রকাশ করতে ব্যার্থ হয় রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ(ফ্যাকাল্টি)। ফলাফলে প্রকাশে বিরতী নেয় যে ফ্যাকাল্টি, সে ফেকাল্টীর শিক্ষার্থীদের মনে হায় হতাশ কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। অপর দিকে “রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধিনে ডিপ্লোমা” এর আইনগত ভিত্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠেছে। এ ছাড়া ম্যাটস শিক্ষার্থীরা বলছে, আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি ও উচ্চশিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। তবে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোন বোর্ড না থাকায় তারা কি শিক্ষা বৈষ্যমের শিক্ষা হয়ে আসছে না?

দাবি: কমিউনিটি ক্লিনিকে ডিপ্লোমা চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করে তাতে ১০ বেতন গ্রেডে নিয়োগ প্রদান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিলো- স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয়ে দেশে মধ্যম মানের চিকিসৎসক তৈরী করা। আর এসব চিকিসৎসক দিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। এমতাবস্থায় সারাদেশে গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একদল দক্ষ চিকিৎসক দরকার। বর্তমানে এমবিবিএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসদের অধিকাংশই গ্রামে থাকতে চান না। তাহলে গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হবে কার দ্বারা? এক্ষেত্রে ডিএমএফ ডিগ্রীধারী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি তাদেরকে গ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত করা উচিত। তবে দেশের অন্যান্য বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সধারীদের চাকুরীর ক্ষেত্রে বর্তমান ১০ গ্রেডে বেতন-ভাতা দেওয়া হলেও ম্যাটস শিক্ষার্থী তথা ডিএমএফ সনদধারীদের ক্ষেত্রে এক ধাপ নিচের তথা ১১ তম গ্রেডে বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে। বেতন-ভাতার এহেন বৈষ্যম দূর করতে সরকারের কি এমন বাড়তি ব্যয় হবে? তাছাড়া তাদের দাবির যত্রেষ্ট যৌতিকতা রয়েছে। অন্যান্য ডিপ্লোমা ধারীরা পেলে তারা পাবে না কেন?

দাবি: ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের ইন্টাশীপকালীন ভাতা প্রদান। বাস্তবতার প্রয়োজনে ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ম্যাটস শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নিশীপ বাধ্যতা মূলক হয় কিন্তু তাদের জন্য কোন ভাতা প্রদানের আজও কোন ঘোষণা দেয়া হয়নি। অপর দিকে এমবিবিএস-কোর্স সম্পন্নকারীদের সরকার ইন্টার্নি ভাতা আগের চেয়ে দ্বিগুন করেছেন।

শেষ কথা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমান গ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যেই সে দিন তাঁর পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় মধ্যম মানের অর্থাৎ মেডিকেল এ্যাসসিটন্টে চিকিৎসক তৈরীর সিদ্ধান্ত ছিলো একটি ঐতিহাসিক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। বঙ্গবন্ধু আজ নেই কিন্তু রয়েছেন তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি আজকে দেশের প্রধান মন্ত্রী। সুতরাং শেখ হাসিনার সরকারের কাছে ম্যাটস শিক্ষার্থীরা তাদের যৌতিক দাবি পূরণে আশাবাদি। ম্যাটস শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সচেতন দেশবাসীর বিশ্বাস ও প্রত্যাশা নিশ্চয় ম্যাটস শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে অন্যরা নিশ্চুপ থাকলেও বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের আর্তনাদ কোন ভাবেই উপেক্ষা করতে পারবেন না।

Print Friendly, PDF & Email

About dimlanews

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম এর প্রকাশিত সংবাদ গুলো পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।

Related Posts

Leave a Reply

*

সম্পাদকের বক্তব্যঃ

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম ভিজিট করুন এবং বিজ্ঞাপন দিন।