• Home »
  • নীলফামারী »
  • জলঢাকায় হাটের জায়গা দখল করে অবৈধ ভাড়া উত্তোলনের অভিযোগ ॥ কর্তৃপক্ষ নিরব
জলঢাকায় হাটের জায়গা দখল করে অবৈধ ভাড়া উত্তোলনের অভিযোগ ॥ কর্তৃপক্ষ নিরব
২৯ জুলা '১৮

dimlanews

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম এর প্রকাশিত সংবাদ গুলো পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।

0 Shares

জলঢাকায় হাটের জায়গা দখল করে অবৈধ ভাড়া উত্তোলনের অভিযোগ ॥ কর্তৃপক্ষ নিরব

আবেদ আলী , স্টাফ রিপোর্টার: নীলফামারীর জলঢাকায় হাট-বাজারের জায়গা দখল করে ভাড়া তুলে নিচ্ছেন অবৈধ দখলদাররা। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি কয়েকবার অবগত করা হলেও কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। এমন অভিযোগ করেছেন ইজাদার। হাটের জায়গা ১ একর ৬৬ শতক। এর পুরোটাই রয়েছে অবৈধ দখলদারের কবলে। এসব দখলদার হাটের ওই জমিতে একাধিক কাচা-আধাপাকা ঘর তুলে ভাড়া উত্তোলন করছেন দীর্ঘদিন ধরে।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের টেঙ্গনমারী হাটের এ দুরাবস্থায়। এতে করে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার। বারবার হাটবাজার ইজারা কর্তৃপক্ষদের সাথে যোগাযোগ করেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না বলে অভিযোগ হাট ইজারাদারদের। এতে করে কর্তৃপক্ষের সচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে জনমনে । এর কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীসহ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে হাট ইজারাদার। সরেজমিন খুটামারা ইউনিয়নের টেংগনমারী হাটে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। হাট ইজারাদার কমিটির সদস্য বেলাল মেম্বার বলেন, ‘হাটের এক একর ৬৬ শতক জমিতে প্রায় ১৫০টি দোকানঘর আছে। নিয়মানুযয়ী এসব ঘরের মাকিকের নামে কোন বরাদ্দ না থাকায় বলা যায় পুরো জায়গাটিই এখন অবৈধ দখলদারের হাতে। অনেকে ব্যবসা করছেন, আবার অনেকে ভাড়া দিয়েছেন অন্য ব্যবসায়ীকে। এসব দখলদার উচ্ছেদে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এরপরও কোন কাজ না হওয়ার বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হাটের জায়গা দখল করে মাহফুজার আটটি, আব্দুল মালেক স্বাধীনের দুইটি, মহিতুল ইসলামের দুইটি, আব্দুল মজিদ মেম্বারের দুইটি, জালাল মাস্টারের ছয়টি, রেয়াজুল ইসলামের চারটি, রহমতুল্যার দুইটি, আফজাল খলিফার দুইটি ঘর রয়েছে। এসব ঘর থেকে তারা মাসিক ভাড়া উত্তোলন করছেন নিয়মিত। এছাড়া হাটের বড় একটি জায়গা দখল করে হোটেল ব্যবসা করছে আবুল কালাম।

এজন্য বছরে ছয় লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়ার ভার টানতে হচ্ছে ইজারাদারকে। ওই হাট উন্নয়ন কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী বলেন,‘জেলা পরিষদ থেকে হাটে একটি মার্কেট ও চৌরাস্তা মোড়ে বঙ্গবন্ধু মুরাল স্থাপনের বরাদ্দ পেয়েছি। অবৈধ দখলদাররা জায়গা ধরে রাখায় এখনো সেটির কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।’

দখলদার আব্দুল মালেক স্বাধীন জানায়, আমার দখলে দুটি ঘর রয়েছে একটি নিজে করি অন্যটি ভাড়া দিয়েছি এতে দোষের কি, সরকার চাইলে ছেরে দেব। হাটের ইজারাদার মঞ্জুরুল আলম সিয়াম জানান, ওই হাটটি এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন ৫৫ লাখ টাকায়। হাটের বেশীরভাগ জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় নিরুপায় হয়ে গরু-ছাগলের হাটের জন্য ছয় লাখ টাকা খরচ করে অন্যত্র জায়গা ভাড়া করেছেন। তিনি বলেন,‘হাটের জায়গা দখলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে প্রভাবশালীরা হাটের জায়গা দখল করে ঘরভাড়া তুলছেন। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা জায়গা না পেয়ে ব্যবসার জন্য অন্য হাটবাজারে চলে যাচ্ছেন, এতে হাটের আয় দিন দিন কমছে। খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং হাট উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ সামীম বলেন,‘হাটের জায়গা সরকারের। সেখানে অনুমতি ছাড়া কেউ ঘর উত্তোলন করা অবৈধ। যারা হাটে একাধিক ঘর উত্তোলন করে ভাড়া তুলছেন তারা অবৈধ উপার্জন করছেন। অপরদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, লোকসানের ঝুকিকে পড়েছে হাটের ইজারাদার। দখলদার উচ্ছেদ করে হাটটি পরিকল্পিতভাবে সাজানোর জন্য কতৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা হাটবাজার ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাটের মুল নকশা অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা রাতারাতি নিরসন করা সম্ভব নয়।

Print Friendly, PDF & Email

About dimlanews

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম এর প্রকাশিত সংবাদ গুলো পড়ুন এবং মন্তব্য করুন।

Related Posts

Leave a Reply

*

সম্পাদকের বক্তব্যঃ

তিস্তা নিউজ ২৪ ডটকম ভিজিট করুন এবং বিজ্ঞাপন দিন।